বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গল্পটা ভালোবাসার

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ☠Sajib Babu⚠ (০ পয়েন্ট)

X __মা!নীল কোথায়? __কোথায় আর যাবে? এখন ও বালিশে নাক ডুবিয়ে ঘুমাচ্ছে হয়তো! ওকে জাগিয়ে দাও তো,মা। __আচ্ছা মা। (আজকে ওর একদিন কি আমার একদিন মনে মনে বললো ছবি) . ছবি রাতুল সাহেবের একমাত্র মেয়ে। রাতুল সাহেব ব্যাংকে জব করেন। জীবনসাথী কে হারাতে হয়েছে আজ থেকে ১২ বছর আগে কোন এক দূরারোগ্যে। তখন ছবি ৭বছরের মেয়ে। মায়ের অকাল মৃত্যু মেয়েটাকে নিথর নিঃস্তব্দ করে দিয়েছিল। রাতুল সাহেবও প্রথম অবস্থায় হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু, ওনার সব দুঃখ,কষ্ট আর যন্ত্রনাকে মাটি চাপা দিয়ে রেখেছিলেন। কেননা, তার এ হতাশায় ছোট্ট মেয়েটা আরও নিথর হয়ে যাবে ভেবে। ওকে অনেক যত্নে রাখতে হবে। কোন অভাব বুঝতে দেয়া যাবে না। যেভাবেই হোক যতটা পারা যায় মায়ের শুন্যতা দূর করতে হবে। তখন থেকেই ছবির কোন আবদার আজ পর্যন্ত অপূর্ণ রাখেননি ওনি। হাজারো দোষে মেয়েকে কোন দিনও একটা থ'কথা বলেননি। ছোট্টবেলা থেকে অনেক যত্নে বড় করেছেন মেয়েটাকে। . . অন্যদিকে, সজল সাহেব আর রাজিয়া বেগমের একমাত্র ছেলে নিলয়। যাকে ছবি নিল বলেই ডাকে। নিলয়ের বাবা সমাজকল্যান বিভাগে জব করেন। ওনারা ছবিদের বাসায় ভাড়া থাকেন। ওদের বাসাটা মোহাম্মদপুর টাউন হলের পাশেই। . নিলয় ঢাকা কলেজে অনার্স করছে ইংরেজী বিভাগে। ও এবার অনার্স ২য় বর্ষে। অনেকটা শান্ত স্বভাবের। খুব কম কথা বলে। খুব কমই বন্ধুদের সাথেই মিশে ও। সব সময় একা থাকতে বেশি চেষ্ঠা করে। একা থাকতে নাকি ওর একটু বেশিই ভালোলাগে। যতেষ্ঠ টাইপের বই পোকাও বটে। একটু সুযোগ পেলেই বই পড়ে তবে সিলেবাসের বই না। সিলেবাসের বাহিরে বাংলা সাহিত্য বিষয়ক গল্প,কবিতা আর উপন্যাস পড়তে পছন্দ করে। ছবি কালকে রাতে বান্ধবীর বাসায় ছিল। গেছিল বান্ধুবী রোজের জন্মদিনে। কিন্তু, ওর বাকি বান্ধুবীরা ওকে কালকে আসতে দেয় নি। ক্লোস ৩বান্ধবী সহ রোজদের বাসায় থাকতেও হয়েছিল কালকে রাতে। চঞ্চল প্রকৃতির ছবি বই পড়া তেমন পছন্দ করে না। ওর সামনে নিলয়ের কোন বই পড়লেই সে বই হারাতে হয় সারাজীবনের তরে। তাইতো নিলয় দরজা বন্ধ করে চুপি চুপি বই পড়ে। বই পড়া ওর আবার নেশা। বই না পড়লে ঘুমেই আসে না। কালকে ছবি বাসায় না থাকায় যেন শীতে বসন্ত পেয়েছিল নিলয়। তাই রাত জেগে আয়েশ করে বই পড়ছে। . . অন্তঃপর, ছবি নিলয়ের রুমে ঢুকে পড়লো। দেখলো টেবিলের উপর হুমায়ন আহম্মেদের "শঙ্খনীল কারাগার" উপন্যাস। (মনে মনে ভাবলো তাহলে বাছাধনের অন্তরে কি বসন্তের হাওয়া বইছে। দাঁড়াও মজা দেখাচ্ছি) . এই বলে ছবি ফ্রিজ থেকে এক খন্ড বরফ নিয়ে এসে অমনি রাখলো নিলয়ের গলায়। আর, একটা খেলনা সাপ ও রাখলো নিলয়ের গলায়। সেকেন্ড কয়েক পর ভয়ে লাফিয়ে উঠলো নীল। দু'হাত দিয়ে খেলনা সাপটি ফেলে দিয়ে সাপ!সাপ! করে ভয়ে দৌড় মাড়তেই ছবিকে সামনে দেখে থামতেই দেখলো ফেলে দেয়া খেলনা সাপটা মেঝেতে পরে আছে। নিলয় বললো...... __তাহলে তুমি!দাড়াও মজা দেখাচ্ছি। (এই বলে ছবি কে ধরতে চাইলেই ছবি দিল এক দৌড়। দৌড়ে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে মাকে বলতে লাগলো) __মা! ঐ দেখোতো নীল আমাকে মারতে চাচ্ছে। শুনো মা! আমি ওকে বার বার ডাকছি অথচ ও হু! হু! করছে কিন্তু কিছুতেই উঠছে না। এক পর্যায়ে ওর ঘুমের ডিষ্টাব করছি বলে আমাকে মারার জন্য আমার পিছনে দৌড় দিছে মা। __নাহ মা! ও আমাকে.....!(নিজেই দোষ ঘারে নিল নিলয়। কারন, এ কথা শুনলে মা ছবিকে বকা দিবে। ও অভিমান করবে আর কাঁদবে। ওর কান্না একেবারেই সইতে পারে না নিলয়। মনে মনে একথা ভেবে নিলয় চুপ করলো।) __ও আমাকে কি? হু! এ কি? বেলা করে ঘুমিয়ে আছিস তাই লক্ষী মেয়েটা তোকে জাগাতে গেল আর তুই। এই বলে মায়ের নরম হাত এসে থেকলো আমার কানে। সকাল সকাল নাস্তা স্বরপ মায়ের কান চিমতি খেলাম। মা! রান্না ঘরে গেলেই ও ৩২ খানা দাঁত বাহির করে খিল খিলিয়ে হাসতে শুরু করলো। হাসলে ওকে দারুন দেখায়।গালে কি সুন্দর টোল পড়ে। তখন ছবিকে মায়াপরীর প্রতিরুপ দেখায়। ছবি একটু খানি হাসলে বা খুশি হলে নিলয়ের খুব ভালো লাগে। . . একদিন কলেজ থেকে ফিরল নীল। রুমে ধুকবে এমন সময় মাকে দেখে থমকে যায় ও। দেখলো মা যেন রাগে তেলে ভাজা বেগুন হয়ে গেছে। ভয় ভয় করে নীল মাকে বললো..... __মা! কি হয়েছে? আর, আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছো কেন? __ছবি যা দেখছে তা কি ঠিক? __কি দেখেছে মা? __মা! দেখছো এমনভাবে বলছে যেন কিছু জানে না। চোরের মন পুলিশ পুলিশ। __আমি তোমাদের কথা কিছু বুঝতেছি না। কি হয়েছে খুলে বলো? __তুই কিছু জানিছ না! তাই না? তোর বাবা আজকে আসুক আগে। তারপর দেখবো কতটা বার পেয়েছিস? (নিলয়ের দু'কানে আবারও চিমতি মেরে, মা বললেন) __ওহ! মা! ছাড়ো লাগছে তো? বিশ্বাস করো মা আমি এখনো তোমাদের কথা কিছু বুঝিনি। __ডুবে ডুবে জল খায়। আর,এখন বলছে কিছু জানে না। ও যেন জলে ভেজা তুলশী পাতা!!(ছবি বললো) __কি করেছি এবার তো একটু বলবে, মা?(নীল) __রিক্সায় তোর সাথের মেয়েটি কে ছিল?(মা) __ওহ! আগে বলবে তো! ও আমার বান্ধবি মনি। আমরা দু'জনে বই কিনতে গেছিলাম।(নীল মনে মনে বুঝতে পেরেছে আজকেও মায়ের বকা খাওয়াতে ছবি এসব বানিয়ে বলেছে মাকে।) __নাহ মা! ও মিথ্যা বলছে। আমি ওকে মেয়েটির পিঠে হাতও রাখতে দেখেছিলাম। __কি? এত বড় মিথ্যা! আজ তোমার একদিন কি আমার একদিন। (এই বলে নীল ছবি কে ধরতে দিলো এক দৌড়।) . এরপর নীল ছবিকে ধরে ফেললে ছবি হাত ধরে হ্যাচকা টান দিতেই দু'জনেই পড়ে গেল ফ্লোরে একে অপরের উপরে। নিচে পড়লো ছবি। খানিক দু'জনের মধ্যে চোখের ভাষার বিনিময় হলো। এরপর নীল ই প্রথমে উঠে গেল চুপ চাপ কোন কথা না বলে। . . সেদিন রাতে ছবি অনেক ভাবলো নীল কে নিয়ে। আমি এত মিথ্যা বলে নীল কে বকা খাওয়াই, চিমটি খাওয়াই অথচ ও প্রতিবাদ করে না কেন? তাহলে ও কি আমায়....? নাহ! কি ভাবছি এসব? নাহ! ভাবতেই তো হচ্ছে! নাহ! এর একটা প্রমান করতে হবে শ্রীর্ঘই। . . দিন কয়েক যাওয়ার পর। নীল কলেজ থেকে আসলো। ছবি ছুটে গেল নীলের রুমে। আর নীলকে বললো..... __ওর ফোনে একটা ছেলের ছবি দেখিয়ে দিয়ে বললো, দেখোতো আমার সাথে কেমন মানাবে? __ওয়াও দারুন মানাবে। তোমার বয়ফ্রেন্ড নাকি? আগে তো বলোনি?(নীল ছবির চালাকি বুঝে এসব বললো) __নাহ! ওরা আজ আমাকে দেখতে এসেছিল। আমাকে পছন্দ হয়েছে ওদের। তাই আংটিও পড়িয়ে দিয়ে গেছে। বিয়ের দিনও ঠিক করে গেছে! __সত্যি! তুমি কি রাজি? তোমার কি পছন্দ হয়েছে? (নিলয়ের কন্ঠে হতাশার স্বর) __হুম খুব। ও অনেক হ্যান্ডশাম আর টাকাওয়ালা এ সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না। কিছু তো বলো?(ছবির মুখে এ রকম কথা শুনে যেন নীলের বাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। তাই চুপ করে দাড়িয়ে রইল।) __চুপ চাপ হলে কেন কিছু তো বলো? (নিলের চুপ চাপ দাড়িয়ে থাকা দেখে ছবি) __কই নাতো! কবে বিয়ে? __হা হা হা খুব শ্রীর্ঘই।(নীলের এরকম কন্ঠে বুঝতে পারলো নীল ওকে ভালোবাসে। এই বলে আর কিছু না বলে ছবি দৌড় দিল) . . নিলয় সেদিন রাতে মাকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলো আজও ও অভিনয় করেছে। নীলের বুঝতে বাকি থাকলো না যে সে ওকে ভালোবাসে কিনা সেটা জানার জন্য ছবির এ নাটক। এবার মনে মনে ভাবলো ছবি ওকে ভালোবাসে কিনা সেটা প্রমান করতে হবে। . . তাইতো একদিন ছবির মত করে ফোনে একটা মেয়ের ছবি দেখিয়ে বললো ও আমার গার্লফ্রেন্ড। আমরা ঠিক করেছি খুব শ্রীর্ঘই বিয়ে করবো। বাসা থেকে রাজি না হলে পালিয়ে বিয়ে করবো। ছবির বুঝতে বাকি রইলো না যে ওর বানানো ফাদে ওকেই আটকানোর চেষ্ঠা করছে। এর মানে মজনু আমার প্রমান করতে চাচ্ছে ওর লাইলি ওকে ভালোবাসে কিনা? তাইতো নীল কে বললো.... __দারুন মানাবে। যত তারাতারি পারো বিয়ে করে ফেলো। এ চান্জ হেলায় হারাইও না। সুযোগ একবারই আছে। প্রয়োজনে আমি তোমাদের বিয়ে করাতে সাহায্য করবো। __তাই! আমি আবার তোমাকে না বলে পারিনা। যত হোক আমার..... বলে কথা! __ওহ মা! তাই? __হু।(নীল বুঝতে পারলো চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে গেছে ও। ছবি ওর চালাকি ধরে ফেলেছে। তাই কথা আর না বাড়িয়ে চলে গেল।) . . অন্তঃপর,ঠিকই একদিন ছবি কে দেখতে এলো। অনেক বড়লোক ঘরের ছেলে। ছবিকে দেখে পছন্দ করে আংটিও পড়িয়ে গেল। যদিও ছবির এ বিয়েতে কোন মত ছিল না। বাবা কে অনেক বুঝিয়েও কাজ হয়নি। বাধ্য হয়ে আংটি পড়তে হয়েছিল। ক্ষনিকেই সাজানো সবকিছু যেন অগোছালো হয়ে গেল। চঞ্চল ছবি একেবারেই নিরব হয়ে গেল। ঠিকমত খাবার খায় না। ঘুমায় না। কারো সাথে ঠিকমত কথা বলে না। মেয়ের এ পরিবর্তন বাবার কাছে খুব ভালো থেকছে না। সারাজীবন যার সুখের জন্য এত কিছু করলো অথচ এক নিমিষেই ওর সুখ বরবাদ হয়ে যাবে। তাই ছেলে পক্ষকে বুঝিয়ে মিলিয়ে না করে দিছে। এ কথাটা মেয়েকে জানাই নি। মেয়ের রহস্য খুঁজে বের করতে হবে। ও কি কাউকে ভালোবাসে? ঐ দিকে নীলের ও একই অবস্থা। নীলের অন্তরেও কাল বৈশাখি ঝড় বয়ে যাচ্ছে। . ধার্যকৃত,বিয়ের তারিখের আগের রাতে নীল আর ছবি কে কথা বলতে দেখলো রাতুল সাহেব। লুকিয়ে লুকিয়ে সব কথা শুনলেন অত্যন্ত চতুর ব্যাংকার। শুনতে পেলেন ওদের ভালোবাসা বাসি এখনো অন্তরে।কেউ কাউকে এখনো বলেনি। ওরা বলছে..... __আমার বিয়ে হয়ে গেলে তুমি কি করবে নীল?কে তোমায় আমার মত জালাবে? কে তোমায় আমার মত করে মার খাওয়াবে? __হুম! তুমি আমায় রেখে চলে গেলে কাকে এভাবে জালাবে? কাকে বকা খাওয়াবে? __নাহ! আমি তোমায় ছেরে যেতে পারবো না। __আমিও তোমায় যেতে দিবো না। __কিন্তু! কেন? আমায় ভালোবাসো? __খুব। তুমি? __আমিও খুব। তোমায় ভালোবাসি বলেই তো তোমাকে এত জ্বালিয়েছি। __আর আমিও সব মেনে নিছিলাম তোমায় ভালোবাসি বলে। তোমার মুখে একটু হাসি দেখার জন্য আমি সব নেই তোমার। বড্ড বেশি ভালোলাগে তোমার হাসি। __কিন্তু!কালকে তো আমায় নিয়ে যাবে চিরদিনের জন্য। __যেতে দিলেই তো! __কি করবে? __পালিয়ে বিয়ে করবো! __কিন্তু! --কোন কিন্তু না। যাও ব্যাগ গুছিয়ে নাও। এখনেই চলে যাবো। __আচ্ছা আমি যাচ্ছি। __তুমি কেন কষ্ট করে গোছাবে মা? আমি গুছিয়ে দিবো।(ছবির বাবা) __হুম। আমরা থাকতে তোমরা কেন গোছাবে? কালকে বিয়ে হয়ে গেল ক'দিন পর যখন হানিমুনে যাবে তখন আমরা ব্যাগ গুছিয়ে দিবো। এখন দু'জনে ঘুমাতে যাও। (নিলয়ের বাবা) __মারে! আমায় ক্ষমা করিছ। হয়তো আজ দাড়িয়ে দাড়িয়ে সব না শুনলে আমার মেয়েটাকে মেরে ফেলতাম। সারাজীবনের জন্য সুখ কেড়ে নিতাম। __বাবা!অমন করে বলো না তো। তুমি ছাড়া আমার আর কে আছে বলো?(বাবা মেয়ে দু'জনে দু'জনের গলায় জড়িয়ে চোখের পানি ফেললো খানিক। এরপর নিলয়ের হাতে ছবির হাত রেখে বললো,তোমরা দীর্ঘজীবি হও।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গল্পটা ভালোবাসার
→ গল্পটা ভালোবাসার
→ গল্পটা ভালোবাসার
→ গল্পটা ভালোবাসার

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now