বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
$~মা ও আমি~ $
→→→→→→→
বহু পুরোনো বাস্তবতা লিখছি।সকলই স্মরন হয়না।
সবকিছু অস্পষ্ট হয়ে গেলেও মনে দাগ
কেটেছে এই ঘটনা। আজও প্রতিশোধ নিতে
জাগিয়ে তুলে আমাকে।তবু শান্ত হয়ে চলার চেষ্টা
করি।১১বছর আগের কথা,,
আমি সামি ২য় শ্রেনিতে পড়তাম তখন।৮ বছর ছিল
তখন।এখন ১৯ এ পা রাখতে যাচ্ছি।আসল ঘটনায় যাই।
.
তখন সুন্নতে খাৎনার জন্য ছুটি নিলাম ম্যাডামের কাছ
থেকে।১৫দিনের ছুটি।যাক সুষ্ঠু মতেই খাৎনা
সম্পন্ন হলো।কিন্তু ঘটনা বাধলো সাতদিন পর।প্রায়
শেষের পথে ছিলাম।কিন্তু অপর এক ভাইয়ের
সুন্নতে খাৎনা দেখতে গিয়ে বিপদ ঘটলো।একটু
শয়তানি করেছিলাম সুন্নতে খাৎনা কারীর সাথে।
ফলে তিনি আমাকে অভিশাপ দিলেন।কাজেই কবুল
হয়ে গেল।
অভিশাপের ২ দিন পর।শয়তান পিছু ছাড়েনি। লেগেই
ছিলো।বড় আপা তাল তোলে দিলো চাল ডাল দিয়ে
নিজেরা রান্না করে (চুলাপাতি)খাবার।তো আমি চাল
এনে আপুর কাছে দিলাম।পাশেই বাতিতে আগুন
জ্বালানো ছিল।খেয়াল করিনি। বাতাস বইছিলো
জোরে।ফলে বাতাসের কারনে আগুন এসে
লাগলো আমার লুঙ্গিতে।আমি বাকরুদ্ধ ও নিরুপায়
হয়ে দাড়িয়ে ছিলাম।ও দিকে আগুন ছড়িয়ে পড়তে
লাগলো।ছোট মা(সৎমা)আগুন নেভাতে ব্যস্ত
হয়ে পড়েছিল।কিন্তু তিনি আমার মাকে ডাকতে
পারতেছিলেন না।কথায় আছে বিপদে বুদ্ধি পালায়।যাক
শেষ মেষ মা এসে চিৎকার দিয়ে আগুন নেভাতে
লাগলো দুহাত দিয়ে।ততক্ষনে আমার বাম উরুর দিকটা
পুড়ে গেছে।আগুন নিভলো।কিন্তু সৎমা আর
মায়ের হাতের অংশের কিছু জায়গা পুড়ে যায়।
অবশেষে আমাকে ন্যাংটা করে পুড়ে যাওয়া অংশে
ডিম ভেঙে দিলো মা।যাতে জালাপুড়া টা কমে যায়।
পরক্ষনে চাচার সাহায্যে আমাকে মেডিকেল নিয়ে
যাওয়া হলো।
ঘুম থেকে জেগে ওঠলাম কারো চিল্লাচিল্লিতে।
শুয়ে আছি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
ডাক্তার আসার নাম নেই।বাবা নানার সামনে মাকে
অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করলো।মা কিছুই বলে নি।
সয়ে গেছে নিরবে।অবশ্য গালিগালাজ করার কারন
আছে।কারন,,
আমার পুড়ে যাওয়া ঘটনার সময় বাবা অফিসে ছিলো।
বাড়ি এসে সব জানতে পারলো।তার আগে আমার
ভাবি,সৎমা,চাচি,জ্যেঠি মিলে একটা চক্রান্ত করে
ফেলেছে।আব্বা বাড়ি আসার সাথে সাথে
বলেদেয় যে আমার মা আমার শরীরে আগুন
লাগিয়ে দিছে।আপনারাই বলুন কোন সুস্হ স্বাভাবিক মা
কি তার ছেলেকে মেরে ফেলতে চায়?আর
একারনেই গালিগালাজ করে মাকে আমার বাবা।নিরবে
আমি আমার মা হাসপাতালে বাবার এ ব্যবহারে
চোখের পানি ফেলেছি তখন।একমাত্র নানা মাকে
শান্তনা দিচ্ছিল।যে তার রাগ ওঠে গেছে তাই এসব
বলে শান্ত হোক।সেদিন প্রতিবাদ করতে পারি নি
বাবা ব্যবহারের।শুধু চোখের পানিতে মা আমি
বুঝাতে চেয়েছি যে এটা দুর্ঘটনা।কারন,আমি মা
জানতাম আসল কারনটা।
.
চাচি, ভাবি,সৎমা ওইসব বলে ছিলেন শুধু মাকে বাড়ি
থেকে তাড়িয়ে দেবার জন্য।কারন,আমার মা কে
তাদের ভাল লাগতো না। আমার বাবা দ্বিতীয় বারে
আমার মাকে বিয়ে করার অপরাধে তারা সবাই
চক্রান্তে মেতে ওঠে।
.
যখন ২০০৬এ নতুন বাড়ি করি।তখন পুকুর ভরাট করে বাড়ি
করতে হয়েছিল।মাটি ভরাট করে তা সমান করা এবং ইট
টেনে কাজে সাহায্য করার কারনে আমার মায়ের দু
হাতে দাগ পড়ে যায় যেটা এখনো আছে।আমি যখন
মায়ের পেটে ছিলাম তখন আমার মাকে পস্রাব করার
জন্য জায়গা দেয়নি চাচিরা।কেননা, পাশেই জঙ্গল ছিল।
যাই হোক। ময়মনসিংহ মেডিকেলে যখন ভর্তি ছিলাম
তখন ডাক্তারদের খোজ নেই।তাই রাতেই চলে
আসি উইনারপার মেডিকেলে।এখানে থাকি প্রায় ১
মাস।প্রতিরাতে বেড ভাড়া ৫০০ টাকা।যেদিন পুড়ে
যাওয়া অংশের ড্রেসিং বা ওয়াশের কাজ করার জন্য
ডাক্তার রা আসতো,তখন আমি তান্ডব শুরু করে দিতাম।
ড্রেসিং করার সময় ব্যথার চোটে চিৎকার করতাম।
অনেক গালিগালাজ করতাম ডাক্তার দের।একবার তো
ডাক্তার কে লাথি মেরেছিলাম।তাই পরে
ড্রেসিংয়ের সময় আমার হাত পায়ে চারজন ধরে
রাখতো।আমার কষ্ট দেখে মা যখন কাদতো, তখন
আমিও কেদে দিতাম।কতরাত মা ঘুমায় নি,খায়
নি,কেদেছে তা আমার জানা নেই।ডাক্তারদের সর্ব
চেষ্টার ফলে সুস্হ হয়ে ওঠি।এবং বাড়ির দিকে রওনা
দেই।
আমি হাসপাতালে থাকতে আমার বাড়ির কেউ যায়নি
আমাকে দেখতে।আমার সৎ বড় ভাই ছাড়া। যদিও ভাবি
চাচি গিয়েছিল,কিন্তু তারা বাবাকে যা বলেছিল,হাসপাতাল
েও তা এমপি শাশুড়ির কাছে বলেছিল।
২০১৩ সালে পুর্বের বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছি
নতুন বাড়িতে। সৎ মা,ভাই,বোন,ভাবি চক্রান্ত করে বাড়ি
ছাড়তে বাধ্য করে মা বাবাকে।বাড়ি ছেড়ে চলে
আসার দিন কেউ বাধা দেয়নি।যদিও আমার মা
সৎভাইবোনকে ছোট থেকে বিএ পাস পর্যন্ত
বড় করেছে।
.
আসলে আমি মা পাগল ছেলে।যত ঝগড়াই করি না
কেন,পরে নিজেই কষ্ট পাই,এবং মায়ের কাছে মাফ
চাই।মা হচ্ছে এমন ব্যক্তি,যিনি সন্তানের দেয়া
কোন কষ্ট মনে রাখেন না এবং তার প্রতিদান দেন
না।
ভুলত্রুটি মাফ করবেন।গল্পটা বাস্তব।
# উৎসর্গ :মা কে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now