বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

♥♠#ফাজিল_মেয়ের_ভালবাসা♥♠

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Rony(guest) (০ পয়েন্ট)

X ঠাস, ঠাস করে দুটি শব্দ হলো, কিছুক্ষণের জন্য আমি পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছিলাম। বুঝতে পারলাম এই দুটি আড়াই কেজি ওজনের চড় খেয়ে আমার এই অবস্থা হয়েছিল। উফফফ বজ্জাত মেয়ে। চড় খেয়ে আমি ওখানে চুপচাপ দাড়িয়ে রইলাম। আর কিছু বললাম না কারণ আমি জানি এখানে আমার কথা বলে কোনো লাভ নাই।। . আমি হৃদয়। গ্রাম থেকে শহরে এসেছি পড়াশোনা করার জন্য। মোটামুটি ছাত্র ভালো হওয়ার জন্য, গরীব ঘরের ছেলে হয়েও শহরে এই নামিদামী কলেজে চান্স পাই। কিন্তু কলেজে এসে প্রথম দিনই আমার সাথে এ রকম হবে আগে জানতাম না। কলেজ গেট দিয়ে ঢুকছি, গেট পারি দিয়ে আসতেই দেখি কয়েক টা সুন্দরী মেয়ে একসাথে বসে আড্ডা দিচ্ছে। তখন তাদের মধ্যে একজন মেয়ে আমাকে ডাক দিয়ে আমার হাতে একটা কাগজ দিল। আমি জানি না ওই কাগজে কি লেখা ছিলো। তারপর তাদের মধ্যে একজন বলল, এই রাস্তা দিয়ে প্রথমে যে মেয়ে যাবে তাকে দিতে। আমি বুঝতে পারলাম যে, আমি রের্গিং এর শিকার হইছি। আর আমি জানি, এখানে আমার কোনো কথা খাটবে না, কারণ আমার এখানে এতো টাকার জোর নাই। আমি ছাড়া আর যারা এখানে আছে প্রায় তারা সবাই কোটিপতি বাবার সন্তান। আর তাই আমি তাদের কথা মতো কাগজ টা একটা মেয়ের হাতে দিলাম, আর তার উপহার স্বরুপ সেই মেয়ে আমারে থাপ্পড় গিফট দিল আর যে মেয়ে গুলো আমারে কাগজটা দিছিল তারা দূর থেকে মজা নিচ্ছে আর জোরে জোরে হাসছে। তারপর আমি মাথা নিচু করে সেখান থেকে চলে আসি। যে মেয়ে গুলো আমাকে রেগিং করছিল তাদের মধ্যে বুশরা হলো, সবচেয়ে বড়লোক বাবার একমাত্র আদরের মেয়ে, ওই মেয়েটাই সব থেকে বেশি ফাজিল। বাবার অনেক টাকা আছে বলে, যখন যা ইচ্ছা তখন তাই করে। কেউ কিছু বলতে পারে না। শুনেছি অনেক ছেলে বুশরাকে প্রোপোজ করছে, কিন্তু সবগুলো ছেলেকে নানান ভাবে অপমান করে দিয়েছে। সেদিন একটা মেয়ের হাতে চড় খাইছি ভাগ্য ভালো বেশী কেউ দেখে নাই নইলে পেজটিজ এর 24 টা বেজে যেত। মেস থেকে পড়াশোনা করি তাই বুঝতেই পারছেন কতটা কষ্টে আছি। সেদিন কলেজে থেকে ফিরে, বই নিয়ে পরে ছিলাম সারাদিন। কারণ আমি সবসময়ই পড়া নিয়ে থাকি। অন্য কোনো কিছুতে বাজে সময় নষ্ট করি না, তাই বরং পড়া নিয়ে সারাদিন থাকি। মা বাবার সপ্ন পূরণ করতে হবে তো। তারপরের দিন কলেজে গেছি। কলেজ গিয়ে বুঝতে পারলাম, আমি একটু আগেই এসে পড়ছি, তাই আমি বই নিয়ে মাঠের ধারে গেলাম গাছের ছায়ায়। বই মনযোগ দিয়ে পড়ছি। তখন কাদের যেন হাসির শব্দ পেলাম। চোখ তুলে তাকিয়ে দেখি আমার পেছনে একটু দূরে কালকের সেই বদ মেয়ে গুলো হাসাহাসি করছে। আমি আর সে দিকে খেয়াল না দিয়ে বইয়ে মন দিলাম। একটু পর "হাই " এই কথা শুনে মাথা উচুঁ করলাম, দেখি বজ্জাত মেয়ে গুলো আমারে ঘিরে ধরেছে। আমি : কিছু বলবেন? বুশরা : তুমি কি এই কলেজে নতুন? আমি : হ্যাঁ। বুশরা : তোমার বাড়ি কই? আমি : আমি গ্রাম থেকে এসেছি। বুশরা : তারমানে তুমি গেঁয়ো, ( এই বলে সবগুলো মেয়ে হো হো করে হেসে উঠলো, ভাব দেখলেই গা জালা করে) বুশরা : বাই দা ওয়ে, তোমার নাম কি? আমি : হৃদয়। বুশরা : হুম তোমার নাম খুব সুন্দর, আর তুমিও কিন্তু বেশ হ্যান্ডসাম কিন্তু গেঁয়ো!! ( এই বলে আবার সবাই হাসতে লাগল) আমি : চুপ করে আছি। বুশরা : কি হলো মাটির মানুষ কথা বলছো না কেন? আমি : কি বলবো? বুশরা : ওলে লে আমার কচি খোকা কিছু বুঝেনা, (এই বলে আবার সবাই হাসতে লাগল,) আর আমি চুপ করে আছি। আমি জানি আমার মত ছেলেরা এখানে কিছু বললে কোনো লাভ হবে না। তাই ওদের কে মজা নিতে দিচ্ছি, নেক কত মজা নিতে পারে আমার কিছু যায় আসে না, এরপর সেখান থেকে চলে আসলাম। আমি গ্রামের ছেলে বলে আমাকে নিয়ে ওরা প্রতিদিন মজা করতো আর অপমান করতো, আর আমি সব নীরবে সহ্য করতাম। এখন আর এই কলেজে থাকতে ইচ্ছে করে না। আমার নিজের বাড়ি চলে যেতে ইচ্ছে করে আমার সেই গ্রামই ভালো। সেখানে থাকলে এভাবে অপমানিত হতে হয় না আর এখানে প্রতি পদে পদে গেঁয়ো বলে অপমানিত হতে হয়। চলে যেতে চাইলেও চলে যেতে পারতাম না। চলে যাওয়ার কথা ভাবলেই বাবা মার মুখটা চোখের সামনে ভাসতো, তারা আমাকে অনেক সপ্ন নিয়ে অনেক কষ্ট করে এই কলেজে ভর্তি করে দিছেন আর এখন যদি আমি চলে যাই তাহলে তাদের সব সপ্ন নষ্ট হয়ে যাবে। এসব কথা ভাবতে ভাবতে চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়ে। আমাকে এখন প্রতিদিনই ওদের অপমান সহ্য করতে হয়, প্রতিদিনই কলেজে ওরা আমাকে নিয়ে মজা করে। এখন এটি একটি প্রতিদিনের রুটিন হয়ে গেছে। তাই আমিও এখন ওদের কাছে অপমানিত হওয়ায় অব্যস্ত। এভাবে কেটে গেল তিনটি মাস। এখনও ওরা আমাকে নিয়ে, সে রকম হাসি তামশা করে, কিন্তু কোনো দিন আমি একটুও প্রতিবাদ করি নি। আর সেই বুশরা নামের মেয়েটা এত কিউট ছিলো যে, যে কেও প্রেমে পরবে। কিন্তু ওর আচরণ দেখে সবাই ওর থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে। একদিন কলেজে গেছি, তো তারা আমার সাথে মজা নেওয়ার জন্য দল বেধে চলে এলো সেদিন অপমান টা একটু বেশীই হয়ে ছিলো তাই সেদিন কেঁদেই দিয়েছিলাম। সেদিন ওরা যা করেছিল সেটা হলো : আমার চারপাশে ওরা গোল হয়ে বসে ছিলো কিন্তু সবাই একদম চুপচাপ ছিলো। আমি বুঝতে পারলাম না কি হতে চলেছে, তারপর দেখি ওদের মধ্যে একজন উঠে গিয়ে আমাদের কলেজের এক স্যার কে ডেকে এনে বলল, দেখেন স্যার এই ছেলেটা বুশরাকে একটা বাজে অফার করেছিল। আমি:এ ঘটনা দেখে আর চুপ থাকতে পারলাম না তাই বললাম, আমি বাজে অফার করছি মানে! আপনারা কি সব বলছেন এগুলো? তখন সবাই বলেছিল আমি নাকি বুশরাকে একটা চিঠি দিয়েছিলাম আর চিঠিতে আমি নাকি অনেক খারাপ কিছু লিখেছি আর তখন স্যার আমাকে অনেক মেরেছিল। মেরেছে এজন্য আমার কোনো দুঃখ নেই। কিন্তু ওরা যে আমাকে নিয়ে মজা করার জন্য এতবড় নাটক সাজাবে আমি কল্পনাও করতে পারি নাই। সেদিন রাতে প্রিন্সিপালকে ফোন করে টানা ১ মাসের ছুটি নিয়েছিলাম। স্যার প্রথমে দিতে চান নি, পরে অনেক রিকুয়েস্ট করার পর দিছেন। তারপর এক মাসের জন্য কাউকে না জানিয়ে আমার গ্রামের বাড়ি চলে এসেছি। আমি যে আমার বাড়ি এসেছি এটা শুধু প্রিন্সিপাল জানেন আর কেউ জানে না। বাড়িতে এসে সবার সামনে নরমাল ভাবে থাকলাম কেউ বুঝতে পারল না আমি সেখানে কিভাবে আছি। আমার সে অবস্থার কথা বললে মা বাবা নিশ্চিত কষ্ট পাবে আমাকে আর তারা পড়াতে চাইবে না তাই আর আমি তাদের কিছু বললাম না। . শুনেছি তারপরের দিন, বুশরা আর ওর বান্ধবীরা কলেজে গেছে। তারপর বুশরা বলে " এই চলো হৃদয় গেঁয়ো টার সাথে আবার একটু ফাজলামো করে আসি, দু_তিন মাস ধরে ওর পেছনে লেগে আছি কিন্তু ও কোনো দিন স্যারের কাছে অভিযোগ।করল না, আস্ত বলদ একটা। রিশা : একদম ঠিক বলছিস, চল এবার যাই বলদ টার কাছে। এই বলে আবার সবাই হাসতে হাসতে চলল আমার খোজে কিন্তু সারা কলেজ খুজেঁও আজ ওরা আর পেলনা আমাকে। রিশা : বুশরা কাল বোধ হয় একটু বেশীই হয়ে গেছিল। স্যারের কাছে মার খাওয়ানোটা বোধ হয় ঠিক হয়নি। ও যদি আর কলেজে না আসে তখন কি হবে। বুশরা : আরে না হৃদয় আসবেই তুই দেখিস। (মুখে একথা বললেও ওর মনে এক অজানা ভয় কাজ করছে এখন যদি হৃদয় ওদের জন্য কলেজ ছেড়ে দেয় তখন কি হবে, একথা ভাবতে বুশরার মুখটা কালো হয়ে গেল, বুশরার মনের ভেতর কে যেন, গরম তেল ঢেলে দিল, কিন্তু আমার একটা ছেলের জন্য ওর মন আজকে এতো কাঁদছে কেন? বুঝতে পারল না বুশরা) আর আমি এখন নিজের গ্রামে ফিরে গিয়ে একটু শান্তি অনুভব করছি। এখানে আমাকে নিয়ে মজা করা বা অপমান করার কেউ নেই, কিন্তু তবুও আমার চোখের সামনে সেই বুশরার দুষ্টামি ভরা মায়ায় ঘেরা চোখটা ভাসছে। কিন্তু আমি নিজেকে শক্ত করলাম, এরকম মেয়ের ভালবাসায় নিজেকে জরালে চলবে না। ★২য় দিন, বুশরা কলেজ গেছে, কিন্তু আজও সে আমাকে পেল না, এখন কেন যেন বুশরার মনে হচ্ছে, কি যেন একটা নেই, মনের ভেতর টা কেন যেন খালি খালি লাগছে। তার মজা করার মানুষ টা আজ নেই। বুশরা আর এখন অন্য কারও সাথে ফাজলামো করতে পারছে না। বুশরার মন শুধু গ্রামের ঐ ছেলেকে চাইছে। কিন্তু বুশরা জানে না আমি ১ মাসের জন্য এই ঢাকা নামের শহর টা ছেড়ে চলে গেছি। তারপরের দিন, তারপরের দিন করতে করতে চলে গেল ৮ দিন। এখন আর বুশরা অন্য কিছু ভাবতে পারছে না। তার ভাবনার সবটা জোরে হৃদয় নামের গেঁয়ো হ্যান্ডসাম ছেলেটি বিরাজ করছে। তবে কি বুশরা আমাকে ভালবেসে ফেলেছে? হ্যাঁ, বুশরা আমাকে ভালবেসে ফেলেছে। আর বুশরা এখন বুঝতে পারছে, ভালবাসা কি? ভালবাসার মানুষ দূরে গেলে এই ভালবাসা কতটা কষ্ট দেয়। এখন বুশরা সেটা হারে হারে টের পাচ্ছে। এখন আর বুশরা সেই আগের বুশরা নেই, আগে যে বুশরা সবসময় সবাইকে মাতিয়ে রাখতো ফাজলামি করতে। এখন সেই বুশরা নীরবে কারো জন্য কাদে। কাউকে না পাওয়ার ব্যথা, কতোটা কাঁদায় বুশরা এখন বুঝতে পারছে। কিন্তু আগে কেন বুঝল না বুশরা এই ফাজলামির পরিনাম কি হতে পারে। যে ছেলেটাকে অপমান করবে বলে বুশরা সবসময় তার পেছনে ছুটতো আজ সেই ছেলেটিকে পাওয়ার জন্য বুশরা একা একা বসে কাদে আর ওর ফেরার পথের দিকে চেয়ে থাকে। কিন্তু বুশরা আর হৃদয়ের দেখা পায় না। এখন থেকে বুশরার শুরু হলো ভালবেসে কষ্ট পাওয়ার দিন। বুশরা আগের চেয়ে অনেক শুকিয়ে গেছে, খেয়ে না খেয়ে শুধু একজনের কথা ভাবে রাতে কান্না করে বালিশ ভেজায়। বুশরার মা বাবা বুশরার এরকম অবস্থায় অনেক ভেঙে পড়ছে। তারা শত চেষ্টা করেও বুশরার মুখে হাসি আনতে পারি নি। সবসময় বুশরা মনমরা হয়ে গভীর ভাবনায় ডুবে থাকে। বুশরার সেই বদমাশ বান্ধবী গুলো এখন বুশরাকে কি বলে সান্তনা দেবে ভেবে পায় না। এভাবে কেটে গেল ২৬ দিন, এখন বুশরা একেবারেই ভেঙে পড়ছে। একলা এক ঘরে নিজেকে বন্ধী করে নিয়েছে। বুশরার বাবা মা বান্ধবী সবাই হৃদয়কে কলেজের চারপাশের এলাকায় অনেক খুজেঁছে কিন্তু পায় নি হতাশ হয়ে ফিরে এসেছে। তবে কি হৃদয় বুশরা কে রেখে অনেক দূরে চলে গেছে। বুশরা আর ভাবতে পারে না, জোরে জোরে কেদে দেয়। বুশরার এ অবস্থার কথা প্রিন্সিপাল জানার পর বুশরার বাড়ি যায়। তখন তিনি বুশরার বাবার কাছ থেকে সব ঘটনা জেনে বুশরার কাছে যান। প্রিন্সিপাল : বুশরা আমি তোমার সব ঘটনাই তোমার বাবার কাছ থেকে শুনলাম। আর তার চেয়ে বড় কথা হলো তোমরা সবাই হৃদয়ের সাথে যা করছো একদম ঠিক করো নি। হৃদয় বাড়ি যাওয়ার আগে আমাকে সব.বলে গেছে তোমরা ওর সাথে কি কি করছো। আর এখন ওর জন্যই কষ্ট পাচ্ছো। বুশরা : ওর বাড়ি কই বলুন না প্লিজ স্যার। আমি যাব ওর কাছে। (এই বলেই আবার কাদতেঁ লাগল) প্রিন্সিপাল : আরে আবার কাঁদছো কেন? আর কষ্ট পেয় না, আর তিন চারদিন পরই আসবে ও আমার কাছ থেকে ১ মাসের ছুটি নিয়েছিল। আমি ওকে এতদিন ছুটি দিতামনা। কিন্তু তোমরা ওর সাথে যা করছো, একথা শুনার পর আর না করি নাই যেতে দিছি। আর কয়েক দিন পর আসার কথা শুনে বুশরা যেন ওর দেহে প্রাণ ফিরে পেল। . এর পর পূর্ণ হলো ১ মাস। আজকে হৃদয়ের কলেজে আসার দিন, তাই আজ বুশরা অনেক সেজেগুজে কলেজে গেছে। অতঃপর অনেক পরে বুশরা দেখতে পেল তার ভালবাসার মানুষ টি আসছে। খুশিতে বুশরার মুখের কোনে এক চিলতে হাসি ফুটে ওঠে, আর ভাবে আজই ওর ভালবাসার কথা আমাকে জানিয়ে দিবে। আমি ধীর পায়ে কলেজের ভেতর অগ্রসর হচ্ছি আর তখনই দেখি বুশরা আমার দিকে তাকিয়ে আছে আর তাই আমি ওর থেকে দূরে চলে গেলাম। কিন্তু আজ ওই বদ মেয়েটাকে অনেক সুন্দর লাগছে চোখ ফেরানোই যায় না। একদম পরীর মতো কিন্তু আমি ওকে এড়িয়ে চলে গেলাম। আর বুশরা বোধ হয় এটা বুঝতে পারছে, আমি ওকে এড়িয়ে গেছি তাই ও দৌড়ে আমার কাছে আসলো আর ও আমার কাছে আসতেই আমি চলে যেতে লাগলাম, কিন্তু তখনই ও আমার হাত ধরে বলল, বুশরা : কোথায় যাচ্ছো হৃদয়? আমি : (হাত ছাড়িয়ে বললাম) আমার যেখানে খুশি। বুশরা : কিন্তু আমি আজ তোমাকে কোথাও যেতে দেব না! আমি : কেন? আজকে আবার নতুন করে অপমান করার ফন্দি বের করছো নাকি? বুশরা : এমন ভাবে বলছো কেন? আমি : তাহলে কিভাবে বলব, প্রতিদিন তো তোমরা তাই করো। (তখন দেখি বুশরার চোখের কোনে জল চিকচিক করছে) বুশরা : আগে যা হয়েছে সব ভুলে যাও। এখন আর আমরা তোমার সাথে এরকম করবনা, প্লিজ বিলিভ মি। আমি : আচ্ছা, বিশ্বাস করলাম, আমি এখন তোমার জন্য কি করতে পারি? বুশরা : আমি নতুন করে শুরু করতে চাই। আমি : তুমি কি নতুন করে শুরু করতে চাও? বুশরা : আমি তোমাকে ভালবাসি, একটু ভালবাসবে আমায়? আমি : কিইইই, আবার নতুন করে ফন্দি আটছো তাই না, দেখো এতদিন আমাকে নিয়ে মজা করছো কিছু বলি নাই। কিন্তু দয়া করে আমার মন নিয়ে মজা করো না আর ভালবাসা এতো সস্তা নয়, বিশেষ করে এটা তোমাদের মুখে মানায় না। (এই বলে চলে এলাম এখান থেকে) বুশরা এখন কাঁদছে আর সে বুঝতে পারছে কারও মনে আগে থেকে ঘৃণা ধরিয়ে দিলে সেই মনে ভালবাসা পাওয়া অনেক কঠিন। এইসব ভেবে কাদতেঁ কাদতেঁ বুশরা সেখানেই বসে পড়ল। আর কত কাঁদবে, এই এক মাস আমাকে কে না পেয়ে পাগলের মত হয়ে গেছিল সবসময় আমার জন্য কান্না করছে। আর আজ আমি ওকে অবহেলা করে ওর ভালবাসা ফিরিয়ে দিলাম। বুক ফেটে কান্না আসছে বুশরার। তারপর কলেজ থেকে বাড়ি গিয়ে অনেক কান্না করে বুশরা। বুশরার এই অবস্থা দেখে বুশরার বাবা মা আর সহ্য করতে না পেরে চলে যায়, আমার কাছে। আমাকে বুশরার কাছে বুঝিয়ে আনার জন্য। কিন্তু আমি উনাদের কে ফিরিয়ে দেই। শূন্য হাতে ফিরে যায় তারা বুশরার কাছে। বুশরা কিছু বলতে পারে না শুধু কান্না করে। তারপরের দিন বুশরা কলেজে গিয়ে দেখে আমি গাছতলায় বসে আছি, বুশরা আবার তার ভালবাসার দাবি নিয়ে, আসে আমার কাছে । তখন আমি উঠে চলে যেতে চাইলাম। কিন্তু বুশরা আমার পথ আগলে দাড়ায়। বুশরা : হৃদয় এমন করছো কেন তুমি আমার সাথে, প্লিজ এমন করো না, আর কত সহ্য করব। এতদিন বেচে থেকেও মরে ছিলাম, কিন্তু এখন তোমাকে ছাড়া আর বাচতে ইচ্ছে করছে না, সত্যি মরে যাব আমি, তুমি আমার সাথে এমন করলে, প্লিজ এমন করো না " (কাদতেঁ কাদতেঁ বলল) বুশরার এই কান্না মুখ দেখে আমার খুব মায়া হচ্ছে বুশরাকে ভালবাসতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু কেনো যেনো কিসের এক বাধা পাচ্ছিলাম। তাই আমি বুশরাকে কিছু না বলেই ওখান থেকে চলে এলাম। শুধু একবার পেছনে চেয়ে দেখি বুশরা খুব কান্না করছে। এভাবে বুশরাকে একা রেখে সেদিন চলে আসলাম। আমি রাতে বিছানায় শুয়ে আছি, কিন্তু কেন যেন ঘুম আসছে না শুধু বুশরার ওই কান্না ঘেরা মুখটা চোখের সামনে আসছে, কিছুতেই মন থেকে সরাতে পারছি না। সত্যি বলতে আমার মনেও বুশরা জন্য ভালবাসা জেগে ওঠলো। তাই মুহূর্তেই ভুলে গেলাম আগের সেই দিন গুলোর কথা। আর সেই অপমানের কথা। এখন এসব আর মনে করে লাভ কি? তাই সবকিছু ভুলে গেলাম। তারপর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে, কালকে বুশরাকে আর ফিরিয়ে দেবো না, বুশরাকেও বলবো ভালবাসি। কিন্তু তারপরের দিন কলেজে গিয়ে আমি বুশরাকে অনেক খুজলাম কিন্তু পেলামনা। তাই আর থাকতে না পেরে বুশরার এক বান্ধবীর কাছ থেকে নাম্বার নিয়ে কল তাকে দিলাম, আমি : হ্যালো, বুশরা কই তুমি? বুশরার মা : আমি বুশরার মা বলছি, তুমি কে বাবা? (কান্না জড়িত কন্ঠে) আমি : আমি হৃদয়। আন্টি বুশরা কই গেছে? বুশরার মা : ও এখন হাসপাতালে! আমি : নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারলাম না!! তারপরেও বললাম, কেনো আন্টি কি হইছে ওর? বুশরার মা : তুমি না বলে দেওয়ার কারণে সুসাইড করতে গেছিলো। আমি একথা শুনেই তাড়াতাড়ি হাসপাতালের নাম টা জেনে দিলাম দৌড় হাসপাতালের দিকে। হাসপাতালে গিয়ে দেখি বুশরার মা বাবা ভেতরে বসে আছে। আমি যাওয়া মাত্রই তারা বাইরে চলে গেলেন। আমি তখন দেখলাম বুশরা কিছুটা সুস্থ হয়েছে, তাই আমি বুশরার সাথে কথা বলতে গেলাম। আমি : এমন কেন করলে তুমি? বুশরা : আমি মরলেই তাতে কার কি? আমি : আমার অনেক কিছু! বুশরা : তোমার কি অনেক কিছু? আমি : তা ঠিক জানি না, কিন্তু আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি। বুশরা : আমি তোমাকে ভালবাসি না। আর তুমি আমাকে ভালবাসলে আমাকে এতো কষ্ট দিতে পারতে না। আমি : বেশ করছি কষ্ট দিছি, তুমি আমাকে নিয়ে মজা করছো কেন? বুশরা : ওহ্, তাহলে প্রতিশোধ নিলা! আমি : এই না না ওরকম ভেবোনা। বুশরা : তাহলে এত কষ্ট দিছো কেন? আমি : আমার মনে তোমাকে জায়গা দিতে একটু সময় হইছে তো তাই। তুমি হয়তো সেই সময়ে কষ্ট পাইছো! তখন বুশরা চুপ করে আছে। আমি : কি হলো কিছু বলো না কেন? বুশরা : কি বলব? আমি : এক বার ভালবাসি বল না প্লিজ! বুশরা : আমি তোমাকে ভালবাসি না। আমি : মন খারাপের মোড নিয়ে বললাম, ওহ্ আমি তাইলে বেশি দেরী করে ফেলেছি তোমাকে ভালবাসতে। ভালো থেকো আসি, (এই বলে আমি চলে আসছিলাম) বুশরা : হঠাৎ কান্না সুরে বললো, ওই হারামি কুত্তা!! তুই আমার কাছ থেকে দূরে যাবি তো, তকে মেরে আমার পাশের বেডে শুইয়ে দেবো!! এই বলে দৌড়ে এসে আমার বুকে ঝাপিয়ে পড়ল। ইসসস তখন দেখলাম রুমের দরজা টা খোলা। আর বুশরার মা এগুলো দেখে বাইরে থেকে শুধু মিটিমিটি হাসছেন, উফফফ তখন আমি লজ্জায় মাথাটা নিচু করে ফেললাম। . আহারে তখন আমার একটা গান মনে পড়ল: . এই ফাগুনি পূর্ণিমা রাতে চল পলায়ে যাই। দূর দেশে যাব রে বাসা বানাবো রে থাকবো আমরা দুজনায়, চল পলায়ে যাই। এই ফাগুনি পূর্ণিমা রাতে চল পলায়ে যাই। {সমাপ্ত}


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now