বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভয়ংকর পৃথিবী ও আজব ভাইরাস (পর্ব ২)

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ৩ অরণ্য এসেছে পৃথিবী থেকে। বয়েস তখন পাঁচ কী ছয়! মানব শিশুদের মাঝে যাদের বুদ্ধিমত্তা সাধারণের চেয়ে বেশি তাদেরকে গ্রহান্তরে পাঠানো হয় ছোট্টবেলাতেই- বুদ্ধিমত্তার সুষ্ঠ বিকাশের জন্য। পৃথিবী এই ২১৮৯ সালে এখনো সজীব। এখনো কিছু কিছু মানবী গর্ভধারণ করে আবেগ নিয়ে। অরণ্যের সবকিছু মনে নেই। তার মায়ের একটা শর্ত ছিলে যে অরণ্যের শৈশবস্মৃতিটুকু তার স্মৃতিপ্রকোষ্ঠে রোপণ করে দিতে হবে- অনেকটা ডিজিটালি সিডিতে তথ্য সঙরক্ষণের মতো। অরণ্য অইটুকুই মনে করতে পারে। তার মনে আছে একটি নারীকে। আর একটি ঘটনা- একটি ছোট্ট শিশু ছুটে এসে দু’হাতে ছুঁয়ে দিচ্ছে একটি নারীর গালের উঠোন। যেন প্রথম শীতল স্পর্শের অনুভূতি মায়ের শরীরে সঞ্চারিত করে দিচ্ছে। মা আদুরে ভঙ্গিতে তার নাকটা টিপে দেয়। আরো অনেক স্মৃতি আছে। অরণ্য ভাবতে পারে না নিখাত- এটুকু ভাবতেই চোখ ছলছল হয়ে আসে! গুটুকে সে বলেছিল। ব্যাটা বিশ্বাস করে নি। অবশ্য বিশ্বাস না করারই কথা। তবে সে কথা দিয়েছিল একদিন ঠিক ঠিক তাকে পৃথিবী দেখিয়ে আনবে- নিজে-ও আবার জন্মস্থানটুকু দেখে নিবে। মা নিশ্চয় এখন বেঁচে নেই; কিঙবা কোন প্রৌঢ় মহিলা। অথচ পৃথিবীতে যাওয়া মানে পাঁচ বছরের সঞ্চয়টুকু বিসর্জন দেয়া। অরণ্য জানে খরচ আসলে এত বেশি নয়- কিন্তু কেন্দ্রীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা এই বিশাল দর হাঁকিয়েছে মানুষকে বিমুখ করার জন্য; যেন কেউ খরচের ভয়ে না যেতে চায়! ৪ হালকা অ্যালকোহল মেশানো কফিতে চুমুক দিয়ে অরণ্যের মনে হলো সে নেমে যাবে। কী হবে নতুন করে পৃথিবী দেখে। তার চেয়ে বরঙ তার যেটুকু স্মৃতি আছে তাহা অটুট থাকুক। একটা ভার্চুয়াল পৃথিবী বানিয়ে নেয়া যেতে পারে। ‘বুঝলে..।’ অনন্তের হাতে একটা ই- খেরোখাতা। সে আবোলতাবোল লিখে রাখে এটাতে। অরণ্য একবার চুরি করে পড়েছিল বলে সে কী রাগ! ‘তোমাকে কেন বাছাই করলাম..’ ‘আমি জানি। আচ্ছা, তোমার কি মনে হচ্ছে না যে তুমি আমার অনুভূতিকে কাজে লাগাচ্ছো।’ ‘তোমার বলা উচিত ছিল ‘তোমাদের।’ আমি ব্যক্তিবিশেষ এই অভিযান পরিচালনা করছি না, আমার-ও উর্ধ্বতন লোক আছে।’ ‘মানে, তোমরাই..জেনিটিক্যালি পরিবর্তিত মানুষগুলো। যারা..যারা …।’ ‘হা হা। হাসালে। পরিবর্তন তোমার-ও করা হয়েছে। হয়তো আমাদের একটু বেশি মাত্রায়। টিকে থাকার জন্য। শখে নয়। তুমি নিজে-ও এসব জানো।’ ‘হুম, জানি। সে কারণেই বেশি ক্ষোভ আসে না!’ ‘যাই হোক, আসল কথায় আসা যাক।’ অনন্ত বাইরে তাকায়। স্নানঘরের এলেবেলে জলবিন্দুর মতো ছড়িয়ে আছে গ্রহ-নক্ষত্র সমষ্টি। শাটল রকেট উজান-বাতাসের মতো ঘেঁষে ঘেঁষে চলে যায় তরঙ্গপ্রবাহ বিলিয়ে। ‘তার আগে একটু ইতিহাস বলা লাগে। তুমি তো জানোই ১৯৯০ সালের দিকে অর্থ্যাৎ প্রায় দুইশত বছর আগে পৃথিবীর মানুষরা ‘মানবিক জিনোম প্রকল্প (Human Genome Project) হাতে নেয়। মূল উদ্দেশ্য ছিল ডিএনএ ও মানব শরীরে যত জিন আছে সবগুলোকে সনাক্ত করা এবঙ তার বৈশিষ্ট্য, কার্যাবলি সঠিকভাবে জানা। দুটি ব্যাপার স্বীকার্যের মতো মনে করা হতো তখন: ১. ডিএনএ হলো জীবনের মৌলিক ভিত্তি ও উপাদান। এতে মানুষের যাবতীয় বঙশগতি ও আনুষঙ্গিক তথ্য কোডেড হয়ে থাকে। ২. জিনগুলোর কার্যাবলি ও সম্পূর্ণরূপে জানতে পারলে মানুষ কৃত্রিমভাবে প্রাণ বা জীবন সৃষ্টি করতে পারবে।’ অনন্ত অরণ্যের দিকে তাকাল, যেন সমর্থনের আশায়। ‘আগ্রহ পাচ্ছি, বলতে থাকো। যদি-ও অনেক তথ্য আমার জানা।’ ‘অবশ্য তোমার জানার কথা। শুধু লিনার শরীরের মাপঝোক জানলে তো হবে না।’ অনন্ত আলতো হাসে, নৈঃশব্দিক। ‘যাই হোক। পরবর্তীতে কিছু নতুন গবেষণা ধারণা পাল্টে দেয়। যেমন ধরো: ১. ডিএনএ একা নিজে থেকে নিজেকে কপি বা নকল করতে পারে না। সে অন্যান্য জৈবিক উপাদান, অণু, কোষ ইত্যাদির সাহায্য নেয়। ২. ডিএনএ বঙশগতির সকল তথ্য রাখে বটে কিন্তু এটাতে প্রোটিন আনজাইমের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। ৩. এবঙ সবচেয়ে বড় পাওয়া হলো যে ডিএনএ জীবনের সৃষ্টি করে না! বরঙ, জীবনই ডিএনএ সৃষ্টি করে! ডিএনএ তথ্য ধারণের একটি বিশ্বস্ত মাধ্যম কেবল।’ (চলবে....)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভয়ংকর পৃথিবী ও আজব ভাইরাস (পর্ব ১)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now