বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দিন যেতে লাগলো । আমি চোখ কান বুঝে কাজ করতে লাগলাম । তখন মাস দুয়েক কেটে গেছে । নুশরাতের সাথে আমার আর দেখা হয়েছে বেশ কয়েকবারই । আমি ওকে দেখেও না দেখার মত করে সামনে দিয়ে চলে এসেছি । ওকে দেখলেি বুকের ভেতরে কেমন একটা কষ্ট শুরু হত । একবার তো দেখি একটা হ্যান্ডসাম তো ছেলের সাথে ও আমাদের অফিসে এসেছে । সম্ভবত ওর সাথেই নুশরাতের বিয়ে হতে যাচ্ছে । এটা দেখে বুকের ভেতরের জ্বলুনিটা আরও যেন একটু বেড়ে গেল । নিজেকে কেবল বোঝালাম যে কিছুই করার নেই । আর যে জিনিস নিজের হাতে নেই সেটার জন্য মন খারাপ করে লাভ কি !
আজকেও আমি অফিসেই কাজ করছিলাম । অফিস ছুটির সময় পার হয়ে গেছে অনেক আগেই । আমি একটা কাজ করছিলাম বলে বের হতে পারি নি । অনেকেই চলে গেছে । আমি কাজ শেষ করলাম তখন সাড়ে সাতটা বেজে গেছে । গত কয়েকদিন ধরেই এমন ভাবেই কাজ করছিলাম । যাতে শরীর বেশি ক্লান্ত থাকে বাসায় গেলেই ঘুমিয়ে পড়া যায় । আমি বের হতে যাবো তখনই বড় স্যার মানে নুশরাতের বাবার ফোন এল আমার ফোনে !
আমি সালাম দিলাম ।
-তুমি কি এখনও অফিসে ?
-জি স্যার । বের হব ।
-আচ্ছা । ড্রাইভার যাচ্ছে । ওর সাথে করে চলে এসো । কেমন ...
আমাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ফোন কেটে দিল । অফিস থেকে বের হতেই দেখলাম আমার জন্য গাড়ি দাড়িয়ে । আমি কোন কথা না বলে গাড়িতে উঠে বসলাম । কোথায় যাচ্ছে গাড়ি সেটা অবশ্য আমার কোন ধারনা নেই ।
যখন গাড়ি থামলো তাকিয়ে দেখি এটা নুশরাতদের বাসা !
এখানে কেন ?
একটা প্রশ্ন মনের ভেতরে ঘুরপাক খেতে লাগলো ।
আমি আস্তে আস্তে বাসার ভেতরে ঢুকতে লাগলাম । বাড়ির পরিবেশ কেন জানি আমার ঠিক মনে হল না । সব থেকে বড় কথা বাসাতে অনেক মানুষ জন দেখতে পাচ্ছি । মনে হল যে কোন অনুষ্ঠান !
কিসের অনুষ্ঠান ?
বিয়ে নাকি বাগদান ?
বাগদানের অনুষ্ঠানই হবে হয়তো । বিয়ে হলে অফিসের সবাই জানতে পারতো নিশ্চয়ই । আমি বড় হল রুমের ভেতরে ঢুকতেই সব কটা চোখ আমার দিকে ঘুরে গেল, যেন ওরা জানতো আমি আসতেছি । আমি খানিকটা বিব্রত ভাব নিয়ে ভাবতে লাগলাম কোন দিকে যাবো এখন ? আসলে আমার কাছে কিছুই স্বাভাবিক লাগছে না । আমি এখানে কেন ?
তখনই নুশরাতের বাবাকে দেখতে পেলাম । আমার হাত ধরে নিয়ে উনি সবার মাঝখান দিয়ে আমাকে একটা ঘরের দিকে নিয়ে গেল । নুশরাতের রুম এটা । আমি আগেও এখানে এসেছি । তাকিয়ে দেখি সেখানে নুশরাত মাথা নিচু করে বসে আছে ।
একটু কি কাঁদছে ?
পাশে সেদিনের সেই হ্যান্ডসাম ছেলেটা ।
তাহলে বাগদানের অনুষ্ঠানই হচ্ছে ।
কিন্তু আমি এখানে কেন ?
আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না তো ! আমিও চুপ করে দাড়িয়ে রইলাম । দেখলাম সেই হ্যান্ডসাম মত ছেলেটা আমার দিকে এগিয়ে এল । আমার হাত ধরে হ্যান্ড শেখ করে বলল
-আমি ফারাজ ।
আমি আমার নাম বললাম । আমি তখনও বুঝতে পারছি না আমার এখানে কি কাজ !
নুশরাতের বাবা বলল
-কনফিউজ হচ্ছো ?
-জি স্যার । আমি কিছু বুঝতে পারছি না ।
-আসলে ....
এবার ফারাজ সাহেব বলতে শুরু করলো
-আসলে তোমার সাথে আমরা সবাই মিলেই একটা খেলা করেছি, আমাদের যে কাজটা করা ঠিক হয় নি ।
আমি কিছু না বলে চুপ করে রইলাম ।
ফারাজ সাহেব বলল
-কিন্তু সমস্যা হচ্ছে নুশরাত খেলাটা ঠিক মত খেলতে পারে নি । মন বড় অদ্ভুদ জিনিস অপু সাহেব । তাই না ?
-জি ! কিন্তু আমার এখানে কি কাজ আমি এখনও বুঝতে পারছি না ।
-আরে মশাই আপনারই আসল কাজ । আপনি কি এখনও বুঝতে পারছেন না যে নুশরাত আপনার সাথে যে খেলাটা শুরু করেছিলো সেটাতে আপনি যেমন জড়িয়ে গেছেন, চাইলেই বের হতে পারছেন না, একটু পরে হলেও নুশরাত নিজেও বুঝতে পেরেছে যে ও নিজেও বের হতে পারছে না ।
আমি নুশরাতের দিকে তাকালাম ।
ফারাজ বলল
-আমি আঙ্কেলকে অনেক কষ্টে রাজি করিয়েছি । শী ইজ ওল ইয়োর্স নাও !
আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম ফারাজ সাহেবের মুখের দিকে । নুশরাত তখনও মাথা নিচু করেও বসে আছে । কাঁদছে সেটা আমি এখান থেকেই দেখতে পাচ্ছি ।
নুশরাতের বাবা বলল
-দুজন মিলে ঠিক করে নাও কি করবে । বাইরে মেহমানরা অপেক্ষা করছে ।
এই বলে দুজনই ঘর থেকে বের হয়ে গেল । আমি বোকার মত দাড়িয়ে রইলাম । কি হল এতো সময়ে আমার মাথায় ঢুকলো না । মাস দুয়েক আগে নুশরাত আমাকে যে বড় রকমের একটা ধাক্কা দিয়েছিল আজকেও আমি বড় রকমের একটা ধাক্কা খেলাম । এই মেয়েদের মন গুলো এরকম অদ্ভুদ হয় কেন ?
কেবল মেয়েদের মন বলছি কেন ? সবারই মনই অদ্ভুদ হয় ।
আমি আস্তে আস্তে হাটতে হাটতে ওর পাশে গিয়ে বসলাম । তারপর বললাম
-কি কাঁদতেই থাকবে ?
নুশরাত কোন কথা বলল না । তবে ওর কান্নার বেগ যেন বাড়তে লাগলো । আমি বললাম
-বেশি কান্না কাটি করলে চোখের কাজল নষ্ট হয়ে যাবে । লেপ্টে গিয়ে চেহারা খারাপ দেখাবে । তখন ? মানুষজন কি বলবে !
নুশরাত এবার আমার দিকে তাকালো । বলল
-আমি কাঁদছি সেটা নিয়ে চিন্তা নেই, আমার চোখের কাজল নিয়ে চিন্তা তোমার ?
-আরে বাবা তোমাকে নিয়েই তো চিন্তা । মানুষ তো তখন তোমার চেহারা নিয়েই কথা বলবে নাকি !
-এতো চিন্তা করতে হবে না । এটা ওয়াটারপ্রুফ কাজল ! কিভাবে তোমার প্রেমে পড়ে গেলাম আসলেই বুঝতে পারছি না !
পরিশিষ্ট
ঐদিনই বাগদান হয়েছিল আমাদের তবে বিয়ে হতে দেরি আছে । নুশরাতের ইচ্ছে আমার সাথে আরও কদিন প্রেম করুক । সত্যি সত্যি গল্পের মতই আমার দুজনের দেখা হওয়াটা ছিল । তারপর কিভাবে কিভাবে এক সাথে হলাম আমরা এখনও ভাবতে গেলে আমার ঠিক বিশ্বাস হয় না । স্বপ্নের মত মনে হয় ।
আরেকটা কথা বলতে ভুলে গেছি । শুরুতেই যে ২১ দিন নুশরাতের সাথে আমার দেখা হয় নি আসলে সেটা ভেতরকার অন্য কাহিনী ছিল । আমাদের অফিস থেকে বের হওয়ার চার টা রাস্তা ছিল । চার দিকে যাওয়া যেত । আমি অফিস শেষ করে একেক দিন একেক দিক দিয়ে যেতাম । আর নুশরাট দাড়িয়ে থাকতো অন্য দিকে । এমন অনেক কয়বার হয়েছে যে ও আমার জন্য দাড়িয়ে থাকতো এক রাস্তায় আমি চলে যেতাম অন্য রাস্তা দিয়ে । এই জন্যই আসলেই ২১টা দিন ওর সাথে আমার কোন দেখা হয় নি ।
নুশরাত বড় বিরক্ত নিয়ে এই গল্পটা করতো আমি হেসে কুল পেতাম না !
সত্যি সত্যি নুশরাত আমার জন্য খুব ভাল একটা বিজনেস ডিল ছিল । সেই ডিল যে জীবনের সাথে এভাবে মিলেমিসে একাকার হয়ে যাবে কে জানতো !
আমার লেখাতে বানান ভুল থাকবেই ।
কষ্ট করে পড়ার ধন্যবাদ ।
আর ভুল বানানের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।
দ্যা ইনড
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now