বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হিমু—প্রর্ব ৬

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X মোরশেদ সাহেব সম্ভবত বাসায় ফেরেননি। এখন সবে সন্ধ্যা। যাদের ঘরে কোনো আকর্ষণ নেই তারা সন্ধ্যাবেলা ঘরে ফেরে না। ঠিক সন্ধ্যায় তারা একধরনের অস্থিরতায় আক্রান্ত হয়। এই অস্থিরতা শুধু মানুষের বেলাতেই যে হয় তা না—পশুপাখিদের ক্ষেত্রেও হয়। সেই কারণেই হয়তো সব ধর্মে সন্ধ্যা হল উপাসনার সময়। মনের অস্থিরতা দুর করে মনকে শান্ত করার এক বিশেষ প্রক্রিয়া। পরম রহস্যময় মহাশক্তির কাছে আবেদন— আমাকে শান্ত কর। আমার অস্থিরতা দূর কর। দিনের কর্ম সাধিতে সাধিতে ভেবে রাখি মনে মনে কর্ম অন্তে সন্ধ্যাবেলায় বসিব তোমারি সনে। খোলা গেট দিয়ে ঘরে ঢুকলাম। ঘর অন্ধকার, তবে দরজার তালা নেই। কয়েকবার ধাক্কা দিতেই মোরশেদ সাহেব দরজা খুলে দিলেন। মুখ শুকিয়ে কালো হয়ে আছে। মাথা ভেজা। ‘কি ব্যাপার মোরশেদ সাহেব?’ ‘কিছু না ছোটমামা। আসুন, ভেতরে আসুন।’ ‘শরীর খারাপ?’ ‘জ্বি, দুপুরে একবার এপিলেপটিক সিজার হল। মেঝেতে পড়েছিলাম। ঘরে কেউ ছিল না।’ ‘একা থাকেন?’ ‘জ্বি।’ ‘বাতি জ্বালাননি কেন? সন্ধ্যাবেলা বাড়িঘর অন্ধকার দেখলে ভাল লাগে না।’ মোরশেদ সাহেব বাতি জ্বালালেন । আমি বসতে-বসতে বললাম, আপনার আত্মীয়স্বজন কেউ নেই? ওদের কাউকে সঙ্গে এন রাখতে পারেন না? আপনি অসুস্থ মানুষ। একজন কারো তো আপনার সঙ্গে থাকা দরকার। ‘ছোটভাই আছে। সে কানডায় থাকে। ছোটবোন ঢাকাতেই আছে। ওর নিজের স্বামী-সংসার আছে। ওকে বিরক্ত করতে ইচ্ছা করে না। আমি হলাম সবার বড়।’ ‘এষার সঙ্গে কি এর মধ্যে দেখা হয়েছে?’ ‘জ্বি, দেখা হয়েছে। ও এসেছি।’ ‘নিজেই এসেছিল।–বাহ্, ভাল তো।’ ‘ওর দাদীমাকে নিয়ে এসেছিল। আমাকে বোঝাল যে ডিভোসই আমাদের দু’জনের জন্যে মঙ্গলজনক। আমিও দেখলাম এষা ঠিকই বলছে। তা ছাড়া বেচারি আমার সঙ্গে থাকতে চাচ্ছে না। আমি তো জোর করে কাউকে ধরে রাখতে পারি না।’ ‘তা তো বটেই। পশুকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা যায়, মানুষকে যায় না।’ ‘আমি এষার সঙ্গে ম্যারিজ রেজিস্ট্রারের অফিসে গিয়ে কাগজপত্র সই করে এসেছি।’ ‘ভাল করেছেন।’ ‘এষার জন্যে হয়ত ভাল করেছি, আমার জন্যে না। আমার মনটা খুব খারাপ। মামা, আপনাকে চা করে দি। ঘরে আর কিছু নেই —শুধু চা।’ ‘শুধু চা’ই দিন। রান্নাবান্না কি আপনি নিজেই করেন?’ ‘চা-টা নিজেই বানাই, বাকি খাবার হোটেল থেকে খেয়ে আসি। সেখানেও বেশিদিন যাওয়া যাবে না। গেলেই টাকার জন্যে তাগদা দেয়। আচ্ছা মামা, আমার ক্যামেরাটা বিক্রির ব্যবস্থা করেছেন? এর সঙ্গে আলাদা একটা ঝুম লেন্স আছে। লেন্সটা আমার ভাই কানাডা থেকে পাঠিয়েছে।’ ‘আপনার ভাইয়ের কাছে কিছু টাকা চেয়ে চিঠি লিখলে কেমন হয়?’ ‘না না, তায় হয় না। ছোট ভাই তো। আপনি ক্যামেরা বিক্রির ব্যবস্থা করে দিন।’ ‘ক্যামেরা বিক্রির টাকা যখন শেষ হয়ে যাবে তখন কী করবেন?’ ‘আমি বেশিদিন বাঁচব না, ছোটমামা। আমার শরীর খুব খারাপ। নতুন একটা উপসর্গ দেখা দিয়েছে। আগে ছিল না।’ ‘কি উপসর্গ?’ ‘মাথার ভেতরে ঝিঝি পোকা ডাকে। ঝিঁঝি শব্দ হয়। সবসময় যদি হত তা হলে আমি অভ্যস্ত হয়ে যেতাম। সবসময় হয় না। মাঝে-মাঝে হয়।’ আমি চা খেলাম। মোরশেদ সাহেবের ঘর- দুয়ার দেখলাম। একা মানুষ, কিন্তু ঘর খুব সুন্দর করে সাজানো। দেখতে ভাল লাগে। ‘মোরশেদ সাহেব।’ ‘জ্বি ছোটমামা?’ ‘আপনার ঘর তো খুব সুন্দর করে সাজানো। দেয়ালে ছবি নেই কেন? আপনার এত দামী ক্যামেরা। ঘরভর্তি ছবি থাকা উচিত।’ ‘ছবি ছিল। অনেক ছবি ছিল। সব এষার ছবি। এষা বলল, আমার ছবি দিয়ে ঘর ভর্তি করে রাখার তো কোনো মানে নেই। তোমার এখন উচিত আমাকে দ্রুত ভুলে যাওয়া। ছবি থাকলে তুমি তা পারবে না। তা ছাড়া তুমি নিশ্চয়ই আবার বিয়ে করবে। তোমার নতুন স্ত্রী আমার ছবি দেখলে রাগ করবে। ছবিগুলি তুমি আমাকে দিয়ে দাও। আমি দিয়ে দিলাম।’ ‘ভাল করছেন। চলুন আমরা এখন বের হই।’ ‘কোথায় যাব?’ ‘আমার একটা চেনা ভাতের হোটেল আছে, আপনাকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে আসি। ওদের রান্না খুব ভাল। তারচে’ বড় কথা—বাকিতে খাওয়া যাবে। মাস পুরালেই টাকা দিতে হবে তাও না। একসময় দিলেই হবে।’ মোরশেদ সাহেব উজ্জ্বল মুখে বলল, চলুন। ক্যামেরাটা কি এখন দিয়ে দেব? ‘দিন।’ মজনু মিয়া আমাকে দেখেই গম্ভীর মুখে বলল, হিমু ভাই। আপনার সাথে আমার কিছু প্রাইভেট কথা আছে। ‘প্রাইভেট কথা শুনব, তার আগে আপনি আমার ভাগ্নেকে দেখে রাখুন। এর নাম মোরশেদ। এ আপনার এখানে খাবে। টাকাপয়সা একসময় হিসেব করে দেয়া হবে। আপনি খাতায় লিখে রাখবেন।’ মজনু মিয়া বিরস মুখে অন্যদিকে তাকিয়ে রইল। আমি বললাম, অন্যদিকে তাকিয়ে আছেন কেন? ‘আপনার সাথে আমার প্রাইভেট কথা আছে।’ ‘বলুন প্রাইভেট কথা, শুনছি।’ ‘আসেন, বাইরে আসেন।’ আমি মোরশেদকে বসিয়ে বাইরে এলাম। মজনু মিয়া দুঃখিত গলায় বলল, আমি আপনারে খুবই পেয়ার করি, হিমু ভাই। ‘তা আমি জানি।’ ‘আপনার উপর মনটা আমার খুব খারাপ হয়েছে। কাজটা আপনি কী করলেন?’ ‘কোন কাজ?’ ‘ঐদিন দুপুররাতে মোস্তফাকে বললেন, মোরগ-পোলাও কর। আপনারা সাতটা মানুষ মিলে চারটা মুরগি খেয়ে ফেলেছেন। আচ্ছা ঠিক আছে, খেয়েছেন ভাল করেছেন—চার মুরগির জন্য মজনু মিয়া মরে যাবে না।’ ‘তা হলে সমস্যা কি?’ ‘ঐ রাতে আপনে বললেন, আমি দুই দিন হোটেলে আসব না। বলেন নাই?’ ‘বলেছি।’ ‘কথাটা আপনে এদের বলতে পারলেন, আমারে বলতে পারলেন না?’ ‘আপনাকে বললে কী হত?’ ‘আমি সাবধান থাকতাম। সাবধান থাকলে কি অ্যাকসিডেন্ট হয়?’ ‘অ্যাকসিডেন্ট হয়েছিল?’ মজনু মিয়া বিরক্ত মুখে বলল, আপনি এমন একটা ভাব ধরলেন যেন কিছুই জানেন না। আপনি পীর-ফকির মানুষ—কামেল আদমী —এটা আর কেউ না জানুক, আমি জানি। আপনারে যে খাতির করি—ভালবাসা থেকে যতটা করি, ভয়ে তারচে’ বেশি করি। কখন কি ঘটনা ঘটবে এটা আপনি আগেভাগে জানেন। জানেন না? আমি কিছু বললাম না। মজনু মিয়া বলল, আপনি ঠিকই জানতেন যে আমার অ্যাকসিডেন্ট হবে। রিকশা থেকে পড়ে পা মচকে যাবে। তার পরেও আমাকে না বলে অন্য সবেরে বললেন। কাজটা কি ঠিক হল হিমু ভাই? ‘বেশি ব্যথা পেয়েছেন?’ ‘অল্পের জন্যে পা ভাঙ্গে নাই। মচকে গেছে। সাত দিন হয়ে গেছে, এখনো ঠিকমতো পা ফেলতে পারি না। চিলিক দিয়ে ব্যথা হয়।’ ‘আপনার প্রাইভেট কথা শেষ হয়েছে মজনু মিয়া?’ ‘জ্বি, শেষ হয়েছে। আবার এক বন্ধুকে নিয়ে এসেছেন—দেখে তো মনে হয়— মাথা আউলা। ইয়াদ সাহেবের মতো যন্ত্রণা করবে।’ ‘ইয়াদ কি এখনো আসে? তাকে তো আসতে নিষেধ করেছি।’ ‘না, উনি আর আসেন না। উনি আছেন কেমন?’ ‘জানি না কেমন। অনেক দিন দেখা হয় না। ভালই আছে মনে হয়—মজনু মিয়া, ক্যামেরা কিনবেন?’ ‘ক্যামেরা?’ ‘জ্বি, ক্যামেরা মিনোলটা। সঙ্গে ঝুম লেন্স আছে।’ ‘আমি ক্যামেরা দিয়ে কি করব? আমি বেচি ভাত।’ ‘ভাতের ছবি তুলবেন। পৃথিবীতে সবচে’ সুন্দর ছবি হল—ভাতের ছবি। ধবধবে শাদা।’ মজনু মিয়া বিরক্ত হয়ে বলল, আপনি বড় উল্টাপল্টা কথা বলেন হিমু ভাই। আগা- মাথা কিছুই বুঝি না।’ ‘ক্যামেরা কিনবেন না?’ ‘জ্বি-না।’ ‘জিনিসটা কিন্তু ভাল ছিল। সস্তায় ছেড়ে দিতাম।’ ‘মাগনা দিলেও আমি নিব না, হিমু ভাই। আসেন চা খান। নাকি ভাত খাবেন? ভাল সরপুটি আছে।’ ‘ভাত খাব না। ক্যামেরা বিক্রির চেষ্টা করতে হবে। চলি মজনু মিয়া।’ আমি চলে গেলাম তরঙ্গিণী স্টোরে। মুহিব সাহেব নেই। নতুন একটি ছেলে বিরস মুখে দরজা বন্ধ করছে। রাত মাত্র এগারোটা, এর মধ্যই দোকান বন্ধ। আমি ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বললাম, ভাল আছেন? সে সরু চোখে তাকাল। কিছু বলল না। ‘মুহিব কোথায়?’ ‘উনার চাকরি চলে গেছে। উনি কোথায় আমি জানি না।’ ‘চাকরি গেল কেন?’ ‘জানি না। মালিক জানে। আপনে উনার কে হন?’ ‘কেউ হই না। টেলিফোন করতে এসেছি। টেলিফোন করা যাবে?’ ‘জ্বি-না। মালিকের নিষেধ আছে।’ ‘পাঁচটা টাকা যদি আপনাকে দিই তাহলে করা যাবে?’ লোকটা টেলিফোন খুলে দিল। আমি ডায়াল ঘোরাতে-ঘোরাতে বললাম, মুহিবকে বদলে আপনাকে নেয়া মালিকের ঠিক হয়নি। আপনার হল চোর- স্বভাব। মাত্র পাঁচ টাকার জন্যে মালিকের নিষেধ অমান্য করেছেন। এক শ’ টাকার জন্যে দোকান খালি করে দেবেন। লোকটা আমার দিকে ভীত চোখে তাকাচ্ছে। আমি তাকে অগ্রাহ্য করে বললাম, হ্যালো। ওপাশ থেকে ডাক্তার ইরতাজুল করিম বললেন, কাকে চাচ্ছেন? ‘আপনাকে। আমি হিমু। চিনতে পারছেন?’ ‘পারছি। কি চান?’ ‘কিছু চাচ্ছি না। আপনি কি ক্যামেরা কিনবেন? ভাল ক্যামেরা।’ ‘হিমু সাহেব, রাতদুপুরে আমি রসিকতা পছন্দ করি না।’ ‘এটা কিন্তু সাধারণ ক্যামেরা না। এর সঙ্গে দু’জন মানুষের ভালবাসার এবং ভালবাসা ভঙ্গের ইতিহাস জড়ানো আছে। আমি আপনাকে সস্তায় দেব।’ খট করে শব্দ হল। ডাক্তার ইরতাজুল করিম টেলিফোন নামিয়ে রাখলেন। রাত ঠিক সাড়ে এগারোটায় আমি নীতুকে টেলিফোন করলাম। নীতু আমার গলা খুব ভাল করে চেনে। তবু তীক্ষ্ণ গলায় বলল, আপনি কে বলছেন? আমি বললাম, সরি, রং নাম্বার হয়েছে। নীতু তৎক্ষণাৎ বলল, রং নাম্বার হয়নি। আপনি ঠিকই করেছেন। ইয়াদকে চাচ্ছেন? ও বাসায় নেই। ‘আমি ইয়াদকে চাচ্ছি না। আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাই।’ ‘আমার সঙ্গে আবার কী কথা?’ ‘জরুরি কথা।’ ‘টেলিফোনে বলা যাবে? টেলিফোনে বলা না গেলে, আপনি চলে আসুন। গাড়ি পাঠাচ্ছি। আপনি কোথায় আছেন বলুন।’ ‘গাড়ি পাঠাতে হবে না। টেলিফোনে বলা যাবে। আপনি কি একটা ক্যামেরা কিনবেন?’ ‘কি কিনব?’ ‘ক্যামেরা। সিঙ্গেল লেন্স রিফ্লেক্স ক্যামেরা। অটোম্যাটিক ম্যানুয়েল দু’টাই আছে। প্লাস একটা ঝুম লেন্স। সেকেন্ড হ্যান্ড হলেও ভাল জিনিস।’ ‘চোরাই মালের ব্যাবসা কবে থেকে শুরু করলেন?’ ‘আপনার কী করে ধারণা হল যে আমার ক্যামেরা নেই? সেকেন্ড হ্যান্ড ক্যামেরা কেনার জন্যে আমি আগ্রহী…?’ আমি গম্ভীর ভঙ্গিতে বললাম, খুব যারা বড়লোক, সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিসের প্রতি তাদের একধরনের আগ্রহ থাকে। বঙ্গবাজারে যেসব পুরানো কোট বিক্রি হয়—তাদের বড় ক্রেতা হলেন কোটিপতিরা। তারাই আগ্রহী ক্রেতা। ‘কোটিপতিদের সম্পর্কে আপনার খুব ভ্রান্ত ধারণা হিমু সাহেব। কোটিপতিদের কোনোকিছু সম্পর্কেই আগ্রহ থাকে না। যাই হোক, আপনার সঙ্গে আমি তর্কে যেতে চাচ্ছি না। আপনার ক্যামেরা আমি কিনব না। তবে কত টাকার আপনার দরকার আমাকে বলুন, আমি টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছি। ‘হাজার পাঁচেক দিতে পারবেন?’ ‘এখন পাঠাব?’ ‘জ্বি, পাঠিয়ে দিন।’ ‘কোথায় আছেন ঠিকানা বলুন।’ ‘আমাকে পাঠাতে হবে না। আমি এক ভদ্রলোকের ঠিকানা দিচ্ছি—তাঁর ঠিকানায় পাঠিয়ে দিলেই হবে।’ আমি মোরশেদ সাহেবের ঠিকানা দিলাম। টেলিফোনে শুনতে পাচ্ছি—নীতু খসখস করে লিখছে। ‘হিমু সাহেব।’ ‘জ্বি?’ ‘আপনার একটা চিঠি পাঞ্জাবির পকেটে ছিল। পেয়েছেন? ইয়াদকে দিয়ে পাঠিয়েছিলাম।’ ‘পেয়েছি।’ ‘পড়ছেন?’ ‘পুরোটা পড়তে পারিনি—অর্ধেকের মতো পড়েছি।’ ‘আপনি কি আমাকে বিশ্বাস করতে বলছেন যে পুরো চিঠি আপনি পড়েন নি অর্ধেক পড়েছেন?’ ‘বিশ্বাস করতে বলছি।’ ‘আপনার আচার-আচরণে কতটা সত্যি আর কতটা ভান, দয়া করে বলবেন?’ ‘ফিফটি-ফিফটি। অর্ধেক ভান, অর্ধেক সত্যি।’ ‘এই চিঠিটা আমি পড়ে ফলেছি। কিছু মনে করবেন না। আই অ্যাম সরি। আচ্ছা, আপনি কি রূপা মেয়েটিকে নিয়ে একদিন আসবেন আমাদের বাসায়?—উনাকে দেখব। উনি আসতে না চান—আমি আপনার সঙ্গে যেতে রাজি আছি।’ ‘আচ্ছা, একদিন নিয়ে যাব।’ (চলবে...)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now