বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
---------------+--------------
মামার কথামতো বিকেলে আমি মামার বাসায় গেলাম। খুব ভয়ে ছিলাম। কারন গতকাল নিশু ঝামেলা পাকিয়ে দিয়েছে। কে জানে, মামা আমাকে কি বলতে চান। তবে আমি সিওর যে মামা এমনে এমনে ডাকেনি। আমার ক্লাস নেয়ার জন্যই ডেকেছে।
দুরুদুরু বুকে মামার সামনে হাজির হলাম।
আমাকে বসতে বললেন। আমিও বাধ্য ছেলের মতো বসে পরলাম।
মামার ওই খটখটা চেহারা দেখে গলা শুকিয়ে আসছিলো। পাশেই গ্লাসে পানি রাখা ছিলো সেটা আমি ঢকঢক করে পুরোটা শেষ করলাম।
মামা বললেন কেমন আছো,,?
আমি --- জ্বী, মামা ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন,,?
মামা-- আলহামদুলিল্লাহ ভালো। নিশু তো তোমাকে অনেক ভালো বন্ধু ভাবে।
--- হুম মামা
--- আচ্ছা তুমি কি বলতে পারো, নিশু এমন পাগলামো কেন করছে,,,
না মানে বিয়ের কথা ও শুনতেই পায়না। আমার শরীর ইদানীং খুব একটা ভালো যাচ্ছেনা তাই ভাবছি ওকে ভালো পাত্রস্থ করে দেই।
--- নিশুকে নিয়ে এসব ভাবা বন্ধ করে দিন। আমি ওকে ভীষণ ভালোবাসি। আমি বেঁচে থাকতে নিশুর অন্য কোথাও বিয়ে হতে পারেনা। লাগলে ললিপপ এবং চুইংগামের ফ্যাক্টরি দিবো তবুও এমন হাজারটা বিয়ে ভেংগেই ছাড়বো। আর কি বললেন আপনার শরীরটা ভালো যাচ্ছেনা তাইনা,,আপনি সারাদিন শরীরকে আরাম দিন, নিশুর জন্য আমি আছি।
হে হে,,নিজেই নিজেকে বাহ্বা দিচ্ছি,, দেখছিস সোহম, তোর কত্তো সাহস বেড়েছে,,!!
মামার কথায় সম্বিৎ ফিরে পেলাম। তবে কি এতোক্ষণ আমি জেগে জেগে স্বপ্ন দেখছিলাম,,? তাই তো মনে হচ্ছে। মনে মনে কতোই না গর্বিত হয়েছিলাম এটা ভেবে যে, আমি এসব মামাকে বলেছি। ভাবলাম আমার সাহস বেড়েছে,,,,,,
মামা বললেন কি ভাবছো,,? কিছু বলছনা যে,,
--- না মামা, এসব বিষয়ে তো নিশু আমাকে কিছু বলেনি। তবে আপনি বললেন তো, এখন ওকে বলে দেখবো ও কাউকে পছন্দ করে কিনা,,
--- পছন্দ করে মানে,,??
--- জিভে কামড় দিলাম। এটা কি বলে ফেললাম আমি। আমি মামাকে বললাম আসলে আমি বলতে চেয়েছিলাম ও কেমন ছেলেকে লাইফ পার্টনার হিসেবে চায়,,,,
--- হু ঠিক বলেছো।এটা শুনিয়ে আমাকে জানাবে। আর শোনো, রাতে খেয়ে যেও।
ওখান থেকে বের হয়ে বুঝি নতুন করে জীবন ফিরে পেলাম।
আমি তাড়াতাড়ি নিশুর রুমে এলাম।এসে ওর কাণ্ডকারখানা দেখে অবাক না হয়ে পারলাম না।
ও একটা স্কেল দিয়ে সজোরে নিজের পা পিটাচ্ছে।
আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম কি করছিস এসব,,
--- পিটনা দিচ্ছি,,দেখতে পাচ্ছিস না,,,,
--- হু সেটা তো দেখতেই পাচ্ছি। কিন্তু কেনো,,
--- পা প্রচণ্ড ব্যথা করছে।
--- প্যারাসিটামল এ জাতিয় কিছু খেয়েছিস কি,,?
--- না,,
--- কেনো খাসনি হু,,,
--- তুই কাল ওভাবে গেলি কেনো,,তুই জানিস কাল সবাই আমার ক্লাস নিয়েছে। তার মধ্যে তোর মা অনেক বেশি,,, সুযোগ বুঝে একদিন তোর মায়ের ও ক্লাস নিবো,,,।
--- বাদ দে ওসব কথা। তোর বিয়েটা ভেঙেছে এতেই আমি অনেক হ্যাপি।তুই খুশি হসনি,,,
--- অনেক,,,
--- আচ্ছা তোর লাইফ নিয়ে কি ভাবছিস,,,
--- আপাতত কিছুনা,,তবে তোর বউ হবো,, কি রে সোম,, বউ বানাবিনা আমাকে,,?
--- ফাষ্ট তুই আমার নামটা ঠিক করে বলবি। আর তোকে বিয়ে করে "আলুতানির ললিপপ" খাওয়ার ইচ্ছা নেই আমার।
--- আরে তোকে কি তখন এসব খাওয়াবো নাকি,,,,
আচ্ছা বাদ দে,,,তোকে আমার একটা হেল্প করতে হবে,,করবি কি,,?
--- আবারো ললিপপ কিংবা চুইংগাম লাগবে নাকি,,?
--- আরে ছাগল, না,,।
আসলে আমি একজনকে খুবই ভালোবাসি। সেও আমাকে অনেক ভালোবাসে। কিন্তু এখন সমস্যা হলো আমার ফ্যামিলি।
ও নিম্নমধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান।এটা আব্বু মেনে নিতে চাবেনা। ওর নাম হিমেল। এবার অনার্স ফাইনাল ইয়ারে আছে। আমাদের কলেজেই পড়ে। এখন তোর কাজ হলো আব্বুকে মানানো,,,
নিশু ওর গতিতে এসব বলেই চলছে।ওর কথা শোনার পর মনে হচ্ছে আমার পায়ের তলা থেকে ক্রমশ মাটি সরে যাচ্ছে। মনের মধ্যে ঝড় উঠে গেলো,, আমার পা দুটি কাঁপছিল, ধপাস করে বিছানায় বসে পরলাম। হাজার চেষ্টা করেও চোখের জল সংবরণ করতে পেলাম না।
এতোদিন বুঝেছি ওকে আমি অনেক ভালোবাসি কিন্তু ভালোবাসার মানেটা কি, সেটা আজ বুঝলাম।
নিশু কাছে এসে আমার চোখে হাত দিয়ে বলছে, কিরে ফাট্টু,,তুই কাঁদছিস,,?
আসলে তোর মতো মানুষকে সারাজীবন কেঁদেই কাটাতে হবে। তুই একটা বলদ,, নইকে কি ভালোবাসি কথাটি বলতে ভয় পাস,,
ওই হারামি তুই যে আমাকে ভালোবাসিস সেটা আমি বুঝতে পারি, কিন্তু আমার ভালোবাসাটা তোর চোখে পড়েনা,,?
পড়বে পড়বে,, যেদিন সত্যিই অন্যের হয়ে যাবো,,,,সেদিন দেখতে পাবি আমি তোকে কতোটা ভালোবাসি,,,
বাসর রাতে গলায় দড়ি দিয়ে শ্বশুরবাড়িতে মরবো।
নিশুর কথা কিছুই বুঝতে পারছিনা। যেসব শুনছি সেসব কি সত্যিই নাকি স্বপ্ন,,,, কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। কেন জানি কথা বলতে পারছি না। হতভম্বের মতো ওর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি।
মুখে পানি অনুভব করলাম। নিশু পাগলী এক গ্লাস পানি সবটাই আমার মাথায় ঢেলে দিয়েছে।
সম্বিৎ ফিরে পেলাম। যেসব শুনলাম সব সত্যি। শুধু নিশুর বানানো গল্পটি বাদ দিয়ে। দুষ্টু মেয়ে একটি। আমার হার্ট ব্লক হতে ধরেছিলো।
নিশু হিহি করে হাসছে। সত্যিই ওর হাসিতে এক ধরনের মায়া আছে। যে মায়ায় আমি ক্রমশ ডুবে যাচ্ছি।
আমি নিশুর হাত টি খপ করে ধরলাম। মুহুর্তেই ওর হাসিমাখা মুখ রুপ পরিবর্তন করলো। লজ্জায় মাথা নত করে রেখেছে। আসলে মেয়েদের এমন লজ্জা তাদের অলংকার। এ লজ্জা না থাকলে হয়তো তাদের কে মেয়ে হিসেবে মানাতো না। হয়তোবা জীবনানন্দের কবিতা পূর্নতা পেতো না।
যাই হোক, এখন কবি হতে চাইনা। নিশু যে আমার ফিলিংসটার কদর করেছে এর চেয়ে বেশি কিছু চাই না।
খুব আনন্দ লাগছে। মনে হচ্ছে আমার আনন্দে আকাশ বাতাস ও গান গাইছে,,,
আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে,,,,,,,,,
তারপর,,,,,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now