বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বাসর--৭

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X তানভীর মার্জানা প্রিতি এক গ্লাস পানি মেরে জিহানের ঘুম ভাঙ্গালো।। জিহান:- এইটা কি হইলো এতোদিন পরে?? প্রিতি:- তো কি হইছে এতো দিন পরে কি মারা যাই না?? হঠাৎ আগের দিনের কথাগুলা মনে পড়ে গেছে তাই ভাবলাম আগের কথাগুলো একটু তাজা করি।। জিহান প্রিতিকে টানে বুকে নিলো।। জিহান:- এই ১বছরে কতোকিছু বদলে গেছে তাইনা?? আমি আপনি থেকে তুমি হয়ে গেলাম।। প্রিতি:- আসলেই।। তোমার কাছে এসেছি আমি অনেক।। তোমার ভালবাসা পেয়েছি।। প্রিতি জিহানকে একটা আদর করে দিলো।। ঠোট ২টা একসাথে।। ???????? জিহান রেডি হয়ে নিচে এসে নাস্তা করে নিলো।। জিহান:- আচ্ছা আমি এখন যাই।। প্রিতি:- হুম যাও।। সাবধানে যেও।। প্রিতি রান্নাঘরে কাজ করতেছিলো হঠাৎ কেমন জানি খারাপ লাগছিলো তার বোমি বোমি লাগছিলো।। প্রিতি দৌড় দিয়ে বাথরুমের দিকে গেলো।। ফেসবুকে একটা গার্লস গ্রুপে পোস্ট করলো যে হঠাৎ বুমি হলে কি করবে?? সবাই তাকে টেস্ট স্টিক দিয়ে পরীক্ষা করতে বললো।। সে সাথে সাথে ফার্মেসী থেকে একটা টেস্ট স্টিক কিনে এনে পরীক্ষা করলো।। ৩বার পরীক্ষা করছে ৩বারই পজেটিভ।।???????????? প্রিতি প্রেগন্যান্ট!!!! ???????? সে খুশিতে ফোনটা হাতে নিলো জিহানকে কল দেওয়ার জন্য কিন্তু দিলো না।। প্রিতি মনে মনে:- এই খবর আমি কেবল ফোন করে জানাবো না।। কিছু একটা করতে হবে আমার।। সে টেস্ট স্টিকগুলো বাথরুমের আয়নার পিছনে লুকায় রাখছে।। প্রিতি নিচে গিয়ে মাকে বলতে চাইলো কিন্তু তার লজ্জা লাগছে ???????? প্রিতি:- মা একটা কথা বলি?? মা:- হে মা বলো।। প্রিতি:- আমি............. প্রেগগগগ মা:- কি হইছে বলে ফেলো।। প্রিতি:- না মা কিছুনা।। পেয়াজটা দেন।। প্রিতি মনে মনে:- উফফফ!! কোনো কাজের না আমি।।???????? সন্ধ্যা হয়ে গেছে।। প্রিতি কি করবে ভাবতে লাগলো।। তারপর অনেক ফুল নিয়ে এলো।। তার পুরা রুম সে ফুল দিয়ে সাজিয়ে দিলো।। মোমবাতি দিলো অনেক।। তারপর আলমারিতে শাড়ি খুজতে লাগলো।। তার এক আলমারি শাড়ি কিন্তু একটাও পছন্দ হচ্ছে না।???????? তারপর জিহানের আলমারিতেও তার কিছু কাপড় আছে সে ওইখানে খুজতে লাগলো।। হঠাৎ তার চোখ আটকায় যায় একটা নিল শাড়ির উপর।। কি সুন্দর শাড়িটা।। নিলের উপর সাদা ফুলের কাজ করা।। প্রিতি:- হয়তো এইটা জিহান আমার জন্য এনেছিলো আর দিতে ভূলে গেছে।। তাকে এইটা পড়ে সারপ্রাইজ দিবো।। প্রিতি ওই শাড়িটা পড়লো।। রাত ৮টা বাজে প্রিতি খুব সুন্দর করে সেজেছে আজকে।। এই কথা সে মুখে বলতে পারবেনা তাই সে একটা চিঠি লিখে " আমি মা হতে চলেছি আর তুমি বাবা।। আর হে ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটা শাড়ি আমাকে উপহার দেওয়ার জন্য" লিখে ড্রয়ানে রেখে দিলো।। জিহান তাকালে তো চোখ ফেরাতে পারবেনা।। দরজা দিয়ে জিহান ডুকলো।। প্রিতি গিয়ে জড়ায় ধরলো জিহানকে কিন্তু জিহান প্রিতিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো।। জিহান:- তুই এই শাড়ি কোথায় পেলি?? ???????? প্রিতি:- কি হয়েছে তোমার?? এমন করছো কেনো?? জিহান:- এই শাড়ি কেনো ধরচছ তুই?? তোরে নে মানা করছিলাম আমার জিনিসে হাত না দিতে??? কেনো ধরছিস তুই?? প্রিতির হাত ধরে টান দিলো জিহান।। জিহান:- আই!! আজকে তোর শেষ দিন এই বাসায়।। প্রিতি:- জিহান আমার কথাটা শুনো।। তোমাকে আমার কিছু বলার আছে।। জিহান প্লিজ আমার কথা শুনো।।( এইভাবে চিৎকার করছিলো প্রিতি ) জিহান তাকে টানতে টানতে নিচে নিয়ে গেলো।। তার গায়ে সবাই মিনুর শাড়ি দেখতে পেলো।। মা:- জি হয়েছে প্রিতিকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছিস?? জিহান:- কেউ কথা বলবেনা।। সাফা:- ভাইয়া ছেড়ে দে ভাবীকে।। ভাবী জানে না কিছু। জিহান কারো কথা শোনেনা।। সে প্রিতিকে টানতে টানতে নিয়ে গেলো বাড়ির দরজায়।। তারপর তাকে ধাক্কা দিলো দরজার বাইরে।। জিহান:- তুইও আমাকে ধোকা দিতে বসে আছস??? যা আর কোনদিন চেহারা দেখাবিনা।। প্রিতি:-জিহান প্লিজ একবার শোনো আমার কথা।।???????? জিহান:- না।। চোখের সামনে থেকে দূর হো তুই।। জিহান প্রিতির মুখের উপর দরজাটা বন্ধ করে দিলো।। প্রিতি দরজা বন্ধ করার সময় :- জিহান জিহান প্লিজ আমার কথা একবার শোনো প্লিজ জিহান প্লিজ।। আমি কোথায় যাবো?? আমি এখানে কাউকে চিনিনা।। জিহান প্লিজ আমার কথা শোনো।। বন্ধ করার পর প্রিতি:- চলে যাচ্ছি জিহান চলে যাচ্ছি।। জিহান:- তুই জাহান্নামে যা।। আমার কি?? যা চলে যা।। জিহান ওইখান থেকে রেগেমেগে রুমের দিকে যাচ্ছিলো তখন মা:- মেয়েটা কোথায় যাবে জিহান?? এইটা কি করতেছিস তই?? জিহান:- কেউ যেন দরজা না খুলে।। এই মেয়ের জায়গা নাই এই ঘরে। কেউ আর সাহস করলো না দরজা খুলার।। সবার চোখে পানি।। জিহান রুমে পা রাখতেই দেখলো যে পুরা রুম ফুল দিয়ে সাজানো।। গোলাপের গন্ধে পুরা রুমের জিনিস যেনো নাচানাচি করছে।। মোমবাতি দিয়ে আলোকিত এই ঘর।। ???????? জিহানের মনে হচ্ছিলো সে কোথাও একটা ভুল করছে।। সব ফুল সে ছিড়ে দিলো।। কিছুক্ষন পর কি মনে করে জানি সে নিচে গেলো।। সবাই বসে আছে।। কেউ কথা বলার মুডে নাই।। জিহান এসে দরজাটা খুললো আর সবাই সাথে সাথে দরজার দিকে মুখ করলো।। কিন্তু না।। প্রিতি নেয়।। সে চলে গেছে।। জিহান দরজা বন্ধ করবে ওই সময় একটা কাগজ দেখলো মাটিতে।। "জিহান একদিন খুজবে তুমি আমাকে কিন্তু।।। আফসোস!! পাবেনা।। আমার দুষ নেয় জিহান।। আমি ভালবেসেছিলাম তোমাকে।। বলতে পারবা আমাকে?? আমি কি দুষ করেছি?? আজকে কেনো আমি এইসব করেছি ঘর সাজিয়েছি কেনো এই শাড়ি পরেছি এইগুলার কারন আর বলবো না আমি তোমাকে।। তুমি সেই অধিকার হারায় ফেলছো।। ভালো থেকো।। অনেক ভালোবাসি তোমাকে।। " জিহানের এই চিঠিটা পড়ে অনেক খারাপ লাগছিলো।। সে চিঠিটা নিয়ে রুমে চলে গেলো।। বিছানায় শুয়ে একটা সিগারেট ধরালো।। ধোয়ার সাথে সে ভাবছে আগের সব কথা।। তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।। প্রিতির কথা ভাবছে সে।। হঠাৎ তার কানে প্রিতির একটা কথা বেজে উঠলো " আমি কোথায় যাবো জিহান?? আমি এখানে কাউকে চিনিনা" তার চিন্তা আরো বেড়ে গেলো।। জিহান মনে মনে:- আমার কেনো মনে হচ্ছে আমি ভুল করছি কিছু?? ........... কেটে গেলো আরো একটা মাস।। জিহান একদম নিশ্চুপ হয়ে আছে।। কারো সাথে তেমন কথা বলে না।। খায় না ঠিক মতো।। ২৩মার্চ সকালে জিহান দাঁত ব্রাস করার জন্য পেস্ট খুজে পাচ্ছেনা।।। খুজতে খুজতে আয়নার পিছনের বক্সটার দিকে নজর গেলো।। ওখানে খুজার সময় সে টেস্ট স্টিকগুলো পেলো।। জিহান জানতো যে এইটা প্রেগন্যান্সি টেস্ট স্টিক।। কিন্তু সে বোঝতো না এইসব।। সে কেনো জানি এইটাকে গুরুত দিলো।। নিয়ে রেখে দিলো।। অফিসে যাওয়ার সময় সাথে করে নিয়ে গেলো।। আজকে অফিসে যাওয়ার পথে সে একটা ডাক্তারের কাছে গেলো। স্টিকগুলো দেখালো।। জিহান:- আচ্ছা এই স্টিকে কি আছে বলতে পারবেন?? ডাক্তার:- আমকে দিন জিহান ডাক্তারের হাতে স্টিকগুলো দিলো।। ডাক্তার একটু দেখে।। ডাক্তার:- আপনি বাবা হতে চলেছেন।। জিহানের মাথার উপর যেনো আকাশ ভেঙ্গে পড়লো।। এই স্টিক ওর বাথরুমে ছিলো মানে নিশ্চয় প্রিতির।। তার মানে প্রিতি প্রেগন্যান্ট ছিলো?? ডাক্তার:- কোথায় হারায় গেলেন?? জিহান:- না কিছু না। ধন্যবাদ।। ডাক্তার:- মিস্টি চাই।। জিহান:- অব্যশই।। জিহান হাসপাতাল থেকে বাসায় এলো।। জিহানের খুব খারাপ লাগছে আজ।। প্রিতিকে সে ভালোবেসে ফেলেছে তা সে তার না থাকায় বুঝতে পেরেছে।। প্রিতির না থাকায় সে খুব কেঁদেছে তার জন্য।। রাতে ঘুম হয় না তার।। খেতে ইচ্ছা করেনা।। আর এখন তো আরো খারাপ লাগছে।। তার পেটে বাচ্চা ছিলো তাও আবার তার নিজের তাকে সে কতোবার ধাক্কা দিয়েছে।। সে এখন কোথায় আছে কে জানে।। তাড়াতাড়ি তার ফোনে কল দিলো কিন্তু ফোন বন্ধ।। জিহানের চোখ ভিজে যাচ্ছিলো।। সে তাড়াতাড়ি বাসায় চলে এলো।। তারপর প্রিতির বাবার ফোনে কল দিলো।। ফোন রিসিভ করতেই।। জিহানকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে বাবা:- আরে জামাই তুমি?? অনেক দিন পর।। কেমন আছ?? প্রিতি মা কেমন আছে?? অনেকদিন তার কোন ফোন পাচ্ছিনা আমি।। কল দিলে বলে বন্ধ।। কথাগুলো শোনে জিহান আর কথা বলতে পারেনা। জিহান:- আমি আপনাকে পরে ফোন দিবো বলে জিহান কল কেটে দিলো।। বাবার কথা শোনে বুঝা যাচ্ছে যে প্রিতি ওইখানে যায় নি।। তাহলে কোথায় গেছে?? এখন কোথায় খুঁজবো আমি ওকে?? জিহান:- প্রিতিইইইইইইইইইইই!!!???????? কিন্তু আজ প্রিতির কোন সাড়া নেয়।। আর আজ জিহানের এই ডাক আগের মতো রাগের না অভিমানেরও না কেবল আফসোসের।। ????????


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now