বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ইরা আমার রেগে যাওয়া দেখে ভয়ে বলল,
ইরাঃ - কাল যখন অফিস থেকে একা একা ফিরছিলাম।তখন কয়েকটি ছেলে আমাকে বাজে বাজে কথা বলেছে।আমার প্রচন্ড রাগ হলো। ঐ ছেলদের একদিন কি আমার একদিন। মাথা ঠান্ডা করলাম।
আমিঃ - এই জন্য তুমি অফিসে যাচ্ছো না।
ইরাঃ - মাথা নিচু করে বলল,হ্যা।
আমিঃ - তুমি না সাহসী মেয়ে তাহলে ভয় পাও কেনো?
ইরাঃ - আমাকে পচাচ্ছো।
আমিঃ - আরে না, না পচাবো কেনো?ইরা আর কিছু বলল না।
আমিঃ - এখন রেডি হও অফিসে যাবে।
ইরাঃ - ঐ ছেলেরা যদি আবার।
আমিঃ - আমি থাকতে ঐ ছেলেরা কিছু বলতেই পারবে না।
ইরাঃ - ওও আচ্ছা বডিগার্ড।
আমিঃ - কি!! আমি বডিগার্ড।
ইরাঃ - আরে না না তোমাকে বলিনি। আচ্ছা এখন আমি রেডি হই। রুম থেকে যাও।
আমিঃ - কেনো?? থাকলে কি কোনো অসুবিধা?ইরা চোখ বড় বড় করে বলল,
ইরাঃ - ফাইজলামি করবে না একদম।
আমিঃ - ওকে,ওকে যাচ্ছিরে বাবা। ইরা চারদিক থাকাচ্ছে।
আমিঃ - কি খুজছো?
ইরাঃ - তোমার বাবাকে।
আমিঃ - মানে!
ইরাঃ - আরে এই যে বললে,"যাচ্ছিরে বাবা " আমি হেসে ফেললাম। কি ফাজিল মেয়ে।
আমিঃ - আমি তোমাকে বলেছি।
ইরাঃ - আমি কি তোমার বাবা নাকি?
আমিঃ - ওকে, ওকে সরি বউ। এখন যাচ্ছি বউ।
ইরাঃ - আমি তোমার বউ.... আমি ইরার মুখ চেপে ধরলাম।
আমিঃ - হ্যা, তুমিতো আমার বউই। ইরাকে আর কিছু বলতে না দিয়ে চলে আসলাম।
বেশ কিছুক্ষণ পর। ইরা এখনো বের হলো না।
আমিঃ - ইরা হলো তোমার।
ইরাঃ - হ্যা,আসছি। কিছুক্ষণ পর ইরা বের হলো। হালকা সাজ। নীল রঙের ড্রেস। খুব সুন্দরই লাগছে।
ইরাঃ - চলো। আমি মাথা নাড়ালাম। রিক্সা করে যাচ্ছি প্রতিদিনই রিক্সা করে যাই। তবে মাঝখানে অবশ্য বর্ডারটা আছে। ঐ ব্যাগটা আমি হাতের কাছে পেলে ছিড়ে টুকরো টুকরো করবো। কিছু পথ যাওয়ার পর। রিক্সার চাকা পড়লো রাস্তার একটা গর্তে। অমনিই ইরার ধপাস। আরে নিচে পড়ে আমার বুকে। আমি কেপে উঠলাম। ইরার গরম নিশ্বাস আমার বুকে পড়ছিলো। আমি প্রতিটা নিশ্বাসে নিশ্বাসে কেপে উঠছিলাম। আমি আলতো করে আমার হাত ইরার মাথার লম্বা কেশে ছুইয়ে দিলাম। ইরা আমার দিকে থাকাতেই খানিক লজ্জা পেলো। তাড়াতাড়ি মাথা তুলে অন্য দিকে মুখ করে নিলো। আমিও আর কিছু বললাম না। অনেকটা পথ এগিয়ে গেছি ইরা কথা বলছে না।
আমিঃ - ইরা।
ইরাঃ - হুম।
আমিঃ - কোন ছেলেরা তোমাকে ডিস্টার্ব করেছিলো।
ইশাঃ - আরোও সামনে। সামনে যেতেই ইরা দুটো ছেলের দিকে ইঙিত করে বলল,
ইরাঃ - ঐতো ওরা। আমি রিক্সা থেকে নেমে ছেলেগুলা কাছে গেলাম।
আমিঃ - কি ভাই, আপনারা আমার বউয়ের সাথে ফাইজলামি করেন কেনো?
ছেলেগুলোঃ - কে আপনার বউ?
আমিঃ - ঐ যে,রিক্সায় দেখছেন একটা মেয়েকে।
একটা ছেলেঃ - আরে আপনার বউ আর বোন যাই হোক না কেনো?
আরেকটা ছেলে প্রথম ছেলেটাকে আঠকে দিয়ে বলল,
ছেলেটাঃ - মালটা কিন্তু যেমন সুন্দর তেমনি হেব্বি। আমি হাত মুটো করে রাখলাম। আমার মাথায় রক্ত ও হার্ট বিট বেড়ে গেছে। নিজকে ধমিয়ে রাখলাম। ভাবলাম ছেলেগুলোকে একটু বাজিয়ে নেই। তাদের সাথে একটু কমেডি করলে ভালোই হয়।
আমিঃ - আরে ভাই মালটা বাইরে ঠিকই সুন্দর কিন্তু। ছেলেগুলো আমার কথায় আশ্চর্য এর সপ্তম আকাশে চড়ে বসলো।
ছেলেগুলোঃ - কিন্তু কি? একই সুরে দুজনেই।আমি হাসি চেপে রাখলাম। ব্যাচারারা যে মুখ বানিয়েছে তাতে হাসারই কথা।
আমিঃ - আপনাদের বলার প্রয়োজন নেই।
ছেলেগুলোঃ -আরে মিয়া তাড়াতাড়ি বলেন।আমি কাদার ভঙিতে বলিলাম,
আমিঃ - না ভাই কি আর বলবো?
ছেলেগুলোঃ - আরে ভাই তাড়াতাড়ি বলেন আপনার পায়ে পড়ি।
আমিঃ - দাড়ান!। আমি একটু কেঁদে নেই। অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে আমি মুখ টিপে হাসি দিলাম।আবার তাদের দিকে ঘুরে।
আমিঃ - এটা মেয়ে না ভাই।
ছেলেগুলোঃ - হ্যা,তাহলে কি? দুজনেই একসাথে। হাসিতে আমার পেট ফেটা যাচ্ছে।
আমিঃ - পুরুষ ওও না। ছেলে গুলা শেষ। কেঁদে ফেলবো এমন অবস্থা।
ছেলগুলাঃ - তাহলে কি ভাই?
আমিঃ - হাফ মেয়ে, হাফ ছেলে।
ছেলেগুলোঃ - মানে হিজরা। আমি কেঁদে কেঁদে মাথা কাৎ করলাম। ছেলেগুলা কেঁদে দিলো।
একটা ছেলেঃ - ভাইয়া এমন একটা সুন্দরি মেয়ে।
আমিঃ - হ্যা,ভাই।
অন্য ছেলেঃ - সমস্যা নেই অন্য। আমি সাথে সাথে বললাম।
আমিঃ - ভাই মেয়েটা দূর ঐ আমার বউ থুক্কু হিজরাটার এইডস রোগ আছে।
দুজনেই ঃ - কি।।
আমিঃ - হ্যা। কেঁদে কেঁদে।
ছেলেগুলাঃ - তাহলে আপনি বিয়ে করলেন কেনো? এইতো গুড পয়েন্ট। ফেসে গেলাম। এখন কি বলি?
আমিঃ - ভাই বিয়ে করেছি কি শখে?
একটা ছেলঃ - মানে।
আমিঃ - মানে হলো ওর ভাই যার্ব। আর হাফ মেয়ে হাফ ছেলেদেরতো চিনেন গায়ে পড়ে স্বভাব। আর ঐ মেয়েটার আমাকেই পছন্দ করেছে। যার কারনে।। আমি বলার আগে একটা ছেলে বলল,
ছেলেটাঃ - যার কারনে ওর যার্ব ভাই আপনার সাথেই উনার বিয়ে দিয়েছেন জোর করে। আমি ইমোশনাল হয়ে ছেলেটাকে জরিয়ে ধরে বললাম,
আমিঃ,- হ্যা রে ভাই। তিন জনই কাঁদছি। আমার হাসিয়ে পেট ফেটে যাচ্ছে। একটা ছেলে বলল,
ছেলেটাঃ - ভাই উনাকে দেখে তো মনে হয় না উনি হাফ মহিলা আর হাফ পুরুষ।
আমিঃ - হ্যারে ভাই আসলে ওর আচার আচরন ওরকম না শুধু একটা জিনিসই।
দুজনেই বলে উঠলো
ছেলেগুলোঃ - হুম। দুজনেই কাঁদছে।
আমিঃ - কখনই ওর সামনে এটা প্রকাশ করবে না। যদি করো তাহলে**** ভাবি বলে ডাকবে কেমন?
ওরাঃ - হুম। অতঃপর অনেক কিছু বুজিয়ে রিক্সায় আসলাম।
ইরাঃ - কি বলল ওরা?
আমিঃ - নাহ কিছু না। এমনি বুজিয়ে আসলাম।
ইরাঃ - ওওও।
আমিঃ - আমার দেরী হলে একাই যেতে পারবে সমস্যা নেই।
ইরাঃ - আচ্ছা। ইরার অফিসের সামনে ইরাকে নামিয়ে দিয়ে আমি আমার অফিসে চলে গেলাম। সারাদিন অফিসের কাজে ব্যাস্ত ছিলাম। সন্ধ্যার কিছু আগে বাড়ি ফিরছিলাম।
ইরার অফিসের সামনে এসে ইরার কলিগ ইপ্সতাকে জিজ্ঞেস করলাম,
আমিঃ - এই যে আপু ইরা চলে গেছে।
ইপ্সিতাঃ - জি।
আমিঃ - ওও। আমি চলে আসছিলাম রিক্সা নিয়ে।
ইপ্সিতাঃ - আপনার সাথে কিছু কথা ছিলো।
আমিঃ - আমাকে বলছেন।
ইপ্সিতাঃ - জি। আমি রিক্সাওয়ালা মামাকে ভাড়া দিয়ে নেমে পড়লাম।ইপ্সিতা মাথা নিচু করে বলল,
ইপ্সিতাঃ - সামনের দিকটায় চলুন। আমি আর ইপ্সিতা একটা জায়গায় গিয়ে বসলাম। ইপ্সিতা মেয়েটিও খুব সুন্দর, গায়ে রঙ দুধে আলতা।
আমিঃ - জি এখন বলুন।
ইপ্সিতাঃ - ইরা আপনাকে কিছু বলেনি।
আমিঃ - নাতো কি?
ইপ্সিতাঃ - আসলে আমি কিভাবে বলবো,
আমিঃ - যেভাবে আপনার ইচ্ছা বলে ফেলুন।
ইপ্সিতাঃ - আপনি মাইন্ড করবেন নাতো আবার।
আমিঃ - আরে না আপনি বলুন আমি মাইন্ড করবো না।
ইপ্সিতা কিছুটা সময় নিয়ে বলল,
ইপ্সিতাঃ - আই লাভ ইউ। আমি আকাশ থেকে পড়লাম নাকি মাঠি থেকে আকাশে উঠলাম জানি না। কি শুনলাম।
আমিঃ - অবাক হয় বললাম,মানে!!
ইপ্সিতাঃ - মানে, আপনাকে প্রথম যেদিন ইশার সাথে দেখি সেদিনই ভালো লেগে যায়। ইশাকে বলেছিলাম এই কথাটা আপনাকে বলতে।
আমিঃ - না এটা কি করে হয়।
ইপ্সিতা কাঁদোকাঁদো কন্ঠে বলল,
ইপ্সিতাঃ - কেনো? আমি দেখতে খুবই খারাপ।
আমিঃ - নাহ।
ইপ্সিতাঃ - তাহলে।
আমিঃ -আপনি খারাপ এটা কে বলল?
ইপ্সিতাঃ - আমি দেখতে ভালো হলে তো আপনি আমার প্রপোজ রিজেক্ট করতেন না।
আমিঃ - আপনি অনেক সুন্দর যে কেউ প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ে যাবে। আপনি শুধু সুন্দর না অতিরিক্ত সুন্দর।
ইপ্সিতাঃ - তাহলে।
আমিঃ - আমি ইরাকে ভালোবাসি।
ইপ্সিতাঃ - মানে,ইরাতো আমাকে কিছুই বলল না।
আমিঃ - আমিই ওকে ভালোবাসি ইরা ভালোবাসে কিনা জানি না।
ইপ্সিতাঃ - বুজলাম না। তারপর আমি ইপ্সিতাকে সব খুলে বললাম। আরে ভাই আপনারা আবার ভাবিয়েন না কি খুলে বললাম। আসলে ঘটনাগুলো খুলে বললাম। শুধু ফাইজলামির কথাগুলো বলিনি। কি ভালো করেছি তাই না।
ইপ্সিতাঃ - ওও। ( মন খারাপ করে)। তারপর অনেক্ষণ নীরব।
আমিঃ - সরি!
ইপ্সিতাঃ - কেনো?
আমিঃ - আপনার প্রপোজাল টা এক্সেপ্ট করতে পারলাম না। আমি যদি ইশাকে ভালো না বাসতাম তাহলে হয়তো আপনাকে.... আর কিছু বললাম না।
ইপ্সিতাঃ - থাক। আমি ন হয় হেরেই গেলাম। ( কেঁদে দিলো)
আমিঃ - আরে কাঁদছেন কেনো? ইপ্সিতার কান্নার বেগ আরো বেড়ে গেলো আমার বুকে মাথা রেখে হাউ মাউ করে কেঁদে উঠলো। আমি কি করবো। বুজতে পারছি না। ওর মাথায় হাত দিলাম।
আমিঃ - ইপ্সিতা কাঁদবেন না প্লিজ আমি আপনাকে এভাবে কাদাতে চাইনি। ইপ্সিতা নিজেকে গুটিয়ে নিলো।
ইপ্সিতাঃ - ইশা জানে আপনি যে,,তাকে ভালোবাসেন।
আমিঃ - না।
ইপ্সিতাঃ - ওওও। আমি কিছুক্ষণ পর বললাম,
আমিঃ - আমাকে একটা সাহায্য করবেন। ইপ্সিতা অবাক হয়ে বলল,
ইপ্সিতাঃ - কি?
আমিঃ - আমার সাথে প্রেমের অভিনয় করতে হবে।
ইপ্সিতাঃ - কেনো?
আমিঃ - ইশা আমাকে ভালোবাসে কি না যেটা জানার জন্য প্লিজ।ঈপ্সিত কিছুক্ষণ ভেবে বলল,
ইপ্সিতাঃ - আচ্ছা। ( ভাঙা ভাঙা কন্ঠে)। আমার কিছুটা খারাপ লাগলো। ইপ্সিতাকে আমি কষ্ট দিতে চাইনি।
আমিঃ - কিছু খাবে।
ইপ্সিতাঃ - না। তুমি করে কি বলতে পারি না।
আমিঃ - হুম।
ইপ্সিতাঃ - তোমার হাতটা,ধরে একবার হাটতে পারি।আমি না করতে পারলাম না।
আমিঃ - হুম। তারপর কিছুক্ষণ ইপ্সিতার সাথে থেকে বাসায় ফিরলাম। রুমে যেতেই দেখি ইশা বসে আমার জন্য অপেক্ষা করছে।আমি রুমে ডুকতেই ইশা কোমড়ে হাত দিয়ে দাড়ালো।
আমিঃ - আরে কি হলো?
ইশাঃ - তুমি ঐ ছেলেদের কি বলেছো?
আমিঃ - কেনো?
ইশাঃ - ঐ ছেলেগুলা আমাকে ভাবী ডাকলো কেনো?
আমিঃ - আমি কি জানি?
ইশাঃ - এই একদম মিথ্যে কথা বলবে না।
।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now