বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-------------------------
-মা মা ওমা
কোথায় তুমি?
খুব ক্ষুদা লাগছে কিছু খেতে দাওনা মা![কাদঁ থেকে ব্যাগটা খুলতে খুলতে মাকে বললাম]
.
-টেবিলের ওপর
একটা বাক্সে
মুড়ি রাখা আছে এগুলো খেয়ে নে।[মা]
.
-প্রতিদিন দু-বেলা করে মুড়ি খেতে
আর ভালো লাগেনা।
অন্যকিছু থাকলে দাওনা মা![আমি]
.
-দেখ পাভেল
আজকে বেশি কাজ করতে পারিনি।
বাজার করবো কি দিয়ে এই চিন্তায় এমনিতেই
কিছু ভালো লাগছে না।
যা আছে খেয়ে নে।[ঘর ঝাড়ু দিতে দিতে]
.
-প্রতিদিন এক খাবার আর ভালো লাগেনা।
তুমি খেয়ে নিও
আমি আর এসব খাবার খাবোনা।[রাগ করে ঘর থেকে বের হয়ে]
.
-পাভেল যাসনা বাবা।
খেয়ে যা
যাসনা[পিছন থেকে ডেকে ডেকে]।
.
আম্মুর কথা শুনেও
দাড়ালাম না।
একেবারে চাচার চায়ের দোকানের সামনে এসে দাড়ালাম।
প্রতিদিন একি খাবার খেতে আর ভালো লাগছে না।
.
ও আপনাদের তো বলায় হয়নি।
আমি পাভেল।
তবে এলাকার সবাই টোকাই পাভেল বলেই ডাকে।
বর্তমানে এলাকার একটি সরকারী কলেজে লেখাপড়া করছি।
.
এতোক্ষনে হয়তো বুঝে গেছেন
আমি গরিব ঘরের সন্তান।প্রতিদিন তিন-বেলা খেতে পারিনা।
প্রায়ই দু-বেলা মুড়ি খেয়ে থাকতে হয়।
.
আর মাঝে মাঝে
চাচার দোকানের চা খেয়ে দিন পার করে দেয়।
আজকেও হয়তো এর ব্যতিক্রম হবেনা।
.
-কি ভাতিজা।
আজকেও মায়ের ওপর অভিমান করে না খেয়ে চলে এসেছো?[চাচা]
.
-জ্বী।
একি খাবার প্রতিদিন খেতে কারো ভালো লাগে
বলেন?[মাথা নিচু করে]
.
-কি করবে ভাতিজা গরীব ঘরে জন্ম নিয়েছো।
কষ্ট করেই জীবনটাকে প্রতিষ্টিত করতে হবে।[চায়ের কাপটা সামনে এগিয়ে দিয়ে]
.
চায়ের কাপে চুমুক দিতেই মাথার মধ্যে কারো হাতের র্স্পশ পেলাম।
পিছনে থাকিয়ে দেখি
মা দাড়িয়ে আছে।
.
-বাবা রাগ করছিস?
চল বাড়ি চল বাবা।[মা]
.
-না যাবোনা!
তুমি যাও আমি পরে আসছি।[আমি]
.
-ঠিক আছে।
তাড়াতাড়ি চলে আসিস বাবা।
চুলার ওপর ভাত বসিয়ে রেখে এসেছি।[মা]
.
-ঠিক আছে।
তাড়াতাড়িই আসবো।[মায়ের দিকে তাকিয়ে]
.
মা চলে গেলে আরো কিছুক্ষন
চাচার সাথে আড্ডা দিলাম।
চাচার চায়ের দোকানের বিল দিতে চাইলেও চাচা নেননা।
.
-আচ্ছা চাচা।
আপনি আমার কাছ থেকে বিল নেননা কেনো?
[অনেকটা অবাক হয়ে জিঙ্খেস করলাম]
.
-তোমার মা প্রতি মাসের শেষে
বিলের টাকা দিয়ে যায় এসে।
আর একথা তোমাকে বলতেও মানা করছিলো তোমার মা।[চাচা]
.
চাচার কথা শুনে চায়ে চুমুক দেয়া বন্ধ হয়ে গেলো।
একদৃষ্টিতে চাচার দিকে
তাকিয়ে রইলাম।
.
-কি হলো ভাতিজা এই ভাবে কি দেখছো।[চাচা]
.
-না চাচা কিছুনা।
আজ তাহলে আসি।
চায়ের কাপটা টেবিলের ওপর রেখেই বাড়ির দিকে গেলাম।
.
বাড়ির কাছে যেতেই কি রকম একটা মাংসের গন্ধ পেলাম।
মাকে দেখলাম চুলার কাছে বসে আছে।
আমি আস্তে আস্তে মাথা নিচু করে মায়ের কাছে গিয়ে জিঙ্খেস করলাম-
.
-মা আজকে কি রান্না করছো যে এতো
গন্ধ আসছে?[মাকে ঝরিয়ে ধরে বললাম]
.
-তোর না
রোজ রোজ মুড়ি খেতে ভালো লাগেনা?
তাই আজকে মাংস রান্না করছি!
তুই হাত মুখ ধুয়ে আয় আমি খাবার রেডি করছি![অনেকটা হেসে]
.
আমি অনেকটা দৌড়ে গিয়ে কোনোমতে হাত-পা গুলো ধুয়ে
বিচানার ওপর ওঠে বসলাম।
কিছুক্ষন পর মা আসলো খাবার নিয়ে।
.
-এই নে খা।[অনেকগুলো মাংস দিয়ে]
.
-তুমি খাবেনা মা?[খেতে খেতে বললাম]
.
-পরে খাবো তুই খা!
বলেই মা পাশের রুমে চলে গেলো
.
আমি কিছু
না ভেবেই নিশ্চিতে খেতে লাগলাম।
হঠাৎ করেই মনে হলো মা মাংস কিনার টাকা পেলো কোথায়?
আজ তো কাজে যায়নি তাহলে টাকা আনলো কোথায় থেকে!
বাবাও তো টাকা পাটায়নি!
.
-মা ওমা কোথায় তুমি?[জোরে জোরে ডেকে ডেকে]
.
অনেকবার ডাকার পরও মায়ের কোনো সাড়া পেলাম না।
তাই খাবার বিচানায় রেখেই পাশের রুমে গেলাম।
একি মা কাঁদছে কেনো?
.
-মা তুমি কাঁদছো কেনো?
বুঝেছি আব্বুর কথা মনে হয়েছে
তাই কাঁদছো?
[অশ্রুলিক্ত চোঁখে]
.
-কে এ এ।
ও পাভেল?
কি হলো খেতে ভালো লাগছে না বাবা তোর।[এক হাতে চোঁখের জলগুলো মুচার চেষ্টা করে]
.
কিন্তু এটা কি!
মায়ের হাতের বালা দুটো হঠাৎ করেই গেলো কোথায়?
সকালেও তো হাতে বালা দুটোকে দেখেছি।
.
-মা তোমার হাতের বালা দুটো গেলো কোথায়?[অবাক দৃষ্টিতে হাতের দিকে তাকিয়ে]
.
-না মানে
ওই আরকি আছে লুকিয়ে রেখে দিয়েছি।[কান্না করে]
.
-লুকিয়ে রাখলে তো কান্না করার কথা না।
মা কি হলো ও মা
মা বলো না গো মা।
[কান্না করে]
.
-এগুলো বিক্রি করে
তোর জন্য মাংস.......!
পুরোটা বলার আগেই মা আমাকে ঝরিয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো।
.
-কে বলেছিলো এই গুলো বিক্রি করতে হা?
আমি চাইনা মাংস।
আমি চাইনা ভালো খাবার।আমি শুধু তোমাকে চাই মা তোমাকে।
মা ও মা।
আমাকে ক্ষমা করে দাও মা।
.
আমি আর কোনদিন ভালো খাবার চাইবো না।
মা আমাকে ক্ষমা করে দাও।
দরকার হলে না খেয়ে থাকবো।[মাকে ঝরিয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে]
.
-পাভেল তুই কাদছিস কেন বাবা?
তোর কান্না আমি মা হয়ে সহ্য করতে পারবোনা।[আমার চোঁখের জলগুলো মুচতে মুচতে]
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now