বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বোবা বউয়ের রোম্যান্টিক ভালোবাসা---০৩

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X ------------------------ _____________________ তাড়াতাড়ি বাসায় চলে আসলাম জেনিয়ার সাথে রোমান্স করবো বলে। . -মা মা জেনিয়া কোথায়? জেনিয়াকে তো কোথাও দেখছি না![ব্যাগটা পাশে রেখে] . -জেনিয়া তো বাসায় চলে গেছে।[কাজ করতে করতে] . -বাসায় চলে গেছে মানে? ওকে তুমি বললে না আমি না আসা পর্যন্ত যাতে অপেক্ষা করে।[মন খারাপ করে] . -দেখো বোকা ছেলে বলে কি? ওকে তো তুই এখনো বিয়ে করিসনি! শুধু আংটি পরিয়ে রেখেছিস। লোকজন দেখলে কি বলবে বল?[মাথায় হাত রেখে] . -যাই বলুক আমার জেনিয়া চায়। চলো।[আমি] . -কোথায়[আম্মু] . -জেনিয়াদের বাসায়। আজকেই বিয়ে করে নিয়ে আসবো ওকে। [মাথা নিচু করে] . -তোর কি হয়েছে? তুই ঠিক আছিস তো? [আম্মু] . কিছু না বলে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছি। কিছু ভালো লাগছে না। এই অল্প কয়দিনে জেনিয়ার প্রতি অনেক দুর্বল হয়ে গেছি আমি। . -যা বাবা ফ্রেশ হয়ে একটু রেস্ট নে। আমি দেখছি কি করা যায়।[আম্মু] . হাঁটতে হাঁটতে নিজের রুমে চলে আসলাম। ফ্রেশ হয়ে অল্প নাশতা করে ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে গেলাম। . ঘুম থেকে ওঠে তো অনেক অবাক হয়ে গেলাম। রুমটা বেলুন দিয়ে সাজানো। ."হেপি বারর্ডে টু ইউ! হেপি বারর্ডে টু ইউ !" হেপি বারর্ডে টু ইউ আওয়ার পিনস!"[সবাই একসাথে] . ও সেট! আজকে আমার জন্মদিন মনেই ছিলোনা! . একি জেনিয়ার আব্বু আম্মুও তো দেখছি এখানে! নিশ্চয় আম্মু ওনাদের আসতে বলেছে। কিন্তু জেনিয়া কোথায়? . -আম্মু জেনিয়া কোথায়?[ঘুম ঘুম চোঁখে] . -জেনিয়া আসিনি বাবা।[জেনিয়ার আব্বু] . -আসেনি মানে? কেন কি হয়েছে ওর? [রাগী কন্ঠে] . কেউ কিছু না বলে সবাই মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে! হঠাৎ করেই ফোনে একটা টেক্স আসলো! . "আমি জানি! তুমি হয়তো ভাবছো আমি কেনো আসিনি! আমি বোবা! কথা বলতে পারিনা! আজকে তোমার জন্মদিনে তোমার অনেক ফের্ন্ড আসবে! ওদের সাথে যখন আমাকে পরিচয় করিয়ে দিবে আমি তোমার স্ত্রী! তখন ওরা আমার সাথে কথা বলতে চাইবে। কিন্তু আমিতো বোবা। যখন শুনবে আমি কথা বলতে পারি না। তখন ওরা অনেক উপহাস করবে। তুমি অনেক কষ্ট পাবে। তাই ইচ্ছা থাকা সত্বেও আসতে পারলাম না!" . টেক্সটা পড়ে চোঁখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না! চোঁখ দিয়ে টপ টপ করে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগলো! . পাগলিটা আমাকে এতো ভালোবাসে! কিন্তু আমারও সব সুখযে ওকে ঘিরে। . . -কি হয়েছে? কাঁদছিস কেনো?[আম্মু] . -তোমরা একটু অপেক্ষা করো! আমি গিয়ে জেনিয়াকে নিয়ে আসছি![চোঁখের জল মুচতে মুচতে] . -ঠিক আছে যা। বউ পাগলা;ছেলে আমার। [বলেই সবাই একসাথে হেঁসে ওঠলো] . দৌড়ে বাসা থেকে নামতে গিয়ে কিসের সাথে জোনো ধাক্কা লেগে হাত অনেকটা কেটে যায়। কিন্তু ঐ দিকে আমার কেনো খেয়াল নেই। . নিচে নেমে বাইকটা স্টার্ট করে জেনিয়াদের বাসার সামনে এসে দাড়াই। বাসার বেল চাপতেই দরজা খুলে দিলো চাচা[কাজের লোক] ; -চাচা জেনিয়া কোথায়?[আমি] . -আরে পাভেল বাবা যে।[চাচা আমাকে বাবা বলে ডাকে] জেনিয়া মামুনি যে সেই কখন থেকে দরজা অফ কইরা বইসা রইছে দরজা খুলছে না! আবার দুপুর থেকে কিছু খাচ্ছেও না![চাচা] . -ঠিক আছে চাচা আমি দেখছি।[সিড়ি দিয়ে ওঠতে ওঠতে] . আস্তে আস্তে চুপি চুপি সিড়ি দিয়ে ওপরে উঠলাম! জেনিয়ার রুমের ডানপাশে একটা জানালা আছে। ঐটার কাছে গিয়ে পর্দাটা টেনে ও কি করছে দেখতে চেষ্টা করলাম! . আমার ধারনাই ঠিক! পাগলিটা কাঁদছে! ওর কান্না দেখে নিজেকে ঠিক রাখতে পারছি না! . দরজার কাছে গিয়ে টোকা দিলাম। কিন্তু পাগলিটা দরজা খুললো না। . -ঐ কি হয়েছে দরজা খেলছো না কেনো?[দরজার এপাশ থেকে] . ভিতর থেকে কেনো আওয়াজ আসলো না। কিছুক্ষন দাড়িয়ে থাকার পর পাগলিটা দরজা খুললো। . -কখন এসেছো?[হাতে ইশারা করে] . -এইতো এখন। তুমি কাঁদছো কেনো?[কোনো কিছু না জানার ভান করে] . -কই কাঁদছি? এই দেখো আমি কাঁদিনি![একটু হাসার চেষ্টা করে] . -কি ভাবছো আমি কিছু বুঝিনা! তুমি কাঁদছিলে আমি লুকিয়ে দেখেছি সেটা।[অশ্রশিক্ত চোঁখে] . জেনিয়া কিছু না বলে চোঁখের জলগুলোকে লুকাতে চেষ্টা করলো। . -কি জন্য? কার জন্য আমি জন্মদিন পালন করবো হা? আমি চাইনা জন্মদিন। আমি চাইনা কিছু! আমি যে শুধু তোকেই ভালোবাসি। তুই কি তা বুঝিস না?[হাত দিয়ে ইশারা করে বুঝাতে চেষ্টা করলাম] . পাগলিটা কিছু না বলেই ঝরিয়ে ধরলো। পাগলিটা মুখ দিয়ে কি জেনো বলতে চেষ্টা করলো। কিন্তু মুখ দিয়ে কেনো শব্দ বের হলোনা। শুধু চোঁখের অশ্রুগুলো গড়িয়ে আমার বুকে ভিজিয়ে দিতে লাগলো। . হঠাৎ করেই পাগলিটা আমাকে দূরে সরিয়ে দিলো। ; -কি হলো?[আমি] . পাগলিটা আমার হাতঁটাকে একহাতে সামনে তুলে ধরে অশ্রুশিক্ত চোঁখে বললো; . -হাত কি ভাবে কেঁটেছো হা?[চোঁখ গরম করে] . -না ও কিছুনা। এমনি পড়ে গিয়ে ব্যাথা পেয়েছি[মিথ্যা বললাম] . পাগলিটা হয়তো আমার মিথ্যাটাকে ধরতে পেরে গেছে। তাইতো আরও রাগী চোঁখে আমার দিকে তাকাচ্ছে। . -মিথ্যা বলবে না বলে দিলাম। আমি তোমার চোঁখের দিকে তাকিয়েই বুঝতে পারি তুমি সত্যি বলছো নাকি মিথ্যা বলছো[কোমরে হাত রেখে] . এইরে পাগলিটা তো দেখছি সত্যিই আমার মিথ্যাটাকে ধরে ফেলেছে। চোঁখের দিকে তাকিয়ে যদি মিথ্যা ধরে ফেলে তাহলে তো প্রতিদিনি বাশঁ খেতে হবে। ; -না মানে বাসা থেকে বেরুনোর সময় হাতে ব্যাথা পেয়েছি।[মাথা নিচু করে] . -ঐ তোকে কে বলেছিলো এতো পাগল হতে হা? আমি কি চলে যাচ্ছিলাম নাকি?[শার্টের কলার ধরে] . -বাহ রে তুমি কষ্ট পাবে আর আমি আনন্দ করবো এটা ভাবলে কি করে?[চোঁখের দিকে তাকিয়ে] . -পাভেল সাহেবকে আর ঢপ দিতে হবেনা! আমি যাবোনা ব্যস।[অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে] . -যাবে যাবে যাবে।[মুখটাকে শক্ত করে ধরে] . -যাবোনা যাবোনা যাবোনা![হাতে ইশারা করে] . -এ বললেই হলো যাবেনা। দরকার হলে খলনায়ক নিশা ভায়ের মতো জোর করে নিয়ে যাবো।[হ্যাচকা টান দিয়ে কোলে তুলে নিলাম] . সাথে সাথেই জেনিয়া আমার বুকের মধ্যে "ডিসুম ডাসুম" নায়েক আরেফিন শুভর ফাইট শুরু করে যাচ্ছে। .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now