বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
যখন বুকের পাজরভাঙা হাহাকার তোমার
অবহেলার সামনে হরে যায়,তখন সম্মুখ নিরবতাই অনেক কথা বলে দেয় ।কিন্তু আজ কেন তবে এত্ত নিরবতা বলো ?
আমাকে সামনে দেখলে তো তুমি কখনই মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারতে না ?কিন্তু আজ আমাকে দেখেও না দেখেই সেই অভিনয়টা করছো তুমি প্রতিটাদিন ?
হয়তোবা এখন, আজ তুমি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা,ভালো থাকার অভিনয় এতটাই শ্রেষ্ট হয়ে গিয়েছ তুমি ?
আমাকে দশ মাইল দুর থেকে দেখলে তোমার সারাদিনের ক্লান্তি শেষ হয়,,মুখে হাসি ফুটে উঠে ,আমার চোখের পানি তো তুমি কখনই সইতে পারতে না তবে আজ কেনো ?
তুমি কী আজ অন্য একজনের ভালোবাসায় এতটা অন্ধ হয়ে গেছো যে অনুভব করতে পারনা আমার চোখ দিয়ে হাজারো অশ্রু ফোটা,সাথা জলরাশির ধারা এক প্রবাল ঝর্নার মতো বয়েই চলেছে ?
তুমি কি বুঝতে পারনা আমি ভালো নেই,একদম ভালো নেই ,তোমাকে ছাড়া আমি এক বিন্দু পরিমান ও ভালো নেই ?
অনুভব আর কষ্টের কোন ওজন নেই ,নাহয়তো ঠিক দেখাতাম কতটা ক্ষত নিয়ে বেঁচে আছি এই আমি ??
হয়তোবা কখনই বুঝবে না আমাকে ,জীবনের সেই বিশ্বাস,স্বপ্ন,ভরসাটুকু হারিয়ে আজ আমি নিঃস্ব।জানো তোহ,আত্নবিশ্বাস গভীর জঙ্গলে একটি ছোট টর্চের মতো,এতে পুরটা আলোকিত হয় না ,কিন্তু যথেষ্ঠ আলো দেয় যাতে নিরবে নির্বিঘ্নে নিরাপদে পৌছানো যায়।কিন্তু আজ তো দিশেহীন,দিশেহারা,জীবন্ত এক লাশ আমি,তোমারই মায়াজালে আবদ্ধ,কীভাবে ঔই আত্নবিশ্বাসকে নিয়ে বাঁচতাম বলো ???
তাই আজ সবই শেষ ।আর বুকে কোন ব্যাথা জমা রাখবো না,,তোমার জন্যে করবো না আর কোন হাহাকার ,কোন আর্তনাদ ?
এখন মন খারাপ হলেও ভেঙে পড়বো না ,তোমার সৃতিগুলোও জীবন থেকে মুছে ফেলে দিয়েছি ।এখন আমি তোমায় ছাড়া বাঁচতে পারি ।
জীবন যুদ্ধের পরাজিত এক সৈনিকের মতো আমি হারকে মেনে নেই নী আজও,এখন ও।এখন আর কোন কিছুকে আঁকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টাই করিনা ।একদিন আমার এই নিরবতার জন্যে আমাকে এসে তুমি প্রশ্ন করবে -
"কীভাবে আমি স্বার্থপরের মতো তোমাকে ভুলে গেলাম "??
-আমি তখন একটি মিষ্টি হাসি দিয়ে বলবো-
"আমিও তোমার মতই ভালোথাকার অভিনয়ে এক শ্রেষ্ঠ অভিনেএ্রী ।"তখন তোমার মুখে জমে থাকা সেই পুরনো সুখের হাসিটা শুধু একটিবার দেখতে চাই ,
"যেই হাসিটা আমাকে ছেড়ে যাবার সময় তুমি হেসেছিলে ,,যেই হাসিটা আমাকে তিল তিল করে গড়ে তোলা ভালোবাসার জীবনের সমাপ্তি করার সময় হেসেছিলে তুমি ।"
বলো তুমি পারবে তোহ তখন ??
-একদিন তো ঠিকই বলেছিলে _
"আমার জন্যে সবকিছু করতে পারবে তুমি ।"
তখন তোমার সেই কষ্টের হাসিটা আর আমার সুখের জীবনটা একটু ভালোভাবেই উপভোগ করতে চাই ।
-সবকিছুর একটা শেষ আছে এই কথাটা তুমিই আমাকে বারবার বলতে তাইনা ??
তাহলে এত তাড়াতাড়ি তোমার নিজের কথাটুকু তুমি কীভাবে ভুলেগেলা বলো ??
-কষ্ট দেওয়ার ও তো একটা লিমিট আছে তাইনা ?সেই কষ্টে আজ আমি নিস্তব্ধ পাথর ।আমি ততটা ভালো আছি ,সেই দিনটার মতোই যেই দিন আমাকে ছেড়ে চলে যাবার সময় তুমি যতটা ভালো ছিলে ,সুখে ছিলে ।হুমমম আমিও আজ ততটাই ভালো আছি ।তুমিই তোহ বলেছিলে আমাকে সবসময় ভালো থাকতে ,এর জন্যে আবার আমাকে ভুল বুঝিওনা ।কেননা ,তোমার ভুলটা সংশোধনের জন্যে এই তিনা আর থাকবে না কখন ও ।
-আমি আর আগের মতো একদম নেই জানো ,,, এখন আর কোন কিছুতেই ভেঙ্গে পড়িনা ।একা একা বাঁচে থাকা শিখে গেছি ।
কিন্তু একটা কথা কী জানো তো ,,
"মিট মিট করে জ্বলতে থাকা শেষ জোনাকিটার মতো আমিও একদিন হয়তো নিরবেই নিভে যাবো,,সে দিনটা যে খুব তাড়াতাড়িই"।
তোমাকে প্রমিস করেছিলাম ,তুমি না চাইলে তোমার সামনে কখনই যাবো না ,আমি আমার কথাটুকু রেখেছি ।কিন্তু তুমি একদিন আমাকে খুজবে ,খুজতে খুজতে চলে আসবে সেই জায়গাটাতে যেখানে আমি তোমায় বলেছিলাম ,
"তোমার ভালোবাসার মানুষটির শেষ ঠিকানা এই শশানেই ।"ভালো থেকো,,
ইতি-
ঘুমপরি♥
-তিনবছর পর এই চিঠিটা হাতে পেয়ে আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না ।না চাইতেও চোখের পানি ঝড়ে পরছে ,,এ শুধু পানি না ,হৃদয় কাঁপানো ঘুমপরির অশ্রুর আর্তনাদ ।
আচ্ছা তিনা চিঠিতে ঘুমপরি কেন লিখেছে ।তাহলে কী তিনা সত্যিই এখন ঘুমপরি হয়ে গেছে ।আমিতো তিনাকে একটুও ভালোবাসিনী ,ভালোবাসার অভিনয় করেছি শুধুমাএ ।তাহলে ,আমার দু'নয়ন বয়ে এভাবে অশ্রু ঝড়ছে কেনো ??নিজেকে প্রশ্ন করছি শেষ জোনাকিটার মতো জ্বলতে জ্বলতে মেয়েটি কী সত্যিই ঘুমপরি হয়ে গেছে ।
তিনা আমাকে এতটা ভালোবাসতো তবে কেন আমি তাকে বুঝতে পারিনী ।আজ সত্যিই কী সব শেষ ।
-তিনার একটি কথা আজ খুব মনে হচ্ছে -
-তিনা বলেছিলো-
-জানো ....
-আমার মৃত্যুটা একদিন হঠাৎ করেই হবে_
-সেই দিন আমার স্বপ্নের ,আমার ভালোবাসার,একাকীত্বের অনুভূতির শেষ দিন হবে_
-আর সেই দিন শেষ বারের মতো ভালোবাসবো তোমায় ,শেষ বারের মতো ভালোবাসি বলবো তোমায়,,তোমার মুখে সুখের হাসিটাও দেখবো শেষবার ।
-তাহলে ,সত্যিই কী আর তিনা আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখবে না ??
-তিনার মতো আপদ তো আজ শেষ হয়েছে ,,তবে কেনো আমি সুখের সেই হাসিটা হাসতে পারছি না ।কেন ওর জন্যে এতটা কষ্ট হচ্ছে আমার ।তবে কী আমিও তিনাকে ভালোবাসি ।হুমম ভালোবাসি ,
-ভালোবাসি কথাটা বলেই ছুটে চললাম তিনার বাসার উদ্দ্যেশ্য এ।তিনটি বছর পর বুঝতে পারলাম ওর ভালোবাসা ।তিন বছর পর আবার আমাদের দেখা হবে ।তখন নিজের কাছে প্রমিস করলাম ,"আর কোনদিন তিনার চোখে পানি আসতে দিবো না ,কোন দিন ও না ।"
পরক্ষনই আবার ভাবছি ,,তিনা কী সেই সুযোগটা আর একটিবার আমাকে দিবে ??ও কি আমায় দেখতে পেয়ে সেই শেষ দিনটার মতো আমাকে জড়িয়ে ধরে আমার শার্টটা ভিজিয়ে দিবে ,,ওর চোখের পানিতে ।
এসব ভাবতে ভাবতে চলে এলাম তিনার বাসার সামনে ।কিন্তু আজ আলাদা অনুভূতি হচ্ছে ,চোখ দিয়ে অশ্রুকনা ঝড়ে পরছে বার বার ।
-কলিং বেলটা চাপলাম ,কিন্তু দরজাটা খুললো না ।অনেক ডাকাডাকির পর একটা পিচ্চি মেয়ে এসে দরজাটা খুললো_
-পিচ্ছিটা দেখতে ঠিক আমার মতোই ।তখন নিজেকে বিশ্বাস করতে পারলাম না ।তিনাকে যেদিন আমি প্রথম দেখেছিলাম_
ঠিক সেইদিনের মতোই পিচ্ছি মেয়েটাও এক হাতে একটা পুতুল নিয়ে আর এক হাত ধরে চকলেট খাচ্ছিলো ।পিচ্চিটার চোখ ,মুখে মাখানো ছিলো চকলেট ।ঠিক যেমনটা তিনার ছিলো ।প্রথম দিনটার সৃতি মনে হতে লাগলো ।
পিচ্চি আমাকে দেখেই বললো এভাবে আমুর দিকে তাকিয়া কী দেখছো হুমম,,আম্মুকে বলে দিব কিন্তু ।
আমি একটা হাসি দিলাম ,দিয়ে পিচ্চিকে কোলে তুলে নিলাম ।কিছুক্ষন পর একজন মহিলা এলেন ,এটা সম্ভবত তিনার মা ।তিনি আমাকে দেখে চমকে উঠলেন ।আড়ালে চোখের দুফোটা পানি মুছে নিলেন তার শাড়ির আঁচলে ।আমি কিছু না বলতেই ,তিনি এসে আমাকে বলেলেন_
'আমার সাথে এসো ,বাবা '?
-আমিও আর ওনাকে কিছুই বললাম না ।পিচ্চিটাকে কোলে তুলে নিয়ে ওনার পিছু পিছু যাচ্ছিলাম ।একটা শব্দ ও করলাম না ,উনিও করলেন না ।হয়তোবা উনি আমাকে তিনার কাছে নিয়ে যাচ্ছেন ।
-মনে মনে খুশি হলো ।কিন্তু একটা জিনিস লক্ষ করছিলাম বারবার ,পুরা রাস্তাটা উনি চোখের পানি মুঝতে মুঝতে যাচ্ছিলেন ।যখন তিনার কাছেই যাচ্ছি তাহলে উনি চোখের পানি কেন বিসর্জন করছেন ।
-কিছুক্ষন পর উনি আমাকে একটা পার্কের কাছে আনলেন ।যেখানে আমি আর তিনা কিছুদিন পরপরই দেখা করতাম ।তিন বছর পর পার্কটাতে এসে ,তিনার সমস্ত সৃতিগুলো মনে হচ্চে আমার ।তিনুর পাগলামি গুলোর কথা কথা মনে করে একটু হাসি পাচ্ছে আমার ।
-একটু পর তিনি আমাকে পার্কের পাশের শশান টাতে নিয়ে আসলেন ।চিঠির কথাগুলো মনে হলো ।তিনা তো আমাকে শেষবার দেখা করতে এখানেই আসতে বলেছিলো ।তাহলে কি তিনা ............????
-না ,না ,না ,এটা হতে পারে না ।তিনা এটা করতেই পারে না ।তিনা কেন আমাকে ছেড়ে চলে যাবে ,ও তো আমাকে ভালোবাসে আর এখন আমিও তোহ তিনাকেই ভালোবাসি ,,অনেক ভালোবাসি ।
-একটু পর মা আমাকে একটা কবর স্হানের দিকে তাকাতেই বললেন _
"তিন বছর দুই সপ্তাহ আগে যখন তিনা তোমাকে চিঠিটা লিখেছিলো ,তারপর থেকে প্রতিনিয়ত সে তোমার ফিরে আসার জন্যে অপেক্ষা করেছে ।তার বিশ্বাস তুমি ফিরে আসবে একদিন ।কিন্তু বিয়ে না করেই তার যে ছোট একটা মেয়ে রয়েছে ,সমাজের আর দশটা মানুষের মুখের বানী সহ্য করতে না পেরে ,সে সবকিছুর মায়া ছেড়ে চলে গেছে ।যখন ও বুঝতে পারলো তুমি ফিরে আসবে না ,অন্য একজন কে ভালোবাস ,যেদিন তোমার সাথে ওর শেষ দেখা হয়েছে সেইদিন পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে ।আর তুমি ফিরে আসলে একটা চিঠি দিতে বলেছে ।ও চলে যাওয়ার পর থেকেই আমি প্রতিনিয়ত দিন গুনি ,কবে আসবে তিনার সেই রাজ ।তিনার বিশ্বাস আজ সফল কিন্তু আজ তো। অনেক দেরি হয়ে গেছে বাবা ।"
-আমার হাতে ধুলোমাখা ,পুরনো একটা চিঠি দিয়ে ,ভালো থেকো বলে চোখের পানি মুছতে মুছতে চলে গেলেন ।
-আমার দুচোখ বেয়ে পানি পড়ছে ।চিঠিটা হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করলাম ।
-রাজ,,
-তুমি হয়তো সুখেই আছ !হয়তো আমার লিখা চিঠির উত্তর দেওয়ার তোমার সময় নেই ,, এই চিঠিটা যখন তুমি হতে পাবে ,তখন অনেক দেরী হয়ে যাবে ,আমাকে আর খুজে পাবা না হয়তো ,বলেছিলাম তোমাকে আমার সময় নেই ।
আমাদের সুখের ফসলকে রেখে যাচ্ছি ।আমাকে ভালোবাসনা এতে আমার কোন আফসোস নেই কিন্তু আমাদের মেয়েটিকে অন্তত ভালোবাসিও ।তাকে আমার মতো অবহেলা করিও না ,ঝড়ের মতো চলে যাওয়া তোমার অর্ধেকটা আজ পুরটাই শূন্য যে ।বুক ভরা হাহাকার ,পাজর ভাঙ্গা ব্যাথা নিয়ে চলে যাচ্ছি ।একটা মৃত সম্পর্কের ভেতর থেকে কিভাবেই বা ভালোবাসা জীবিত হবার স্বপ্ন দেখি বলো ।আমি আর আমার স্বপ্নগুলো সবই আজ এখন অর্ধমৃত ।চলে যাচ্ছি না ফিরার দেশে ।
ভালো থেকো ।
ইতি,
তোমার ঘুমপ্রিয় ,
চিঠিটা পরার পর আমিও ঙ্গান হারিয়ে ফেললাম ।গত দুইদিন কি যে হয়েছে ,তা কিছুই মনে নেই আমার ।
এখন আমি আমার পিচ্চি তিনাকে নিয়েই বেঁচে আছি ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now