বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্প : #ব্রেকআপ_পাগলি !!!
Writer : Pantha Shahria !!!
- ওহহহহহহহ... এখন ভালই ভালই
ঘড়িটা নিয়ে কেঁটে পড়লেই ব্যাস..
কে আর আমাকে পায় .... সালার
দোকানদার হারামি, কুত্তা, বেয়াদব
ফাজিল বলে কী না ৭২০ টাকাই
নিবে....
ওরে কইলাম যে ভাই ৭২০ না...
১২০ দিমু নি... টেনে টুনে ১৫০ এ
উঠছি....
হালাই নাছোড় বান্দা দিবেই
না.... কী আর করার ছোটবেলার
ধান্ধাবাজিটা ট্রাই করলাম..
আর সাথে সাথে কাজ কমপ্লিট
হাজার হলে ও পছন্দের ঘড়ি
বলে কথা......।
এমন সময় ফোনটা প্যান প্যান করে
উঠলো...
স্কিনে দেখি নীলা....
পরানডা কেমন শুকাই গেল...
কারণ আমি যতবার কোন জিনিস
মেরে দিই...
ততবার এই মাইয়া দেখতে পাবই।
- হ্যালো... কেডা বলিতেছেন।
- হারামি কই তুই।
- এই তো কলেজে।
- তোর মুখ দিয়ে কী
মিথ্যা কথা ছাড়া জীবনে একটা
সত্যি কথা বেড় হইছে কোনদিন।
- ঐ আমি আবার মিথ্যা বললাম
কই....।
- তাহলে যেখানের জিনিস
সেখানেই রেখে আয়।
- তুই কী মেলাই আছিস... কেমনে
জানলি.. দেখ ভাই মেলা পছন্দের ঘড়ি, এইটা দিতে পারমু না প্লিজ।
- তার মানে তুই আবার চুরি করছিস,
ছি সাহরিয়া তোর কী কোন লজ্জা
সরম নাই...দূর যাতো ব্রেকআপ।
- আমি কী তোর 'বফ' যে ব্রেকআপ
কইলেই ব্রেকআপ হইলো।
- ঠিকআছে ঠিকআছে ব্রেকআপ যা,
কোনদিন যদি ফোন দিছিস।
তোরে লাত্তাই কিলাই মেরে ফেলমু।
- ওকে ঠিকআছে দিতাছি কিন্তুু কেমনে.. জানলি আমি ঘড়ি মেরে
দিছি।
- তোরে তো আমি হারে হারে
চিনি... তুই যেই লেভেল এর ছেঁচড়া,
রাফির মুখে যখন শুনছি তুই
মেলাই গেছি... তখননি বুচ্ছি,
আর বাঁকী টা তো তুই বললি।
এবার ঘড়িটা ভালই ভালই দিয়ে
দিছিস তো ভালো... না হলে ব্রেকআপ মনে থাকবে তোর সোনা।
- হাতির মাথা সোনা... দূর নিজেই
নিজেরে ফাঁসাই দিলাম....
ফোনটা কেঁটে দিলাম...
- এইটা মেয়ে নাকি পাগলি নাকি
অন্য কিছু আল্লাহ্ জানে....
প্রেম করে না আমার সাথে
আবার কথাই কথাই ব্রেকআপ বলে।
কত বার প্রপোজ ও করছি...
খালি ষাঁড়ের মতো ঘুঁতাইতে আসে
আবার সোনা, বাবু বলে...
আমি পাগল হয়ে যামু এর জ্বালাই...
কী আর করার আমার সাথেই
সারাদিন থাকে সো ঘড়ি দেখলেই
মাইর দিবে...
হাজার হলে ও মাইয়া মানুষ সে
গায়ে হাত তুললে তো আমি
আমি মারতে পারমু না... আবার
একদিন দিয়া ভাল ও বাসি,
আর খালি কথাই কথাই ব্রেকআপ
বলে বাট কোনদিন সেইটা হয় নাই।
হঠাৎ মাথাই একটা বুদ্ধি আসছে।
- এই যে ভাই আমার একটা ফ্রেন্ড
এই ঘড়িটা আপনাদের এখান
থেকে কিনছিলো ৭২০ টাকা দিয়ে তিন ঘন্টা আগে....
তার টাকা হারাই গেছে তাই ঘড়িটা
য়দি ফেঁরত নেন ভালো হতো ৫০%
দিলেই হবে।
- ওকে ধরেন টাকা।
- গুনে দেখি ৭৫ টাকা... আরে ভাই
৭২০ টাকা দিয়ে কিনছিলোরে ভাই।
- পাগলা হয়ে কিনছে... এই ঘড়ি
আমরা ১৫০ টাকা দিয়ে আমরা বিক্রি করি... তাই ৭৫ টাকা দিছি
এই অনেক।
- কেমন লেবেল এর বাটপার বুঝেন... তবে আমি সবার এক কাঠি
উপরে.....
ভাই যদি আমি একটু পড়ে এই ঘড়িটা
নিতে আসি ১৫০ হলেই তো দিবেন।
- হুমমমম আপনার জন্য ১২০ হলেই
দিবো... কারণ ঘড়িটা তো আপনার,
আমাদের ৪৫ টাকা লাভ দিলেই
হবে।
- থ্যাংকু ভাইয়া.....।
দৌড়ে নীলাদের বাসাই চলে আসলাম...।
- নীলা চল ঘড়ি কিনতে যামু ।
- ঐ এখনি কেনো।
- ওটা বিক্রি হলে বিপদ হয়ে যাবে।
- ঠিকআছে চল .....।
ভাইয়া ঘড়িটা দেন... মাত্র দুই ঘন্টা
লেট করে আসছি তো... ১০০ টাকা
দেই ভাইয়া।
- হুমমমমমম...ঠিকআছে নিয়ে
যান।
- দেখি দোকানদার হেঁসে যাচ্ছে..
মনে মনে ভাবছে..পাইছি একটা
গাধা... দুই ঘন্টাই এত্ত লাফ...।
কিন্তুু আমি যে ওদের ঘড়িই আবার
ওদের টাকার সাথে ২৫ টাকা
দিয়ে কিনলাম... বলদ গুলা
বুঝতেই পাড়লো...
- ঐ এবার তো শান্তি পছন্দের ঘড়ি
পাইছি... সব সময় এমন টাকা
দিয়ে কিনবি।
- হি হি হি হি....।
- হাঁসছিস কেনো.... সত্যি করে
বল আমার কী করছি।
- আরে না না কিছু না এমনি হুমমমমম।
- আমি জানি কিছু তো একটা
আছেই..... এখন বল না হলে
চিরদিন এর জন্য ব্রেকআপ ।
- না মানে প্রথমে ওদের ১৫০ টাকা দিতে চাইলাম... নিলো না আর এখন খালি ২৫ টাকাই দিলো হি হি।
- মানে.... সব খুঁলে বল বলতেছি।
- কী আর করার... এই একটা
মেয়ের কাছে আমি মিথ্যা লুকাতে
পারি না।
- ছি ছি ছি তুই এমন খারাপ, ছেঁচড়া আমি আগে জানতাম না।
আর কথা বলবি না... এই তোর
নাম্বার ডিলিট করে দিলাম...
আর যদি আমার সামনে আসছি
মেরেই ফেলমু হারামি।
- ঠিকআছে ব্রেকআপ... আমার
আবার ঠেকা নাকি যা ভাগ...।
- তুই ভাগ.....।
- এইটা কী তো দাদুর বাপের রাস্তা
যে আমি যামু... আমি যামু না..
আমি এখানেই থাকমু।
- তাইলে কী তোর দুাদুর রাস্তা এইটা
হুমমমমমম...আমি ও যামু
না...।
- ঠিকআছে এখানেই দাঁড়াই থাকবি,
খবরদার যদি আমি পিছু নিছিস
নীলা পাগলি... তোর ওই পানিতে চুবামু।
- ঐ আমাকে চুবাবি না... হারামি...
দাঁড়া এই ইট দিয়ে তোর মাথা
ফাঁটামু... ছেঁচড়া পোলা...।
- কীইইইইইইইইইইইইই বললি.. আর
একবার বল দেখি...।
- খাঁড়া আইতাছি....।
- ও মা গো মেরে ফেলবে গো....
সাহরিয়া ভাগ.... বলেই দৌড় এক
দৌড়ে রুমে চলে আসছি...
কী ডেঞ্জারাস মেরে রে ভাই....।
- আমার সোনা ঘড়ি... তুমি এখানে
থাকো.. আমি ফ্রেস হয়ে আসি।
বিকেলে তোমারে নিয়ে ঘুরতে যামু।
ফ্রেস হয়ে দেখি...........
আল্লারে আল্লা আমার ঘড়িটা
এমন ভাঁবে ফাঁটাই দিছে কে....
এখন আমার কী হইব রে..
কোন মরার ঝাঁকের নজর পড়লো
আমার এই ঘড়িটার উপরেই..
কোন শয়তান হামলা দিছে রে....
আমি এখন কী পইরা বাহিরে
যামু রে.......
এমন সময় দেখি পাশের বাসার
সকল আন্টি ছুঁটে আসছে.... ।
- সাহরিয়া কী হইছে বাবা কী হইছে
তোর।
- আমার সব শেষ আন্টি.. আমার নতুর ঘড়িটা কোন শয়তানের বাচ্চা
ভেঁঙ্গে দিয়ে চলে গেছে।
ও আল্লাহ এখন আমার কী হইবো।
- চুপ কর... মানুষ মরে গেলে ও
কোন মাইয়া এমন বিনাই বিনাই
কাঁদে না....।
- তোমরা কী বুঝবা গো...
কত যুদ্ধ করে জয় লাভ করা
ঘড়ি এটা .... তবু স্বাধীনতা
পেলো না।
- চুপ করে থাক তো....আজাইরা...
বলে চলে গেলো।
- আমি নাকি আজাইরা....
কী কঠিন মানুষ... ঘড়িটার প্রতি
কারো একটু ও দয়া হলো না।
ঘড়িটা বুকের উপরে নিয়ে ঘুমাই পড়লাম....
বিকেলে নীলা ফোন করলো।
- ওই শয়তানি ব্রেকআপ করছিস
না... আবার ফোন দিছিস ক্যান।
- আমার ইচ্ছা তাই দিবো তোর কী...
এর তাঁড়াতাড়ি নদীর পারে চলে আয়।
- যামু না আমি।
- যদি তুই না আসিস... সত্যি সত্যি
ব্রেকআপ বলে দিলাম ১০ মিনিটের
মধ্যে আসবি।
বলেই ফোনটা কেঁটে দিলো।
কী আর করার মৃত ঘড়িটাকে
বুকে নিয়ে যাচ্ছি ....।
- এমন আহাম্মক এর মতো না
দাঁড়াই থেকে বসে পড়।
- হুমমমমমমম।
- ঐ কী হয়েছে এমন করছিস ক্যান।
- আমার ঘড়িটাকে কে জানি The End করে দিছে রে।
- তুই সামান্য ২৫ টাকার জন্য এমন করছিস.... ছি.......।
- এটা শুধু ২৫ টাকা না রে.... ১০ টা
কলার টাকা ।
প্রতিদিনের কলা খাওয়ার টাকা থেকে একটু একটু করে টাকা জমাই
২৫ টাকা হয়...
আর সেই টাকা ঘড়িটাকে কে জানি
মেরে ফেলছে....।
- চুপ হারামি এমন করলে নদীতে
লাত্তি দিয়ে ফেলে দিমু।
ঐ ঘড়িটা ফেরে দিলি ক্যান।
- ওইটা দিয়ে আর কী হইবো....
মরাই তো গেছে।
- চোখ বন্ধ কর...।
- কেনো।
- আরে কর না.. আর হাতটা
আগে দে।
- হুমমমমম ওকে।
- এবার খুল।
- একি আমার মরা ঘড়ি জিন্দা
হলো কেমনে।
- হারামি এটা আমি কিনে আনছি,
আর ওইটা আমি ভাংছি হি হি।
- কীইইই... আমি ঠিকিই আইডিয়া করছিলাম ব্রেকআপ পাগলি।
- কীইইই বললি হারামি সোনা।
- কিছু না পাগলি বাবু।
- এই নে এটা তোর জন্য।
- ওই চুলে টান দিলি ক্যান...
দাঁড়া খালি একবার.....।
- আমি তো জীবনে ও দাঁড়ামু না
হি হি হি।
- যদি না দাঁড়াইছি... তাহলে কিন্তুু
ব্রেকআপ হুমমমমম।।।।।।।
কিছু কিছু ভালবাসা হয়তো এমনি...
প্রকাশ করতে হয় না... সকল দুষ্টুমির
মধ্যই প্রকাশ পায়.... হি হি হি... টাটা।
>>সমাপ্তThe End
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now