বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জবর খবর

"বুক রিভিউ " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ আল-মামুন আলম আরজু (০ পয়েন্ট)

X লেখক—অভিজিৎ তরফদার বলি, হলটা কী ? ডেকে ডেকে গলায় যে রক্ত উঠে গেল! কানে কি তুলো গুঁজে আছ ? ডেকে ডেকে নয়, গজানন পরিষ্কার শুনেছেন। আগের ‘শুনছ’টা যোগ করলে এটা দ্বিতীয় বার। তাতে অবশ্য কিছু যায় আসে না। সাড়া দেবার জন্য গজানন মুখ খুললেন। আওয়াজ হল — ম্যাও।রংটা ফর্সার দিকে, জোড়া ভুরু, চুল খুলে দিলে পিঠের ওপর ইচ্ছামতী। গজাননেরও তখন ছাব্বিশ। অগ্রপশ্চাৎ না ভেবেই ঘাড়টা নব্বই ডিগ্রি কাতকরে দিয়েছিলেন। বাসরে মলিনা ডান হাতে বেলো বাজিয়ে বাঁ হাত জানলার দিকে বাড়িয়ে গেয়েছিল, জ্যোৎস্না রাতে সবাই গেছে বনে। ততক্ষণে বসন্তের মাতাল সমীরণ খোলা জানলা দিয়ে মাখো মাখো চাঁদের আলো বইয়ে দিচ্ছে মলিনা ও গজাননের দিকে।চাঁদের আলো শুকিয়ে খটখটে হতে মাস দু’য়েক লাগল। সেই থেকে প্রভু-ভৃত্যের সম্পর্ক।— সাতকড়ির ছেলের মুখেভাত। শুধু আংটি দিলে লোকে ছিঃ ছিঃ করবে। অথবা,— পুরী কিংবা দার্জিলিং ? ভূ-ভারতে বেড়াবার আর জায়গা নেই ? এ বার আমরা দক্ষিণ ভারত যাব। ব্যবস্থা করো।এমনকী রাত্তিরেও।— ওয়াক থুঃ। মাথা থেকে পঁচা পাঁকের গন্ধ বেরোচ্ছে। যাও। আগে শ্যাম্পু দিয়ে মাথা পরিষ্কার করো। তারপর ড্রেসিং টেবিলের ওপর রাখা সেন্ট গায়ে ঢেলে বিছানায় এসো।দাঁড়ানো অবস্থা থেকে নতজানু হয়েছেন গজানন। তিরিশ বছরে সাষ্টাঙ্গ প্রণিপাতও শিখে গিয়েছেন। শরীরেও নানাবিধ পরিবর্তন লক্ষ করছেন। হাঁটাটা বদলে গিয়েছে, হাতদুটো সামনে ঝুঁকে পড়েছে, মাটিতে ঠেকাতে পারলেই যেন ভাল হয়। পিঠের নীচে শিরদাঁড়ার শেষ সীমানায় একটা কিছু গজাচ্ছে, ভয়টয় পেলে সেটা দু’পায়ের ফাঁকে ঢুকে পড়ে। গলার স্বরটাও বদলে যাচ্ছে, মলিনা ডাকলে এইমাত্র যেমন জবাব দিলেন, মিহি ও আদুরেগলায়, ম্যাও।খাদ্যাভ্যাসেও বদল ঘটছে। পা টেনে টেনে দু’দিকে মাথা দোলাতে দোলাতে রান্নাঘরের সামনে দিয়ে যেতে যেতে একবার উঁকি দিতে ভুললেন না। কড়াইতে দুধ অথবা মাছ পড়ে থাকলে আজকাল আর সামলাতে পারেন না। মলিনা কয়েক বারই চেঁচামেচি করেছে। কোথা থেকে যে আসে বেড়ালটা! একদিন ধরতে পাই, দেখিয়ে দেব আমারই একদিন কী তোরই একদিন।বারান্দায় মোড়া পেতে বসেছিল মলিনা। গজাননকে দাঁত দেখাল, — কাবেরী একটু আগে ফোন করেছিল। রাতেই আমি অবশ্য দেখে নিয়েছি। ঝাড়া ছ মিনিট। এটাই রেকর্ড।মাটিতে থেবড়ে বসে পড়লেন গজানন। বাঁ হাতে জাঁতিতে সুপুরি কাটছে মলিনা, শব্দ হচ্ছে খচ্ খচ্। আওয়াজটা বুকের মধ্যে গিয়ে ধাক্কা মারছে।পঞ্চানন। ওরও হয়ে গেল। কাবেরী সেটাই জানিয়েছে। পড়ে রইলেন একা গজানন।পাশাপাশি থানা। পঞ্চানন আর গজানন। দুই বউ কাবেরী আর মলিনার যত গলাগলিই থাক, গজানন আর পঞ্চাননের মধ্যে আকচাআকচি আজকের নয়। শেষ অবধি পঞ্চাননই মেরে বেরিয়ে গেল। শালা!অবশ্য পঞ্চাননই লাস্ট। তার আগে ষষ্ঠীতলার বিভূতি, রসিকপুরের বলাই, মাচানতলার মদন। তল্লাটে কেউ বাকি নেই। আশপাশের যতগুলো থানা।কেউ বড়বাবু, কেউ মেজো, সেজো, ছোট। সরাফগঞ্জের কনস্টেবল তো নটবরও মুখ দেখিয়ে ফেলল। অবশ্য এক আধ মিনিটের বেশি কেউই নয়। পঞ্চাননই রেকর্ড। ছ ছ মিনিট।গজাননের পাথরচাপা কপাল। খুন-ডাকাতি-রাহাজানি-ধর্ষণ। অন্য সব থানার মতোই গজাননেরও নির্দেশ, শতং বদ মা লিখ। খাতায় তুলো না। নো এফ আই আর। রেকর্ড বিলকুল পরিষ্কার। অঞ্চলের সমস্ত দাগি ক্রিমিনাল খোল-করতাল নিয়ে ভজন গাইছে। আইনশৃঙ্খলার হাল অতি মনোরম। যে দু-একটা চোর-গুণ্ডা-ডাকাত-ধর্ষক গাইতে জানে না, তারাও রোজ বিকেলে মাঠে মাঠে ফুটবল খেলছে।তার মানে কি গজাননের এলাকা নন্দনকানন হয়ে গেছে ? মোটেই নয়। বরং অন্যান্য থানার তুলনায় গজাননের এলাকায় ওই সব দুষ্কর্ম বেশিই হয়। আসলে এখনকার মানুষগুলোই কেমন যেন!শ্বশুরবাড়ির লোকজন বউকে মেরে ঝুলিয়ে দিয়েছে। মেয়ের বাবা পান চিবোতে চিবোতে এসে জামাইয়ের পিঠ চাপড়ে বলল, বেশ করেছ বাবাজীবন, আপদ গেছে।পাশাপাশি তিন বাড়ি ডাকাতি এক রাতে। পরের হপ্তায় আবার ডাকাতি। সে দিন পাড়াসুদ্ধ সকলে হাজির। ওই তো জনাকয়েক খুদে প্যাকাটি মার্কা ডাকাত। ঘিরে ধরে তাড়া করে নালায় নিয়ে গিয়ে ফেলা। তারপর গণপিটুনি। ঝাড়সুদ্ধ নিকেশ। কোথায় কী! ডাকাতদের পাত পেড়ে বসিয়ে ভূরিভোজ খাইয়ে গয়নাগাটি টাকাপয়সা দিয়ে বিদেয় করতে পারলে যেন বাঁচে।মারতে নাই যদি পারিস একটা ফোন করতে কে মাথার দিব্যি দিয়েছিল ? হ্যাঁ, একটা ফোনের দূরত্ব বই তো নয়! নম্বরটা জোগাড় করে গজাননও একবার ট্রাই করেছেন। রিং হতেই ও পাশ থেকে গম্ভীর গলা, — হ্যালো, জবরখবর থেকে বলছি। বলুন কী ঘটনা ? বধূহত্যা ? খুন-ডাকাতি-ছিনতাই-ধর্ষণ ? হ্যাঁ, হ্যাঁ, বলে যান লিখে নিচ্ছি। ডিরেকশনটা ? চিন্তা নেই, আধঘণ্টার মধ্যে আমাদের লোক পৌঁছে যাবে।তাড়াতাড়ি ফোন নামিয়ে রেখেছেন। যদি জানাজানি হয়ে যায় ফোনটা গজাননই করেছিলেন ? রিটায়ারমেন্টের আর সাত বছর।সুকন্যার পিলানি, সবে থার্ড ইয়ার। রাজারহাটটাও বাকি। যাকগে, সবার ভাগ্যে কি সব কিছু হয় ? আগে তবু সন্ধেবেলা, নিদেন পক্ষে রাত্তিরে, একবার গুটি গুটি মলিনার পায়ের কাছে বসে টিভিতে চোখ ঠেকাতেন। আজকাল এড়িয়ে চলেন। পঞ্চাননেরও হয়ে গেল। ছ ছ মিনিট জবরখবরে মুখ দেখানো বলে কথা! নাঃ, নিরাপত্তারখাতিরেই আর মলিনার পায়ের কাছে বসে টিভি দেখা যাবে না।ক্রমশ মলিনার জাঁতির শব্দ জোরালো হচ্ছে। চোখেও কেমন হিংস্র ভাব। ধড়মড় করে উঠে পড়লেন গজানন।— আসতে পারি ?ডান কানে দেশলাইয়ের কাঠি, ডান চোখটা খোলা মুশকিল। বাঁ চোখটা এক চতুর্থাংশ খুলে আবার বন্ধ করে ফেললেন, জ্বালালো! ছ’মাস আগে হলেও অন্য গজানন দেখে বাড়ি ফিরত লোকটা। কিন্তু উপায় নেই। একে তো গজাননের পরিবর্তনটা আজকাল দ্রুত হচ্ছে, তার চেয়েও বড় কথা মাসে মাসে এক বুকনি, না না, পুলিশ সম্বন্ধে দুর্নামটা আমাদের ঘোচাতেই হবে। জানি কিছুই পারা যাবে না, তবু ব্যবহারটা তো ভাল করতে দোষ নেই।অফিসারের কথা শুনে টুপি নামিয়ে মুচকি হেসেছিল সকলে। ভাল ব্যবহার! তারও পাত্রভেদ আছে। এই ছেঁড়া ধুতি পাম্পশু ভাঁজকরা ছাতাকে ভাল ব্যবহার ?উত্তর দিলেন না গজানন। দেশলাইয়ের কাঠি ডান থেকে বাঁ কানে স্থানান্তরিত করার ফাঁকে ডান চোখটা অর্ধেক খুললেন।— আজ্ঞে একটু দরকারে এসেছিলাম।চোখের অর্ধেক খোলাতেই সাহস পেয়ে যায় লোকটা।— বলে ফেলুন।বলেই অবাক হয়ে দুটো চোখই খুলে ফেললেন গজানন। হল কী ? কাল রাতের ধোঁকার ডালনা ? পেটগরম ? না হলে সাত সকালে এই ছারপোকাকে গজানন বলছেন বলে ফেলুন! এরপর তো চেয়ার এগিয়ে দেবেন, সিগারেটেরপ্যাকেট বাড়িয়ে দেবেন, চাই কী খাতায় খচখচ অভিযোগও লিপিবদ্ধ করতে পারেন।অবশ্য বসল না মানুষটা। মাথা নামিয়ে বলল, আমারমেয়ে শম্পা, কাছেই সুভাষনগর কলেজে পড়ে, বটানি অনার্স, সেকেণ্ড ইয়ার, একা একাই কলেজে যায়, মর্নিং কলেজ...এই আর এক জ্বালা। কোথায় শুরু করতে হয়, কতখানি বলতে হয়, আশিভাগ লোকই জানে না। পেসেন্স, গজাননপেসেন্স, পাবলিক সার্ভেন্ট তুমি, মেজাজ সংযত করো, বলতে দাও, বলে বলে সব বিষ বেরিয়ে যাক, দরকার হলে দরজা অবধি এগিয়ে দাও।— হ্যাঁ, যা বলছিলাম, শম্পা একা যায়, ফেরেও একাই। একটা ছেলে কিছু দিন হল, যেখানে যায় পেছন পেছন বাইক নিয়ে ধাওয়া করছে। মেয়ের কলেজে যাওয়া বন্ধ। দিনরাত ঘরের ভেতর ঠকঠক করে কাঁপছে। আপনি বাঁচান দারোগাবাবু।— বিয়ে দিয়ে দিন।— অ্যাঁ ?— বলছি, বিয়ে দিয়ে দিন।— চেষ্টা তো করছি। ভাল পাত্র পাওয়া কি মুখের কথা ? তা ছাড়া ছেলেটা ভয়দেখিয়েছে, বিয়ের চেষ্টা করলে তুলে নিয়ে যাবে।— অত চেষ্টাচরিত্রের দরকার কী ? ওই ছেলেটার সঙ্গেই বিয়ে দিয়ে দিন।হাঁ হয়ে গেল শম্পার বাবা।— বলছেন কী দারোগাবাবু ? ক্লাশ সিক্সের বিদ্যে, বাবা সাট্টার পেন্সিলার। ওই ছেলের সঙ্গে আমার শম্পার বিয়ে দেব ?— আলবত দেবেন, চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন গজানন, অনেক সহ্য করা হয়েছে, সাত সকালে নাটক করা কাঁহাতক আর ভাল লাগে ?— শুনুন মশাই, পাত্র হিসাবে এই রকম ছেলেরই আজকাল বাজারদর সব চেয়ে চড়া। আর ছোটখাটো এ সব ব্যাপারে অনর্থক থানাপুলিশ জড়াবেন না তো, আপসে মিটিয়ে নিন।চলে গেল। যাবার আগে বলে গেল, দেশ থেকে কি আইন কানুন উঠে গেছে ? আগে জানলে আসতাম না।আইনকানুন ? চেয়ারে বসতে বসতে গজানন নিজেকে শুনিয়ে বললেন, আমার আবার আইনকানুন পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান। এখানে আইনকানুন চিত্তমাস্টার। যে সে মাস্টার নয়, ডান বগলে হাতকাটা জগাই কানকাটা মাধাই, বাঁ চোখে বোমার টুকরো, পাজামা-পাঞ্জাবি, হাওয়াইচটি, দেশাত্মবোধ, কাঁধে শান্তিনিকেতন, স্বাধীন ভারতের আদর্শ মাস্টার। কোথাকার কে শম্পার বাবা... সকালের আমেজটা... মরুকগে...।ভুলে গিয়েছিলেন। বালিতে জলের দাগ থাকে না। দুপুরে বাজার থেকে তোলা টোলা আদায় করে গাড়িতে উঠতে যাচ্ছেন, বেমক্কা মুখোমুখি।— প্রণাম কর, প্রণাম কর, দারোগাবাবু।থাক থাক বলতে বলতেই প্রণাম শেষ। ততক্ষণে উঠে দাঁড়িয়েছে, মুখের দিকে তাকাতেই বুকের ভেতর ধক করে উঠল। সুকন্যা!শনিবারই চিঠি পেয়েছেন। পিলানিতে ভীষণ গরম বাবা, দুপুরে বেরনো যায় না। আইসক্রিম খাচ্ছি রোজ, হি হি।বাড়ি ফিরে ভাত নিয়ে নাড়াচাড়া করে উঠে পড়লেন। অতবড় পাবদা, ফি শনিবার কালীপদ পাঠায়, তাও কেমনবিস্বাদ ঠেকল। ঘুমটাও ভেঙে গেল বারবার।নিজেকে বোঝালেন গজানন। এ সব ঠিক নয়। সিরিয়াল দেখে দেখে তোমার মাথাটা গেছে। এ সব সিনেমা থিয়েটারে হয়। সুকন্যা সুকন্যা, শম্পা শম্পা।তুমিও গজানন দারোগা। সার্ভিস রুলে তোমার জন্য যা যা লেখা আছে, ওপরওয়ালার হুকুম তামিল, শিষ্টের দমনে দুষ্টের তোষণ, মাসান্তে নিয়মিততোলা সংগ্রহ এবং তার বিভিন্ন ভগ্নাংশ চিত্তমাস্টার ও অন্যান্য উপযুক্ত তহবিলে প্রদান, এর বাইরে তোমার কিছু করার নেই। এর পরেই লক্ষ্মণরেখা। পেরোলেই বিপদ।অনেক বুঝিয়ে নিজেকে শান্ত করে দু’দিন পরে বেরোলেন বিকেলের হাওয়া খেতে।ভজহরি চালায় ভাল। জোরে নয়, আস্তেও নয়। গাড়ির দুলুনি, দক্ষিণের হাওয়া, দুপুরের কাঁকরার ঝাল — চোখদুটো সবে জুড়ে এসেছে, দড়াম করে ব্রেক কষল ভজহরি। মাথাটা ঠুকে গেল সামনের কাচে। দাঁতমুখ খিঁচিয়ে ভজহরিকে গালমন্দ দিতে যাচ্ছেন, চোখ আটকে গেল সামনে। একটা বডি, রাস্তা জুড়ে আড়াআড়ি শুয়ে।ভজহরি ততক্ষণে নেমে পড়েছে। হেঁচড়ে হেঁচড়ে গজাননও নামলেন পেছন পেছন। অন্ধকার হয়ে এসেছে, গঙ্গার এ দিকটা নির্জন। মুখে পাঁচ ব্যাটারির টর্চটা মেরে ভজহরি বলে উঠল, লাশ নয়স্যার, জিন্দা!গজানন ঝুঁকে পড়েছেন, ভজহরি ততক্ষণে লোকটাকে চিত করে ফেলেছে। টর্চের আলোতে গজানন চমকে উঠলেন, সেই...শম্পার বাবা।লোকজন দেখেই কি না কে জ


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now