বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এই ভাইয়া।
-জ্বি!
-আপনার সাথে কিছু কথা বলতে পারি!
-কোন ব্যাপারে!
-জাস্ট এমনি।
-সরি,আমার ইচ্ছে নেই।
-এত্ত ভাব কেনো।[বিড়বিড় করে]
-বুঝলাম না।
-কিছুনা।
-(..নিশ্চুপ।..)
-আপনি কিন্তু অনেক ভালো ক্রিকেট খেলেন।
-হুম।
-আচ্ছা আপনার কোনো মেয়ে ফ্রেন্ড নেই কেনো!
-এমনি।
-কোনো কারণ তো আছে।
-আপনার সমস্যা কি!দেখছেন একজন মানুষ কথা বলতে ইচ্ছুক নয়,তবুও আপনি তাঁর সাথে জোর করে কথা বলার চেষ্টা করছেন।নিজের কোনো কাজ নেই,আসছেন ফালতু পেঁচাল পাড়তে।
(নিমেষেই মেয়েটার হাসি-খুশি মুখটা মলিন হয়ে গেলো।)
-আমি তো জাস্ট...
-আপনি তো জাস্ট কি!বন্ধুত্ব করতে চাইছেন,জানেনই তো আমার কোনো মেয়ে বন্ধু নেই।তবে বুঝতে হবে আমি মেয়েদের সাথে বন্ধুত্ব করতে পছন্দ করিনা,না হয় মেয়েরা আমার সাথে বন্ধুত্ব করতে পছন্দ করেনা।তবুও ফালতু ট্রাই করে লাভ আছে।
-ওহ্,কিন্তু...
-ধ্যাত থাকেন তো আপনি,আমিই যাই।
বলে সেখান থেকে উঠে চলে গেলাম।আর মেয়েটা অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো।
এমনটা অবশ্য প্রথম নয়,এর আগেও অনেকবার হয়েছে।
.
পরেরদিন ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি হঠাৎ মেয়ের কণ্ঠে ডাক "রফি।"
পেছনে তাকিয়ে খেয়াল করলাম কালকের সেই মেয়েটা।
কোনো পাত্তা না দিয়ে আড্ডায় মন দিলাম।
কিছুক্ষণ বাদে খেয়াল করলাম কেউ একজন কলার চেপে ধরেছে।
পেছন ফিরে কিছু বলতে যাবো,তখনি বালিকা বললো "ওই শয়তান ছেমড়া তোর এত্ত ভাবনা!যাহ্ আর বন্ধুত্ব না এখন ডাইরেক্ট প্রেম করবো।"
এমন কর্মকাণ্ড দেখে ক্যাম্পাসের সবার চোখ জোড়া যেন আমাদের দুজনের দিকে আটকে গেলো।
তখন মনে জন্ম নেওয়া ভয়কে চাপা দিয়ে বললাম "এমন ফাজলামির কিন্তু কোনো মানেই হয়না,আমি স্যারের কাছে রিপোর্ট দিতে বাধ্য হবো।"
-আসছে বাচ্চাদের মতন রিপোর্ট রিপোর্ট খেলতে।পাড়লে অন্য কিছু কড়ে দেখা।
-আপনি আমায় তুই..তুই করে বলছেন কেনো!
-তো কি বলবো!কালকে ব্যবহারের কথা ভুলে গেছিস।[রাগি লুক দিয়ে তাকিয়ে]
-আপনি কিন্তু লিমিট ক্রস করছেন।
-লিমিটের দেখছিস কি!
-আপনি একটা....
(সবটা বলার আগেই,বলার পথটা আটকে গেলো।আর এক মুহূর্তে কিছু একটা ঘটে গেলো।যেটার পুরোপুরি মজা নিলো ক্যাম্পাসে থাকা বালক-বালিকাগণ।)
তারপর মেয়েটাকে আর কিছু বলার ক্ষমতা রইলোনা।
পাথর মনটা নিমেষে গলে পানি হয়ে গেলো।
তবুও মুড নিয়ে বলেই ফেললাম "আপনি মেয়ে না হলে আজ এখানে মার্ডার হয়ে যেতো।"
-যাহ্ আজকে আর কিছুই বলবোনা।যতো রাগ আছে ঝাড়তে পারিস।
-মানে কি!
-এদিকে আসো।
-না,আবার কিস করবেন।
-ধুর কানে কানে।
-বলেন।[মুখের কাছে কান নিয়ে]
-কালকে সবার সামনে প্রপোজ না করলে সবাইকে বলবো তুমি আমার এক বাচ্চার বাপ।[ফিস ফিস করে]
-হিহিহি,মজা করছেন!
-মোটেও না,আমি একদম সিরিয়াস।
-আমি মইরে গেলেও প্রপোজ করবোনা।
-ভালো ছেলে,ওকে করতে হবেনা।তবুও কাল দশটায় অপেক্ষা করবো।দেখি ভাগ্য আমায় মা বানায় নাকি প্রেমিকা।
বলেই হন হন করে হেঁটে চলে গেলো।ভয়ে আমিও বাসায় চলে আসলাম।
রাতে শুয়ে শুয়ে ঘটে যাওয়া সবটা ভাবছি।কিছু না করে বাবা হওয়ার খেতাব জেনো ভাবনার জগৎটাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।
কোনো উপায় না পেয়ে প্রপোজের অপশনটাই বেছে নিলাম।
.
পরেরদিন গোলাপ হাতে সরাসরি মেয়েটার সামনে গিয়ে বললাম "তোমার নামটা অজানা,অজানা তোমার পরিচর।ভাগ্যের কাছে হেরে গিয়ে তবুও বলছি,ভালোবাসবে কি আমায়!..I love you."
-গুড চয়েস।I love you too.
-এবার কি আমি মুক্ত!
-নাহ্,আমার ভালবাসার মায়ায় অবদ্ধ।
(বলেই বালিকা জড়িয়ে ধরলো।)
*
জন্মের চার বছর বয়সে বাবার কাছে একলা ছেড়ে মা অন্য পুরুষের ঘরে পাড়ি জমায়।
মা চলে যাওয়ার পর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন।
সেই থেকেই জিবনে কালো ঘনো মেঘ নেমে আসে।
যখন সবচেয়ে বেশী মায়ের আদর প্রয়োজন ছিলো তখন পেয়েছি সৎ মায়ের অবহেলা।
মায়ের কোলে মাথা রেখে ঘুমানোর বদলে বিছানার এক কোণে চোখের জলে নির্ঘুম কাটিয়েছি রাতের পর রাত।
তবে সবকিছু একটা সময় মানিয়ে যায়।শুধু ঘৃণা সৃষ্টি হয় নারী জাতটার ওপর।
সেই থেকে কখনো মেয়েদের আশেপাশে ভিড়তাম না।
.
তবে স্নেহার পাগলামির কাছে ঘৃণাটা একটু একটু করে বদলে গিয়ে ভালবাসার জন্ম দেয়।
মনের বাগানে পুড়নো সব ফুল ঝড়ে নতুন মুকুল ফোটায়।
এটাই হয়তো ভালবাসা..এটাই হয়তো ভালবাসার মায়া।
দুইমাসের রিলেশনে স্নেহার প্রতি অনেকটাই দূর্বল হয়ে গিয়েছি।
তাই ওকে মন থেকে প্রপোজ করতে দেখা কড়ার জন্য কল দিলাম....
-হ্যালো স্নেহা।
-হুম বলো।
-বিকালে দেখা করবা!
-কোথায়!
-তুমিই বলো।
-ক্যাম্পাসে।
-ওকে।
টুট..টুট
*
বিকেলে রেডি হয়ে গোলাপ হাতে ভার্সিটিতে গেলাম।
দূর থেকে দেখা যাচ্ছে ক্যাম্পাসে লাল ড্রেসে বালিকা বসে আছে।
তাই তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে কাছে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে গোলাপ সামনে ধরে বললাম "অনেকটা পথ চলে এসেছি,আর কিছু পথ চলতে চাই।তোমার হাতটা আকরে ধরে আর বাকি জীবন বাঁচতে চাই। I LOVE YOU SNEHA."
-ঠাসসসসস।
নিরীহ দৃষ্টিতে স্নেহার দিকে তাকালাম।
স্নেহা তখন অগ্নি দৃষ্টিতে বলতে লাগলো "কি যোগ্যতা আছে তোমার,আমার সাথে প্রেম কড়ার!নিজেস্ব কোনো পরিচরও তো নেই।আগে লেভেল দেখো।"
-তুমি যে আমায় ভালবাসতে![কাঁপা কণ্ঠে]
-হাহাহা,প্রথম দিনের কথা ভুলে গিয়েছিলে বুঝি!ক্যাম্পাসে সবার সামনে অপমান,তাও আবার আমায়।এত সহজে কিকরে ছেড়ে দিই বলোতো।
-মা..মানে স..সব নাটক ছিলো![কাঁপা কণ্ঠে]
-হুম।
-কি লাভ পেলে আমার সাথে এমনটা করে![কান্না জড়িত কণ্ঠে]
-জানিনা।
-খুব বড় ভুল কি করেছিলাম সেদিন!
-হ্যা,হয়তো জিবনের সবচেয়ে বড় ভুলের নাম হবে সেটা।
-যা ইচ্ছা শাস্তি দাও,কিন্তু ছেড়ে যেওনা প্লিজ।
-ইইইই,তোমার মতন ছেলের সাথে থাকার কথা ভাবতেও তো কেমন লাগে।
-প্রথম কোনো মেয়ের ভালবাসা পেয়েছিলাম,প্লিজ সেটা কেড়ে নিওনা।
স্নেহা তখন ক্যানে করে ওর হাতে থাকা স্প্রিড মুখে ছুড়ে মারে।
মুহূর্তে ক্যাম্পাস জুড়ে হাসির রোল পড়ে যায়।
অসহ্য রকমের সেই হাসির শব্দ সহ্য করতে না পেড়ে এক পা দু পা করে অনেক দূরে হারিয়ে যাই।
প্রতিশোধের জয় হয়,হেরে যায় ভালবাসা।
এই জীবন হয়তো কষ্টের বেশী কিছুই দিতে পারেনি,তবে শিখিয়ে দিয়েছে টাকার কাছে সবকিছু তুচ্ছ।
"collected "
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now