বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আহারে! আহারে! কোথায় পাবো তাহারে..
ফুল সাউন্ডে গানটা নিজ গলায় গাইতেছিলাম।আসলে মিনারের গান বলে কথা! আস্তে গাইলে তৃপ্তি পাওয়া যায় না।তাই জোরে জোরে গাচ্ছি,আর তার সাথে হালকা একটু কোমর দোলাচ্ছি, আমার রুমে বসে।গানটা দু'লাইন মাত্র গাইলাম।আমার গান গাওয়া আর নাচের মাঝে বাবা আমার রুমে এসে চিল্লাইয়া বলছে,
-তামান্না,তোর কি হইছে?বান্দরের মতো লাফাচ্ছিস কেন?আর কি বলতেছোস আবোল-তাবোল?তুই কারে খুঁজোস?
-আরে বাবা,মিনার..
-কিহ্! মিনার? পশ্চিম বাড়ির রহমত ভাইয়ের ছেলেটা?আল্লাহ্ রে! কি কস তুই? মিনার রে কেন খুঁজতেছোস?ঐটা তো একটা বখাটে পোলা।তোর ওরে দিয়া কি কাজ?তুই কি আমার মানসম্মান ডুবাইবি?দেখ,তামান্না দশজনে আমার কাছে পরামর্শ নিতে আসে,আমার সম্মান নিয়ে কেন এই শুরু করলি?
-বাবা ! কি কও তুমি? মিনারের কথা না শুনেই তুমি কি বলছো এসব?জানো বাবা, আমি আজ খুব খুশি।
মিনার আজ আমাদের ভার্সিটির ক্যাম্পাসে আসছিল।
-কিহ্! ওর এত্ত বড় সাহস?ঐ পোলা তোদের ভার্সিটি গেছে?তোরে কিছু কইছে নিশ্চয়! মা'রে তুই ওর ফাঁদে পড়িস না।ঐ ছেলে মোটেও ভালো না।
-উফ্ বাবা! তখন থেকে তুমি মিনারকে বকছো কেন?ও আমার হার্ট।
-কি কয় এই মাইয়া?
কহিনুর, দেখে যাও তোমার মাইয়ার মাথাটা গেছে।কি শুরু করছে তোমার মাইয়া এসব?মাইয়ারে আদর করতে করতে বাঁদর বানিয়ে ছাড়ছো।এখন মাথার উপরে উঠে ধেই ধেই করে নাচচে।
-আরে চিল্লাইতেছো কেন?আমার মেয়ে কি করছে, হু?
-কি করে নাই সেটা বলো?তুমি জানো, তোমার মেয়ে মিনাররে খুঁজতেছে।
-তাতে কি হয়েছে?মিনারকে তো আমারো খুব পছন্দ।
-কিহ্! ওরে, ওরে তোরা কে কোথায় আছিস?
আমার বাড়িতে কি হচ্ছে এসব?
-ঐ তুমি থামো।লোক ডাকতেছো কেন?লোক ডাকার কি আছে?সামান্য ব্যাপারে তুমিও না! যত্তসব!
-এটা সামান্য ব্যাপার?
মা,মেয়ে দুটোই পশ্চিম বাড়ির রহমত ভাইয়ের বখাটে ছেলেটার জন্য পাগল হয়েছো।
-ওমা, ছিঃ ছিঃ তুমি এসব কি কও?
মাথাটা গেলো নাকি?এখানে পশ্চিম বাড়ির রহমত ভাইয়ের ছেলের কথা কেমনে আসলো?
-আসবেনা কেন? তোমরা পাগল হইতে পারো,আর আমি বলতেও পারি না?
-ঐ তুমি দাঁড়াও।তুমি আন্দাজে এমন লাফাচ্ছো কেন?আর মিনার পশ্চিম বাড়ির রহমত ভাইয়ের ছেলেনা।
-কি বলো?আমাদের এলাকায় আর কোনো মিনার আছে কি?কে সে? কোথায় থাকে?পোলার চরিত্র কেমন?নিশ্চয় ভালোনা।
-উফ্,এই বুইড়াটারে লইয়া আমার জীবন তেজপাতা হয়ে যাচ্ছে।আরে এই মিনার হচ্ছে একজন বিখ্যাত সিঙ্গার। যে আজ তামান্নাদের ভার্সিটি আসছে গান করতে।ওর গান শুনতেই তো আমরা মা,মেয়ে একসাথে গিয়েছিলাম।
-বাবুরে বাবু! বুড়াতি বয়সে তুমিও মেয়ের সাথে তাল মেলাচ্ছো? বাহ্ ! ভালোতো।কয়দিন পর তোমরা মা মেয়ে আমার মাথার বাকিচুলগুলা তুলে ফেলবে।
এতক্ষণ কথাটা বুঝিয়ে বললেনা কেন?
-তুমি সময় দিয়েছো বোঝানোর?তার আগেইতো শুরু করছো, তোমার ঘ্যানরঘ্যানর।
আমার হয়েছে যত জ্বালা! যাও তো সরো।
ইনি হলেন আমার বাবা।তখন থেকে যিনি চিল্লাচিল্লি করছিলেন।আসলে কি আর বলবো বাবার সম্পর্কে। ছোটোবেলা থেকে দেখছি,সবকিছু না বুঝে চেঁচামেচি করা শুরু করে।কাউকে কিছু বলার সুযোগটাও উনি দেন না।তবে বাবা হিসেবে প্রচুর ভালো।আমায় বেশ আদর করেন। আর উনার সাথে যিনি সঙ্গ দিলেন,উনি আমার মা।মাও একটু বেশি মিনার পাগল, আমার মতো।মিনার সম্পর্কে কেউ কোনো কটু কথা বললে আমার আগে আমার মা তার দফারফা করে ছেড়ে দেয়।এক কথায় তিনি মিনারের খুব বড় ভক্ত।
আর আমি হচ্ছি তামান্না।তবে আমার সম্পর্কে বাড়তি কিছু বলে আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করছিনা।কারণ আমার ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে আমার মায়ের কাছে এত্তবড় একটা লিস্ট আছে।যেটা বললে মিনিমাম ২৪ঘন্টা সময় লাগবে।
লিস্ট না দেখে বরং সরাসরি এই তামান্নাকে চিনে নিন।
-তামান্না,তোর বাবার পাঞ্জাবীটা কি করলি?উনাকে দিয়ে আয়।
-আসছি মা।যাই মা ডাকছে।তবে এখন বাবাকে পটানোর সুবর্ন সুযোগ।
কি ভাবছেন?কেন পটাবো? আরে মশাই ধৈর্য্য ধরে শুধু দেখুন।
-এই নাও বাবা,তোমার পাঞ্জাবী।
-দে।কিরে তোর মুখটা এমন বাংলার পাঁচ এর মতো করে রাখলি কেন?কি হয়েছে বলতো?
-কি হয়নি সেটা বলো?আজ ভার্সিটি হতে আসার পথে দুলাল কাকুর ছেলেটা আমায় বাজে কথা বলেছে।
-তোকে দুলালের ছেলে বাজে কথা বলেছে?ডব দিচ্ছিস? যাতো আমি বিশ্বাস করিনা।
-বাবা,সত্যি বলছি।বিশ্বাস কেন করবেনা?
-কারণ, দুলালের ছেলের মতো ঐরকম ভদ্র ছেলে আমাদের পাড়ায় আর একটাও নেই।সুতরাং ও তোর মতো এমন গুন্ডি টাইপ মেয়েকে বাজে কথা বলবে এটা আমি তোর বাপ হয়ে বিশ্বাস করতে পারলাম নারে মা।
-ঠিক আছে,ঠিক আছে।যাও তুমি।যা করার আমি করবো।
বাবার ঘর থেকে মেজাজ গরম করে চলে আসলাম।
কি ভাবলেন?আমি বাবাকে সত্যি বলেছি?আরে দূর! ওসব তামা'কে দিয়ে হবেনা।কি মনে করলেন? নামটা ভুল লিখেছি? আরে না মশাই।বন্ধুমহলে আমি তামা উপাধি নিয়ে পরিচিত। যাকগে কাজের কথায় আসি।
আসলে ব্যাপারটা হলো,
দুলাল কাকুর ছেলে আমায় কিচ্ছু বলেনি।বরং আমি ছেলেটার পিছনে লাগছি।আসলে ঐরকম নাদুসনুদুস ছেলে দেখলে আমার আবার না বাজিয়ে থাকতে ভালো লাগেনা
তাই এই ছেলেকে রাস্তায় অনেকক্ষণ বিরক্ত করলাম।
কিন্তু একটা জিনিস দেখে অবাক হলাম।ছেলে আমাকে পাত্তাই দিলো না?জানেন,আমি বন্ধুদের সামনে কত্তবড় অপমান হলাম।ওরাতো রীতিমত আমায় ক্ষেপানো শুরু করে দিলো।
তাই ওদের মুখ বন্ধ করতে বাবাকে হাত করতে আসলাম।যেহেতু বাবা একজন গুণী মানুষ।যার কথা মোটামোটি সবাই শুনে।ঐ ছেলেকে জব্দ বাবা করতে পারবে।এটা ভেবে বাবার কাছে গিয়েছিলাম।কিন্তু বাবাতো দিলো আমাকে ফাউল করে।
আচ্ছা বাবার কথা বাদ।এখন ছেলেটাকে সায়েস্তা করতে হবে।উপযুক্ত শাস্তি দিয়ে বন্ধুমহলে নিজের অধিকার কড়ায় গন্ডায় বজায় রাখতে হবে।
দুলাল কাকুর ছেলের সম্পর্কে তেমন কিছুই আসলে জানিনা।জানবো কি করে?উনার ছেলেতো বাড়িতে থাকতেন না।লেখাপড়ার জন্য আমেরিকা চলে যান।ওখান থেকে পড়ালেখা শেষ করে গতমাসে বাড়িতে এসেছেন।
দেখতে, শুনতে খারাপ না ছেলেটা।মাশাল্লাহ্ ভালোই।তবে একটু অহংকার। আরে কিসের আর হবে? পড়ালেখার অহংকার। বুঝি বুঝি।সব-ই বুঝি।এক ক্লাসেতো আর এমনি এমনি তিনবার পড়ছি না। ও হ্যাঁ আমার একটা গুণের কথা বলি আপনাদের।আমর এক সেমিষ্টার কমপ্লিট করতে মোটামোটি তিন বছর সময় লাগে।একটু বেশি মেধাবী তো তাই।
তবে ভাবছি,এই ছেলেকে জব্দ করার ব্যাপারে। দেখে বুঝতে পেরেছি, এই জিনিস সহজে পটবে না।মেয়েদের থেকে দূরেই থাকে।কিন্তু এটাকে তো ভাগে আনতে হবে।কি করা যায় বলুন তো।
-কিরে তামান্না,তুই আজ ভার্সিটি যাবি না?
-যাবো মা।একটু লেট করেই যাবো।
-লেট করে যাবি মানে?স্যার কিছু বলবে না?
-আরে মা,খামোখা চাপ নিওনা।স্যার আমায় কি বকবে বলোতো?
আমি স্যার কে ভয় পাইনা,বরং স্যার আমাকে ভয় পায়।
বুঝছো মা?
-তামান্না, এসব ঠিক না।উনারা তোমার স্যার।
-আরে ছাড়োতো মা।যাও তুমি।আমি পরে যাবো ভার্সিটিতে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now