বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ছোট গল্প

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X -বিয়ে করব, মেয়ে খোঁজ। পরীর মত সুন্দরী। -অশিক্ষিত অতি রূপবতী একটা পাত্রী আছে আমার গ্রামে, করবি? শুধু পরী না একেবারে হুরপরী! -কি বলিস! গণ্ডমূর্খ মেয়ে বিয়ে করা যায় নাকি, আমার মান সম্মান সব যাবে তো। হোক হুরপরী! -তাহলে ৫ পাস? -না না, ৫ পাশ, ১০ পাশ দিয়ে চলবে না। সমাজে মুখ দেখাবো কি করে। আমি মাস্টার্স করলাম, আমার বউ এর অন্তত অনার্স তো লাগে। -একটা মেয়ে আছে, মাস্টার্স শেষ করেছে। ম্যাথমেটিক্স এ। খুব ট্যালেন্ট। -ট্যালেন্ট ধুইয়া পানি খাব। দেখতে কেমন? ফর্সা? -হ্যাঁ ফর্সাই। -ঘর সংসারের কাজ কেমন পারে? সংসারী? -তা তো বলতে পারিনা। সারাজীবন পড়াশোনা নিয়ে থেকেছে। এখন আবার স্কলারশিপ পেয়েছে আমেরিকায় যাবে পি এইচ ডি করতে। দেখবি? আমেরিকার কথা শুনে পাত্র একটু নড়ে চড়ে বসে। -কবে যাবে? -এইতো যাবে হয়ত ৪ মাস কি ৫ মাস পর। প্রসেসিং চলছে। মেয়ের বাবা মায়ের ইচ্ছা বিয়ে করিয়েই মেয়েকে আমেরিকা পাঠাবে। -তা তো বটেই। বিয়ে ছাড়া বিদেশে আবার মেয়েদের পাঠানো যায় নাকি!! কীসব করে বেড়াবে। একেবারে নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু ঐ মেয়ে নাহয় পি এইচ ডি করবে ঐ খানে, আমি কি করব? আমি তো এমবিএ করেছি শুধু। ব্যাঙ্ক থেকে ছুটি নিলাম নাহয়। কিন্তু কয়দিনই বা পাব। -আরাম করবি, সাদা সুন্দরী দেখবি। -তা করা যায়। কিন্তু পি এইচ ডি করা শেষ হলে দেশেই ফিরব। -সেটা বিয়ে হলে দুজন মিলে না হয় ঠিক করিস পরে কি করবি। - না না, দুজন ঠিক করার কিছু নাই, পি এইচ ডি করে দেশেই ফিরব। দেশে আমার বুড়া বাপ মা আছে। বুড়া বয়সে বউ এর সেবা না পেলে ওদের মনে কষ্ট হবে না। -তা যা বলেছিস। মেয়েটার বাপ মা তো আর ততদিন বাঁচবে না। -আরে বাচলেও কি মরলেই বা কি। বিয়ে হয়ে গেল মানেই তো আমার সম্পত্তি। আমি যা বলব তাই হবে। -তুই তো ভালই দেখি, শিক্ষিত বউও চাই, আমেরিকার নাগরিক ও হতে চাই, দেশে বাবা মা কে বউ এর সেবাও দিতে চাই। বাহ!! -চাইতে দোষ কি, চাইতেই পারি। অন্যায় তো কিছু আর চাইনি। -তা চাসনি। তাহলে কথা বলব মেয়ের বাড়িতে? -বল। সম্মতি দেয় ছেলেটি। অতপর বিয়ে হয়েও যায়। মেয়েটি পি এইচ ডি করতে আমেরিকা যায়। ছেলেটি ব্যাংক থেকে ছুটি নিয়ে বউ এর সাথে এক বছর ওখানে থেকে দেশে ফেরত চলে আসে। দেশে আসার পর সবার এত এত কথা, "পি এইচ ডি করা মাইয়া বিয়া করছ, লাগাম তো হাতে থাকব না জানা কথাই।" "একটা নাতি নাতনির মুখ দেখতে চাইলাম, তা কবে হইব কে জানে। বউই তো ঘরে নাই।" "কত শখ কইরা বিয়া দিলাম পোলার বউ এর হাতে সংসারটা ছাড়মু, কপালে নাই।" ওদিকে মেয়েটা সকাল সন্ধ্যা রাত কষ্ট করে বাবা মা ভাই বোন স্বামী আত্মীয় স্বজন সবাইকে ফেলে বিদেশে পড়াশোনা আর কাজ করে যায়। একদম একা একা। স্বামীর সাথে কথা বলতে গেলেই শুধু নালিশ শুনতে হয়। কি করবে ভেবে পায়না। সারাজীবনের স্বপ্নকে ছাড়তেও পারেনা, স্বামীকে প্রচণ্ড ভালবাসে কিন্তু তাকে বোঝাতেও পারেনা। ধুকে ধুকে এগিয়ে যায় এর মধ্যে। বলে একটু অপেক্ষা করতে। পি এইচ ডি শেষ হলেই ও দেশে ফিরে যাবে। এখানে এত ভাল চাকরির অফার সব ফিরিয়ে দেবে, মনে মনে ভাবে। স্বামীকেও তাই বলে, কিন্তু তারপরেও কেউ বোঝেনা। একটাই শুধু নালিশ সবার। "এ কেমন মেয়ে বিয়ে করালাম!! এতো বউ না, বউ এর কোন কাজও করে না, ছেলের সাথেই থাকতে পারছে না। কবে না কবে ফিরবে, ততদিন তাদের ছেলে কীভাবে থাকবে!! "সবাই বউ কই জানতে চায়, কয়দিন পিএইচডির কথা বলবে!" "বিয়ের পর স্বামী, শশুরবাড়িই না একটা মেয়ের সব, দূর বিদেশে অংকের মত ছাইপাঁশ নিয়ে কেমন করে এই মেয়ে পড়ে আছে!!" ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ এই একই ঘটনা যদি তার স্বামীর সাথে হত, অর্থাৎ ছেলেটি বছরের পর বছর বিদেশে পরে থাকত, কাজে বা অকাজে, কেউ ভ্রূক্ষেপও করত না। আর যদি ছেলে পি এইচ ডিই করত তবে তো ছেলের আত্মীয় স্বজনের মাটিতে পা পড়ত না, ৩ ফিট উঁচু দিয়ে হাঁটত। তাদের এমন ছেলের সাথে এই মেয়ের বিয়ে হয়েছে এটাই সেই মেয়ের সাত জন্মের সৌভাগ্য এটাই দিনের মধ্যে ৭০০ বার বোঝাত। একারনেই বলি, মেয়েদের স্বপ্ন দেখতে নেই। ১৬, ১৮ না, জন্মাবার পরেই বিয়ে দিয়ে দেয়া উচিৎ। মায়ের বুকের দুধ খাওয়া শেষ হলেই শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দেয়া উচিৎ। আমাদের নানি দাদিরা তাদের স্বামীর সংসার ছাড়া কিছু বুঝত না কারন তাদের বিয়ে হত ৭ বছর ৮ বছর বয়সে। স্বামীকেই সারাজীবন চিনত, যাই করত নাই করত, মাথা পেতে নিত। আর কোন অবলম্বন ছিল না তাদের। এখনও সেটাই করা উচিৎ। কারন স্বপ্ন দেখতে দিলে তা মুক্ত আকাশে উড়তে উড়তে কোন সীমায় ঠেকবে তার যেমন নির্দিষ্ট সীমা নেই তাই এরচেয়ে এদের স্বপ্ন দেখার আগেই চোখ নষ্ট করে দেয়া উচিৎ। স্বপ্ন দেখে ভাঙ্গার চেয়ে না দেখা ভাল। আর যদি কোন মেয়ে স্বপ্ন দেখে, নিজেকে রঙ মাখা সং সাজা পুতুল না ভেবে মানুষ ভাবতে চায়, নিজের যোগ্যতা দিয়ে বিশ্বজয় করতে চায় তবে তাদেরই আছে সেই অধিকার, নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার, ভেঙ্গে দেয়ার এই নষ্ট সমাজকে, অমানুষদের অমানবিক রীতিনীতিকে। (বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ছোট্ট শিল্পীদের গল্প
→ মা-কে নিয়ে ছোট্ট একটি সত্য গল্প
→ ছোট গল্প বিয়ে
→ ☠ ছোট কিছু ভৌতিক গল্প ☠
→ ছোট গল্প---০২
→ অনুপ্রেরনার ছোট্ট গল্প.২
→ অনুপ্রেরণার ছোট্ট গল্প
→ হিমুর হাতে একটি বড় কই মাছ (ছোট গল্প )
→ ছোট্ট একটা মন ভালোর গল্প
→ আমার ছোট্ট পরীর গল্প
→ ছোট গল্প
→ ছোটগল্প
→ ছোট্ট একটা ভালবাসার গল্প
→ ।। রাতের পাহারাদার ( বিদেশী ছোট গল্প)।।

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now