বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
# বাবা_মা (অনুগল্প)
লেখক: Emon khan ( emon)
,
সারাদিন রিক্সা চালিয়ে বাসায় ফিরলেন রহিম মিয়া।
বাসাটা একটা ছোট বস্তিতে টিনে মোড়ানোর তৈরি। কাঁদা মাখানো দেয়ালটা নুয়ে পরে আছে ।
সারাদিনের কান্তি নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন রহিম মিয়া।
- বউ দরাজা খুলো।
- কি হয়েছে আপনার।
- তেমন কিছু না শরীরটা একটু খারাপ লাগছে। তুমি তাড়া তাড়ি ভাত দাও।
- দিচ্ছি আপনি হাত মুখ ধুয়ে আসেন।
আমি আপনার জন্য গরম পানি নিয়ে আসছি।
রহিম মিয়া হাত মুখ ধুয়ার জন্য চলে গেলেন।
- বউ তুমি কি খেয়েছো।
- না আপনার জন্য অপেক্ষা করছি।
- ঠিক আছে চলো একসাথে দুইজন মিলে খাই।
আমাদের কপাঁলে মনে হয় আর সুখ লেখা নাই। ( রহিম)
- আপনি আবার চিন্তা করছেন কেন?
যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন আর চিন্তা করে লাভ কি? ( নাসিমা)
-আমার আজ কোন দুঃখ নেই। সব দুঃখ সে দিন শেষ হয়ে গেছে।
আজ আমার বয়স হয়ে গেছে। এখন আমরা সুখে থাকতে চেয়েছিলাম।
- আপনি শুধুশুধু চিন্তা করছেন।( নাসিমা)
-আমি আমার জন্য চিন্তা করছি না।
চিন্তা হচ্ছে তোমার জন্য।
প্রতিটি বাবা মা চায় ছেলের সুখ দেখতে।
আজ সেই ছেলে আমাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।
-...........।
-তুমিতো জানো নাসিমা আমাদের বিয়ের পর যখন আমাদের ছেলে জন্ম নিলো।
সেই সময় আমরা কত খুশি হয়ে ছিলাম। ধীরে ধীরে ছেলেটাকে মানুষ করার জন্য আমরা দিন রাত পরিশ্রম করতাম।
,
ছেলেটাকে লেখা পড়া শিখিয়ে বড় একজন চাকুরীজীবী বানিয়েছি।
ভেবেছিলাম ছেলেটা মানুষ হয়েছে
কিন্তু সেটা ছিল আমাদের ভুল ধারনা।
ছেলেটা বিয়ে করেছে প্রেম করে।
তার পরে ও আমাদের কোন আপত্তি ছিল না। বেশ কিছু দিন ভালোই ছিলাম।
কিছু দিন পর শুরু হয় সংসারে অশান্তি।
আমি তখনো চুঁপ ছিলাম।
কোন কথা বলতাম না মুখ বুঝে মেনে নিয়েছি সব কিছু। বড় লোকের মেয়েকে বিয়ে করেছে। এখন সে কেনা গোলাম।
সামান্য নুন ভাতের আশা আমাদের কপাঁলে জুটলো না।
বাজার থেকে যখন বড় মাছ আনতাম মাছের মাথাটা নিজে না খেয়ে ছেলেটাকে দিয়ে দিতাম।
আজ আমরা একটা কাঁপড় প্রতিদিন ব্যবহার করছি।
নিজে না পরে ছেলেটাকে প্রতি মাসে একটা হলেও কাপড় কিনে দিয়েছি।
আজ সে টাকার অন্ধ। হয়তো একদিন নিজের ভুলটা বুঝতে পারবে।
তখন হয়তো সেই সময় পৃথিবীতে বেছে থাকবো না।
,
-তুমি কি জানো আজ আমি কেন বেশি কষ্ট পাচ্ছি।
- না কি হয়েছে ( নাসিমা)
- আজ আমি সেই রিক্সার চালক ছিলাম।
আমার ছেলে আর ছেলের বউ দুইজন ছিল প্যাসেঞ্জার।
আজ আমার রিক্সা ভাড়া ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা হয়ে গেছে।
আমি বার বার তাকিয়ে ছিলাম মুখের দিকে।
এই যে ৫০ টাকার নোট আমি যত্ন করে রেখে দিয়েছি।
,
বি:দ্র: পৃথিবীতে হাজারো ছেলে সন্তান আছে যারা বাবা মাকে কষ্ট দেয়।
একসময় হয়তো নিজের ভুলটা বুঝতে পারে।কিন্তু তখন দেরি হয়ে যায়। তাই আমরা কেও বাবা-মাকে কষ্ট দিব না।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now