বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নিপা আর আকাশের বিয়ে আজকে।
পারিবারিক ভাবে নিপা ও
আকাশের বিয়েটা হচ্ছে।
-আকাশ এখন নিপাদের বাড়িতে,
অনেকে এসেছে
আকাশের সাথে, আকাশের বাবা ও
অনেক
বন্ধুবান্ধব এসেছে আকাশের বিয়েতে
।
-তাহলে বিয়েটা শুরু করুন কাজী
সাহেব। (নিপার বাবা)
-জ্বী হ্যাঁ করছি।
-নিয়ম অনুযায়ী কাজী সাহেব
বিয়েটা পড়ানো শুরু
করল।
-বিয়ে পড়ানোর শুরু করার পরে
মোহরনা
কত হবে এটা নিয়ে দুই পক্ষের মাঝে
ঝামেলা শুরু
হয়েছে।
-নিপার বাবা বলেছে পাঁচলাখ
টাকা মোহরনা না করলে
আমি আমার মেয়ের বিয়ে দিবো না।
আকাশের বাবা বলছে দুই লাখ টাকা
মোহরনা দিবে।
-এখানে দুই পক্ষের লোকের মোহরনা
নিয়ে
বড় সমস্যা শুরু হয়েছে।
-আকাশের বাবা দুই লাখের চেয়ে
বেশি মোহরনা
দিতে পারবে না।
-নিপার বাবারও একি কথা সে
পাঁচলাখের নিচে মেয়ে
বিয়ে দিবে না।
-তাঁদের দুজনকে কোন ভাবেই সমতাই
অানতে
পারছে না কেউ।
-কেউ একটু কমাবেও না ইনি সাহেব
বাড়াবেও না।
-শেষ পর্যন্ত আকাশের বাবা বিয়েতে
রাজী নন।
-গ্রামের লোকজন তাঁদেরকে বুঝাতে
পারছে না।
-আকাশের বাবা রাগ করে উঠে চলে
যাচ্ছে, সেই
সময় আকাশ বলে উঠলো কাজী সাহেব
বিয়ে
পড়ান আমি রাজী আর মোহরনা
পাঁচলাখ করুন।
-আকাশের বাবা তো রিতীমতন
রেগে একাকার
হয়ে গেছেন। তবুও ছেলের মুখ দেখে
তিনি
থেমে গেলেন।
আকাশ আর নিপার বিয়েটা হয়ে
গেলো কোন
ঝামেলা ছাড়াই।
-আজকে আকাশের বাসর রাত।
-আকাশের রুমটা অনেক সুন্দর করে
সাজানো
হয়েছে।
নিপা লাল বেনারসি পড়ে ঘোমটা
দিয়ে বসে আছে।
এদিকে আকাশ ছাদের উপর বিষন্ন মনে
বসে
অাছে। বাবার সম্মানের কথা চিন্তা
করে বিয়েতে
সে পাঁচলাখ টাকা মোহরনা করেছে।
বিয়ের আসন থেকে উঠে আসলে
লোকে
তাঁদের কে দেখলেই ছিঃ করে
উঠতো।
সেইজন্য বিয়েটা করেছে আকাশ।
-এখন আকাশের অনেক ভয় করছে যদি
নিপা কোন
কারনে ঝামেলা করে বলে তার
সাথে সংসার করবে
না তাহলে তো আকাশের বড় বিপদ
হয়ে যাবে।
বাবার জমিজামা বেচে দিয়ে
নিপাকে মোহরনার টাকা
দিতে হবে।
ছাদে বসে বিষন্ন মনে এগুলো ভাবছে
আকাশ।
---
-
কি ভাবছ আকাশ।(নিপা)
-পেছনে ঘুরে দেখে নিপা দাড়িয়ে
আছে।
-কিছু নাতো।
-তাহলে বিষন্ন মনে বসে আছো
কেনো।
-ভালো লাগছে না।
-না আকাশ আজকের দিনে মিথ্যা
বলো না আমাকে।
যেটা হয়েছে খুলে বলো আমাকে।
-তেমন কিছু না।
-তুমি কি বলবে কি হয়েছে।
-মোহরনার ব্যাপার নিয়ে ভাবছি।
তোমাকে আমার পাঁচলাখ টাকা
দেবার মতন কোন
সামর্থ নাই।
পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও।
-কি বলছো এসব তুমি। আজকে থেকে
আমরা
দুজন স্বামী- স্ত্রী।
এখানে আমি কি তোমার থেকে
টাকা চেয়েছি।
-টাকা চাও নি তবুও যখন তোমার
সাথে ঝগড়া হবে
আমার, তখন যদি বলো যে আমি তোমার
সাথে
থাকতে চাই না।
তখন তো তোমাকে তোমার
পাওনাটা দিতে হবে
আমাকে।
-ছেড়ে চলে যাবার জন্য তো
তোমাকে বিয়ে
করিনি আকাশ।
-সারাটিজীবন তোমার সাথে চলবো
বলে
তোমাকে বিয়ে করেছি।
চাই না তোমার ওই টাকা।
যে টাকা আমাদেরকে সুখি করতে
পারবে না আমি
সেই টাকা চাই না ।
আমি শুধু তোমাকে চাই আকাশ।
-আকাশ কাঁদছে, কি জন্য কাঁদছে সেটা
আকাশ
নিজেও জানে না।
চলো আকাশ রুমে চলো, আর কোনদিন ওই
টাকার কথা বললে আমি তোমাকে
ছেড়ে না
ফেরার দেশে চলে যাবো।
-চুপ একদম চুপ। এইদিনে কেউ এমন কথা
বলে।
চলো রুমে চলো ।
-আজকে থেকে তাঁদের নতুন একটা
জীবন শুরু
হলো।
---
---
-এভাবে শেষ না হয়ে গল্পটি
অন্যভাবেও শেষ
হতে পারত।
বিয়ের তিনমাস পরে মেয়েটি
ছেলের সাথে
কোন এক কারনে সমস্যা করে মোহরনার
টাকা
নিয়ে চলে আসতো।
তাহলে তখন আকাশের কি হতো একবার
ভাবুন।
নিজের জীবনটা তো শেষ হতো
শেষে
আকাশের পরিবারটা ধংসস হয়ে
যেতো।
-
-
সেইজন্য সকল ছেলেদেরকে বলছি
বিয়ে
সারাজীবনের জন্য।
সেইকারনে বিয়েটা দেখেশুনে করুন।
আর মেয়েদেরকে বলবো এমন কোন
কাজ
করবেন না যাতে করে একটি পরিবার
নিমিশেই শেষ
হয়ে যায়।
একটি মেয়েই পারে একটি
পরিবারকে সঠিক ভাবে
সাজাতে।
আপনার যতো কষ্টই হোক আপনি চেষ্টা
করুন
কোন পরিবারকে বাঁচাতে। আপনার
জন্যই ওই
পরিবারটি সুখে থাকতে পারবে।
সেইজন্য বলছি দেখেশুনে বিয়ে
করবেন।
বিয়েটা সারাজীবনের।
এমন বিয়ে করবেন না যাতে দুদিন পরে
তাকে
ছেড়ে দিতে হয়।
-----সমাপ্ত----
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now