বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্প : #গোলমাল !!!
প্রথম পর্ব........
Writer : Pantha Shahria !!!
- এই যে মামা টিকেট দেখি।
- ওহহহহহহ মৃণাল যা তো
ঘুমাতে দে, সকাল সকাল
ভাল্লাগেনা।
- আরে ভাই কারে কী বলছেন
এটা বাস, আপনার বাড়ি না।
- এটা ধাক্কা দিতেই ধরফর করে
লাফ দিয়ে উঠলাম।
- এই যে টিকেট বের করেন তাড়াতাড়ি, আপনার আমি চাকরি
নেই নাই আরো অনেক লোক বাঁকী
আছে।
- আরে ভাই বাসে যখন উঠছি টিকেট
তো আছেই তাই না,
এমন চেতেন ক্যান।
- তো তাড়াতাড়ি বের করেন।
- এই কিছু... লোকজন আছে
নিজেরে সাহরুখ, সালমান মনে করে
এমনডা ভাব লয়।
আমি জীবনে বড় হইলে ও নিজেরে বড় কিছু মনে করমু না, সাহরিয়াই মনে করমু হুমমম।
- ঐ মিয়া টিকেট বের করে তাড়াতাড়ি।
- পকেটে হাত দিলাম....
হায় হায় টিকেট কই গেলো।
এই পকেট ওই পকেট সব পকেটে
হাত দিলাম।
আরে টিকেট গেলো কই পিছনের
পকেটেই তো রাখছিলাম,
আর আসি মানিব্যাগ ও ব্যবহার
করি না য়ে কেউ তুলে নিবে,
গরীব মানুষ তো তাই হি হি।
কিন্তুু টিকেট গেলো কই।
আচ্ছা মামা আপনি একটু সমনের গুলো নিয়ে আমার কাছে আসুন কেমন,
আমি আনেক চিপাই রাখছি তো বের
করতে একটু দেরি হবে।
- আমার সাথে ফ্যাজলেমি মারাইতে
আসছো...
ওস্তাদ বাস থামান...
কই থেকে যে এই গুলা আসে।
- আরে ভাই আমি টিকেট কাঁটছি
তো।
- তো টিকেট বের কর।
- মনে হয় কোথাও পড়ে গেছে ভাই
একটু বুঝেন।
কে শুনে কার কথা....
সেজা বাস থেকে নেমে দিলো।
- সালা তুই পানিতে ডুবে মরবি,
আমার সাথে এমন করা।
একদিন শত শত বাস কিনমু আর ফ্রি
সবাই রে নিয়া যামু...
কী হারামি শয়তান মানুষরে ভাই
কোন দয়া নাই।
আর কাছে টাকা ও নাই কী
যে করি....
কুমিল্লা যেতে হবে... মামার
বাড়ি.. কোনদিন যাই নাই এর
আগে,, মা থাকলে তো যামু।
খালি বাসার ঠিকানা আর
মামার নাম যানি।
কী আর করার অচেনা পথ আর একা একা হাঁঠছি তো আবার কখন ও দাঁড়িয়ে আছি...
আজকে বুঝলাম ফোনে চার্য দিয়ে
রাখাটা কত জরুরী ।
ওই তো সামনে এটা গাড়ি দেখা যাচ্ছে... বাহ্ বেশ ভালো আর দামি কার তো।
দূর যা হয় হোক কুমিল্লা যেতে
হবে এটাই শেষ।
দৌড়ে কাছে গেলাম..
ওহহহ বাবা এটা ও আবার নষ্ট ...
মনে হচ্ছে।
- এই যে ভাই আমারে একটু কুমিল্লা
নিয়ে যাবেন।
- এহহহহহহ মামার বাড়ির আবদার।
ঐ মিয়া চোখ কী অন্ধ, দেতেছেন
না চাকা নষ্ট হইছে...
ঐ যে ওখানে ম্যাডাম আছে,
ওনাকে বলেন।
- সালা আমার মামার যদি এমন গাড়ি থাকতো।
কী ঝামেলাই পড়লাম রে ভাই ...
এই ম্যাডাম কে না মানাইতে
পাড়লে কী যে হবে আল্লাহ্ যানে।
- এই যে আপু... না মানে স্যার,
সরি ম্যাডাম আমি না হেব্বি বিপদে
পড়ছি... এখন আমার এই ক্ষুদ্র
জীবনের পুরোটাই আপনা হাতে।
- মেয়েটা আমার দিকে ঘুরতেই.. দেখি.. কী সুন্দরী মেয়েরে ভাই
কী আর কমু... পুরাই ঝাক্কাস।
এখন এই সব বাদ আগে কুমিল্লা যে
হবে... না হলে আজকেই জীবনের হতি ঘটবে।
- তো বলেন.. আপনার ক্ষুদ্র জীবন
কেমনে বাঁচাইতে পারি।
- না মানে আমি না এই খানে একদম
নতুন।
- ঐ আপনার কাছে কী ওই সব শুনতে চাইছি।
- আচ্ছা আমাকে একটু কুমিল্লা নেমে
দিবেন প্লিজ প্লিজ..।
- হুমমমম ওকে আমি ও কুমিল্লাতেই
এক জন কে নিতে যাচ্ছি।
- আহা তাঁর কী সৌভাগ্য... সালার
উপরে হিংসে হচ্ছে।
- কী বলছেন ফিস ফিস করে।
- না মানে কিছু না, এমনি।
- দেখে তো মনে হচ্ছে সদ্য একটা
বাঁদর।
- হি হি থ্যাংকু সবাই বলে আর কী।
- চুপ... একদম দাঁত বন্ধ করে থাকবেন কেমন।
- হুমমমমমম ওকে।
- চলেন গাড়ী ঠিক হয়ে গেছে...।
- কী আর করার জীবন বাঁচাতে
একদম চুপ হয়ে বসে আছি...
মনে মনে বলছি মাইয়া তোমারে
যদি একবার পাই না তখন দেখামু
মজা।
কুমিল্লা এসে গেলাম.. চুপচাপ গাড়ি
থেকে নেমে চলে যাচ্ছি ।
ওমনি পিছন থেকে।
- ঐ আপনাকে কী বাবা মা ভদ্রতা
শেখাই নাই শুনি।
- কেন।
- হেল্প করলে মিনিমাম থ্যাংকস বলতে হয় জানেন না।
- আপনি না চুপচাপ থাকতে বললেন
তাই তো।
- ওকে ওকে যান তো।
- ভাবছি এখান থেকে কেমনে যাবো,
কাউকেই তো চিনি না।
ফোনে ও চার্য নাই, ফোনে মামার নাম্বার আছে।
একটু সামনে দেখলাম...
এখানে ফোনে চার্য দেওয়া হয়...
১০ টাকা ঘন্টা ...
বাহ্ বেশ ভালো তো।
পকেটে হাত দিয়ে দেখলাম ৭
টাকা আছে..
আর তিন টাকা কই পাই।
সামনে দেখি মেয়েটা গাড়ির
পাশে দাঁড়াই আছে।
- এই যে ম্যাডাম শুনছেন।
- আবার কী।
- না মানে আমার ফোনে চার্য নাই
তো... ১০ টাকা লাগবে যদি আমার
কাছে ৭ টাকা আছে, আপনি কী
আমাকে ৩ টাকা দিতে পারবেন।
- এই নানা আমি দিয়ে দিবো হুমম।
- এই ধরেন।
- আরে একশো টাকা না তো তিন
টাকা।
- আমার কাছে তিন টাকা নাই।
- আচ্ছা আমার কাছে বুদ্ধি আছে
টাকা দেন।
একটা দোকানে গেলাম....
- এই যে ভাই ৫টা চকলেট
দেন।
- দোকানদার ৯৫ টাকা ফেরত
দিলো।
ওখান থেকে তিন টাকা নিলাম।
আর....
- এই যে ধরেন আপনার ৯৭ টাকা।
- মানে... এই সব কী।
- ওকে আমি বুঝিয়ে দিচ্ছি।
- ১০০ টাকা দিয়ে পাঁচটা চকলেট
নিছি,,, দোনাকদার ৯৫ টাকা ফেরত
দিছে..
এখন তো আর খুরচা টাকার বড়ই
বিরল.. তাই তোমার মানে আপনার
৯৫ টাকা থেকে পাঁচ টাকা নিছি
আর আমার পকেট থেকে ২ টাকা দিছি।
তাহলে তোমার কাছে থেকে তিন টাকা নেওয়া হলো।
আর এই হলো ৯০ টাকা আর এই ৫টা চকলেট আর এই আমার ২ টাকা.. মোট ৯৭ টাকা বুঝছেন।
- ওহহহহহহহহহ আমি পাগল হয়ে
যাবো, এতো কথা বলার কী আছে।
- আচ্ছা কথা বললে ও দোষ,
না বললে ও দোষ তাই না।
- আচ্ছা শান্তি হয়েছে এবার।
- হুমমমমমমমমম।
- তা হলে যান।
ওখান থেকে এসে ফোনটাই চার্য
দিলাম।
তার পরে মামাকে ফোন দিলাম।
- মামা আমি কুমিল্লা।
এখন কেমনে যাবো।
- আরে আমি তো তোর জন্য গাড়ি
পাঠিয়েছি।
- কই তোমার গাড়ি কিচ্ছুই তো নাই,
আর এই দিকে একটা মেয়ের কাছে
তিন টাকা ধার হয়ে গেছে।
- আচ্ছা মেঘা তোকে ফোন করেনি।
- আসলে আমার ফোনে চার্য ছিলো
না তো, তাই চার্য দেওয়ার জন্যই তো
একটা মেয়ের কাছে থেকে তিন টাকা
নিতে হলো।
- আচ্ছা বাবা ওকে, আমি মেঘাকে
আবার তোকে ফোন করতে বলছি,
আর ওর কাছে থেকে তিন টাকা নিয়ে মেয়ে টাকে দিয়ে দিস কেমন।
- ওকে....।
ফোনটা রেখে দিলাম।
- এই মেঘা আবার কে আল্লাই যানে।
হঠাৎ ফোন আসলো।
- ঐ আপনি কোন ঘাটের মরা হুমমমম.. কখন থেকে ফোন দিচ্ছি
ধরেন নাই...
নেহাত খালামুনির ছেলে তাই এখন
ও আছি।
- গলাটা কেমন চেনা চেনা লাগছে...
আপনার গলাটা না অনেক চেনা চেনা লাগছে.. আর অনেক ইতিহাস
আছে সামনা সামনি বলছি।
- আপনার গলাটা ও তো চেনা চেনা
লাগছে।
কই আছেন শুনি।
- এই তো রাস্তাই.... একটু দুরে একটা
খিটখিটে মেয়ে দাঁড়াই আছে,
সে আমার কাছে তিন টাকা পায়।
- কী পড়ে আছেন শুনি...
নীল শার্ট, নীল গেঞ্জি, শার্টের বোতাম
খোলা, হাতে ঘড়ি আছে একটা।
- ঠিক বুঝতে পাড়ছিলাম,
এমন বাঁদর মার্কা ছেলে না হলে,
কিছুতেই এমন ঘটবে না।
- মানে...।
- আমি সবুজ একটা ড্রেস পড়ে,
লাল গাড়ির সামনে দাঁড়াই
আছি।
- হায় হায় সেই মেয়েটাই তো।
সামনে গেলাম....।
বল্লাম...
- তুমি মেঘা...।
- হুমমমমমম..।
- আমি সাহরিয়া ।
- জানি...।
- কেমন সাথেই ছিলাম আর
আমরাই জানি না, দুইজন
একে আপর কে খুঁজতেছি হি হি হি।
- বাঁদরের মতো হাঁসিটা শেষ হলে
গাড়িতে ওঠে বসো।
- ওকেকককককক।
পরের পর্ব.....
Coming Soon .....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now