বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
--রায়হান একটা কথা বলবো?
--বল।
--আমার মনে হয় দিনা আমায় খুব ভালোবাসে, তোর কি মনে হয় একটু বলবি?
--কি বলবো?
--সত্যি আমায় ভালোবাসে কি না?
--হিন্দু নারী সম্পর্কে একটি প্রচলিত লোক শ্লোক আছে,,,
"পুড়লো কণ্যা
উড়ল ছাঁই
তবেই কণ্যার
গুনগাই"
অর্থাৎ কণ্যার দাহকার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার গুনকীর্তন করা যাবে না।
মৃত্যুর আগ মূহুত্ব পর্যন্ত তার পা পিছলাতে পারে, সে ধরা দিতে পারে প্রলোভনের ফাঁদে, হাত রাখতে পারে অন্যকারো হাতে! এটা যে শুধু হিন্দু মেয়েদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তা না দিনাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য তাই তাদের এতোটা বিশ্বাস করা নিছক বোকামির লক্ষণ ছাড়া কিছুই না! বুঝলি কিছু?
--কি বুঝাতে চাইছিস তুই? দিনা আমায় ভালোবাসে না?
--সেদিন তুই দিনাকে একান্ত নিজের করে পাবি বউ হিসেবে তখন বলতে পারবো ভালোবাসে এর আগে নয়। এখন তোকে ভালোবাসে পরে তোর চেয়ে ভালো কাউকে পেয়ে তার সাথে চলেও যেতে পারে..নারী বলে কথা!
--ক্ষমা করে আমায় উদ্ধার কর তোকে তোর ইচ্ছার বিরদ্ধে আমার সাথে এনে ভুল করেছি এবার তুই যেতে পারিস।
(কিছুটা বিষন্ন মুখে কথাগুলো বললো রায়হানের বন্ধু রাজু)
.
দুপুর বারোটা। ঠিক মধ্যদুপুর। অদ্ভুত কোন কারণে তখন আকাশটা আয়নার হয়ে যায়। আর সে আয়নায় প্রতিফলিত হয় সূর্যের যত ক্রোধ। কাঠফাটা রোদ বলে একটা কথা প্রচলিত আছে,যে রোদে কিনা কাঠ ফাটে। কিন্তু আজকের রোদটাকে বলা যায় পীচগলা রোদ। এ রোদে পীচ গলবে। তাছাড়া গ্রীষ্মকালের মধ্যদুপুরের আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। চারপাশে যেমন বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে,মরিচীকার জন্ম দেয়। তেমনি ভাবনাগুলো ও উল্টে পাল্টে যেতে থাকে। একটা আসে,আরেকটা সরে যায়। নতুন একটা আসলে, আগেরটা সরে যায়। আর এ ভাবনাগুলোর স্থায়ীত্ব ও খুব কম,কেমন যেন অস্থির তাড়াহুড়ার মধ্যে থাকে তার মত।পীচঢালা রাস্তায় পা ফেলা যাচ্ছেনা,তবু সে ছুটছে খালি পায়ে। হঠাৎ চট করে আবার পায়ের নিচের কৃত্তিম অংশটা নিরুদ্দেশ! মানে জুতো জোড়াটা ছিঁড়ে রাস্তার পীচ সাথে ভালোই যোগাযোগ করিয়ে দিচ্ছে। এ যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধার ফেলে পা টা ভালোই আনন্দে আছে, সেই সুমিষ্ট রোদ্দুরের যত্নে মাথার উপরিভাগ থেকে তরল ফোটা ফোটা ভালোই পড়ছে!
তবু যেন রায়হানের মনে হচ্ছে এইতো কেউ তার পিছু ডাক দিয়ে বলছে,, রায়হান এ রোদের মধ্যে হাঁটছো কেন? ইশ কি ঘেঁমে গেছো,, গায়ের আঁচল দিয়ে ঘাম মুছে দিবে আর বলবে আর রোদে হাঁটবে না কেমন।
মনে হবার কথাই যদি কথাগুলো খুব কাছের কোন মানুষ বলে।
.
সামনে দুটো মাঝারী সাইজের ডুমুর গাছের নিচে ধপাস করে বসে পড়ে রায়হান। রায়হানের এ ভরদুপুরে চলাফেলার কোন ইচ্ছাই নেই কিন্ত রাজুর জোড়াজুড়িতে বের হতে বাধ্য হতে হয়েছে। ঘুম পাচ্ছে খুব রায়হানের, গভীর ঘুম এর আগে কখনোই এতোটা ঘুম পায়নি! হাত-পা কেমন যেন অচল হয়ে যাচ্ছে, চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আসছে দুপুর বেলাও গভীর রাত্রি মনে হচ্ছে! রায়হান পরিলক্ষিত করতে পারছে কেউ যেন তাকে ফিসফিস করে বলছে,,রায়হান এসো পড়ো তোমায় ছাড়া একা একা আর ভালো লাগছে না, তুমি না আমায় ভালোবাসো তবে কেন আমায় ছেড়ে আছো? চলে এসো রায়হান। তোমার হাত ধরে গভীর রাত্রিতে হাঁটবো বলে তোমার পছন্দের নীল শাড়ি পড়েছি, কপালে কালো টিপ নিয়েছি, হাতে লাল টুকটুকে কাঁচের চুড়ি পড়েছি আর তুমি আমায় ভুলে দূরে আছো! তুমি আসো রায়হান তুমি আসো তুমি আসো.......
রায়হান বিড়বিড় করে বলছে, কি ভাবলে তোমায় ভুলে যাবে?
তুমিই তো আমার সব, তুমি সকালে ঘাসের উপর জমে থাকা শিশির কণা, রাতের ঘনঘটা আঁধারের মধ্যে টিপটিপ আলো জ্বালা জোনাকি,তুমি ক্লান্ত দুপুরে এক ফালি ছায়া, তুমি মধ্য রাতে রঙ্গময় তাঁরাদের মত আলোর খেলা, তুমি আমার...রাগে অনুরাগে হৃদয়ে হাজারো স্বপ্নের খেলাঘর।
তুমি আমার,,তুমি আমার.... যেও না দয়া করে এভাবে একা ফেলে,,
রায়হান চিৎকারের ভঙ্গিমায় জেগে উঠে,ইদানিং প্রায়- ঘুমের ঘোরে এসব উদ্ভট স্বপ্নে তার ঘুম ভাঙ্গে।
.
রাত নয়টা
ঝিঁঝিঁ পোকারা তাদের নিয়মিত কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত, জোনাকিরা আলো জ্বেলে তাদের অস্তিত্ব জানান দিতে ব্যস্ত, রাস্তার দুধারে বেশ দুরত্বে পর্যারক্রমে দাঁড়িয়ে আছে বেশ কয়েকটা ডুমুর গাছ, পরিবেশ একবারে নিস্তব্ধ সারাশব্দহীন ভূতুরে!
রায়হানের জন্য আবার একদম পারফেক্ট! প্রতিরাতের ন্যায় আজও এ ভূতুরে পরিবেশের দ্বারে ডুমুর তলায় বসে আছে রায়হান উদ্দেশ্য তার অজানা! কি কারণে প্রায়- গভীর রাতে এখানে বসে থাকে, কি কারণে জায়গাটা তার এতো ভালো লাগে রায়হান নিজেও ভালো করে জানে না!
রায়হান জনমানবহীন শূন্য ডুমুর গাছটির দ্বারে বসে নক্ষত্রগুলো গুনার নিক চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
সে ভাবছে আকাশে একগুচ্ছো তাঁরাদের মাঝে কোন কোন তারা নিভে যাচ্ছে! কেন নিভে যাচ্ছে??
আলো নিভে গেছে তো তার অস্তিত্ব সংকটে সে কি জানে না? কেন সে পাশে জ্বলে থাকা তাঁরাগুলোর আলো গায়ে মেখে নিজে আলোকিত হয়ে নিজের অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারে না!!
হয়তো ইচ্ছা থাকলেও পারে না ঠিক মানুষের মতো,, কি বিদঘুটে ব্যপার!
.
বেশ কিছুদিন যাবৎ রাজুর দেখা নেই! যে ছেলেটা রায়হানের সাথে একদিন দেখা না হলে পরদিন বাসায় এসে উপস্থিত কিন্ত সে আজ নিরুদ্দেশ!
রায়হান ভাবছে হয়তো সেদিনের রাগের প্রভাব আজও কাটেনি সেজন্য অভিমান করে দুরে কোথাও আছে।
ঘড়িতে প্রায়- ৭ বাজতে চলছে তারমানে কেউ তাকে ডাকবে, খুব করে ডাকবে,, এ ডাকের ধরণ সম্পর্ণ আলাদা যে কেউ এ ডাকের অর্থগত ভাব বুঝতে পারে না শুধুমাত্র রায়হানদের মত ছেলেগুলো ছাড়া।
ঘুটঘুটে অন্ধকার, কখনো বা আলোয় ঝলমল করা মুচকি হাসির চাঁদ, কখনো বা দুইয়ের সংমিশ্রণে জোনাকির মহাউৎসব, কখনো বা নির্জনের মাঝে উঁকি মেরে ডাকা ঝিঁঝিঁ পোকাদের ডাক কি আর সবাই শুনতে পাবে!!
শুনতে হাস্যকর হলেও এটাই রায়হানের বৈশিষ্ট, সে এসব প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে হারিয়ে যায় অজানাতে!
.
দুরে ডুমুর তলায় কে যেন গম্ভীর মুখে মাথা নিচু বসে আছে! আলো আঁধারের খেলায় দূর থেকে অপষ্ট থাকলেও কাছে এসে রায়হান আবিস্কার করে রাজুকে...
--রাজু তুই!
--নিশ্চুপ
--কিছু বল?
--তুই সত্যি কথাগুলো না বলতেও পারতি,, আমি জানি তুই যা বলিস তা ভবিষৎ বাণীর মত হয়ে যায়, তুই কি জানিস বিষয়টা?
--না জানতাম না তোর মুখে শুনছি।
--দিনার বিয়ে হয়ে গেছে কাল। এখন আমি কিভাবে বাঁচবো!
--মরে যা বাঁচতে বলছে কে?
--আমি তোর মত হিমু হবো, রাতে রাস্তায় রাস্তায় হাঁটবো!
--আমি হিমু না! আমি রায়হান।
--না তুই হিমু।
--হিমালয় মানে হিমুর কোন বৈশিষ্ট আমার মাঝে নেই। হিমু খালি পায়ে হাটে আর আমি জুতা ছাড়া হাটতে পারি, হিমু হলুদ পাঞ্জাবি পরে আর আমি আজ পর্যন্ত পাঞ্জাবি গায়ে জড়াইনি তাছাড়া হিমু তো মহাপুরুষ হতে চেয়েছিল আর আমার কোন কিছু হবার উদ্দেশ্য পর্যন্ত নেই!
--তবুও...
--রাজুকে কথা থামিয়ে দিয়ে বাসায় চলে যেতে বললো।
--আমায় উদ্দেশ্যে কিছুই বলবি না!
--দিনার সাথে কথা বলেছিস?
--কি বলবো আর ওর সাথে! আমার সাথে এমন একটা কাজ করলো তার পরও ওর সাথে কথা বলবো!
--আচ্ছা নাম্বার দে আমি কথা বলি।
রাজু দিনার কন্টাক্ট নাম্বার দেওয়ার পর রায়হান কয়েকবার কল দেয় কিন্ত ওপাশ থেকে কেউ ফোন তুললো না।রাজু মুখ গোমড়া করে বসে আছে হয়তো দিনার সাথে কাটানো মূহুত্বগুলো মনের কড়িডরে উঁকি মারছে হয়তো তার কথা বন্দনার মায়া চারপাশটা ঘিরে ফেলেছে হয়তো দিনাকে বিশ্বাস ঘাতক বলে ভেতর থেকে ঘৃণা করছে কিংবা ছলনাময়ী ভাবছে। রাজুকে এ অবস্থায় দেখে রায়হানের কেন জানি খুব মায়া হচ্ছে।
কিন্ত রায়হানদের তো কোন মায়ায় জড়ালে চলবে না! এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে হলে যে প্রতি পদে পদে মায়াতেই তুচ্ছে করে এগিয়ে যেতে হবে! মায়াগুলোর কাছে হার মানা মানে জীবন যুদ্ধে একধাপ পিছিয়ে পড়া। মায়াগুলো মাঝে মাঝে উঁকি দিয়ে চোখের কোণ দিয়ে অশ্রু ঝাড়িয়ে মুখমন্ডর ভিজিয়ে দিবে আবার শুকাবে এটাই তো মায়াগুলোর নিত্যখেলা! রায়হান আর ভাবতে পারছে না,, দূরে খেঁকশেয়ালের ঝাঁক আনন্দ মেলা বসিয়েছে, তাঁরারা নিভু নিভু করেও জ্বলছে,, এটাই রায়হানের উত্তম সময় সবুজ ঘাসে গা এলিয়ে জোৎস্নাগুলো নিরব চক্ষুতে ভক্ষণ করা! হয়তো তাঁরাগুলোও এতে আনন্দে আটখানা হবে এই ভেবে, আমার সৌন্দর্যরূপ দেখতে একজন মানব তো রাত্রি জেগে বসে আছে!!
.
রায়হান এভাবে বিদঘুটেভাবে চলতেই ভালোবাসে, তার ভাবনার জগৎ অন্য দশটা মানুষের থেকে হয়তো আলাদা।
তাকে নিয়ে দরজার ওপাশে আড়ালে গোপনে ভাববে এ জাতীয় মানুষ থাকলেও থাকতে পারে কিন্ত কে ভাবছে এটা সার্চ করা রায়হানের কাজ নয়! রায়হানের গুরুত্বপূর্ণ সার্চ করার বিষয় তো রাতের তারা, জোনাকি, ঝিঁঝিঁপোকা, নিরব পরিবেশ!
যদি কোনদিন দরজার ওপাশের মানুষটা সামনে এসে দাঁড়ায় তবে মুখে রহস্যঘন হাসি দিয়ে পাশ কাটবে হয়তো ওপাশের মানুষটির চোখে অশ্রুর ধারা খেলা করবে, শত অভিমান ভর করবে রায়হানের উপর কিন্ত একসময় সব ঠিক হবে,স্বাভাবিক হয়ে ওপাশের মানুষটি অন্য কারো বুকে মাথা রাখবে আর এটাই প্রকৃতির নিয়ম! রায়হান হয়তো দুর থেকে প্রার্থনা করে বলবে মানুষটি যেন খুব ভালো থাকে।
.
এমন হাজারো রায়হান, রাজুর অস্তিত্ব বিদ্যামান আছে পৃথিবীতে যারা কষ্ট পেতে পেতে পরে যতোই বড় আঘাত পায় না কেন সেগুলো আর কষ্ট মনে হয় না তাদের কাছে।
তবে প্রথম পাওয়া সামান্য কষ্টগুলোই মাঝে মাঝে অশ্রু বৃষ্টি হয় হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হয়ে! রায়হানদের ভবিষ্যত নিয়ে কোন ভাবনা থাকে না,, তারা তাদের বর্তমান দিনটা নিয়েই ভাবে কিভাবে কাটবে দিনটা, রাতটা না হয় জোৎস্না দেখে কাঁটিয়ে দিবে কিংবা জেগে জেগে উদ্ভুত কোন স্বপ্ন রচনা করবে কিন্ত রাত শেষে স্বপ্নগুলো ভাঙ্গা কাঁচের মত চিঁড় ধরবে। মাঝে মাঝে রায়হানরাও চায় খুব করে চায় তার ছোট স্বপ্নটা যেন হুট করে সত্য হয়ে উঠে, স্বপ্নটা ধরা দিক তার হাতের মুঠোয় কিন্ত স্বপ্ন তো আর ঘুড়ি না যে লাটায়ের সুতো ধরে আস্তে আস্তে টেনে কাছে আনবে!!
তবু রায়হানরা আশায় বেঁচে থাকে এই ভেবে যদি ছোট স্বপ্নটা হাতে ধরা দেয়!
আচ্ছা রায়হানদের স্বপ্ন কি কোনদিন ধরা দিবে না লুকোচুরি খেলেই একদিন জীবন নামক তরি ডুবে যাব?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now