বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কষ্টের গলি। পার্ট--1

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান এস এম মোরশেদুল ইসলাম (০ পয়েন্ট)

X কষ্টের গলি,,,, ১ম পর্ব ----মানুষ যে এতটা কেয়ার লেস হয় আমার একদম জানাই ছিলনা। ---এইতো আমাকে দেখেই জানতে পারোনা।কতটা কেয়ারলেস হতে পারি। ---তাতো দেখতেই পারছি,কারো অপেক্ষার কি কোন মুল্য দিতে জানো,না কারো ভালো বাসা বোঝার কোন ক্ষমতা আছে তোমার। (তুহিন রেগে যায় ভালবাসার জন্য সে কিইনা করেছে এমনকি মৃত্যুর দারপ্রান্ত থেকে ফিরে এসেছে সে।অথচ তাকেই মায়া এ কথা বলল) ----এই যে শুনুন আমিও না কাউকে ভালবাসতাম,তাই ভাল বাসার মুল্যটা দিতে জানি। --বা বা এতই যখন মুল্য দিতে জানেন তাহলে আমাকে বিয়ে করলেন কেন। ---বিয়ের আগেতো বলোনি যে অভির সাথে তোমার প্রেম ছিল। ---বিয়ের পরে তো বলেছি,তাহলে এখোনো ডিভর্স দিচ্ছোনা কেন। ---হা হা হা,আমাকে ডিভর্স দিচ্ছোনা কেন, এটা কি ছেলে খেলা পাইছো।এটা আমার দারা অসম্ভব।যদি পারো তুমিই ডিভর্স পেপার পাঠিও আমি সাইন করে দেবো। ---এটা আমার পক্ষে অসম্ভব,বাবা মার মুখের উপড় কথা বলতে পারিনা বলেই তো একটা আবুলের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি। ---আহারে রানি এলিজাবেথ, বাবা মার মুখের উপড় কথা বলতে পারেনা,আবার ডিভর্স চায়।বাসায় গিয়ে বাবা কে বল এই আবুলের ঘর তোমার ভাল লাগেনা,আমি ডিভর্স চাই।আর যদি না পারো তাহলে চুপটি করে এই সংসারেই পড়ে থাকো। মায়া আর কোন কথাই বলতে পারেনা,শুধু নিঃশব্দে চোখের জল ফেলে।আর কোন উপায় নেই অভি কে জীবন সংগি হিসেবে পাওয়ার।দীর্ঘ তিন বছরের রিলেশন ছিল তাদের।অভি হিন্দু আর মায়া মুসলমান।সমস্যাটা এখানেই।আর যার কারনে মায়ার বাবা মায়াকে তুহিনের সাথে বিয়ে দিয়ে দেন।ভেবেছিলেন বিয়ের কয়েক মাস পর হয়তো সব ভুলে গিয়ে সংসার মুখি হবেন। কিন্তু না হলো তার উল্টোটা বিয়ের তিনমাস হলো কিন্তু মায়া অভিকে ভুলতেই পারছেনা,আর কষ্টটা পেতে হচ্ছে তুহিনকে। -------------------------------- আজ মায়ার জন্মদিন জীবনের এই প্রথম জন্মদিনটা সে স্বামীর বাড়িতে পালন করবে।সকাল থেকেই অনেক প্লান করে রেখেছিল মায়া।ভেবেছিল তুহিন আর যাই হোক তার জন্মদিনের কথাটা হয়তো মনে রাখবে। কিন্তু না তুহিন মায়ার জন্মদিনের তারিখটা পর্যন্ত মনে রাখেনি।সারাটা দিন রুমে কান্না করে কাটিয়ে দেয় মায়া।অফিস থেকে যখন তুহিন বাসায় ফেরে দড়জা খুলে দিয়েই উপোরক্ত বাক্যবিনিময় হয় তাদের মাঝে,,,,,,,,,,, তুহিন সকালের নাস্তা সেরে অফিসে চলে যায়,আর মায়া বেলকোনিতে দাড়িয়ে পুরোন স্মৃতি গুলো মনে করতে থাকে,পুরোন স্মৃতির মাঝে একটা কথা মনে পড়ে যায় মায়ার,,,,,,,,আমিও কাউকে ভালবাসতাম তাই ভালবাসার মুল্যটা দিতে জানি। কথাটাতো কিছুক্ষন আগে তুহিন বলে গেল,তার মানে এই আবুল ও কি কাউকে ভালবাসতো।তা কেমনে সম্ভব যার মাঝে কোন স্মার্টনেস নাই,রোমান্টিকতা নাই তার প্রেমে কে পড়বে আর তার সাথে কোন মেয়েই বা প্রেম করবে।মায়া ভাবে হয়তো তুহিন কোন মেয়েকে মনে মনে ভালবাসতো আর মেয়েটা অন্যকাউকে ভালবাসত না বলা ভালবাসা যারে বলে আরকি।আর মাঝখানে ইনি দেবদাস হয়ে গেছেন। এই সব উল্টা পাল্টা চিন্তা মাথায় আনার কোন প্রয়োজন বোধ করেনা মায়া।মায়া তার মনটাকে বোঝাতে পারেনা,সে জানে এখন আর অভির কথা ভেবে কোন লাভ নেই।এখন তুহিনেই তার সব,তুহিনেই তার পরিচয়।কিন্তু তারপরেও মায়া তুহিনকে স্বামী হিসেবে মানতে পারেনা।কেমন এক ঘিয়েমি একটা ছেলে,কথায় কোন রস কস কিছু নেই।মায়া চায় তার স্বামীটা ওভার স্মার্ট হোক,আর তার থেকেও বেশি রোমান্টিক হোক।তার বান্ধবিরা দেখে যেন পাগল হয়ে যায়,বান্ধবিদের কাছে বুক ফুলিয়ে বলতে পারবে ইনিই আমার স্বামী। কিন্তু তুহিন যে রকম ছেলে তাতে বান্ধবিদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে প্রচন্ড লজ্জা পায় মায়া।আর সে জন্য বান্ধবি গুলোর সাথে এখোনা পরিচয় করিয়ে দেয়নি মায়া। মায়া চায় তুহিন প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার সময় যেন তাকে বুকে টেনে নিয়ে কপালে একটা ছোট্ট চুমু একে দিক,টাই পড়িয়ে দেয়ার নামে দুষ্টামি করুক,,,,,,,,,,,রাতে জোৎসনার আলোয় ছাদে বসে গল্প করে সারারাত তুহিনের ঘাড়ে মাথা রেখে রাতটা পার করে দিক। কিন্তু এসবের কোন ছিটে ফোটাও খুজে পায়না মায়া তুহিনের মাঝে। মনটা ভাল নেই মায়ার,ভাবছে একটু বাইরে থেকে ঘুড়ে আসলে মনটা ভাল হয়ে যেত।কয়েকদিন হলো নতুন বাসায় উঠছে তুহিন আর মায়া।গ্রামের বাড়ি থেকে কর্মস্হল দুড়ে থাকায় বউকে নিয়ে নতুন বাসায় থাকছে তুহিন।নতুন বাসায় একা একা খুব খারাপ লাগছে মায়ার।মুখ দিয়ে বলতেও পারছেনা তুহিনকে-চলোনা তোমার শহড়টা একবার ঘুড়ে দেখাও।অবশ্য বললেও যে কোন লাভ হবে তা মনে হয়না মায়ার।তাই আর মায়ার ইচ্ছেও জাগেনা শহড়টা ঘুড়ে দেখার।মায়া স্বপ্ন দেখতো অভিকে নিয়ে সে মধ্যরাতে ঢাকা শহড়টা রিক্সায় হাতে হাত রেখে ঘুড়ে বেড়াবে,মধ্যরাতে ঢাকা শহড়টা কেমন নিস্তব্ধ হয়ে যায় আর সেই নিস্তব্ধাতার সাগড়ে দুজন মিলে ঘুড়ে বেড়াবে।কিন্তু তুহিন যে পরিমানের ভিতু ছেলে টোকাইয়ের ভয়ে সেতো সন্ধ্যার পরেই বাইরে বের হয়না।পুরা লাইফটা শেষ হয়ে গেল মায়ার। আজ খুব তাড়াতাড়ি অফিস থেকে তুহিন বাসায় আসে, এতো তাড়াতাড়ি আসার উদ্দেশ্য হলো বিকেলের দিক বন্ধুদের সাথে আহসান মন্জিল দেখতে যাবে। বাসায় এসে দুপুড়ে খেতে বসে,,,, ---আচ্ছা তোমাকে একটা কথা বলব রাখবে। ---আগে তো শুনি,তার পর ভেবে দেখবো। ---না তেমন কিছুনা।মায়ার উত্তর শুনে আর কিছু বলার প্রয়োজন বোধ করেনা তুহিন। বিকেলের দিক যখন তুহিন বাসা থেকে বের হতে যাবে তখনি মায়া বলল,,,,,, ---কই যাচ্ছেন? ---এইতো ঘুড়তে। --ও, আমাকে কি নেয়া যাবে(আস্তে করে কথাটা বলে মায়া)। ---বুঝিনি(শুনেও না শোনার ভান করে তুহিন)। --কিছুনা,আপনি যান। ---আচ্ছা,,,,শোন আমি গেষ্ট রুমে বসে আছি তুমি রেডি হয়ে নাও। ---কেন? ---ঘুড়তে। ---আচ্ছা। মায়া কে নিয়ে তুহিন রিকসায় উঠলো।এই প্রথম তুহিন আর মায়া একসাথে এতটা কাছা কাছি হতে পারলো।দমকা হাওয়ায় মায়ার চুল গুলো এলো মেলো ভাবে উড়ে তুহিনের পুরো মুখটা ভর্তি করে দিল।খুব বিরক্তির স্বরে চুল গুলো ধরে মুখ থেকে সরাতে যাবে তুহিন,কি জানি মনে করে এর সড়ায়না।এতো সেই সুগন্ধটায় তুহিনের নাকে আসছে পাচ বছর আগে যে সুগন্ধটার স্বাদ চিরতরে হাড়িয়ে গিয়েছিল। একহাতে চুল ধড়ে তুহিন হাড়িয়ে যায় জীবনের কালো সময়ের দিকে আর এদিকে তুহিনের এমন অবস্হা দেখে লজ্জায় লাল হয়ে যায় মায়া। ---হু,হু এই যে কোথায় হাড়িয়ে গেলন। ---এ কি করে সম্ভব,এতো সেই সুগন্ধটা।যার সাগড়ে আমি সাতার কাটতে চেয়েছিলাম।(ঘোড় তুহিনের তখনো ভাংগেনি)। ---কি সব আবল তাবল বকছেন,এবার চুল গুলো ছাড়ুন।মানুষ হাসা হাসি করছে। অবস্হা বেগতিক দেখে মায়া নিজেই চুল গুলো সড়িয়ে নেয়। এবার তুহিনের ঘোর ভাংগে,,,, ততক্ষনে তারা আহসান মন্জিলে পৌছে যায়।আহসান মন্জিল ঢাকার ঐতিয্য বাহি একটা জায়গা।এর আগে মায়া কখোনো আসেনি অবশ্য তুহিনের বার দুয়েক আসা হয়েছে। আহসান মন্জিলের গেটেই দেখা হয়ে গেল তুহিনের বন্ধুদের সাথে।সব বন্ধুদেরই চোখ তখন চড়কগাছে,তারা কখোনো ভাবেনি যে এতটা সুন্দরী একটা মেয়ে তুহিনের বউ হবে।সবার সাথে হায় -হ্যালো করার পর তারা স্হানটি ঘুড়ে ঘুড়ে দেখতে লাগল। তুহিনের সবচেয়ে কাছের বন্ধু রুমান,একসাথে পড়ালেখা জীবনের সব গুলো অধ্যায় শেষ করেছে দুজনে।খুবই অন্তরংগ বন্ধু রুমান আর তুহিন। তুহিন এর জীবনটা যখন ধ্বংসের সম্মুখীন ঠিক সেই সময়টাতে আধারের মাঝে একটুকরো আলো হয়ে দেখা দেয় রুমান।তুহিনের জীবনটা আজ হয়তো কালো অন্ধকারে তলিয়ে যেতো।কিন্তু রুমান তা হতে দেয়নি। --আপনাকে অনেক কিছু বলার ছিল ভাবি(রুমান)। ---জি বলেন,সমস্যা নেই। ---আমি জানি আপনি ভাল নেই,আর ভাল না থাকারেই কথা। ----কেন,এমন কেন মনে হলো আপনার। ---(রুমান মনে মনে হেসে ফেলে)আপনার চোখ,আর মুখেই তার প্রমান।আর তার থেকেও বড় সত্যি কি জানেন? --নাতো। ---তুহিনকে আমার থেকে এই পৃথিবিতে কেউ বেশি চেনেনা। ---ও আচ্ছা,(মনে মনে খুব খুশি হয় মায়া,যাক শেষ পর্যন্ত আবুলটার সম্পর্কে কিছুটা জানা যাবে)। ---ভাবি আপনাকে একটা জীনিস দেয়ার ছিল। ---কি? ---সময় হলে দিয়ে দেবো। ---আচ্ছা। চলবে.......


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now