বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রাজপুত্র ও রাজকন্যার জাদু

"রূপকথা " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান sagor the gangster of king is here (crush) (০ পয়েন্ট)

X রাজপুত্র ও রাজকন্যার জাদু এক দেশে ছিল এক রাজকন্যা। তার করায়ত্ত ছিল এক বিশেষ জাদু। তার অঙ্গুলি হেলনে অতি সাধারণ শব্দরা মুহূর্তেই রূপান্তরিত হতো সুন্দরতম কাব্যে। একদিন রাজকন্যার অরণ্যভ্রমণের অভিলাষ হলো। একাকী সে অরণ্যভ্রমণে গেল। রহস্যময় সবুজ অরণ্যে তার সঙ্গে দেখা হলো ততোধিক রহস্যময় এক রাজপুত্রের। রাজপুত্র এক শব্দের জাদুকর। নিভৃতচারী রাজপুত্রের হাতে ধারালো তরবারি আজ পর্যন্ত কেউ দেখেনি। মৌনতাপ্রিয় রাজপুত্র তার সুস্মিত ঠোঁটের আশ্চর্য হাসি দিয়েই সব পার্থিবতার উত্তর দেয়। রাজকন্যা ও রাজপুত্র গন্ধরাজ জ্যোৎস্নায় ডুবন্ত রাতে বুনো পথে একসঙ্গে হেঁটে গেল সহস্র পা। তারা পরস্পরের উদ্দেশে নির্মাণ করল ভদ্রতাসূচক কিছু ধোঁয়াটে শব্দ ও বাক্য। পৌরাণিক রাজকন্যা ও রাজপুত্রদের মতো তারাও সুরের সঙ্গে নেচেছিল ক্ষণকাল। তখন তারা জাগ্রত ছিল, কিন্তু তাদের হূদয় ছিল নিদ্রিত। অরণ্যে যাপিত ক্ষণকাল শেষ হলো। রাজকন্যা ও রাজপুত্র ফিরে গেল তাদের পৃথক রাজপ্রাসাদে। মাঝেমধ্যে তারা বাতাসে কথার নৌকা ভাসিয়ে দিত পরস্পরের উদ্দেশে। বাতাসের প্রতিটি তরঙ্গে আলতো স্পর্শ দিয়ে সেসব কথাভর্তি নৌকা নিমেষেই পৌঁছে যেত গন্তব্যে। আবার কখনো কখনো প্রহরগুলো কাটত পারস্পরিক নৈঃশব্দ আর উপেক্ষায়। তারা স্বীয় চর্চায় ব্যস্ত থাকত। বাতাসের ফিসফিস সহসাই অবসর নিত দূতের ভূমিকা থেকে। হঠাৎ হঠাৎ একেক দিন রাজ্যের শ্রেষ্ঠ কবিদের সভায় তাদের চোখাচোখি হতো। তবে অধিকাংশ সময়ই রাজপুত্র সভাকক্ষের শ্বেতপাথরের মেঝে নিরীক্ষণে ব্যস্ত থাকত। জড়তার খোলস ছিল রাজপুত্রের জন্মদাগ। রাজকন্যা অবশ্য বরাবরই খোলস ভাঙা দলের সাহসিকা। তখন তারা জাগ্রত ছিল, কিন্তু তাদের হূদয় ছিল নিদ্রিত। কে জানে কবে থেকে তাদের নৈকট্যের পরিধি বেড়ে গেল আর দূরত্বের পরিধি সংকুচিত হলো। তারা একসঙ্গে যাপন করল কতিপয় বিকেল। সময়ের পাতা টুপটুপ খসে পড়ল অথৈ জলে। ভালোবাসার সেই বিশেষ আলো এসে লাগল রাজকন্যার চোখে। তার হূদয় জাগ্রত হলো। রাজকন্যা ও তার জাগ্রত হূদয় রাজপুত্রকে মুগ্ধ করল। তার হূদয় জাগ্রত হলো। দুপুর রোদের সাদা খোলস ভেঙে রাজকন্যা ও রাজপুত্রের হূদয় চোখ মেলল; বিস্ময়াভিভূত হয়ে দেখল, অন্ধকার সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে ছিল গোধূলির আনন্দ আলো। পরস্পরের উদ্দেশে তারা উচ্চারণ করল প্রাচীনতম প্রেমমন্ত্র। স্পর্শে প্রেম বিস্তার করল। সোনালি রঙের প্রেমপেয়ালা উপচে পড়ল। রাজকন্যা মুছে দিল রাজপুত্রের শিশিরভেজা মস্তক। রাজপুত্রের ভালোবাসার গন্ধরসে রাজকন্যার সর্বত্র আর্দ্র হলো। এখন তারা জাগ্রত এবং তাদের হূদয়ও জাগ্রত। নিদ্রার অভিশাপ থেকে দেবতা তাদের চিরতরে মুক্তি দিয়েছেন। এভাবেই রূপকথার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে প্রতিদিন। তারা এখন সুখে-শান্তিতে বসবাস করছে এবং অতঃপরও তারা সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে থাকবে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৮৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now