বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নামহীন ভালবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ☠Sajib Babu⚠ (০ পয়েন্ট)

X বিকেল পাঁচটা, অাধ ঘণ্টার বেশী হয়ে গেছে পার্কের এক বেঞ্চে বসে আছে অন্তরা, কিন্তু জাহিদের আসার নাম নেই। এতে তার সমস্যা হচ্ছে না কারন প্রায় দিন ই এরকম করে সে। লেট করা জাহিদের অভ্যাস -- এই তোমার আসার সময় হলো?? -- কেনো?? কি হয়ছে --- ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখো ৪৫ মিনিট লেট করে আসছো --- সরি গো.. রিক্সা পাই নি তাই হেঁটেই আসতে হলো ( মিথ্যা) --- বসো, অনেক ঘেমে গেছো তোমার ঘাম মুছে দেই --- তোমার বসে থাকতে কষ্ট হয় না?? প্রতিদিন ই তো এরকম করি --- কষ্ট কিসের?? তোমার জন্যে আবার কিসের কষ্ট? --- জানি তো হয় --- হুহ বলছে তোমাকে, তোমার কষ্ট হয়না?? তুমিও তো হেটে হেটে আসো রৌদ্রের মধ্যেও --- তোমার জন্যে আমি বহুদূর হেটেও আসতে পারি আর এতো সামান্য পথ আমার কোনো অসুবিধা হয় না বরংস আরো ভালো লাগে অপেক্ষার পর হলেও তো একবার তোমার মুখটা দেখতে পাই --- তাই ( হাসির ইমু) , আচ্ছা খাইছো দুপুরে?? তোমার মুখ এরকম শুকনো লাগছে কেনো?? ( পাগলীটা যেনো কেমন করে বুঝতে পারে আমাকে, আমি যে খাই নি তা আমাকে দেখেই সে বুঝে ফেলছে) --- খাইছি হালকা কিছু --- হয়ছে রাখো আর বলতে হবে না, চলো এবার --- কোথায়??? -- আমি যেখানে নিয়ে যাবো সেখানে ( না গেলেও নিস্তার নেই, তার কথার বাহিরে গেলে, কথা বলা থেকে শুরু করা সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দিবে) অন্তরা একটা রিক্সা ডেকে দুজনে উঠে পড়লো, ভাড়াটা অন্তরাই দিবে কারন জাহিদের কাছে টাকা নেই --- তুমি এরকম দূরে সরে বসছো কেনো??? --- না মানে এম্নি ---ঢং, হুহ --- এমা তো রেস্টুরেন্টে নিয়ে এলে কেনো?? আমি তো কিছু খাবোনা, আমি খেয়েছি একবারে রাতে খাবো --- তুমি খাবেনা মানে?? অবশ্যই খাবে, আমি জানি তুমি সারাদিন না খেয়ে --- তুমি আমাকে বুঝো কিভাবে?? --- ভালবাসি তাই ( হাসির ইমু) আর হ্যাঁ, এখন বাসায় গিয়ে রেস্ট নিয়ে তারপরে টিউশনি তে যাবে, পৌছে ফোন দিবে --- হুম যথা আজ্ঞা ম্যাম অন্তরার সাথে জাহিদের রিলেশন ২ বছরের বেশি, দুজন দুজনকে অসম্ভব ভালবাসে, তার মধ্যে অন্তরা মনে হয় একটু বেশি ই ভালবাসে। জাহিদ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে, টিউশনি করে কোনো রকম পড়া, খাওয়ার খরচ চালায়। এখন তার গ্রাজুয়েশন শেষ হয়ছে, শুধু চাকরীর অপেক্ষা।। এদিকে অন্তরার অবস্থা স্বচ্ছল, তাদের টাকা পয়সা বলতে গেলে অনেক। জাহিদ প্রথম প্রথম তাকে অনেক বলেছে তার পক্ষে রিলেশন করা সম্ভব না কিন্তু অন্তরা নাছোড় বান্দা, শুনেনি ভাল এক মাত্র তাকেই বাসে সে। বিয়ে করলে তাকেই করবে অন্য কাউকে নয়। জাহিদ কুঁড়েঘরে থাকে সে সেখানেই থাকতে রাজি, না খেয়ে থাকলে সেও না খেয়ে থাকবে তাতে তার অসুবিধে হবেনা। সন্ধ্যার সময় যখন টিউশনি তে যাবে তখন অন্তরার ফোন --- টিউশনি তে যাচ্ছো -- হুম --- দেখে যেও, আর হ্যাঁ ছাত্রীর সাথে বাড়তি কথা বলার চেষ্টাও করবেনা বলে দিলাম। --- আচ্ছা বলবোনা... হি হি.... রাখি এখন টিউশনি তে যাওয়ার পর --- আচ্ছা স্যার একটা প্রশ্ন করি স্যার?? --- হুম বলো --- আপনি যে এরকম অগোছালো, তা আপনার গার্লফ্রেন্ড কিছু বলেনা? --- এই মেয়ে এটা কেমন প্রশ্ন?? আর আমার গফ আছে তুমি জানো কিভাবে? -- জানি স্যার, আর আপনাকে সেদিন আপনার গফের সাথে রিক্সায় দেখলাম -- হয়ছে, বাড়তি কথা রাখো, বেশি বুঝে ফেলছো, এখন পড়ো। -- আপনাদের দুজনকে কিন্তু সুন্দর মানাবে --- চুপ, আর একটা কথাও বলবা না, পড়া তো ঠিকমতো দিতেই পারো না দাড়াও আন্টিকে বলে দিচ্ছি। রাত ৯ টার পর বাসায় এসে, খাবার খেয়ে কেবল ই ফেসবুক স্ক্রল করতেছে তখনই আননোন নাম্বার থেকে ফোন আসলো --- হ্যালো, রাজীব সাহেব বলছেন? --- হ্যাঁ, আপনি কে বলছেন? --- আপনি যে প্রাইভেট ফার্মে চাকরীর জন্যে সি. ভি. দিয়েছিলেন আমরা আপনাকে অ্যাক্সেপ্ট করেছি আপনী চাইলে নেক্সট মান্থ থেকে জয়েন করতে পারেন --- থ্যাংক ইউ স্যার এই খুশির খবরটা তার মা বাবাকে জানিয়ে দিলো সাথে সাথে। শুনে তার মা 'র চোখ ছলছল করে উঠলো হয়তোবা ফোনের অপরপাশ থেকে বুঝা গেলো , এবার তাদের দুঃখ ঘুচবে। অন্তরা কে জানালোনা কারন তাকে সারপ্রাইজ দিবে, অনেক বড় সারপ্রাইজ ফেসবুকে অন্তরা কে মেসেজ দিয়ে রাখলো কাল যে বিকেলে দেখা করে তাদের চিরচেনা জায়গায়.. আর হ্যাঁ তোমাকে যে ড্রেসটা গিফট করেছিলাম সেটা পড়ে আসবে অবশ্যই --- এই, কৈ তুমি?? -- আরে বাহ, আজ দেখি তুমি ই আগে ব্যাপার কি?? ---- কিছুনা, আসলাম আরকি প্রতিদিন তো তুমি আগে আসো আজকে নাহয় আমি --- না না, তুমি তো এমন করো না কোনোদিন ব্যাপার কি বলো হুম? ---তোমার জন্যে একটা খুশির সংবাদ আছে --- কি?? বলো তাড়াতাড়ি --- আমার চাকরী হয়ে গেছে --- ওয়াও ( খুশিতে আত্নহারা হয়ে কেঁদেই দিছে প্রায়) --- এখন আর তোমাকে ভালবাসতে বাধা নাই। এখন তুমি শুধুই আমার --- ভালবাসি এত্তগুলা --- আমিও ( ভালবাসার ইমু) কিছুদিন পর.. অন্তরার বাসায় ঝমকালো সাঝ, সানাই বাজছে, মানুষের ভীড় দেখা যাচ্ছে অন্তরা লাল শাড়ী পড়ে সেজে বসে আছে হ্যাঁ, ঠিকই ভাবছেন আজ তাদের বিয়ে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নামহীন অবুঝ ভালবাসা....
→ নামহীন ভালবাসার গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now