বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

লুকায়িত ভালবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ☠Sajib Babu⚠ (০ পয়েন্ট)

X {আংশিক সত্য } মেয়েটি আমাকে ব্লক মেরেছিল এতে অবাক হইনি। অবাক তো হয়েছিলাম যখন সে ব্লকটা খুলে দিল। প্রথমে সে আমার লেখা পোস্ট বা গল্পগুলোতে কমেন্ট করত, তারপর ধীরে ধীরে সে মেসেজ করা শুরু করল। আমিও তার সাথে কথা বলে দিন কাটাতাম। তো, একদিন সে হঠাত করে আমাকে ব্লক মেরে দেয়। তার আগে বলেছিল যে সে আর আমার সাথে কথা বলবেনা। আমিও মেনে নিলাম। এতে আমার রাগ উঠার কোনো প্রশ্নই উঠেনা। সে যেহেতু আমার প্রতি বিরক্ত আমাকে ব্লক মারতেই পারে। কিন্তু কালকে হঠাত দেখলাম ব্লক খুলা আর আমাকে মেসেজ দেওয়া আছে তার আইডি থেকে। . -ব্লক টা না খুলে পারলাম না। আমি তার ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট একচেপ্ট করার পর দেখলাম সে এক্টিভ আছে। তাই আমিও রিপ্লাই দিলাম, -কেন? সে কিছুক্ষন ভেবে চিনতে জবাব দিল, -কেমন আছ? -ভালোই,তুমি? -ভালো নেই। -কেন? -একজনকে মিস করছি। -কাকে? -তাকে,যে আমার ফিলিংস বুঝে না,আমি তার প্রতি এতটাই দুর্বল যে সে তার চোখ থাকতেও দেখেনা। -কথাটা ঠিক বুঝলাম না। -বুঝার দরকার নেই,ভালো থেকো। -এই যে,আমাকে চিন্তায় ফেলে দিয়ে কি করা হচ্ছে?কথা বল,না হলে আমি নিজেই ব্লক মারব। -আমি তোমার সাথে কথা বলব না। -কথা যখন বলবেই না,ব্লক কেন মেরে ছিলে?আর তারপর খুলে দিলে কেন? -মিস করছি,তোমার দুষ্টুমি।তোমার হাসিটা। -মানে কি? -মানে টানে কিছু বুঝিনা,আমাকে দেখবে? . যে মেয়ের কাছে হাজার চাওয়া সত্তেও ছবি দেয়নি, সেই যখন নিজের ছবি দিবে তখন আর কি করব। -হুমম। . কিছুক্ষন বাদে তার ছবি দিল। -আমি কি দেখতে খুব খারাপ? -খারাপ না তবে অসম্ভব খারাপ। -কিইইইইইইইই? -হুমম,তো তুমি এত সুন্দর কেন? -তোমার নাম্বার দেবে,ফোনে কথা বলব। -টাকা নাই ফোনে। -আমি কল দিচ্ছি তো। -আচ্ছা,০১৬২২৮৩৭৪৭৩। . কল দিল সে।আমিও ফোনটা ধরলাম। -হ্যালো? -হুমম,বল। -অর্ক,তুমি কি? -কি? -আমার সাথে দেখা করতে পারবে? -আমার সময় নাই,পরীক্ষার পর। -আচ্ছা,তাহলে ফোন রাখছি বাই। . ফোন রেখে আমি বাড়ি থেকে বের হলাম। তার কন্ঠটা চেনা চেনা। তার আওয়াজটা যেন আমার খুব আপন কারোর আওয়াজ। কিন্তু ছবিটাতে তো সে অন্য একটা মেয়ে। তাহলে কি,আমার মনের ভুল? . হাটতে হাটতে আমি একটা দোকানের সামনে চলে এলাম। -একটা সিগারেট দিন। -কেন,খান?এসব সিগারেট? কথাটি এক মেয়ে বলেছিল। -সিগারেট কেন খাই?খাবেন?খেয়ে দেখুন,খুব ভালো লাগবে। -ছি,বদমাইশ কোথাকার। -জানি না,শুনি না,কোন খান থেকে এসে আমাকে বলে কেন সিগারেট খাই,যান।এখানে থেকে কি করছেন। -এটা থেকে আমি যাব না।পারলে আপনি চলে যান। -যাচ্ছি,যাচ্ছি। সিগারেট টা ধরিয়ে নিয়ে আবার বাড়ির পথে আসলাম। মেয়েটিও আমাকে ফলো করল। তারপর আমি একটা গাছের পিছনে লুকিয়ে পরলাম। সে আমাকে খুজতে লাগল। -এইযে,কাকে খুজছেন? মেয়েটি বিভ্রান্তিতে পড়ে গিয়ে কি করবে না করবে হয়ে উঠল। -থাক,আর বলতে হবেনা,নাম কি আপনার? -অরুনিমা,আপনার? -অর্ক,তো আপনি এখানকার এলাকায় কি করছেন? -নানার বাড়ি এসেছি। -ওহহ,তাহলে আপনি ফয়সাল নানার নাতনী? -হুমম,কিভাবে চিনেন? -সে অনেক বড় কাহিনি।আসেন আপনাকে এখানকার জায়গা ভ্রমনে নিয়ে যাই। -হুমম। . অরুনিমার আমার সাথে চলতে শুরু করল। আমি তাকে নদীর ধারে নিয়ে এলাম। সেখানে বসে বসে গল্প করতে লাগলাম দুজনে। -তো,আজ থেকে যতদিন পর্যন্ত আছি,আমরা কি ফ্রেন্ডস হতে পারি? -হুমম,পারা যায়। -ওকে,তাহলে তুমি করে বলিও? -হুমম। . অরুনিমার সাথে থাকতে থাকতে মেয়েটির কথা ভুলেই গেছিলাম। আমি যে মিথ্যা বলেছিলাম পরীক্ষা সম্পর্কে। মেয়েটির যা চেহারা,খুব হিংসুক মনে হয়।যদি দেখা করার নামে আমাকে ফাসায়?তাহলে কি করব না করব এই ভেবে আমিও দিন কাটাতে লাগলাম। অরুনিমার সাথে থাকতে থাকতে আমি তার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছি। সে কিন্তু শুধু আমাকে বন্ধু ভাবে মনে হয়। . হঠাত করে রাতে মেয়েটির মেসেজ, -কালকে দেখা করতে পারবে? -আচ্ছা,কোথায়? -............,তাড়াতাড়ি এসো। -আচ্ছা। . জায়গাটা একটা নিরিবিলি জায়গা। আমি নিজেও জানতাম না কি হতে চলেছে। তাই গেলাম সেখানে। মেয়েটি বসে আছে। আশ্চর্যের ব্যাওয়ার হল এই যে,মেয়েটির নাম আমি এখনো জানিনা। আমি পিছন দিক থেকে তার সামনে গেলাম। সে আমাকে দেখে ভ্রু কচকে আমার দিকে তাকাল। -ওহহ,এসে গেছ। -হুমম। -বস। বসে আছি দুই তিন মিনিট ধরে। অরুনিমা কল করল। -হ্যালো তুমি কোথায়? -আমি একটু ব্যস্ত আছি। -আজ আমরা চলে যাব,একবার যদি দেখা করতে পারতে? -আচ্ছা,আধা ঘন্টার মধ্যে আসছি। -মেয়েটি কে? -আমার বন্ধু,আচ্ছা।তোমার নাম কি? -নিরু। -শুধু নিরু? -নিহারুন্নেসা। -ওহহ,আমার কাজ আছে আমি কি আসতে পারি? -খুব জরুরি? -হুমম। -আচ্ছা,তাহলে আসো। . নিরুর কাছ থেকে চলে আসলাম। জানতাম না যে সে আমাকে ফলো করছিল। অরুনিমার কাছে চলে এলাম। -আজ চলে যাবা? -হুমম। -আর কবে আসবে? -জানি না,আসলে আমরা আমেরিকা থাকি তো,তাই কোনো গ্যারেন্টি নাই। -ওহহ,তাহলে ভালো থেকো। -হুমম। মেয়েটি আমাকে জরিয়ে ধরল।আর তারপর গাড়িতে উঠে চলে গেল। কিছুক্ষন বাদে নিরু আমার সামনে আসল। -এই মেয়েটিই তোমার বন্ধু? -হুমম। -সে তো চলে গেল। -হুমম। -এবার কি হবে? -কি হবে মানে? -আমি জানি,তুমি তাকে ভালবাস।কিন্তু তুমি কি জানো সে বিবাহিত?সে কখনো তোমাকে বলেছে এই কথা? -কই নাতো। -বিশ্বাস না করলে এই ছবিগুলো দেখ, ছবিতে অরুনিমা আর একজন ছেলে দেখা যাচ্ছে। আর বিয়ের কিছু ফটো। -কিন্তু তুমি অরুনিমাকে চেন কিভাবে? -সে আমার ছোট বোন। -কিইইই? -হুমম,আমিই তাকে তোমার কাছে পাঠিয়েছিলাম। -তাহলে সে ছোট হয়ে বিয়ে করল আর তুমি এখনো করলে না? -এক গাধার অপেক্ষায় সারাজীবন কুমারি থাকতে হবে। -ওহহ,কে সে? -তুমি,গাধা। -কিইইইই? -হুমম,গাধা,আমাকে তোমার প্রতি দুর্বল করে,এখন আমার ছোট বোনের সাথে প্রেম করা হচ্ছে। -.................. -জানো,তোমাকে ব্লক মেরেছিলাম তোমাকে ভুলার জন্য।কিন্তু আমি এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিলাম যে আমি আমার ব্লক খুলে দিই। -তাই?তার মানে তুমি? -আমি কি? -আমাকে লাভ কর? -লাভ কি?ভালবাসা বল ভালবাসা। -ভালবাসা বুঝিনা,লাভ ক্ষতি বুঝি। -তাহলে আমি তোমাকে শিখিয়ে দেব।শুধু একটা কাজই করতে হবে। -কি? -আমাকে তোমার পাশে স্থান দিতে হবে। -মানে? -ও,গাধা,আমি বলেছি আমাকে বিয়ে করতে হবে। -আচ্ছা,করবনি। -তাহলে একবার প্রপোজ করে দেখাবে,প্লিজ? -আচ্ছা,১ মিনিট ভাবতে দাও। . ১ মিনিট পর, -কি ভাবলে? -হবে কি এই গাধার গাধী?আমাকে ভালবাসা কি সেটা শিখাবে? আমি কথা দিচ্ছি তুমি বললে আমি সব করব,না দিব কষ্ট না দিব দুঃখ।ভালবাসার পি এইচ ডি শিখাবে?আমি কথা দিচ্ছি ফার্স্ট ক্লাস মার্কস আনব। -হিহিহিহি,গাধাটা তো খুব চালাক হয়ে গেল দেখছি। হুমম,হব। -তাহলে চল। -কোথায়? -কোথায় আবার বিয়ে করতে। -হিহিহিহি। গাধীটা একগাল হেসে নিল আর আমি তার গালের দিকে তাকিয়ে দুই তিন টা ক্রাস খাইলাম।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now