বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অস্তিত্বের প্রয়োজনে

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ৷ ৷ ৷ ১. সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বিশাল মুক্ত আকাশ তার গাঢ় রঙে নিজেকে রাঙিয়ে নেয়ার বিশেষ প্রস্তুতি নিচ্ছে। আবীর সেই উন্মুক্ত আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। নি:সঙ্গ জীবনে ওই আকাশটাই যেন তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। কখনো কখনো আবীর আকাশের সাথে কথা বলার চেষ্টা করে। কথপোকথনগুলো হয় খুবই হাস্যকর। আশেপাশের মানুষের মনোযোগ এড়ানোর জন্য সে তার মোবাইলের ইয়ারফোন দুটো কানে লাগিয়ে রাখে। যদিও সে জানে তার কোন প্রয়োজন নেই। জীবন এখানে চলমান, যেখানে একমুহূর্তের বিরাম নেই। আবীরের যখন কোন প্রজেক্ট, অ্যাসাইনমেন্ট কিংবা এক্সাম থাকে না, তখন সে উইন্ডসর আর হ্যাম্পশায়ার স্ট্রীট ধরে হাটতে পছন্দ করে। আশেপাশের মানুষজন হয়তো তাকে লক্ষ্য করে না, কিন্তু গভীর আগ্রহে সে মানুষগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে। লোহার দুইপ্রান্ত দুই তাপমাত্রায় রাখলে যেমন তাদের মাঝে বিশাল পার্থক্য তৈরী হয়, তেমনি পৃথিবীর দুই প্রান্তে থাকা দুইটি দেশের মানুষের মধ্যেও আচার-আচরণগত পার্থক্য তৈরী হয়। তবুও কিছু একটা সে মেলাতে পারে না… ম্যাসাচুসেটস এ এখন সন্ধ্যা, তারমানে ওপারে এখন সকাল। আবীর তাই সন্ধ্যায় এ রাস্তায় হাটতে বেরোলে মাঝে মাঝেই আনিকাকে ফোন করে। দিনের বাদবাকি সময় হয়তো দুজনই ব্যস্ত থাকে। তাই কথা খুব একটা বলার সময় হয় না। আজও তাই আবীর আনিকার নাম্বারটা ডায়াল করে, কিন্তু কি মনে করে আর ফোন করে না। হয়তো সে ঘুমিয়ে আছে। সোনার কাঠি ছুইয়ে ঘুমন্তপুরীর ঘুমন্ত রাজকন্যাকে আর বিরক্ত করতে ইচ্ছে করে না তার। এখন সকাল হলে হয়তো আবীর স্কুইরেল ব্র্যান্ড পার্কে গিয়ে কোন একটা গল্পের বই পড়ে সময়টা কাটিয়ে দিত। ছুটির সকাল গুলোতে অবশ্য ঘুম থেকেই ওঠা হয় না, পুরো সপ্তাহের বিশ্রামটা ওই একদিনের জন্যই বরাদ্দ থাকে। তাই সে তার ডরমিটরীতে ফিরে আসে। বিছানায় শুয়ে কংক্রীটের সিলিংটা দেখতে থাকে। কত সমান আর মসৃণ সেটা। কোন খাদ নেই। জীবনে যখন কোন খাদ থাকে না, মানুষ বেচে থাকে কি করে? ২. আজকের আবহাওয়াটা যেন বিশেষ কিছু। সবাইকেই ফুরফুরে লাগছে। শান লি কে দেখা গেল ক্লাসরুমে বল ছোড়াছুড়ি করতে। লিয়ানা গভীর মনোযোগ দিয়ে একটা থ্রি-ডি গ্লাস দিয়ে তার ল্যাপটপে কোন একটা ভিডিও দেখছে। আজও অন্যদিনের মতো বামদিকের পেছনের সিটটাকেই বেছে নেয় আবীর। ব্যাগের চেইনটা সম্ভবত ভাল করে লাগানো হয় নি। ব্যাগটা ডেস্কে রাখতেই ঘটল দূর্ঘটনাটা। একই সাথে তার ব্যাগ থেকে ডিজিটাল ব্যারোমিটারটা মাটিতে পড়ল এবং একটা মেয়ে এসে তার ওপর তার সাদা স্নিকারটা বসিয়ে দিল। আবীর থ হয়ে বসে থাকল কিছুক্ষণ। বুঝতে পারল না কি করবে। -‘আই এ্যাম সো সো স্যরি’। বলল সোনালি চুলের মেয়েটা। চেহারায় একটা বাচ্চা বাচ্চা ভাব আছে। -‘উমমম…’ কি বলবে ভেবে পায় না আবীর। ‘ঠিক আছে। সমস্যা নেই’। ইংরেজীতে বলল সে। -‘আমি ওটার দাম দিয়ে দেবো। আমার আরও দেখে চলা উচিত ছিলো’। মাথায় চাপড় মেরে বলল মেয়েটা। -‘আরে না না। দাম দিতে হবে না। আমি আরেকটা কিনে নেবো। আমারও তো দোষ ছিল’। হেসে বলল আবীর, তবে কিছুটা অপ্রস্তুতভাবে। -‘আর ইউ শিওর?’ কিছুটা অবাক হয়ে তাকাল মেয়েটা। ‘আই এ্যাম ক্যাথরিন বাই দা ওয়ে। ক্যাথরিন জোনস’। হাত বাড়িয়ে দিল সে। -‘আই এ্যাম আবীর, নাইস টু মিট ইউ’। বাড়ানো হাতটা ধরে ঝাকুনি দিল আবীর। কিন্তু সে বুঝতে পারল না, সেই ঝাকুনিতে কি দু:স্বপ্ন সে বয়ে আনল। ৩. ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোন বন্ধু ছিল না আবীরের। এই প্রথম সম্ভবত একটা বন্ধু জুটল তার। ক্যাথরিন আর বাদবাকি আমেরিকানদের থেকে আলাদা ছিল না। কিন্তু তার মধ্যে একটা বাচ্চা বাচ্চা ভাব ছিল। সাদা চামড়ার আমেরিকান হয়েও সে আবীরের সাথে এত খুশি হয়ে কেন মিশত, সেটা আবীর বুঝতে পারত না। তার কাছে মনে হল, সম্ভবত: তার ইনস্ট্রুমেন্টটা ভেঙে ফেলায় মেয়েটা লজ্জিত। এটা হলে বেশ তাজ্জব ব্যাপারই হবে। এখন পর্যন্ত কোন আমেরিকানকে সে লজ্জিত হতে দেখে নি। এখনও অবসর পেলে আবীর উইন্ডসর আর হ্যাম্পশায়ার স্ট্রীট ধরে হাটে, কিন্তু এখন সাথে থাকে ক্যাথরিন। তার সামনেই সে মাঝে মাঝে আনিকার সাথে কথা বলে। আনিকা আর আবীরের সম্পর্কের একটা খুব সুন্দর দিক- কেউ কখনো কারও কাছে কোনকিছু লুকিয়ে রাখে না। আবীর আনিকাকে ক্যাথরিন সম্পর্কে বলে। আবীর যদিও আনিকার চেহারা দেখতে পায় না, কিন্তু বুঝতে পারে হাজার-হাজার মাইল দূরে আনিকার ভ্রু-যুগল কিঞ্চিত কুচকে যায়। আবীর মনে মনে হাসে। আনিকা আবীরকে অনুরোধ করে আমেরিকান মেয়েদের থেকে দূরে দূরে থাকতে। তাদের কথপোকথন ক্যাথরিন বুঝতে পারে না। সে শুধু হেসে জিজ্ঞেস করে, -‘কে ছিল? তোমার গার্লফ্রেন্ড?’ আবীর মাথা নাড়ে। -‘আমার ফিয়ানসি’। শুনে কিছুক্ষণের জন্য ক্যাথরিনের মুখের হাসি মুছে যায়। যদিও সে মুখে কিছু বলে না, তবু্ও আবীর বুঝতে পারে, কিছু একটা ব্যাপার আছে। ৪. আবীর এখন ক্যাথরিন এর বাসায় আসে মাঝে মধ্যে। ক্যাথরিনও কখনো কখনো আবীরের ডরমিটরিতে যায়। দুজনের সম্পর্কটা যেন বন্ধুত্বের গন্ডি পেরিয়ে আরও অনেকদূর এগিয়ে যায়। ইতোমধ্যে আবীর ক্যাথরিনের সামনে আনিকার সাথে কথা বলা কমিয়ে দিয়েছে। অনেক বেছে বেছে সে সময় বের করে, তবুও আনিকার সাথে কথা হয় তার। একদিন এমনি সময় ক্যাথরিনের সামনে পড়ে যায় আবীর। কিন্তু সে কথা বন্ধ করে না। কথা শেষ হবার পর ক্যাথরিন জিজ্ঞেস করে, -‘কে? আনিকা?’ আবীর মোবাইলের স্ক্রীণের দিকে তাকিয়ে বলে, -‘হুম’। কড়া চোখে তাকায় ক্যাথরিন। -‘কি বলল সে?’ হেসে জবাব দিল আবীর, -‘এই তো। সবসময় যা বলে। ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করতে, ঠিক মতো ঘুমোতে, রাত কম করে জাগতে…’ কপাল কুচকে যায় ক্যাথরিনের। -‘তুমি কি মিথ্যে বলছ?’ এবার একটু সিরিয়াসলি তাকায় আবীর। -‘মিথ্যে কেন বলব। আনিকার সাথে আমি যা খুশি বলতে পারি। সেটা কি অন্যায়?’ ক্যাথরিন উঠে দাড়ায়। খানিকক্ষণ এদিক সেদিক পায়চারি করে। যেন কিছু একটা সে ঠিক ধরতে পারছে না। আবার সে আবীরের সামনে এসে বসে। -‘আমি তোমাকে পছন্দ করি’। সে বলে ওঠে। তার চেহারার কঠোর ভাবটা ঠিক কেটে যায় নি। আবীর হঠাৎ মনে করার চেষ্টা করে, দু’বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সামনে যখন ঝুম বৃষ্টি হচ্ছিল। আনিকা অযথাই একটা ছাতা নিয়ে রাস্তা দিয়ে হাটছিল। বাতাসে ছাতাটা উল্টে গেলে সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে পড়ে, ভিজে চুপসে যায়। দূর থেকে দেখে আবীর এগিয়ে যায় সাহায্য করার জন্য। আনিকা কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে যায়। তারপর ব্যাগ হাতড়ে কি যেন খুজতে থাকে। আবীর তার ছাতাটা ধরে থাকে আনিকার মাথার ওপর। আনিকা ব্যাগ থেকে আবীরের সবচেয়ে পছন্দের হলুদ গোলাপটা বের করে তার হাতে ধরিয়ে দেয়। আবীর বুঝতে পারে না কি করবে। আনিকা আস্তে করে বলে ওঠে, ‘আমি তোমাকে পছন্দ করি’। আবীর তার চোখের দিকে তাকায়। সে চোখে রাজ্যের রহস্য, বিপুল গভীরতা। সে রহস্য উদঘাটন করতে না পারলেও আবীর তার অনুভূতির গভীরতাটা বুঝতে পারে… আজ সেই দৃষ্টির কথা মনে করে আবীর ক্যাথরিনের চোখের দিকে তাকায়। সেখানে কিছুই নেই। ঈর্ষার ছায়া আর হেরে যাবার ভয় ছাড়া। আবীর একটু কেশে নিল, -‘আমিও তোমাকে খুব পছন্দ করি। কিন্তু সেটা একজন বন্ধু হিসেবে। আমাদের মাঝে এরচেয়ে বেশি কিছু হওয়া সম্ভব না’। দৃষ্টি অন্য দিকে ফিরিয়ে বলল আবীর। -‘হোয়াই? কেন হওয়া সম্ভব না?’ রেগে গিয়ে বলল ক্যাথরিন। তার চোখের কোণে অশ্রু চিকচিক করতে দেখা গেল। -‘কারণ আনিকাকে আমি কথা দিয়েছি, আমি তাকে বিয়ে করবো। সেও আমাকে কথা দিয়েছে, সে আমার জন্য অপেক্ষা করবে’। বলল আবীর। জোরে হেসে উঠল ক্যাথরিন। ঘরময় সে হাসি কেন জানি খুব ভয়ংকর শোনাতে থাকে। ইট- কাঠের খাচায় বন্দী মানুষ বরফ-পানির মায়া-মমতা কেন জানি বুঝতে পারে না কখনোই। -‘আর তুমি তার কথা বিশ্বাস করেছ? হা হা হা হা…’ সে হাসতেই থাকে। ‘তুমি জান, সোফির এখন কত নম্বর বয়ফ্রেন্ড আছে? সাত। লিসা এ নিয়ে চারজনকে বিয়ের আশ্বাস দিয়েছে। বাট, তুমি মনে কর যে সে বিয়ে করবে? সো ফানি….’ হঠাৎ করে আবীরের চারপাশের পৃথিবী বদলে যায়। আগে এমনটা হতো, কোন এক ঐশ্বরিক নিয়ন্ত্রণ এসে ভর করত তার নিজের ওপর। যেন তার প্রতিটি শিরা উপশিরার গতিপথ সে পাল্টে দিতে পারবে। আবীর ক্যাথরিনের হাত ধরে সজোরে টান দিয়ে তাকে তার পাশে বসায়। তারপর সেলফোনটা নিয়ে একটা ছবি বের করে। -‘এই ছবিটা দেখ’। বলে সে। ‘এই হচ্ছে আনিকা। আমার সমস্ত জীবনের সাধনা’। ক্যাথরিন মনোযোগ দিয়ে দেখে। হাল্কা হলুদ রংয়ের জামা পরা একটা সাধাসিধে মেয়ে। দেখে ক্যাথরিন অবাক হয়ে যায়। -‘তুমি এই মেয়েকে পছন্দ কর? … কিন্তু কেন? কি তার স্পেশালিটি?’ এবার আবীর হাসে। প্রচন্ড হাসি পায় তার। সে হাসি থামিয়ে বলে, -‘এই মেয়েটিকে আমি ভালোবাসি, যার হাত আর মুখ ছাড়া আমি কোনদিন কিছু দেখিনি…’ অবাক বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকে ক্যাথরিন। বুঝতে পারে না কি করবে। -‘এই মেয়েটিকে আমি ভালোবাসি, যার হাত ছাড়া অন্য কোন কিছু আমি কোনদিন স্পর্শ করিনি’। বলে আবারো হাসতে থাকে আবীর। -‘তাহলে কেন তুমি তাকে ভালোবাসো?’ হতবুদ্ধি হয়ে জিজ্ঞাসা করে ক্যাথরিন। -‘তোমরা সেটা বুঝতে পারো না, কারণ তোমরা কোনদিন ভালোবাসা দেখ নি। ভালবাসা হয় দুটি আত্মার মাঝে, দেহের মাঝে নয়। সৃষ্টির আগে, ধ্বংসের পর, সবসময় রয়ে যায়। আমি তাকে ভালোবাসি, তাই আমি বিশ্বাস করি, সে আমার জন্য দু’বছর কেন, অনন্তকাল অপেক্ষা করবে…’ আবীরের চোখ দিয়ে পানি ঝরতে থাকে। এতদিনের তার চেপে রাখা কষ্ট। প্রিয়জনদের সুদূরে ফেলে আসার কষ্ট এতদিন ধরে নিজেকেই বুঝতে দেয়নি। ছলনা করে গেছে নিজের মনের সাথে। আজ সব ঝেড়ে ফেলল ভালোবাসার কষ্টে নুয়ে পড়া এক তরুণ। ক্যাথরিন কে এগিয়ে দিতে গ্রাউন্ড পর্যন্ত যায় আবীর। তারা দুজন আস্তে আস্তে হাটতে থাকে। কোথায় যেন সুর কেটে গেছে। কেউ আর আগের মতো স্বাভাবিক কথা বলতে পারে না। -‘তাহলে আজকে যাই। কাল ক্যাম্পাসে দেখা হবে’। হাল্কা হেসে বলে ক্যাথরিন। আবীর মাথা ঝাকিয়ে ঘুরে চলে যায়। -‘আবীর’। পেছন থেকে ডাক দেয় ক্যাথরিন। আবীর ঘুরে দাড়ায়। -‘আনিকা খুব লাকি একটা মেয়ে। আমার খুব ইচ্ছে হচ্ছে আনিকা হয়ে জন্ম নিতে’। আবার হাসে ক্যাথরিন। তারপর ঘুরে চলে যায়। তার যাবার পথের দিকে তাকিয়ে থাকে আবীর। বর্ষণমুখর দিনে কখন সূর্য ওঠে, আর কখন তা মেঘের আড়ালে চলে যায়, কেউ বলতে পারে না। মানুষ শুধু আশা করে যায়, সূর্য উঠবে… ৫. পরদিন তুমুল মাত্রার হই-হুল্লোড় শুনে ঘুম ভাঙে আবীরের। দৌড়াতে দৌড়াতে খুজতে থাকে সে হুল্লোড়ের উৎস্য। অনেক পুলিশ দেখা যায় এখানে সেখানে। খবর পেতে খুব বেশি দেরি হয় না। মর্নিং ক্যাম্পাসের প্রথম পাতায়ই আছে খবরটা। সায়ানাইড খেয়ে গ্রাজুয়েট স্টুডেন্ট এর আত্মাহুতির খবর। ব্যাপারটা কাউকে ভাবিয়ে তুলেছে বলে মনে হলো না। সবাই স্রেফ আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা করছে যেন। আবীরের চোখ খুজে ফেরে ক্যাথরিনের বাবা-মা কে। নিশ্চয়ই তারা প্রত্যেকের দ্বিতীয় স্বামী বা স্ত্রী কে সাথে করে নিয়ে এসেছেন। আবীরের কেন জানি গা গুলিয়ে আসে। নিয়ম-শৃঙ্খলার বেড়াজালে জড়িয়ে যাওয়া মানুষ তাদের স্বীয় সত্তাকে বলি দিয়েছে অনেক আগেই। সেখানে মানুষের জন্ম যেমন সহজ, মৃত্যুটাও তাই। নিজেকে অপরাধী মনে হলো আবীরের। কি করবে সে এখন? ক্যাথরিনের কঠোর দৃষ্টির পেছনে যে শূণ্যতায় হাহাকার করতে থাকা একটা বাচ্চা মেয়ে লুকিয়ে ছিল, লুকিয়ে ছিল দু:খ কষ্টে জর্জরিত এক প্রাণহীন সত্তা, তাকে কেন দেখতে পেলো না আবীর? একটা কবিতা মনে পড়ে যায় তার, ওই দূর বনে সন্ধ্যা নেমেছে ঘন আবীরের রাগে, এমনি করিয়া লুটাইয়া পড়িতে বড় সাধ আজ জাগে... আবীরকে এখনো দেখা যায় হ্যাম্পশায়ার আর উইন্ডসর স্ট্রীট ধরে হাটতে। কিন্তু তার সাথে থাকা মেয়েটাকে দেখা যায় না। শুধু আবীর হেটে যায় আকাশের দিকে তাকিয়ে… [ভালোবাসার সত্যিকারের রূপ পাশ্চাত্যে বিরল। যান্ত্রিক মানুষের গভীরে লুকিয়ে থাকা হতাশায় পুড়ে প্রাণ দেয় শয়ে শয়ে মানুষ। দিন দিন তাই আত্মহত্যার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আর পাশ্চাত্য সংস্কৃতি যেভাবে আমাদের মাঝে মিশে যাচ্ছে, তাতে করে একদিন আমরাও যে এমন কিছুর সম্মুখীন হবো না, তা কে বলতে পারে?] -রওনক ইসলাম-


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now