বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
!!!!ভালবাসি তোহ!!!!
.
মেয়েটি আজকেও টি-শাট্ আর জিন্স পড়ে ক্লাস এ এসেছে। আমার মনে মনে খুব রাগ হচ্ছে না পারছি সরাসরি কিছু বলতে না রাগ সামলাতে পারছি। ক্লাসের সবাই বোরখা,হিজাব করে ক্লাসে আসে। আর উনি টি-শার্ট,জিন্স পড়ে ক্লাসে আসেন।
.
আমি রিফাত অনাস্ ফাস্ট ইয়ার এ পড়ি আর
মেয়েটি ইথি আমার ক্লাসমেট।
.
ক্লাসের ফাঁকে ওর দিকে তাকিয়ে এসব ভাবছিলাম আচ্ছা এসব টি-শার্ট জিন্স পরে কি হয়? লজ্জা করেনা ওর ক্লাসে তো সবাই বোরখা পরে আসে তাহলে ওর সমস্যা কোথায়?
শুনেছিলাম ইথির আব্বু নেই সেই ছোটতে মারা গেছে তাহলে কি ধরে নিবো যাদের মা বাবা নেই তারাই এরকম হয়?
না ভুল চারপাশের পরিবেশ,কারো উৎসাহ
এর কারণে এসব দিকে কিছু কিছু মেয়ে যায় যার মধ্যে ইথি একজন এর কি পরিবর্তন নেই? হয়তোবা আছে।
.
ক্লাসে স্যার আসলো আর আমার ভাবনায় ছেদ পড়লো চুপচাপ ক্লাস করে বাসায় গেলাম বিকেলে প্রাইভেট হিসাববিজ্ঞান যথারিতি
গেলাম প্রাইভেট। আমাদের কলেজের পাশে মার্কেট সেখানে একটি জায়গায় পড়ানো হয় প্রাইভেট শেষে একটু দরকারে মার্কেট এ ঢুকলাম।
.
ইথির মত কাউকে দেখলাম আমি তেমন গুরুত্ব না দিয়ে কাজ শেষ করে বের হলাম। আরে! এটাতো ইথিই প্রথমে তাহলে ভুল দেখিনি ইথির সাথে একজন কে দেখছি মনে হয় বয়ফেন্ড রিক্সা করে ঘুরছে
.
এদের কাজ ই তো এসব বিকেল হবে ঘুম থেকে উঠে আশেপাশে কোন পার্ক,শপিংমল বা মার্কেট এ টহল দেয়া এমন সব ব্যাপার মনে হবে এসব ওদের বাপ-দাদার সম্পত্তি।
একদিন যদি না আসে এরা তবে কোটি টাকা লস হবে।
.
মেজাজটা খারাপ হয়ে গেল। সন্ধ্যা হয়ে আসছে তাই তাড়াতাড়ি বাসায় যেতে হবে দেরি হলে আম্মু আবার বকাবকি করবে।
.
পরদিন ক্লাসে যেতে একটু দেরি হয়ে গেছে গেইট ঢুকতে যাবো এমন সময় ভুলবশত ইথির সাথে ধাক্কা! ওপ্স আর কোন মেয়ে নাই নাকি এই মেয়েটার সাথে অবশেষে! ও চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
আমি বললাম
.
~সরি খেয়াল করিনি
-ইটস ওকে
.
ইথির সাথে কথা বলার একটা সুযোগ পেয়ে মিস করলাম না। আর ওকে যদি এখানে বলি তবে থাপ্পর মারলে কেউ দেখতে পাবে না।
আমি আবার বললাম
.
~একটা কথা বলি
-হ্যা অবশ্যই
~আপনার ড্রেসআপ এরকম কেন? না মানে আমি বলতে চাচ্ছি ক্লাসে তো সবাই বোরখা পড়ে আসে কিন্তু আপনি
-কেন বলোতো?
-আপনাকে এসব ড্রেস এ মানায় না আর এসব পড়া তো ঠিক না।
~কিন্তু আমিতো ছোট থেকেই এসব পোশাক পড়ি
-ওহ্ আচ্ছা
.
আমি আর কিছু বল্লাম না। গোড়াতে প্রব্লেম থাকলে কি এতো সহজে সমাধান হবে একটু সময়তো লাগবেই।
আমি বললাম
.
~আমরা কি বন্ধু হতে পারি?
-হ্যা অবশ্যই
~আচ্ছা চলো ক্লাসে যায়
-হ্যা চলো
.
ক্লাস শেষে ইথি ওর নাম্বার,ফেইসবুক আইডি শেয়ার করলো। যা ভেবেছিলাম তাই ওর আইডিতে নিজের পিক দেয়া আছে তাও আবার পাব্লিক করা লাইক,কমেন্ট এর অভাব নেই আচ্ছা পিক গুলোতে দুই-তিন হাজার লাইক পড়লো এই লাইক, কমেন্ট দিয়ে কি হবে? এগুলো তো খাওয়ার জিনিস না কিছু লাইক কমেন্টের জন্য নিজের এতো সুন্দর চেহারা পর পুরুষ এর কাছে উপস্থাপন করা বোকামি ছাড়া আর কি?
.
রাতে স্টাডি পর ডিনার করে ফেসবুকে গল্প পড়ছিলাম। ইথিকে একবার কল দিবো? না মেয়েটা আবার কি না কি ভাবে কে জানে থাক দিবোনা কল। তাহসানের ''ও অভিমানি'' শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে যায়।
.
ক্লাসে গিয়ে দেখি ইথি আসেনি বন্ধুদের সাথে গল্প করছিলাম এমন সময় ইথি ক্লাসে আসলো হাত নেড়ে হাই বল্লাম ও অন্যমনস্ক হয়ে আছে চুপচাপ গিয়ে সিটে বসলো।
.
কি ব্যাপার! মেয়েটাকে এমন দেখাচ্ছে কেন?চোখ মুখ লাল হয়ে আছে আমি ওর কাছে গিয়ে বললাম
.
~তুমি ঠিক আছো?
.
একথা বলা শেষ করতে না করতেই ইথি বাচ্চাদের মতো কান্না শুরু করলো
.
-কি হয়েছে ইথি কান্না করছো কেন?
~আমাকে একটু বাইরে নিয়ে যাবে ক্লাসে ভালো লাগছেনা
-আচ্ছা চলো
.
একটা রিক্সা নিলাম দুজনে উদ্দেশ্য শহর থেকে ওকে একটু বাইরের পরিবেশ টা দেখানোর জন্য। প্ল্যান আরকি সারাদিন রিক্সা ভ্রমণ। আর ওর সমস্যা কি সেটাও জানা হবে।
.
শহরের কোলাহল থেকে বের হলাম যাক! একটু বাঁচলাম। আমি ইথিকে বললাম
.
~তখন কাঁদছিলে কেন?
-কিছুনা (জোরে কান্না শুরু করল)
~ইথি তুমি যদি না বলো বুঝবো কি ভাবে?বলো প্লিজ
-ও আমাকে আর ভালোবাসে না ও অন্য মেয়েকে ভালোবাসে
~কে?
-আবির
.
বুঝলাম বিএফ এর সাথে রিলেশন ব্রেকআপ হয়ে গেছে।
.
~ঠিক হয়ে যাবো কেঁদনা প্লিজ
-না কোনদিন ঠিক হবেনা ও এখন অন্য
কারো
.
শান্তনা দিলাম কিন্তু না মেয়েটা কেঁদেই চলেছে তারপর বেশ কিছুক্ষণ পর থামলো।
.
আমি ওকে নিয়ে বেশিক্ষণ থাকলাম না বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসলাম। যদিও ইচ্ছে ছিলো আরো কিছুক্ষণ থাকবো।
.
আসলে ওদের ব্রেকআপটা আমিই করিয়েছি। সেদিন প্রাইভেট শেষে ইথির বয়ফ্রেন্ড এর সাথে দেখা।
.
-ভাইয়া কিছু কথা ছিলো
~কে আপনি?
-আমি ইথির ক্লাসমেট
~ও হ্যা বলুন কি বলবেন
.
তারপর আর কি ইথির সম্পকে কিছু খারাপ মন্তব্য করলাম। ক্লাসের দুইটি ছেলের সাথে ইথির রিলেশন। ইভেন ক্লাসে সারাক্ষণ ফোনে কার সাথে যেন কথা বলে। আর তাতেই কাজ হয়ে গেল সাথে সাথে ইথিকে ফোনে অনেক কিছু শুনিয়ে ব্রেকআপ বলে ফোন কেটে দিলো।
.
ব্রেকআপ করার কারণ ইথি যদি এই রিলেশনে থাকতো তবে হয়তবা কোনদিনই ও ভালো মেয়ে হয়ে উঠতে পারতো না। ওর ড্রেসআপ এর জন্য মনে হয়না ওর বিএফ কিছু বলে। আর আমিও চাইনা আমার বন্ধুর ড্রেসআপ এরকম থাকুক।
.
বাসায় গিয়ে ঘুম দিলাম। বিকেলে উঠে দেখি ইথির ৫টা মিসডকল আমিতো পুরাই অবাক! ইথি আমাকে হঠাত্ কল দিলো কেন? আমি কল ব্যাক করলাম
.
~কল দিয়েছিলে?
-হুম. কি করছো?
~ঘুম থেকে মাত্র উঠলাম? তুমি?
-কিছুনা. কাল কলেজ আসবে?
~না গেলে আম্মু বকবে তাই যেতেই হবে
-আচ্ছা কাল দেখা হবে
~আচ্ছা
.
ক্লাসে ঢুকে সেই লেভেল এর অবাক হই! ইথি হিজাব করে এসেছে কিন্তু সাথে জিন্স। জিন্স দেখেতো মনটা খারাপ হয়ে গেলো।
ইথির কাছে গিয়ে বললাম
.
~জিন্স কেন?
-সরি
~যদি পর্দা করো ঠিকভাবে করবা এরকম লোক দেখানোর দরকার নেই
~আসলে আমার তো বোরখা নেই বানাতে
দিয়েছি কাল থেকে পড়ে আসবো প্রমিস
-সত্যি তো
~হুম সত্যি
.
মেয়েটা অবশেষে ক্লাসের অন্য সব মেয়ের মতো বোরখা,হিজাব করে আসবে এটা
শুনে অনেকটা খুশি খুশি লাগছে।
.
ইথিকে বোরখা পড়ে বেশ মানিয়েছে
প্রথমে দেখে আমিতো চিনতেই পারিনি
পরে বুঝতে পারি এটাই ইথি
.
আস্তে আস্তে ইথি অনেক চেঞ্জ হয়।এখন আর ওকে জিন্স পড়ে রাস্তায় দেখা যায়না। বিকেলে আর তেমন বের হয়না বললেই চলে।
.
ইথির প্রতি আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে যায় আমি জানি ইথিও আমার প্রতি দুর্বল কারণ আমার প্রতিটা কথাই শোনে আর আমার অনেক কেয়ার করে কখন খাচ্ছি,ঘুমাচ্ছি কিনা,পড়ছি কিনা,ফোন করে অনেকক্ষণ কথা বলা এসব।
.
একদিন ক্লাসে একটা পড়া বোঝানোর জন্য এক বান্ধবীর কাছে যাই। ইথি সেটা দেখে রাগে ফুলছে। বেশ অবাক হই আমি। এভাবেই বুঝতে পারি ইথিও মনে হয় আমাকে ভালোবাসে।
.
একমাস এভাবে কেটে গেলো নাহ আর দেরি
করা যাবেনা। আমার মনের কথা ইথিকে বলে দিবো কাল
.
পরদিন গেলাম কলেজ। ক্লাস যথারিতি শেষ হয়ে গেছে বাসায় যাচ্ছে যে যার মতো। আমি চুপ করে বেঞ্চে বসে আছি।
ইথি বলল
.
~কি হলো চলো?
-ইথি কিছু বলার ছিলো
~হ্যা বলো
-আসলে
~কি আসলে?
-না মানে
~হিহি এরকম করছো কেন? যা বলবে
নির্ভয়ে বলতে পারো
~ইথি আমি তোমাকে ভালোবাসি
.
কথাটা বলেই চোখ বন্ধ করে নিলাম। না জানি কয়টা থাপ্পর খেতে হবে। ইথি আমাকে অবাক করে দিয়ে হেসে উঠল।
আমি বললাম
.
- হাসছো কেন?
-হিহি চোখ বন্ধ করে আছো কেন? আর এটা
বলতে এতো সময় লাগে?
~কেউ তো দুই তিন বছর চেষ্টা করেও বলতে পারেনা আর আমিতো
-হয়েছে হয়েছে এরকম সাহস আর কাউকে
দেখাতে হবেনা
~আমার উত্তর?
-বুদ্দু আমিও তোমাকে ভালবাসি।
.
###collected
·
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now