বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজ আবার তোমাকে লিখতে ইচ্ছে হলো। আসলে মানুষের মনে কিছু কিছু ইচ্ছে একটু অন্য রকম। যখন জেগে ওঠে তখন দুর্দমনীয়। তুমি কেমন আছ? কেমন চলছে তোমার নতুন জীবন? নব স্বপ্নের রঙিন প্রজাপ্রতিগুলো পাখা মেলেছে নিশ্চয়।
সেদিন তোমার বন্ধু মিনু এসেছিল আমাকে দেখতে। বললÑ তোমরা নাকি সাগর দেখতে গিয়েছ। তোমরা দু’জন। তুমি আর তোমার...। সাগরের অফুরন্ত ঢেউগুলোর দিকে তাকিয়ে তোমার কি কিছু মনে হয়েছে? তুমি কি জান, কোনো কোনো মানুষের হৃদয়ে সাগর থাকে থাকে উথাল পাথাল ঢেউ? ভীষণ তোলপাড় দিনপাড় দিনরাত! না, এসব জেনে তোমার কী দরকার? যাকগে, আমি ভালো আছি। খুব ভালো। আজ সকালে ডাক্তার মন ভালো হয়ে যাবার মতো আরো সুন্দর কথা শুনিয়েছে। ডাইরেক্ট আমাকে বলেনি। আমি জেনে ফেলেছি আর কি। সেদিন বলেছিল আমার আয়ু আছে মাস ছয়েকের মতো। আজ বলেছে দু’ মাস বড়জোর। ক্যান্সারের কীটগুলো নাকি প্রতি মুহূর্তে বিপুল ক্ষমতা অর্জন করে অতি দ্রুত আমাকে সম্পূর্ণ দখলে নিতে চাচ্ছে। ক্যান্সারের জীবাণুগুলো যত শক্তি বাড়াচ্ছে আমার কাছে বেলি ফুলের গন্ধটা তত তীব্র হচ্ছে। আমার কেবিনের জানালার পাশে একটি বেলি ফুলের গাছ আছে। তাতে তিনটি ফুল আর একটি কুড়ি আছে। বেলি ফুলের গন্ধ শুকতে শুকতে আমার প্রায়ই মনে পড়ে যায় তোমার আমার ভালোবাসা বিনিময়ের প্রথম ক্ষণটাকে। তুমি আমাকে একটা বেলি ফুল দিয়ে বলেছিলেÑ ‘এটা হলো ভালোবাসার দান। এর গন্ধটা ভালোবাসার আনন্দ আর শুভ্রতা ভালোবাসার পবিত্রতা।’ কি তীব্র গন্ধ ছিল সেই ফুলটায়! এখন সেই ভালোবাসার আনন্দ নেই, নেই পবিত্রতা। আছে শুধু সেই গন্ধটা, যা আমার কীটে খাওয়া বুকটাকে শুধুই পোড়ায়। ক্যান্সারের কীটের কামড়ে আমি যতটা কষ্ট না পাই সেই বেলি ফুলের গন্ধে তার চেয়ে অনেক বেশি কষ্ট পাই। কিন্তু কেন?
আমার চারতলার কেবিনের জানালা দিয়ে বিস্তৃত আকাশ দেখা যায়। আমি প্রায় সারা রাত সেই আকাশে তাকিয়ে থাকি। ভাবি খুব শিগগিরই আমি লীন হয়ে যাব ওই আকাশের সঙ্গে। ভাবতে ভাবতে মনে পড়ে সেই রাতটাকে। যে রাতে তোমাদের বাসার ছাদে বসে আমি আর তুমি অনেক রাত অবধি আকাশ দেখেছিলাম। তারার ফুল ছিটানো আকাশ।
শেষ কথা হলো, বন্ধু যা-ই বলুক, আমি ওদের সঙ্গে একমত নই। বাউন্ডেলেপনা-অর্থকষ্ট-পতিত জীবন ভালোবাসার সংজ্ঞার মধ্যে এসব পড়ে না। তুমি যা করেছ ঠিক করেছ। তুমি যে একদিন আমার হাতে হাত রেখেছিলে, চোখে চোখ রেখে কথা বলেছিলে আমার মতো পদ্যকারের জন্য এটাই পরম পাওয়া। এ দেশে একজন পদ্যকারের কী থাকে? বড়জোর বিদায় বেলায় বন্ধুরা চাঁদা তুলে হাসপাতালের কেবিনের ভাড়া দেয়। এর বাইরে আর কী পায় একজন পদ্যকার? তুমি ভালো থেক। হাসি-আনন্দ, রুদ্র-আলো, সুর-ছন্দ যেন তোমাকে ঘিরে থাকে সর্বদা এই কামনায় শেষ চিঠি। তোমারই (দুঃখিত এখন তো তোমার নয়)...
কবি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now