বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ভোরের আলোয় পাখিরা নীড় ছেড়ে খাদ্যের সন্ধানে বের হয়। সন্ধ্যার পূর্বে বাসা খোঁজার ইচ্ছা জাগে। খোঁজে মনের মাধুরী মেশানো বাসা, তেমনি আকুল হৃদয়ে বাসা সাজাতে খুঁজেছি তোমাকে।
আমি ভালোবাসি তোমাকে, হাজারো সমস্যার মাঝে, ভুলে থাকতে পারি না ক্ষণিকের জন্য। শুরুতেই হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা নিও। গত সোমবারের দীর্ঘ আলাপচারিতার পর বুঝতে পারলাম, তুমিও তোমার পরিবার যথেষ্ট কষ্ট পেয়েছে। আমার কাছ থেকে, অনিচ্ছাকৃত কষ্ট দেয়ার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। সে দিনের পবিত্র রাতটি তোমার কেটেছে বিভীষিকার মতো, চোখের জলে হয়ত ভিজে গিয়েছিল তোমার বালিশটি। বিশাল কষ্ট নিয়ে চোখের জল ফেলে ‘তুমি যখন বলেছিলে, তোমাকে যেন এভাবে ঘরে কষ্টের মধ্যে ফে-লি-না। হ্যাঁ, কথা দিলাম, আর এমন হবে না কখনো। সম্ভবত ২৩ বছরের ক্রান্তিলগ্নে এ প্রথম আমার মনে হয় কষ্টের দাগ তৈরি করলাম। সঙ্গে তোমার গোটা পরিবার। মাতৃতুল্য মায়ের কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে এসেছিল। অনেক কষ্টের শব্দ। জীবনে যা হয়নি তা হলো এই প্রথম। কাউকে কখনো কাঁদাইনি, এই প্রথম জীবনের একটা বিশাল দাগ আমার মনের ডায়েরিতে লেখা হয়ে গেল। দীর্ঘ সময় চলার পথে অন্যের চোখের জল মুছে দেবার চেষ্টা করেছি। নিজে কেঁদেছি, অন্যকে কাঁদতে দেইনি। সমস্যার বেড়াজাল নিজের কাঁদে নিয়েছি। তার পরও অন্যকে সুখী রাখতে সর্বদা চেষ্টা করেছি। মনের অজান্তে তুমিসহ গোটা পরিবারের কাছে অনুতপ্ত। যত সমস্যার বাঁধন তৈরি হয়, অতীতের মতো নিজের কাঁদে তুলে নেব। তবুও তোমাদের সুন্দরতায় অসুন্দর করব না, ভালো থেকে সব সময় অতীতের মতো, মন থেকে বলছি। কষ্ট কি জিনিস সেটা আমি খুব ভালো করে বুঝি। তুমি কষ্টের মোহনা স্পর্শ করেছ। এর জন্য আসামির কাঠগড়ায় আমি দায়ী। তোমাকে দেখার লোভ সামলাতে না পেরে সেদিন বলেছিলাম আসত এসে সম্ভবত বাসায় প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে। মিলাদ ও শিল্প ভাইয়ার নিকট সম্ভবত মা মোবাইল করেছিলেন, জানতে চেয়েছিলেন মরিয়ম কি ওখানে।’ বাবা থেকে সম্ভবত কে যেন আসছিলেন তোমার খোঁজে। কথা দিলাম, তার কখনো এভাবে বলবো না, হয়ত আমার খুব কষ্ট হবে, তার পরও ধৈর্য ধরব। তবুও বাসায় তুমি তোমার সুন্দরতা ধরে রেখ। আমার জন্য বাসায় ভর্ৎসনা শুনো এটা আর আমি চাই না। অনেক শুনেছো। অপরাধ আমাকে গ্রাস করে চলেছে। কঠিন এক বাস্তবতার মুখোমুখি বুঝে উঠতে পারছি না বার বার কেন এমন হচ্ছে। বাসায় সব সময় একা থেকো না, সবার সঙ্গে গল্প উৎসব করে কাটিও। রান্নাবান্না নিয়মিত কর। নিজ শরীরের প্রতি যতœ নিও। প্রথম দর্শনে যেভাবে দেখেছিলাম যেভাবে আবার তৈরি হও। আমার ফেলে আসা দিন বড় কষ্টের আবার সুখেরও। কতটুকু শুকিয়েছ। এবার ভালো করে নিজের দিক চেয়ে দেখে নিও। এমনিতে বার বার তোমাদের কষ্ট দিয়ে থাকি। মিলাদ ও মিপান ভাইয়ের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রাখার চেষ্টা কর। আর ফয়সালকে ঘিরে আমাদের ভুবন আলোয় আলোকিত, সে তোমার ও আমার ছাট ভাই। তার আগে সর্বদা যোগাযোগ রেখ, যেটুকু আমি পারিনি তুমি অন্তত সেটুকু পূরণ করবে। পত্রের বাক্যগুলো যদি কষ্টের দানা তৈরি হয় তাহলে মনে রেখো আমিও কষ্ট পাব। আমার ভাগ্যটা এমনই জানি, না এভাবে আর কতদিন আমাকে... । আজ বুঝতে পারি, সুদিন এবং সুসময়ে আপনজনÑবন্ধুদের অভাব হয় না। প্রস্ফুটিত কমলকে যেমন মধুকর ঘিরে রাখে, সুদিনে তেমনি আপনজন বন্ধুরাও ঘিরে থাকে চারদিকে। কিন্তু দুঃসময়ে কারো আর দেখা পাওয়া যায় না। কেবল বিশ্ব বিধাতাই সকলের সুসময়ের এবং দুঃসময়ের বন্ধু যিনি কাউকে কখনো পরিত্যাগ করেন না।’ বাসায় সব সময় মাথায় কাপড় দিও, গালে হাত বসাবে না।
‘পাঁজরের খাঁচা থেকে বিষণœ বেদনাগুলো তোমায় দিয়েছি। তুমি আকাশ, হৃদয়ের উদারতায় গ্রহণ কর। তুমি সাগর, তোমার বিশালতায় ভাসিয়ে দিও অতল স্পর্শে তরঙ্গ টানে।’ কষ্ট আমার নিত্য সঙ্গী। বঞ্চনা আমার জীবনের অপর নাম। জীবনের ভারে ক্লান্ত আমি বেদনার ভারে ন্যুব্জ। অর্থহীন বিবর্ণ এ জীবনে খুঁজে ফিরি আমি বেঁচে থাকার অবলম্বন। শত কষ্টেও আমাকে কষ্টে পরিণত করতে পারবে না। বরং কষ্টে কষ্টে আমি হব কষ্টি পাথর, একদিন হয়ত। নীল কষ্টগুলোকে বানিয়ে ফেলব ভালোবাসার নীল খাম, লাল কষ্টগুলোকে লাল বেনারসি। আমার রক্ত মাংসের এই দেহে ছোট্ট একটি হৃদয়, কিন্তু তার গভীরতা অনেক। বিশাল ভুবনজুড়ে তার আয়তন। কিন্তু আশ্চার্যের বিষয় হলো এই ভুবনে তুমি ছাড়া অন্য কারো প্রবেশাধিকার আমি রাখিনি। সারা দিনের ক্লান্ত শান্ত দেহ নিয়ে যখন বিছানায় গা এলিয়ে দেই, তখন সেখানে তোমাকেই খুঁজি। তোমারই উপস্থিতি অনুভব করি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now