বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
---গল্প : ""রাজকন্যা"" --------♥♥
.
★--------পর্ব :- ১ ~~~~
_দুপুরের খাওয়া শেষ করে একটা ঘুম দিলাম।৪:০০ টা বাজে মাঠে যেতে হবে ফুটবল খেলতে।এমনি সখের বেশে ফুটবল খেলতাম। কিন্তু ঘুম থেকে আর উঠতে পারিনি। মোবাইলটা সাইলেন্ট করা ছিলো তাই আকাশের ফোন রিসিভ করতে পারিনি ২০+ কল দিয়েছিলো আকাশ।আকাশ হলো আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। ছোট বেলা থেকেই আমরা একে অপরের ভাল বন্দু।ঘুম থেকে উঠে আকাশকে ফোন দিলাম যানি আমার আজ বকা শুনতে হবে।
.
>> কিরে মইরা গেছিলি?? (আকাশ)
>>আরে ঘুমাই গেছিলাম।(আমি)
>>ঘুমাইলে কি ফোনটা রিসিভ করা যায় নাই?? (আকাশ)
>>মোবাইল ভুলে সাইলেন্ট করে ঘুমাই পড়ছিলাম।তাই রিসিভ করতে পারিনাই।(আমি)
>>আচ্ছা ঠিক আছে। মার্কেটে আয় কথা আছে। (আকাশ)
>>আচ্ছা দারা আসতেছি। (আমি)
.
আমাদের আড্ডা মারার জায়গাটা ছিলো মার্কেটের চিপায়।এলাকার নামই ছিলো মার্কেট। আর আকাশদের বাসা ঐ খানেই ছিলো। মাঝে মধ্যে ওদের বাসার ছাদে গিয়ে পাশের বাসার মেয়েদের সাথে দুস্টামি করতাম। দুস্টামি বাঁদরামি করেই কাটছিলো আমাদের দিনকাল।
.
মার্কেটে গেলাম পরে আকাশ বললো ওদের গ্রামের বাড়ি যাবে সাথে আমাকেও যেতে হবে।অনেকদিনের প্লান ছিলো এটা। আকাশদের গ্রামের বাড়ি ছিলো বরিশাল। অনেক দিনের ইচ্ছে ছিলো লঞ্চ যার্নি করার।তা অবশেষে পূরন হচ্ছে।আগামীকালই যেতে হবে বরিশাল। তো বাসায় জানালাম যে কাল যাচ্ছি।
.
আমি আর আকাশ লঞ্চঘাট আসলাম। টিকিট নিয়ে লঞ্চের ভেতরে ঢুকলাম। আমার জীবনের প্রথম লঞ্চ ভম্রন ছিলো ঐ দিন।পুরো লঞ্চটা ঘুরে দেখতে লাগলাম।একটু পর কেবিনের ভেতরে গেলাম একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। লঞ্চ ছাড়ার সময় হয়ে গেছে আমি একটু কেবিন থেকে বাহিরে আসলাম। দেখছিলাম নদীর ঢেউ এমন সময় পাশের দিকে খেয়াল করে দেখলাম একটা পিচ্ছি বাবুকে।কত কিউট বাবুটা কাছে গেলাম বাবুটার গালে ধরে দুস্টামি করছিলাম।একটু পর বাবুর বড় বোন আসলো যাকে দেখে আমার চোখ ফেরাতে পারছিলাম না।
.
আমি বাবুটার সাথে দুস্টামি করতে শুরু করে দিলাম।অনেক ভাল লেগেছিলো পিচ্ছিটাকে। আমার আবার পিচ্ছি বাবু খুব ভাল লাগতো। আমার একটা পিচ্ছি ভাতিজা আছে ওর সাথে সবসময় থাকি।ও আমাকে ছাড়া কিছুই বুঝে না। ঐ পিচ্ছিটাকে দেখেও ভাতিজার কথা মনে পড়ে গেলো। সাথে সাথে বাসায় ফোন করলাম আম্মুকে বললাম ইমো অন করতে।তারপর ভাতিজার সাথে কথা বললাম ভিডিও কলে। আছতে আছতে নেট খুব প্রোব্লেম শুরু হয়ে গেলো। তাই আর বেশি কথা বলতে পারিনি।
.
সে ঐ খানেই দাঁড়িয়ে ছিলো। এতক্ষন আমার পাগলামি দেখলো দাড়িয়ে দাঁড়িয়ে। আবার গেলাম সেই বাবুটার কাছে। দুস্টামি করতে ছিলাম। তখন উনি কিছু একটা বললেন আমায়।
.
>>এই যে (সে)
উপরে তাকালাম তার কথা শুনে।
>>হ্যা বলুন (আমি)
>>খুব পছন্দ করেন বাবুদের? (সে)
>>হ্যা বিষন। ওর মতো আমার একটা ভাতিজা আছে। আচ্ছা বাবু কি হয় আপনার? (আমি)
>>আমার ছোট বোন। (সে)
>>কি নাম?? (আমি)
>>আফিয়া। (সে)
>>খুব সুন্দর তো নামটা। আপনার নামটা কি?? (আমি)
>>ইভা। আপনার? (সে)
>>রিয়াদ।
>>ওহহহহ। তো কোথায় যাবেন?? (সে)
>>ফ্রেন্ডের সাথে গ্রামের বাড়িতে যাবো। আপনি?
>>আমি আমাদের গ্রামের বাড়িতে যাবো।
>>ওহহহহ। নাইস টু মিট ইউ।
.
বলে তারা-তারি চলে এলাম সেইখান থেকে। ভদ্র হওয়ার জন্য যাতে উনি ভদ্র মনে করেন।এমনিতে তাকে দেখে অনেক ভাল লেগে যায় আমার।কি সুন্দর চোখ, চুল গুলো বাতাসে উড়ছে আর সে তার হাতের আঙুল দিয়ে চুল গুলো সরিয়ে দিচ্ছে।আর চেহারা তো মাশাল্লাহ অনেক সুন্দর। চলে আসতে ইচ্ছে করছিলো না তবুও একটু ভাব নিয়ে এসে পড়লাম।
.
ক্যাভিনে গেলাম আকাশ ঘুমাচ্ছে। আর উঠিয়ে দিলাম না। আমি বারান্দায় চেয়ারের মধ্যে বসে বাতাস খাচ্ছিলাম আর নদীর স্রোত দেখছিলাম।আর তার কথা ভাবছিলাম কেনো যানি তার মুখটা আমার চোখের সামনে ভাসছিলো। জীবনে তো কখনো প্রেম করলাম না।কিন্তু কেনো যানি ইভাকে অনেক ভাল লেগে গেলো। চোখ বুঝে ভাবছিলাম তার কথা গুলো। হঠাৎ চোখ মেলে দেখি ইভা আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
.
>>আপনি? (আমি)
>>হ্যা আমি। চোখ বন্দ করে পাগলের মতো হাসছিলেন কেনো?? (ইভা)
>>মনে মনে ভাবতেছি যাহ শালা শেষে পাগল হয়ে গেলাম। না এমনি একজনের কথা মনে পরে গেলো তাই হাসছিলাম।(আমি)
>>তো বসতে পারি এখানে?(ইভা)
>>হ্যা অবশ্যই প্লীজ।(আমি)
>>তো কি করছেন আপনি? (ইভা)
>>ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছি। আপনি (আমি)
>>ফাস্ট ইয়ারে। তো আপনারা নামবেন কোথায়? (ইভা)
>>সেটা তো বলতে পারবো না।আমার বন্দু বলতে পারবে।(আমি)
>>ওহহহহ আপনি এফ বি ইউজ করেন? (ইভা)
>>হ্যা। আপনি? (আমি)
>>হুমমম। আমার এফ বি আইডির নাম ইভা রাহমান।(ইভা)
>>আচ্ছা এড দিচ্ছি।(আমি)
>>হুমমম।
.
এফ বি আই ডি খুঁজে তার এভাউট দেখতছিলাম। একটা ছবিও নাই তার আর এমন ভাবে প্রেইবেসী দেয়া। যাইহোক অনেকটা সময় বসে ছিলো আমার পাশে।কথা বলতে বলতে সময় কাটছিলো। আর তার কথা বলা সময় গালে টোল পড়ছিলো যেটা তাকে আরো সুন্দর রুপে পরিণত করছিলো। কথা বলতে বলতে আকাশ এসে পড়লো আমাদের সামনে ইভা কে দেখেই বলে চিনে ফেললো।
.
>>কেমন আছিস ইভা?? (আকাশ)
>>হুমমম ভাইয়া ভাল।তুমি কেমন আছো? (ইভা)
>>এইতো ভাল। আন্টি আসে নাই? (আকাশ)
>>হ্যা আম্মু তো ভেতরে বসে আছে। (ইভা)
>>আচ্ছা এখানে থাক আমি আন্টির সাথে দেখা করে আসছি।আর হ্যা রিয়াদ ও আমার খালাতো বোন।আর ইভা ও আমার কলিজার টুকরার বন্দু। (আকাশ)
>>হুমমম (আমি)
.
আকাশ গেলো ইভার আম্মুর সাথে দেখা করতে।ভাবতেই অবাক লাগছে তাহলে আমরা একই বাড়িতে যাচ্ছি।ইভাকে দেখতে পারবো তাহলে সবসময়ই।একটু পর আকাশ আমাকে ইভার আম্মুর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো। যাক হবু শাশুড়ি বলে কথা। ধ্যাত মাথার মধ্যে ভুত চেপে গেছে কি সব উল্টা পাল্টা বলতেছি। তবুও অনেক বেশি খুশি লাগছে যা বলে বোঝাতে পারবো না।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now