বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নাস্তা বানানো শেষ। টেবিলে আমি আর ইরা খেতে বসলাম।
ইরাঃ - নাস্তা কেমন হলো?
আমিঃ - ভালো।
ইরাঃ - শুধু ভালো। এটা হওয়ারই কথা। আমি একা নাস্তা তৈরি করলে আরো ভালো হতো।
আমিঃ - এই যে, আমি সাহায্য করায় শুধু ভালোটাই হয়েছে।
না হয় তোমার মতোই খারাপ আর বজ্জাত হতো।
ইরাঃ - এই এই আমি খারাপ, বজ্জাত থাকবো আর তর সাথে।( বলে উঠে চলে যাতে চাচ্ছিলো) আমি ইরার হাত ধরে ফেললাম।
আমিঃ - আরে আরে কি করো? তুমি না আমার লক্ষি বউ প্লিজ যেয়োনা।
ইরাঃ - চুপ!! কিসের বউ।
আমিঃ - আচ্ছা যাও, আর বউ ডাকবো না। আন্টি ডাকবো।
ইরাঃ - কি! আমার মাথা গরম
করবি না বলে দিলুম।
আমিঃ - আমি আবার কি করলাম?
ইরাঃ - আমাকে দেখে কি তোর আন্টি মনে হয়। ( রেগে গিয়ে)
আমিঃ - লাগে তো বাড়িওয়ালী আন্টির মতো লাগে।
ইরাঃ - কি!! এতো বড়ো সাহস। আমি ঐ বাড়িওয়ালী বুড়ি পেত্নিটার মতো। ( লাল গুলুগুলু হয়ে)
আমিঃ- হ্যা, তোমাকে ওরকমইতো লাগে।
ইরাঃ - কি!! ভ্যাএএ ভ্যাএএএ।
( জোড়ে জোড়ে কান্না আরম্ভ করলো) আমি কানে আঙুল চেপে বললাম,,
আমিঃ - আরে এতো জোরে চিৎকার করছো কেনো?
ইরাঃ - ভ্যাএএএ ভ্যাএএএ।
আমিঃ - আরে কি হলো কাদার কি হলো?
ইরাঃ - তুই একটা খবিস, গরু ছাগল,ভেড়া, খরগোশ। ব্লা ব্লা ব্লা। ( কাঁদতে কাদতে)
আমিঃ - ওও আর কি?
ইরাঃ - আর আর, তুমি বাড়িওয়ালা টাকলু। আসলে আমাদের বাড়িওয়ালা টাকলা।
আমিঃ - কি এতো বড়ো অপমান। আমি টাকলু। তুমি কি তুমি তো বাড়িওয়ালা পেত্নি।
ইরাঃ - বললেই হলো। অতঃপর ঝগড়া চলতে থাকলো ঝগড়া শেষে নাস্তা করলাম। নাস্তা করে আমি বিছানায় শুয়ে আছি।
ইরাঃ - কি তুমি অফিসে যাবে না।
আমিঃ - হ্যা যাবো তো।
ইরাঃ - তাহলে রেডি হচ্ছো না কেনো?
আমিঃ - এতো কেয়ার নিচ্ছো হচ্ছে সত্যি সত্যি আমি তোমার স্বামী।
।
ইরাঃ - স্বামী হলে না লাত্থি দিয়ে অফিসে পাঠাতাম। আবারও টাসকি। এটা মেয়ে না ধানী লঙ্কা। নিজের স্বামীকে লাত্থি দিয়ে অফিসে পাঠাবে। এরকম মেয়ে আমি জীবনে একটাও দেখি নি। কি ঝাঝ রে বাবা। একদম মহারানী ভিক্টোরীয়া। তবে কিউট বটে।
ইরাঃ - এই এই কি ভাবছো তাড়াতাড়ি রেডি হও। না হয় তোমাকেও লা। পরের টুকু বলার আগেই বললাম,
আমিঃ - না,না রেডি হচ্ছি। রুম থেকে বের হচ্ছি আর মনে মনে বলছি মহারাণী ভিক্টোরীয়া একটা।
ইরাঃ - কিছু বললে।
আমিতো টাস্কি। হায় হায় ওও শুনলো কি করে মনে হয় জোরে বলে ফেলছি।
আমিঃ - না না কই কিছু না তো?
ইরাঃ - হুম কিছু না থাকলেই হলো। যাও তাড়াতাড়ি রেডি হও। মনে মনে ইরার চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করে রেডি হলাম।
কিন্তু বিপত্তি ঘটলো আমিতো টাই বাধতে জানি না। এই যা এখম কি করি। আমি মন খারাপ করে রুমে গিয়ে বসে আছি। ইরা রুমে আসলো। ওও,রেডি হয়ে গেছে। বেশ সুন্দরই লাগছে। কোমড়ে হাত দিয়ে বলল,
।
ইরাঃ - তুমি এখানে বসে কি করো? চলো।
আমিঃ - তুমি যাও আমি পরে যাবো।
ইরাঃ -,পরে,মানে এখুনি চলো।
আমিঃ - আরে বললাম তো পরে যাবো।
ইরাঃ - আরে একসাথে না গেলে বাড়িওয়ালা - বাড়িওয়ালী সন্দেহ করবে।
আমিঃ - তাইতো আমিতো ভাবিনি।
ইরাঃ - আচ্ছা, এখনতো চলো।
আমি ইরার দিকে টাইটা বাড়িয়ে দিলাম।
ইরাঃ - কি হয়েছে?
আমিঃ - টাই বাধতে পারি না।
ইরাঃ - মানে তাহলে আগে বাধতে কি করে?
আমিঃ - আগে কখনোতো বাধি নি।
ইরাঃ - মানে।
আমিঃ - চাকরিটা তো নতুন। বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর বন্ধুর সাহায্য জয়েন নিলাম। আর কোনো অনুষ্টানে টাই বাধলে তো আম্মু, অথবা ছোট বোন বেধে দিতো আর বলতো!
ইরাঃ - কি বলতো?
আমিঃ - না কিছু না।
ইরাঃ - বলো।
আমিঃ - তোমার শোনার প্রয়োজন নেই।
ইরাঃ - বলবে নাকি।
আমিঃ - বলতো এভাবে আর কতদিন আমি বেধে দিবো একটা বিয়ে কর তারপর তর বউ বেধে দিবে। ইরার দিকে থাকিয়ে,দেখলাম চোখ লাল করে থাকিয়ে আছে।
।
আমিঃ - আরে আমি কি বললাম। তুমিইতো বলতে বললে।
ইরাঃ - আচ্ছা আচ্ছা এখন টাই বাধো আর চলো।
আমিঃ - আরে এতো সময় কি বকলাম।
ইরাঃ - মানে।
আমিঃ - টাই বাধতে পারি নাতো।
ইরাঃ - উফ! এদিকে দাও। আমি খুশিতে ইরার দিকে টাইটা এগিয়ে দিলাম।
ইরাঃ - কি হলো মাথা এতো উচু করছো কেনো?
আমিঃ - কই না তো। তুমিইতো নাগাল পাচ্ছো না। এক কাজ করো আমার পায়ের উপর উঠো। তারপর টাই বেধে দাও।
।
।
আউ। ও মাগো
।
।
ইরা হাসতে হাসতে বলল।
ইরাঃ - কি হলো?
আমিঃ - আরে তুমি আমার পায়ে। আমাকে কিছু বলতে না দিয়ে ইরা বলল,
ইরাঃ - এমা, তুমিই না বললে তোমার পায়ের উপর উঠে টাই বেধে দিতে।
আমিঃ - তাই বলে জুতো নিয়ে উঠবে নাকি। আআয়া,মা কি ব্যাথা।
ইরাঃ - তাহলে কিভাবে উঠবো।
( না জানার ভঙিতে বলল)
আমিঃ - কেনো তুমি জানো না নাকি?
ইরাঃ - নাতো জানি না।
আমিঃ - ন্যাকামি করো। উফ কি ব্যাথাটাই না পেলাম।
ইরাঃ - আরে সত্যি জানি না তো।
আমিঃ - তোমাকে জুতো খুলে খালি পায়ে উঠতে বলেছি।
ইরাঃ - ওও তাই বুজি। ( গুলগুলু কণ্ঠে।
আমিঃ - হুম্ম।
ইরাঃ - আরেকটা দিব নাকি মাথা নিচু করবে।
আমিঃ - না করছি করছি। না বাবা আগেই কি জোরে দিলো একটা। এখন আরেকটা দিলে আমি মরেই যাবো। ডাইনি মেয়ে।
।
ইরা আমার টাই টা বেধে দিচ্ছে। আমি ইরার দিকে থাকাচ্ছি না।
ইরাঃ - কি হলো রাগ করেছো?
আমিঃ -...........................নিশ্চুপ
ইরাঃ -,এই কি হলো?
আমিঃ - কিছু না।
ইরাঃ - বললে না তো।
আমিঃ - কি?
ইরাঃ - রাগ করেছো।
আমিঃ - না
ইরাঃ - তাহলে আমার দিকে থাকাচ্ছো না কেনো?আমি ইরার দিকে থাকিয়ে বললাম,
আমিঃ - এই থাকালাম।
ইরাঃ - খুব ব্যাথা লেগেছে।
আমিঃ - না।
ইরাঃ - মিথ্যে কথা।
আমিঃ -...........................নিশ্চুপ!!
ইরাঃ - কিভাবে রাগ ভাঙাবো?
আমিঃ - যা বলবো তাই দিবে।
ইরাঃ - হুম দিবো।
আমিঃ - একটা চুমু। ইরার অগ্নি দৃষ্টি ফিরে এলো। ইরা ততক্ষনে আমার টাই বেধে দিয়েছে।
ইরাঃ - চলো এখন। টাই বাধাতো শেষ।
আমিঃ - দিলে নাতো।ইরা জুতো পড়তে পড়তে বলল,
ইরাঃ - কি দিবো?
আমিঃ - ঐ যে ইয়ে।
ইরাঃ - ইয়েটা কি আবার অফিসের সময় হয়ে যাচ্ছে চলো যাওয়া যাক।
আমিঃ - আগে কিস দিবে তারপর যাবো।
ইরাঃ - রাগী দৃষ্টিতে থাকিয়ে বলল,, যাবে নাকি চলে যাবো।
আমিঃ - তুমি কিন্তু কথা দিয়েছিলে।
ইরাঃ - কি কথা দিয়েছিলাম।
আমিঃ - যা চাইবো তা দিবে।
ইরাঃ - কখন? ( অবাক হয়ে বলল)
আমিঃ - কখন মানে একটু আগেই না বললে।
ইরাঃ - ওও তখনতো বলেছইলাম যা চাইবে তা দিবো না।
আমিঃ - মিথ্যে কথা আমি শুনেছি তুমি বলেছো আমি যা চাইবো তা দিবে।
।
ইরাঃ - তুমি কি করে শুনবে।
আমিঃ - মানে!!
ইরাঃ - আমিতো মনে মনে না বলছিলাম।
আমিঃ - কি আমি মানি না। কথা যখন দিয়েছো তখন দিতেই হবে।
ইরাঃ - বুজেছি তুমি অফিসে যাবে না।
আমিঃ - আগে দাও।
ইরাঃ - চোখ বুজো। আমি খুশি হয়ে চোখ বুজলাম।
আমিঃ - বুজলাম। অতঃপর একটা শব্দ হলো কিসের শব্দ শুনতে চান? তাহলে পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now