বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-সারা রাত মাথা ব্যাথায় উঠতে পারলাম না ।শাহি র সাথে ও তেমন কোন কথা হলো না ।বিছানা থেকে উঠতে গিয়ে মাথা ঘুরে পড়ে গেলাম ,আমার হাতে আম্মুর ফোনটা ছিলো ,ফোনটা ভেঙ্গে গেছে ।আসুস্হতার কারনে সকালে আর প্রায়ভেট এ গেলাম না ।
শাহির সাথে কথা হলো না ,কেননা বাসায় আর কারো ফোন ছিল না ।বিকেল বেলা শুয়ে আছি ,
রাইসা আমার বাসায় আসলো ।এসে আমাকে বললো_
'এখন কেমন আছিস ?কাল থেকে যে অসুস্হ আমাদের জানানোর প্রয়োজন মনে করিস না তুই স্বার্থপর ।'
-আমি ; তোকে এসব কে বললো রাইসা ?
-রাইসা ;কে আবার তোর শাহি ,,ছেলেটার অবস্হা দেখছিস ,এক দিনেই মুখটা শুকনো শুকনো লাগছে ,কাল সারা রাত ঘুমায় নি তোর একটা ফোনের জন্যে অপেক্ষা করেছে ,কতবার যে তোকে কল দিয়েছে কিন্তু তোর ফোন অফ কেন ?এমন কী কাল রাত থেকে এখন পর্যন্ত একটা খাবারের দানা ও মুখে নেয় নি ।
-আমি ;আমার জন্যে শাহি এত কষ্ট করছে ?
-রাইসা ;হুমম ,আর আমি এখানে শাহি বলছে বলেই আসছি ।শাহি নিজে হাতে রান্না করেছে তোকে খাওয়াবে বলে ?এই দেখ ??
টিফিন বাটিটা খুলতেই খাবারের মিষ্টি সুগন্ধ বের হলো ।মনে মনে খুশি হলাম শাহি এতো ভালো রান্না করতে পারে,
টিফিন বাটিতে আমার প্রিয় পোলাও ,মুরগি,আলু ভাজি ছিলো ।আমার মুখে পানি চলে এসেছে ,রাইসা আমাকে খাইয়ে দিলো ।যা সুন্দর রান্না করে শাহি ,,আহা ওরকুম খাবার যদি প্রতিদিন খাইতে পারতাম ।শাহির হাতের রান্না খেয়ে মনটা জুড়িয়ে গেলো ,ওর কোন তুলনায় হয়না ,সবার থেকে আলাদা ,,কিন্তু সবার চেয়ে ভালো ।এই তোমরা কিন্তু গল্পটা পড়ে আবার শাহিকে একদম নজর দিবা না ।
একটু পর রাইসার মোবাইল এ শাহি ফোন দিল_
রাইসা শাহির সাথে কথা বলতে বললো_
-আমি ; আসসালামু আলাইকুম,
-শাহি ; ওলাইকুম আসসালাম ,মিষ্টি ।কেমন আছ হুমম ?
-আমি ; তুমি এত ভালো রান্না করতে পারো ,,তোমার হাতের ওসব সুস্বাদু রান্না খেয়ে আমি সুস্হ ।যা সুগন্ধ বাহ,,
-শাহি ;ওহ, তাই বুঝি ,মেডিসিন খাচ্ছো তো মিষ্টি ,
-আমি ; এই সকাল থেকে তুমি এখন ও খাও নী কেন হুম ?আমি না খেয়ে থাকলে তোমার কষ্ট হয় ,তুমি না খেয়ে থাকলে আমার কষ্ট হয়না বুঝি ?
-শাহি ; কী করবো বলো ফোন ধরছিলে না ,কথা বলিনী ,ভালো লাগছিলো না তোহ,,
-আমি ; মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার সময় আমার হাত থেকে পড়ে ফোনটা ভেঙ্গে গেছে ,বাসায় আর কোন ফোন নেই,আমি জানিনা ,এখন তুমি খাওয়া করো তাড়াতাড়ি ?
-শাহি ;আচ্ছা একটু পরে ,জ্বর কমছে কী ?সুস্হ হয়েই প্রায়ভেট আসবা,,,
মিষ্টি তুমি না ছাড়া যে প্রায়ভেট শূন্য লাগে ,মনোযোগ থাকে না ,,
-আমি ; আচ্ছা ,বাবা ঠিক আছে ,,আমি তাড়াতাড়ি সুস্হ হবো ।
-শাহি ; এই আমার একটা কথা শুনবা ?
-আমি ;হুম বলো পাগলু ?
-শাহি ;প্রতিদিন সন্ধ্যায় আজানের আগে একটু বাহিরে আসতে পারবে ,আমি দূর থেকে তোমাকে একটি বার দেখবো ।
-আমি ; কেনো ?
-শাহি ; শুধু ৫ মিনিট এর জন্যে প্লিজ ,মিষ্টি ,একটি বার দেখবো ,।
-আমি ;আচ্ছা ঠিক আছে পাগলু ,তোমার বিকাশ নম্বর টা দাও ?
-শাহি ; কী করবা ?
-আমি ;উফফফ ,অতো কথা বলো কেনো তুমি ?
-শাহি ;শোন ,পাগলি ,টাকা ফেরত দিতে লাগবে না,
-আমি ;না ,লাগবে ,অবশ্যই লাগবে,
-শাহি ;উহহ,তুমি সুস্হ হও তো তাড়াতাড়ি?
-আমি ; হবো ,কিন্তু একটা শর্তে,
-শাহি ;হুম বলো ,একটা কেনো আরো বলো ,সব করতে রাজি আছি ?
-আমি ; যখন খিদা লাগবে আমাকে ,মাঝে মাঝে একটু রান্না করে পাঠাই দিও ।
-শাহি ;যো হুকুম মহারানী ।
-আমি ;হিহিহি ,আমি মহারানী তুমি মহারাজ,
-শাহি ;হুম ,অবশ্যই ,অবশ্যই ।
-আমি ;এই মহারাজ বাসায় গিয়ে খাওয়া করে পড়তে বসবা কিন্তু ,
-শাহি ;না ,ভালো লাগছে না ,
-আমি ;আমি কিছু শুনতে চাই না ,পড়তে বসবা মানে পড়তে বসবা ,নইলে ,ঔশুধ খাবোই না কিন্তু বলে দিলাম ।
-শাহি ;আরে ,না না পাগলী ঠিক আছে ,পড়তে বসবো ,
-আমি ;গুড বয়,আচ্ছা অন্যদিন কথা হবে,
-শাহি ;ঠিক আছে ,টেক কেয়ার ,বায়,
-আমি ;ওকে ,বায় ।
বলেই ফোনটা কেটে দিলাম ।তখন রাইসা বললো_
দেখ শাহি তোকে কত্ত ভালোবাসে,তোর এত কেয়ার করে ।
আমি বললাম ,,আমরা শুধুই ভালো বন্ধু ।
রাইসা ;শাহির মতো যদি আমার একটা বিএফ হতো ।
আমি ;দেখ ,হতেও পারে ।
একটু পর রাইসা বাসা থেকে চলে গেলো।আবার একা হয়ে পড়লাম ,,একা থাকতে যে আর ভালো লাগে না আমার কিন্তু কাকে বোঝব ,কেউ তো বুঝতেই চায় না আমাকে ,
রাত হয়ে এলো,প্রায় গভীর রাত এখন,রাতের আঁধার ,অন্ধকার ,একাকীত্বের সাথে আমার সম্পর্ক অনেক পুরনো ।ইদানিং এই নির্জন রাতটা আমার শেষ হতেই চায় না ,,নির্ঘুম আমি জেগে থাকি একা প্রকৃতির নিয়মে যখন ভোর হয় তখন ও আমাকে জড়িয়ে থাকে এই অন্তহীন রাতের নিকষ কালো আঁধার।যখন সবাই রাত পোহালে একটি নতুন আশা নিয়ে নতুন দিন শুরুর উচ্ছাসে মাতোয়ারা,,,
আমি তখন ও আমাবস্যার মতো কঠিন কালো কষ্টের জালে অপাদ মস্তক জড়িয়ে থাকি ।আমার এই কষ্টের রাত হয়তো কখন ও শেষ হবে না ।
আর তার কারন আমার আব্বু_আম্মু ।সব ঠিকই ছিলো ।হঠাৎ করে এক দমকা ঝড় এসে বাবা মায়ের সম্পর্কের মধ্যে ফাটল ধরতে শুরু করলো ।সেই থেকে আমি একা,চার দেওয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ।একাকীত্ব.কষ্ট যে কী জিনিস তা আমার থেকে ভালো হয়ত এখন ও কেউ জানে না ।
তারপরেও হারিয়ে যাই হাজার মানুষের ভিড়ে, অথচ এতো মানুষের ভিড়েও কী ভিষন নিঃসঙ্গ আমি ।অন্তহীন পথে হেঁটে চলেছি,যার কোন শেষ নেই । বুকের ভেতরটা কষ্টের আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার ,আর কত যে পুড়বো তা আমি নিজেও জানি না ।বাবা মা কে হারানোর কষ্ট আমার ভিতরে জলন্ত আগ্নেয়খিরির মতো বিরামহীন তপ্ত লাভা উদ্বীরন করে চলেছে ,আর আমার ভিতরেই তা আটকে থাকছে ।কখন ও কী কেউ বুঝেছে কতখানি যন্ত্রনা আমার মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে ।বুঝতে কী পারবে আমার অনুভুতির গভীরতা ,আমার ভালোবাসার তীব্রতা ।হয়ত তারা পেরেছে ,,কিন্তু অবহেলা করেছে অবলীলায় ।তারপরেও কেউ ভাবলেনা একবারেও যে ,,
কতটা তীব্র অভিমান হলে একজন মানুষ এভাবে জীবনের প্রতি এতটা উদাসিন হতে পারে ???
পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় সে,
যে নিজের রাগ ,অভিমান,কষ্ট কাউকে দেখাতে পারে না ,একটু চিৎকার করতে পারেনা ,শুধু মৃদু হাসির আড়ালে চোখের পানি লুকিয়ে রাখে ।যেমন আমি ,,কাকে বলবো কষ্টের কথা কেউ তো আমাকে ভালোবাসে না ?
কেঁদে কেঁদে চোখ ফুলে উঠেছে তবুও এই চোখের পানি অঝোর এ বয়ে পড়ছে ,,কিন্তু এমন কেউ নেই যে ,এই চোখের পানি মুঝে দিয়ে বলবে ,একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে ?কষ্টের যেমন কোন শেষ ঠাকানা নেই তেমনি চোখের পানিগুলোর ও কোন শেষ নেই হুমম ?
অসহ্য এসব ভাবনাতেই রাত পেরিয়ে গেলো ।ভাবনার ও কল্পনার ও যে কোন শেষ নেই ,,আরো বেশি অসুস্হ হয়ে পড়ায় আর প্রায়ভেট ও গেলাম না ।
অসুস্হ হলে তো একদম কষ্ট লাগে না ,, কষ্ট তো তখন সবচেয়ে বেশি পাই যখন আমি অসুস্হ ,বিছানা থেকে উঠতে পারছি না জেনেও আব্বু আম্মু একটিবারের জন্যে দেখতেও আসে না ।
ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে থাকি এই বুঝি আব্বু আমাকে দেখতে আসলো ,কিন্তু না ? আমার পাশ দিয়েই চলে গেলো সকাল পেরিয়ে বিকেল হলো কিন্তু আমার কেয়ার করার জন্যে কেউ আসলো না ??
সন্ধ্যার একটু আগে_
মনে হলো শাহির কথা ও তো বলেছিলো এই সময় এ বাসাথেকে বের হতে,,
বাসাথেকে বের হয়ে দেখি শাহি মাঠে বস আছে,,আমাকে দেখেই ওর মুখে হাসি ফুটে উঠলো ।
একা দাঁড়িয়ে আছি ,শাহি আমার দিকে তাকিয়েই আছে ,সেই প্রথম দিনটার মতোই ,বাংলা সিনেমার মতো কিছুক্ষন শুভদৃষ্ট করলাম ,শাহি র চোখের দিকে তাকালে সেই মুহুর্তে কোন কষ্টের কথা আর মনে পড়ে না ।
ওর দিকে তাকিয়ে শুভদৃষ্টি করছি ।হিহিহি ,,হঠাৎআমার ঘাড়ে কারোর হাতের স্পর্ষ অনুভব করলাম এবং চমকে উঠলাম ।একটা আন্টি ছিলো কেমন আছি জানতে এসেছিলো ।আন্টি চলে গেলো_
আবার আমি শাহির তাকাইলাম ।ও আমাকে কিছু বলতে চাইছে ,ইশারা করছে ।ও চোখ দিয়ে ইশারা করে বলছে_
কেমন আছি ?
আমিও ঘাড় হেলিয়ে ইশারা করিয়ে উত্তর দিলাম একটু ভালো এখন ?
শাহি ওর কপালে হাত দিয়ে ইশারা করলো,জ্বর এখন ও আছে কী ?
আমি হাত দিয়ে ইশারা করলাম হ্যা আছে.।
ও আবার বললো ,খাইছো তুমি ?
সারাদিন কিছু খাইনী আম্মুর উপর অভিমানে ,মিথ্যা বলতে পারলাম না ,ঘাড় হেলিয়ে বললাম না ?
তখন ও একজনকে দিয়ে আজকেও ঝালমুড়ি আর চকলেট পাঠিয়ে দিলো ।
তখন একটি মিষ্টি হাসি দিয়ে ধন্যবাদ জানালাম ।
তখন শাহি ও একটা হাসি দিলো ,আমি ওর দিকে তাকিয়েই ছিলাম ,,
তারপর ওকে বাসায় যেতে বললাম ।ও বাসায় যাচ্ছে আর আমি ওর পথের পানে চেয়ে আছি ,,,ওকে যতই দেখি খুব ভালোলাগে ,,যদি কখন ও দেখতে না পাই তাই যতক্ষন ওকে দেখতে পাই বারবার ওর দিকে চেয়ে থাকি ??
যখন ওর পথের দিকে তাকিয়ে ছিলাম ও পিছেনে ঘুরে আমাকে বাসায় যেতে বললো ,আর একটা হাসি দিতে বললো ,
শত কষ্টের মধ্যে না চাইতেও একটু হাসলাম,,যাতে শাহি আমার কষ্টের কথা জানতে না পারে ,,রাতে আর ঘুমাতে পারলাম না ,বারবার শাহির মায়াবী চেহারাটা ভেসে উঠে ,,চোখ খুললে অন্যের মাঝে শাহিকে দেখতে পেতাম ,চোখ বন্ধ করলেও ও আমার চোখের সামনে ভেসে থাকতো ,,
পরের দিন টাও আব্বু আম্মুর অবহেলায় আর শাহির সাথে কিছু মিষ্ট সৃতির অনুভূতি নিয়ে কেটে দিলাম_
কিন্তু আজ একটা কথা খুব মনে পড়ছে_
কোন ফ্রেন্ড বা কেউ যদি আমাকে জিঙ্গাসা করতো ,,আমি কাকে ভালোবাসবো ??
তখন,,
আমি তাদের স্পষ্ট বলতাম_
"যে আমার চোখের ভাষা বুঝতে পারবে ,আমার শত ভুলের বারন হবে ,তাকেই ভালোবাসবো"
কেননা_
যে আমার চোখের ভাষা বুঝতে পারবে সে কখন ও আমাকে ছেড়ে চলে যেতে পারবে না ?
এই কথা মনে হলো তো খুব খুশি হলাম ,,তাহলে কী শাহিই আমার সেই রাজকুমার ??খুব হাসি পাচ্ছে কথাটা ভেবে_
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now