বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একটি দ্বীপের সন্ধানে (চ্যাপ্টার- ১)

"সাইমুম সিরিজ" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ১ আহমদ মুসা কফির কাপে চুমুক দিতে যাচ্ছিল। আহমদ আবদুল্লাহ ছুটে এসে আহমদ মুসার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ল। ঝাঁকুনি লেগে কিছুটা কফি পড়ে গেল আহমদ মুসার শার্টে। আহমদ মুসার এপাশে বসে জোসেফাইনও কফি পান করছিল। তার মুখে বিরক্তির চিহ্ন ফুটে উঠেছে। তাকিয়েছে সে আহমদ আবদুল্লাহর দিকে। বলল একটু শক্ত কন্ঠে, ‘আহমদ আবদুল্লাহ! তোমার কাছে এমনটা আশা করিনি।’ কাপ থেকে কফি পড়ে যাওয়ায় আহমদ আবদুল্লাহ এমনিতেই অপরাধবোধ নিয়ে থমকে গিয়েছিল। তার উপর মায়ের বকুনি খেয়ে কেঁদে ফেলল। মায়ের এ ধরনের বকুনি তার কাছে নতুন। আহমদ মুসা কফির কাপ পিরিচে রেখে আহমদ আবদুল্লাহকে টেনে নিল কোলে। বলল, ‘না বেটা, তোমার আম্মা তোমাকে বকেনি। উপদেশ দিয়েছে। মা তো ছেলেকে উপদেশ দেবেই।’ জোসেফাইন হাসল। আহমদ আবদুল্লাহর মাথায় হাত বুলিয়ে তার চোখ মুছে দিয়ে আদর করে বলল, ‘খুব ভালো ছেলে তুমি।’ দরজায় নক করে একটু পরে ড্রইংরুমে প্রবেশ করল আয়া। ট্রেতে কফির দু’টি কাপ তুলে নিতে নিতে আহমদ আবদুল্লাহকে বলল, ‘আহমদ আবদুল্লাহ, তুমি চলে এসেছ, আমাদের খেলা এখনো তো শেষ হয়নি!’ আহমদ আবদুল্লাহ আহমদ মুসার কোল থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ‘ওহ! গুড আন্টি।’ বলেই ছুটে গেল আয়ার দিকে। ওরা চলে গেল ভেতরে। আহমদ মুসা উঠে গিয়ে স্ট্যান্ড থেকে কয়েকটা দৈনিক পত্রিকা ও ম্যাগাজিন নিয়ে এসে টি-টেবিলে রেখে বসল সোফায়। বলল, ‘আজকের কাগজগুলো দেখেছ জোসেফাইন?’ জোসেফাইন টি-টেবিল থেকে একটা ম্যাগাজিন তুলে নিয়ে বলল, ‘দৈনিক পত্রিকা আমি তোমার পরে পড়ি। এতে তোমার কাছে শোনার পর আমার কম পড়লেই চলে।’ হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘সময় ও পরিশ্রম কমানোর সুন্দর কৌশল তোমার। ধন্যবাদ জোসেফাইন।’ ‘এসব হিসেব তোমার কাছ থেকেই শেখা জনাব।’ বলল জোসেফাইন হাসির সাথে। আহমদ মুসা একটা ইংরেজি দৈনিক খুলে পাতায় চোখ বুলাতে বুলাতে বলল, ‘তোমার সময়ের সেভিংটা কোন দিকে যাচ্ছে?’ ‘যে দিকে সব মেয়ের যায়।’ বলল জোসেফাইন। ‘মানে সংসার, কিন্তু তুমি তো সব মেয়ের মত নও।’ আহমদ মুসা বলল। ‘আমি সব মেয়ের মত নই। তবে যাদের সংসার আছে, আমি সেই মেয়েদের মতই।’ বলল জোসেফাইন। ‘তুমি মারিয়া জোসেফাইন। ফরাসি রাজকণ্যা। দুনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সব ব্যাপারে আপ-টু-ডেট। তুমি সংসারের চার দেয়ালের মধ্যে থাকবে, এটা আমকে বিশ্বাস করতে বল?’ কাগজ থেকে মুখ তুলে মিষ্টি হেসে বলল আহমদ মুসা। ‘পৃথিবীর মধ্যে যেমন সংসারের চার দেয়াল, তেমনি সংসারের চার দেয়ালের মধ্যে পৃথিবী থাকতে পারে।’ বলল জোসেফাইন। ‘যাক, আমি আশ্বস্ত হলাম। ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম বাইরে থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে কিনা? ধন্যবাদ জোসেফাইন।’ আহমদ মুসা বলল। ‘বিশ্বাসটা অত দুর্বল হয়ে পড়েছিল কেন?’ বলল জোসেফাইন। ‘বিশ্বাস দুর্বল হয়নি, একটু ভয় ঢুকেছিল মাত্র।’ আহমদ মুসা বলল। ‘কেন?’ জিজ্ঞাসা জোসেফাইনের। ‘বাচ্চা পাওয়ার পর মেয়েরা কনজারভেটিড হয়। বাচ্চার স্বার্থ মানে সংসারের স্বার্থের ব্যাপারে বেশি সচেতন হয় তারা।’ আহমদ মুসা বলল। ‘এটা কি খারাপ, যদি তা অন্যের ন্যায্য স্বার্থের কোন হানি না ঘটায়?’ হাতের ম্যাগাজিনটা বন্ধ করল জোসেফাইন। ‘অবশ্যই খারাপ নয়। তবে পৃথিবী কোন না কোন উপকার থেকে বঞ্চিত হতে পারে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘আমি তো বলেছি, সংসারের স্বার্থ ও পৃথিবীর স্বার্থ সাংঘর্ষিক নয়, যদি ভারসাম্য রাখা হয়।’ জোসেফাইন বলল। ‘ধন্যাবাদ!’ বলে আহমদ মুসা একটু ঝুঁকে জোসেফাইনের একটা হাত হাতে নিয়ে জোসেফাইনকে কাছে টেনে নিতে চাইল। জোসেফাইন দ্রুত নিজের হাত খুলে নিয়ে একটু সরে বসে হেসে বলল, ‘না জনাব, অন্য চিন্তা বাদ! ১০টার সময় তোমার এ্যাপয়েন্টমেন্ট সৌদি পুলিশ প্রধানের সাথে। পত্রিকা পড়ার জন্যে এখন যথেষ্ট সময় নেই।’ ‘অনেক ধন্যবাদ! ’ বলল আহমেদ মুসা। হাতের দৈনিকটির দিকে মনোযোগ দিতেই একটা সিংগল কলাম বক্স নিউজের উপর চোখ দু’টো আটকে গেল আহমদ মুসার। নিউজটার হেডিং ‘প্রতিভাধর ব্যক্তিদের নিখোঁজ হওয়ার উদ্বেগজনক রহস্য।’ খবরটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদার্থ বিজ্ঞানের বেসরকারি বিখ্যাত ল্যাবরেটরি ‘সায়েন্স টুমরো’- এর এন্টিম্যাটার বিজ্ঞানী ড. ওমর আবদুল্লাহর দু’দিন আগে নিখোঁজ হবার তথ্য দিয়ে বলেছে, শুধু গত এক মাসেই পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরও পাঁচজন প্রতিভাধর ব্যাক্তি নিখোঁজ হয়েছেন। এদের মধ্যে তিনজন পদার্থ বিজ্ঞানী, একজন জেনেটিক বিজ্ঞানী ও একজন মেরিন বিজ্ঞানী। ভ্রু কুঁচকালো আহমদ মুসা। উদ্বেগ ফুটে উঠল আহমদ মুসার চোখে-মুখে। মাত্র এক মাসে ছয়জন নিখোঁজ। পত্রিকার উপর থেকে মুখ তুলে জোসেফাইনের দিকে তাকিয়ে আহমদ মুসা বলল, ‘জোসেফাইন, সেই দু:সংবাদের খবর আবার।’ ‘কি খবর?’ জিজ্ঞাসা জোসেফাইন। ‘আর একজন বিজ্ঞানীর নিখোঁজের খবর।’ ‘এই মাসেই ৬জন বিজ্ঞানী প্রতিভা নিখোঁজ হলেন জোসেফাইন।’ বলল আহমদ মুসা। ‘এই ইন্টেলিজেন্স ম্যাগাজিনেও দেখছি এ ব্যাপারে নিউজ আছে।’ ‘কি আছে?’ জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার। ‘ঐ ধরনের নিখোঁজ সংবাদ। আরও বিস্তারিত।’ ভ্রু কুঞ্চিত হলো আহমদ মুসার। বলল, ‘বল তো কি আছে নিউজে?’ গোটা নিউজের উপর চোখ বুলাল জোসেফাইন। বলল, ‘গত এক বছরে নিখোঁজ হওয়ার হিসাব দেয়া হয়েছে এই নিউজে, সেই সাথে কিছু বিশ্লেষণও দেয়া হয়েছে এই নিউজে। ৫১ জন বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ প্রতিভা গত এক বছরে নিখোঁজ হয়েছেন। এদের মধ্যে ২১ জন পদার্থ বিজ্ঞানী। পদার্থ বিজ্ঞানীদের মধ্যে এন্টিম্যাটার বিজ্ঞানী ১১জন, কণাবিজ্ঞানী ৭ জন এবং ৩ জন মেরিন বিজ্ঞানী। এই ২১ জন ছাড়া অবশিষ্ট ৩০ জনের মধ্যে রয়েছেন ইতিহাস, অর্থনীতি, ভূগোল, রসায়ন জীব-বিজ্ঞান, গণিত প্রভৃতি বিষয়ের বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানী এবং আরও রয়েছেন কয়েকজন প্রতিভাবান রাজনীতিক। নিউজে আরেকটা বিশ্লেষণও দেয়া হয়েছে। সেটা ধর্মীয় পরিচয়মূলক। গত এক বছরে মোট ৫১ জন নিখোঁজ ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ৪৫ জনই মুসলিম। সবশেষে নিউজে লেখা হয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিখোঁজ এই বিজ্ঞানীদের কারোরই খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি ইন্টারপোলও টেক-আপ করেছে, কিন্তু কোন ফল হয়নি। কারও হদিস মেলেনি। এটা যে সংঘবদ্ধ একটা অপরাধ এ বিষয়ে কারোরই আর কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু এই সংঘবদ্ধ চক্র কে তাও জানা যায়নি। দু’একটা নাম জানা গেলেও তাদের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।’ থামল জোসেফাইন। আহমদ মুসার চোখে-মুখে গভীর বেদনা ও অস্বস্তির চিহ্ন। বলল, ‘তাহলে যা আশঙ্কা করা হয়েছিল তাই। মুসলিম বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের বিরুদ্ধেই এ অভিযান।’ বলল জোসেফাইন, ‘কেন, অমুসলিম বিজ্ঞানীও তো আছেন কয় জন।’ ‘আছেন কয়েকজন। সেটা নিশ্চয় ক্যামোফ্লেজের জন্যে। যারাই এই অপরাধমুলক কাজের পেছনে থাক, বিজ্ঞানী-বিশেষজ ্ঞদের নিখোঁজ করাই যদি তাদের লক্ষ্য হতো, তাহলে এত মুসলিম বিজ্ঞানী-বিশেষজ্ঞ নিখোঁজ হবার কথা নয়।’ আহমদ মুসা বলল। ‘কেন?’ প্রশ্ন জোসেফাইনের। ‘কারণ এই মানের বিজ্ঞানী অন্য সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও বেশি পরিমাণে আছে। এদিক থেকে চোখ একতরফাভাবে মুসলিম বিশেষজ্ঞদের প্রতি যাবার কথা নয়।’ আহমদ মুসা বলল। ‘ঠিক। তাহলে কি টার্গেট মুসলিম বিজ্ঞানী- বিশেষজ্ঞরা? দেখা যাচ্ছে শুধু বিজ্ঞানী- বিশেষজ্ঞ ব্যাক্তিরাই নয়, প্রতিভাবন মুসলিম রাজনীতিকও তাদের টার্গেট। এর অর্থ কি? বিষয়টি আমার কাছে খুব গোলমেলে লাগছে।’ বলল জোসেফাইন। ‘ঠিক বলেছ জোসেফাইন। মোটিভটা খুব সরল নয়। বিজ্ঞানীদের সাথে সমাজবিজ্ঞানী ও রাজনীতিকরাও নিখোঁজ হওয়া উদ্বেগজনক।’ আহমদ মুসা বলল। ‘কি সেটা?’ জিজ্ঞাসা জোসেফাইনের। ‘অত্যন্ত কৌশলে একটা সম্প্রদায়কে ধীরে ধীরে মেধাশূণ্য করার ভয়াবহ একটা ষড়যন্ত্র।’ আহমদ মুসা বলল। চমকে উঠল জোসেফাইন। সামনে থেকে পর্দা সরে গেলে যা হয় তেমনি তার কাছে সব পরিষ্কার হয়ে গেল। কেঁপে উঠল তার মন। ‘গত এক বছরেই ৫১ জন বিজ্ঞানী-বিশেষজ্ঞ! পরিস্থিতি ভয়াবহ!’ বলল জোসেফাইন। ‘সত্যিই এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্র এটা! এর বিস্তারও দেখছি গোটা দুনিয়াব্যাপী।’ ‘হ্যাঁ জোসেফাইন, নিখোঁজের স্পট ছড়িয়ে আছে গোটা দুনিয়ায়। তার মানে গোটা দুনিয়া এদের নেট ওয়ার্কের আওতায়।’ বলল আহমদ মুসা। জোসেফাইন উঠে গিয়ে আহমদ মুসার পাশে তার গা ঘেঁষে বসল। বলল, ‘কেসটা তুমি নিচ্ছ।’ ‘নিচ্ছি নয়, কে দেবে এ কেস আমাকে? এর তো কোন বাদী নেই। পৃথিবীর মানুষ, মানবতা এর বাদী। কিন্তু মানুষ ও মানবতার কোন মুখপাত্র নেই। মানব জাতির একজন সদস্য হিসাবে আমি, তুমিই এর বাদি। আমাদের পক্ষ থেকেই আমি এ কেস গ্রহণ করেছি।’ আহমদ মুসা বলল। ‘ধন্যবাদ। আল্লাহ সাহায্য করুন! এ এক অন্ধকারে ঢাকা কঠিন পথ তোমার।’ বলল জোসেফাইন। ‘ঠিক জোসেফাইন। একবারেই অন্ধকারে ঢাকা পথটা। একটা সন্ত্রাসী সংগঠনের নাম মাত্র শুনেছি। এর বাইরে আর কিছু অবলম্বন হাতে নেই। সন্ত্রাসী সংগঠনটির নামটাও অদ্ভূত: “ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেট”। সেদিন সৌদি পুলিশ হেডকোয়ার্টারে গিয়েছিলাম। ওদের রেকর্ডে এমন কোন সংগঠনের নাম নেই। সৌদি পুলিশ প্রধান পরে কথা বলেছেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ও বৃটেনের এস-১০ এর প্রধানদের সাথে। তারাও জানিয়েছেন, এ ধরনের কোন ওয়ার্কিং সন্ত্রাসী সংগঠন বা গোপন কোন সংস্থার নাম তাদের রেকর্ডে নেই। এই বিষয়টিই আমাকে খুব বেশি বিস্মিত করেছে। তাদের নজরের বাইরে কোন সন্ত্রাসী সংগঠন বিশ্ব জুড়ে কাজ করছে, এটা অবিশ্বাস্য।’ ভাবছিল জোসেফাইন। আহমদ মুসার কথা শেষ হলেও কথা বলল না জোসেফাইন। কিছু একটা খোঁজার চিহ্ন তার চোখে-মুখে। হঠাৎ তার মুখটা উজ্জ্বল হয়ে উঠল। বলল, ‘একটা মজার নামের মিলের কথা তোমাকে বলি। সায়েন্স ফিকশনে আমি “ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেট”- এর নাম পড়েছি। সেই নামের সাথে এই গোপন সংগঠনের নাম কিন্তু একদম মিলে যায়!’ আহমদ মুসার চোখে-মুখে বিস্ময় নেমে এল! সেই সাতে প্রচন্ড উচ্ছাসে তার মুখ ফেঁড়েই যেন বেরিয়ে এল প্রশ্ন, ‘আশ্চর্য, একই নাম, ব্লাক সান সিন্ডিকেট!’ ‘হ্যাঁ, ব্ল্যাক সান সিন্ডিককেট।’ বলল জোসেফাইন। কপাল কুঞ্চিত হলো আহমদ মুসার। ‘সায়েন্স ফিকশনের মত সংগঠন এটা?’ জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার। ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। অত্যান্ত পাওয়ারফুল। এর ক্ষমতার বিস্তার ছিল আমাদের গোটা ছায়াপথ-গ্যালাক্ সি জুড়ে।’ বলল জোসেফাইন। ‘মজার ব্যাপার তো! এদের পরিচয় সম্পর্কে আর কি আছে সায়েন্স ফিকশনে?’ আহমদ মুসা বলল। ‘ওদের কথা তোমার কোন কাজে আসবে? ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেট আমাদের ছায়াপথ-গ্যালাক্সির বিভিন্ন গ্যালাকটিক কিংডমগুলোতে সন্ত্রাস, কালোবাজারি ইত্যাদিসহ এমন কোন অপরাধ নেই যার সাথে তারা জড়িত ছিল না। তাদের উপস্থিতি, প্রভাব- প্রতিপত্তির অধীনে ছিল প্রায় গোটা গ্যালাক্সির গ্যালাকটিক রাজ্যসমূহ। ছায়াপথ-গ্যালাক্সির কেন্দ্রীয় সরকারেএ সিনিয়র দু’জন সামরিক অফিসার, ডারথ সিডিয়াম ও ডারথ মাউল, ব্লাক সান সিন্ডিকেট সম্পর্কে বলেছেন, এটা বিশাল এক ক্রিমিনাল সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের প্রভাব-প্রতিপত্তি পৃথিবীর সমূহ অঞ্চল থেকে শুরু করে গ্যালাক্সির প্রান্ত পর্যন্ত সব গ্রহে পরিব্যাপ্ত। যে সম্পদ এদের হাতে আছে, তা সীমাহীন। এদের সৈন্য আছে লাখ লাখ। গ্যালাক্সির সাধারন বাসিন্দাদের মতে এই সিন্ডিকেট জানা মহাবিশ্বের অত্যান্ত ক্ষমতাধর সংগঠন। সায়েন্স ফিকশনে ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেটের অনেক উত্থান-পতনের কথাও বলা হয়েছে। খৃস্টের জন্মের প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগে তাদের উত্থান। আর খৃষ্টপূর্ব ৩৩ বছর আগে তাদের মধ্যৈ ভাঙ্গন আসে। দু’বছরের মধ্যেই আবার সামলে ওঠে। ২৪ খৃষ্টাব্দে আবার ভেঙে পড়ে। কিন্তু পূর্ণ শক্তি ফিরে পায় আবার ১২৭ খৃষ্টাব্দের দিকে। গোটা গ্যালাক্সির রাজ্য- সাম্রাজ্যের উত্থান-পতনে, সংঘাত-সংকটে এই সিন্ডিকেট বড় ভূমিকা পালন করেছে। সকল বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার সামর্থ্য ওদের দেখা গেছে।’ থামল জোসেফাইন। ‘চমৎকার জোসেফাইন। চমৎকার কাহিনী ব্লাক সান সিন্ডিকেটের। নিশ্চয় আমাদের ব্লাক সান সিন্ডিকেট ছায়াপথ-গ্যালাক্সির আকাশচারী সন্ত্রাসী সংগঠনের নাম কপি করেছে। কেন করেছে? একথা জানান দেয়ার জন্যে কি যে, আন্ত:গ্রহ সংগঠন ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেটের মতই তারা ক্ষমতাধর?’ বলে একটু থেমেই আবার শুরু করল, ‘আচ্ছা, জোসেফাইন, কাহিনীর ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেটের প্রধান কাজটা কি ছিল?’ জোসেফাইন একটু ভেবে বলল, ‘তাদের সন্ত্রাস-দুর্নীতির আসল লক্ষ ছিল, আকাশ- রাজ্যের রাজ্যগুলোকে দুর্বল বা ধ্বংস করে নিজের রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা।’ ‘তাহলে ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেটের আসল লক্ষ রাজনৈতিক। কিন্তু সেই রাজনৈতিক লক্ষটা কি? বিজ্ঞানী-বিশেষজ্ঞদের অপহরণ করানোর সাথে সে লক্ষের সম্পর্ক কি? স্বগতকন্ঠে বলল আহমদ মুসা। ‘এটা বলা মুশকিল। সায়েন্স ফিকশনের ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেট গেরিলাদের মত কাজ সব গোপনে করলেও সংগঠনটি গোপন ছিল না এবং কাজের ফলও প্রকাশ্যে ভোগ করতো। কিন্তু বাস্তবে ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেট সংগঠন হিসাবেও গোপন, তাদের কাজও গোপন। সুতরাং তাদের লক্ষ কি বলা মুশকিলই। রাজনৈতিক লক্ষ হলে তো তার জন্যে জনসমর্থন দরকার হয়। কিন্তু গোপন সংগঠন কাজ করে জনগণের সাথে পরিচিত হবে কি করে, জনসমর্থন পাবে কি করে? এ বিষয়টাই আমি বুঝতে পারছি না।’ বলল জোসেফাইন। ‘নিশ্চয় ওদের একটা রাজনৈতিক লক্ষ আছে এবং সে লক্ষ অর্জনে ওদের রোড ম্যাপও নিশ্চয় আছে। সেটা জানাও দরকার। কিন্তু এই মুহুর্তে এটা খুব বিষয় নয়। ওদের সন্ধান পাওয়ার বিষয়টিই এখন বড়। আমাদের মনোযোগটা সেদিকেই আকৃষ্ট করবো।’ কথা শেষ করে একটু থেমেই আহমদ মুসা আবার বলল, ‘আচ্ছা জোসেফাইন, সায়েন্স ফিকশনের ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেটের প্রধান চরিত্রে কারা? তাদের তার কি কাজ ছিল, মনে আছে তোমার?’ ‘কিছু তো মনে আছেই। আমাদের ছায়াপথ-গ্যালাক্ সির কোটি কোটি তারকা ও গ্রহ রাজ্য নিয়ে যে গ্যালাকটিক সাম্রাজ্য তার সম্রাট পালপেটাইন ও এই রিপাবলিকেরর সবচেয়ে প্রভাবশালী স্কাই কমোন্ডো-কমান্ডার ডারথ তাদের। এই গ্যালাকটিক রিপাবলিক জুড়েই প্রতিদ্বন্দী কমান্ডো শক্তি হলো ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেট। গ্যালাকটিক সাম্রাজ্যে ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেট কবে থেকে কাজ শুরু করে তার কোন তথ্য ফিকশনে নেই। ছায়াপথ গ্যালাকটিক সাম্রাজ্যে রিপাবলিক প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সময় থেকে মহাকাশ বর্ষ (BY-birth year) গণনা শুরু হয়। সায়েন্স ফিকশনে ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেটের প্রধান হিসেবে যার নাম প্রথম এসেছে, তিনি আলেক্সি গ্যারিন। তিনি BBY (befor birth year) অর্থ্যাৎ মহাকাশ বর্ষ-পূর্ব ৩৩ অব্দে ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেটের প্রধান ছিলেন। তার নেত্বেত্বে গোটা ছায়াপথ-গ্যালাক্সি জুড়ে ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেটের প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু গ্যালাকটিক সাম্রাজ্যের প্রেসিডেন্টের নিয়োজিত কমান্ডো নেতা ডারথ মাউল ও তার বাহিনীর হাতে আলেক্সি গ্যারিন ও তার ভিগোজ বা গভর্নররা নিহত হন। এরপর ব্ল্যাক সান সিন্ডিকে্ট তার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া ও হারানো প্রভাব পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে অনেকগুলো সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এই সময় গ্যালাকটিক সাম্র্যজ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। গৃহযুদ্ধের সুযোগে ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেট গ্যালাক্সি জুড়ে তার প্রভাব প্রতিষ্টার কাজে ব্রতী হয়। সময়টা মহাকাশ বর্ষ (ABY2) দ্বিতীয় অব্দের পরের ঘটনা। ডেল পারহি ছিলেন ব্ল্যাক সানের নেতা এ সময়। তাকে সরিয়ে দিয়ে ব্ল্যাক সানের ক্যাপ্টেন ফলিন গ্রহ-রাজ্যের প্রিন্স জিজর ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেটের ক্ষমতায় বসেন। প্রিন্স জিজরের নেতৃত্বে ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেটের প্রভাব সর্বোচ্চে উন্নীত হয় এবং প্রিন্স জিজর গ্যালাকটিক রিপাবলিকের প্রেসিডেন্ট পালমেটাইন ও তাঁর প্রধান সেনাপতি কমান্ডো নেতা ডারথ ভাদেরের পরে তৃতীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তিতে পরিণত হয়। প্রিন্সের বডিগার্ড ও ব্যাক্তিগত কমান্ডো গৌরী ছায়াপত সাম্রাজ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রভাবশালী মহিলায় পরিণত হয়। অবশেষে ডারথ ভাদেরের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়লে প্রিন্স জিজরের এলাকারই এক কক্ষপথে এক সংঘর্ষে ডারথ ভাদেরের ব্যাক্তিগত আকাশযান এক্সিকিউটর প্রিন্স জিজরের ব্যক্তিগত আকাশযান স্কাইলুককে প্রিন্স জিজরসহ ধ্বংস করে দেয়। আর এই সময়েই ভাদেরের ছেলে স্কাই ওয়াকার তার কমান্ডো বাহিনী নিয়ে প্রিন্স জিজরের প্রাসাদ ও হেডকোয়ার্টার ধ্বংস করে দেয়। ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেটের আর একবার পতন ঘটে। নতুন নতুন নেতৃত্ব ব্ল্যাক সানকে প্রভাব-প্রতিপত্তির আগের জায়গায় নিয়ে আসার চেষ্ঠা করে, যাদের একজন প্রিন্স জিজরের ভ্রাতুষ্পুত্র সাভান ও আরেকজন হলেন জোডি ডেক। অবশেষে একটা বড় বিপদ ব্ল্যাক সানকে উত্থানের সুযোগ করে দেয়। গ্যালাকটিক সাম্রাজ্যের সম্রাট ব্ল্যাক সানকে সমূলে উচ্ছেদ করতে চাইলেন। এজন্য তিনি কেসেল গ্রহের জেল কলোনি থেকে ভয়ংকর ব্যাগ স্কোয়াড্রনসহ সব ক্রিমিনালকে ছেড়ে দিয়ে ব্ল্যাক সানের হেডকোয়ার্টার গ্রহ কুরুস্ক্যান্টে ঢুকিয়ে দিলেন। সেই সাথে তাদের সংগে অনুপ্রবেশ ঘটান সাম্রাজ্যের গোয়েন্দাদের যারা ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেটের উৎখাত সম্পূর্ন করবে। কিন্তু গ্যালাকটিক সম্রাট বিপরীত ফল ফলাল। জেল থেকে ছাড়া পাওয়া জেকা থাইন ও মফ ফ্লেরীর মত ভয়ংকর ক্রিমিনালরা ব্ল্যাক সান সিন্ডিককেটের পুনরুজ্জীবন ঘটাল। ইউল আসিব-এর নেতৃত্বে ব্ল্যাক সান, এমনকি সম্রাটের রুলিং কাউন্সিল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্ঠা করল। ব্যর্থ হলেও সেথ্রোস-এর নেতৃত্বে ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেট গোটা ছায়াপথ-গ্যালাক্সি ও গ্যালাক্সির গুরুত্বপূর্ণ লোকেশনে পৌছে যায়। কিন্তু এক সময় বিপদ নামে আবার তাদের উপর। গ্যালাকটিক সাম্র্যজ্যের বাহিনীর কাছে তারা পরজিত হয়। নিহত ও গ্রেফতার হয় ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেটের হাজার হাজার কমান্ডো। কিন্তু গ্যালাকটিক সাম্রাজ্যের ক্ষমতার লড়াই নিয়ে গৃহযুদ্ধের সুযোগে ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেট আবার সংগঠিত হয় এবং তাদের ক্ষমতা ফিরে পায়। কিন্তু বহু শতাব্দীর নীতি-পদ্ধতি পরিত্যাগ করে ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেট প্রকাশ্য সংগঠনে রূপ নিয়েছে। তাদের অফিস ও মহাকাশযানে এখন তাদের পতাকা ওড়ে। কিন্তু অপরাধমূলক কাজ তারা পরিত্যাগ করেনি। তবে তাদের প্রধান তৎপরতা এখন ছায়াপথ-গ্যালাক্সির আউটার স্পেসে। ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেটের অন্যান্য প্রধান চরিত্রের মধ্যে রয়েছে জাল সান, জারা, জিলাস, মেদিন, গ্রান্ট, টাইরেলি, নাশকা, নিলান্না ক্রিনিন। এরা সবাই আঞ্চলিক গভর্নর পর্যায়ের। বিখ্যাত কমান্ডো যারা নেতাদের সিকিউরিটি হিসাবে কাজ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছে ইভা, উইবো, জুটি। আর গৌরীর কথা তো আগেই বলেছি।’ থামল জোসেফাইন। ‘ধন্যবাদ জোসেফাইন। ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেটের এক কথা, এত নাম তোমার এভাবে মনে আছে! অনেক ধন্যবাদ তোমাকে।’ থামল একটু আহমদ মুসা। থেমেই আবার শুরু করল, ‘তাহলে দেখা যাচ্ছে জোসেফাইন, ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেট নিছক ক্রিমিনাল অর্গানাইজেসন নয়। ছায়াপথ সাম্রাজ্য দখলও তার লক্ষের মধ্যে রয়েছে।’ ‘হ্যাঁ, তারা সাম্রাজ্যের রুলিং কাউন্সিল দখলেরও চেষ্টা করেছে। কিন্তু বলা মুশকিল ক্রাইম তাদের টার্গেট, না ক্ষমতা তাদের টার্গেট।’ বলল জোসেফাইন। ‘এটাই আসল কথা। আমার মনে হচ্ছে, নিছক ক্ষমতা তাদের টার্গেট নয়, ক্ষমতা তাদের কাছে বাড়তি উপলক্ষ। আসল টার্গেট তাদের অপরাধ-সাম্রাজ্য ের নেতৃত্ব।’ বলল আহমদ মুসা। ‘ঠিক বলেছ। কিন্তু রাষ্ট্র ক্ষমতার নেতৃত্ব থেকে ওদের অপরাধ-সাম্রাজ্যের নেতৃত্ব বড় হলো কেন?’ জিজ্ঞাসা জোসেফাইনের। ‘রাষ্ট্র একটা আইনের অধীন হয়, সরকারকেও আইন মেনে চলতে হয়। আর অপরাধ-সাম্রাজ্যের নেতাদের কথাই আইন, তারাই সব কিছুর নিয়ন্ত্রক। এটা এক ধরনের পাপ। পাপ মানুষকে ঐ বিকৃতির দিকে নিয়ে যায়। আহমদ মুসা বলল। ‘বুঝেছি, কাহিনীর এটাই স্বাভাবিক পরিণতি। ছোট পাপ বড় পাপ করায়। বড় পাপ মানুষকে অমানুষ বানায়। এই অমানুষরা অপরাধের সাম্রজ্যে গড়ে তোলে। যেমন ছায়াপথ সাম্রজ্যের ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেট।’ থামল জোসেফাইন। একটু ভাবল। তাকাল আহমদ মুসার দিকে। আবার বলে উঠল, ‘ছায়াপথের ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেটের কথা শুনলে, কি উপকার হলো তোমার? কি ভাবছ দুনিয়ার ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেট নিয়ে?’ ‘ভাবছি এই ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেট এই নাম গ্রহণ করর কেন? ছায়াপথ সাম্রাজ্যের ব্ল্যাক সিন্ডিকেটের কোন জিনিসটা এদের ভাল লেগেছে? গ্যালাকটিক সাম্রাজ্যে ওরা যে সব অপরাধ করতো, সে সবের সাথে এদের অপরাধের মিল নেই। আন্ত:গ্রহ ও তারকালোকের ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেট প্রতিপক্ষ হিসেবে ছায়াপথ-রাষ্ট্রের সরকারি বাহিনীর সাথে অবিরাম সংঘাতে লিপ্ত ছিল, কিন্তু ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেট কোন দেশের সরকারের সাথে কোন প্রকার সংঘাতে নেই। গ্যালাকটিক রাজ্যের ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেট একটা নির্দিষ্ট ও তার নিয়ন্ত্রিত এলাকায় তাদের হেড- কোয়ার্টার স্থাপন করেছিল এবং ছায়াপথ গ্যালাক্সিতে তাদেরর নিয়ন্ত্রিত বহু এলাকা ছিল। কিন্তু এই ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেটের এ রকম কিছু আছে বলে মনে হচ্ছে না, আর কোন দেশে তাদের পক্ষে এমন একটা নিয়ন্ত্রিত এলাকা স্থাপন সম্ভব নয়। ভারতে মাওবাদীদের নিয়ন্ত্রিত বিশাল এলাকা আছে সত্য, কিন্তু মাওবাদীরা এই ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেটের মত সংগঠন নয়। মাওবাদীরা জনগণেরর ইস্যু নিয়ে জনগণকে সাথে নিয়ে তাদের যুদ্ধ চালাচ্ছে। আর ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেট তাদের গোপন এজেন্ডা নিয়ে বলতে গেলে জনগণের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ চালাচ্ছে। আমাদের এই গ্রহের ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেটের ছায়াপথ-রাজ্যের ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেটের একটা বড় মিল দেখা যাচ্ছে। সেটা হলো, ঐ ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেটের মত এরাও গোপনে তাদের তৎপরতা চালাচ্ছে। কিন্তু গোপনীয়তার এই এক মিলের কারণে এরা ঐ ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেটের নাম গ্রহণ করেছে, এই যুক্তি খুব শক্তিশালী নয়। তাহলে এ ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেটের এই নাম গ্রহনের আর কি কারন থাকতে পারে? ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেটকে বোঝার ক্ষেত্রে এই প্রাথমিক বিষয়েরই কোন কূল- কিনারা পাচ্ছি না জোসেফাইন।’ থামল আহমদ মুসা। ‘আরেকটা উজ্জ্বল দিক ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেটের আছে। বহু শতাব্দি ধরে তারা এই নাম নিয়ে গোটা ছায়াপথ গ্যালাক্সিতে কাজ করছে। অদম্য তারা। সব বিপর্যয়ের মধ্যে থেকে তারা নতুন শক্তিতে জেগে ওঠে। সবশেষে তারা প্রকাশ্য নামে কাজ করছে আগের সেই একই লক্ষে। এই বৈশিষ্ট্য যে কোন সংগঠনের লোভনীয় হতে পারে।’ বলল জোসেফাইন। ‘ঠিক বলেছ জোসেফাইন। এটা হতে পারে। তাদের অদম্য বৈশিষ্ট্যের কারণেই এই ব্ল্যাক সান তাদের নাম গ্রহণ করেছে। কিন্তু ওদের উদ্দেশ্য ছিল ছায়াপথ গ্যালাক্সির ক্রাইম-লর্ড হওয়া, গড-ফাদার হওয়া এবং পারলে এই গড ছায়াপথ গ্যালাক্সির শাসকও হয়ে বসা। তাহলে এই ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেটের উদ্দেশ্য কি?’ বলল আহমদ মুসা্ মোবাইল বেজে উঠল আহমদ মুসার। ‘একদিনে সব প্রশ্নের জবাব আসবে না। তুমি টেলিফোন ধর।’ জোসেফাইন বলল। আহমদ মুসা তুলে নিল মোবাইল। আহমদ মুসা কল অন করে সালাম দিতেই ওপার থেকে কন্ঠ শুনতে পেল সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্ রীর। আহমদ মুসার কন্ঠ পেয়েই ওপার থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলল, ‘মি. আহমদ, আমি একটু আপনার ওখানে আসতে চাই।’ ‘ওয়েলকাম, এখন কিংবা যে কোন সময়। কিন্তু কি ব্যাপার বলুন তো? আপনার নি:শ্বাস ফেলার সময় নেই। আপনি তো শুধুই বেড়াতে আসতে পারেন না, তাও রিয়াদ থেকে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘একটা বিষয় নিয়ে আমি আপনার সাথে আলোচনা করতে চাই। বিষয়টা ছোট, কিন্তু ইন্টারেষ্টিং।’ বলল সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেলিফোনের ও প্রান্ত থেকে। ‘আমার তো দারণ আগ্রহ হচ্ছে। বলুন না বিষয়টা কি?’ আহমদ মুসার জিজ্ঞাসা।। ‘আপনি শুনে হয়তো হাসবেন! কিন্তু কি জানি বিষয়টা আমরা এড়াতে পারছি না।’ বলে একটু থামল সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সংগে সংগেই আবার শুরু করল, ‘আমাদের রিয়াদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডভান্সড টেকনলজি অব ইঞ্জিনিয়ারিং-এর বিজ্ঞানী খালেদ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-মক্কী একটা স্বপ্ন দেখেছেন। সে স্বপ্ন তিনি বলেছেন তার স্ত্রীকে। তার স্ত্রী স্বপ্নের তা’বীরের জন্যে যান ইমাম সউদ জামে মসজিদের খতিব প্রধান আলেমের কাছে। স্বপ্নের তা’বীর শুনে মুষড়ে পড়েন বিজ্ঞানীর স্ত্রী। তিনি বিজ্ঞানীর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দেন। এ নিয়েই বেঁধেছে সমস্যা। সরকার বিষয়টি নিয়ে বিজ্ঞানীর পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে দ্বিধা বোধ করছে।’ থামল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। (চলবে....)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ একটি দ্বীপের সন্ধানে (চ্যাপ্টার-৪)
→ একটি দ্বীপের সন্ধানে (চ্যাপ্টার-৩)
→ একটি দ্বীপের সন্ধানে (চ্যাপ্টার-২)
→ একটি দ্বীপের সন্ধানে (চ্যাপ্টার-১)
→ একটি দ্বীপের সন্ধানে (চ্যাপ্টার- ৩)
→ একটি দ্বীপের সন্ধানে (চ্যাপ্টার- ২ বাকি অংশ)
→ একটি দ্বীপের সন্ধানে (চ্যাপ্টার- ২)
→ একটি দ্বীপের সন্ধানে (চ্যাপ্টার- ১ এর বাকি অংশ)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now