বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
ভালোবাসাটা বদলায়নী....... "নীল গিটার ও গল্পের বই".....
X
ভালোবাসাটা বদলায়নী
(৬৭) ক্লাশ শেষ।ক্যাম্পাসের দক্ষিন দিকের সিড়িটায় বসে আছে অত্রী আর শুভ্র। বাইরে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে।বের হওয়ার মতো কোন অবস্থা নেই। মাথা নিচু করে শুভ্র আপন মনে মোবাইলে গেইমস খেলছে আর অত্রী তা দেখছে। কেউ কোন কথা বলছে না। বাইরের এমন বৃষ্টি দেখে অত্রীর হঠাৎ খুব ভিজতে ইচ্ছে হলো___
__এই শুভ্র।
__হুম ( কিছুটা আনমনা হয়ে উত্তর দেয় শুভ্র)
__দেখো বাইরে কি সুন্দর বৃষ্টি হচ্ছে।
__হুম,দেখছি।
__ ভিজবো।
__যাও।
__তুমিও চল।
__তোমার ইচ্ছে হলে যাও,আমার অত শখ নাই।
__হুম।
শুভ্রের এমন উত্তর শুনে অত্রী খুব অভাক হলো। শুভ্রটা আগের মর নেই,কেমন জানি হয়ে গেছে। কেমনন জানি ডোন্ট কেয়ার স্বভাবের আর গা ছাড়া হয়ে গেছে। আগে যে ছেলেটা একটু খানি বৃষ্টি হলেই অত্রীকে নিয়ে সারা রিক্সা করে সারা শহর ঘুরতো, অত্রীকে আইস্ক্রীম খাইয়ে দিতো আজ সেই কিনা এরকম করছে। এসব ভাবতেই অত্রীর চোখের কোনাটায় পানিতে ভিজে যায়।
কিছুক্ষন পর অত্রী কিছু না বলেই ঝুম বৃষ্টিতে একা হাটা শুরু করে, হয়তো কান্না লোকানোর ব্যার্থ চেষ্টা। কিছুদূর যাওয়ার পর অত্রী শুভ্রের হাতের স্পর্শ অনুভব করে____
__ আমার পাগলীটা কি রাগ করেছে??
__না, ( অনেকটা অভিমানী শুরে উত্তর দেয় অত্রী)
__ কাঁদলে কিন্তু আমার পাগলীটাকে ধারুন লাগে।
__হুহ,ঢং।
__পাগলীটা কি আইসক্রীম খাবে??
__হুম।
__তুমি সত্যিই একটা পাগলী।
__ তোমারই তো।
__হুম।
ঝুম বৃষ্টি। বৃষ্টিতে শুভ্রের পাগলীটা আইস্ক্রীম খাচ্ছে , অত্রী মেয়েটার সব কিছুই সুন্দর। সেই প্রথম দেখার মত আজো সব কিছু চির সবুজ। কিছুই বদলায়নী। ভালবাসার সম্পর্ক গুলো এমনই হয়।কখনো বদলায় না। অনুভূতি গুলো থেকে যায় আগের মতই। যত দূরেই যাক বা যত পূরনোই হোক না কেন এই সম্পর্ক গুলোর প্রতিটা সূর্যোদয় হয় সেই প্রথম দিনের মত।
"নীল গিটার ও গল্পের বই"
(৬৮) ভোর সকাল থেকে থেকেই টানা বৃষ্টি, তখনি ঠিক করেছি আজ অফিসে যাব না, সারাদিন বাসায় কাটাবো গিটার হাতে,কখনো বা গল্পের বই হাতে! ইরার দেওয়া নীল গিটার আর গল্পের বই গুলো স্বযত্নে রেখে দিয়েছি,আকাশের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আজ সারাদিন ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি হবে।বৃষ্টি হলেই যে ইরা কে খুব মনে পড়ে,কারন বৃষ্টি হলেই ইরা আমাকে ফোন দিয়ে বলত__
-- কোথায় তুমি এখন? গিটার টা হাতে নিবা ?
--আমি তো এখন ক্যাম্পাসে যাব,ভিজে হলেও যেতে হবে যে কারন important ক্লাশ আছে!!
--ও ,আচ্ছা যাও...
__মোবাইলের ওপাশে স্পৃষ্ট দেখতে পারি ইরার মন খারাপের ফেস টা.!! ততক্ষনে ইরা ফোনটা কেটে দেয়,গিটার টা হাতে নিয়ে ইরা কে ফোন দেই_ "আমার সারাটা দিন মেঘলা আকাশ বৃষ্টি তোমাকে দিলাম" এই গানের কর্ড ধরে সুর তুলছি আমি, আর ওপাশ থেকে ইরার কন্ঠে এই গান...!! আমি গিটারের সুর তুলে ওকে শুনাতাম আর সে আমাকে গান গেয়ে শুনাতো।।
--এইইই এইবার গল্পের বই হাতে নাও,আমাকে একটা গল্প পড়ে শুনাও...!!
--আচ্ছা শুনাচ্ছি...
__ইরার সাথে আমার পরিচয় ফেসবুকের একটি গ্রুপে কাজ করতে যেয়ে,সে থেকে টুকটাক কথা হতো আমাদের মাঝে। কয়েক মাস পর আমাদের সেই গ্রুপে কিছু ঝামেলার কারনে গ্রুপটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। যাইহোক আমাদের মাঝে কথা হতো কয়েকদিন পরপরই, তারপর রোজ..আমরা ভালো বন্ধু ছিলাম তবে আমরা দুজনই দুজন কে আপনি করে বলতাম...!!
--আচ্ছা আমরা তো বন্ধুদের মতোই সব কথা শেয়ার করি, তাহলে আপনি বলি কেন ?
--তুমিই তো আপনি বলো ...আমি না
---আচ্ছা তোমাকে আর আপনি বলব না... শুনো আজ একটু দেখা করা যাবে কি ?
---হুম, বিকালে দেখা হচ্ছে তাহলে আমাদের...!!
---হুম
__ইরার সাথে অনেকবার দেখা হয়েছে,কিন্তু আজ আমরা দেখা করলাম বন্ধু হিসাবে,ইরা আমার জন্য একটা গল্পের বই নিয়ে আসে, আমাকে দিয়ে বলল সে গল্পের বই পড়তে অনেক অনেক ভালোবাসে, ইরা গান গাইতেও ভালোবাসে,R গিটারের সুর ইরাকে ঘর থেকে বাহির করে অনেকবার বারান্দায় নিয়ে এসেছে পাশের ফ্ল্যাটের একটি ছেলে,এখন নাকি ছেলেটি নেই,তাই আর শুনা হয় না!!!
---তারপর ?
__অতঃপর আমার প্রপোজের তিনদিন পর ইরা রাজি হয়,আমরা বন্ধু থেকে ভালোবাসার মানুষে পরিনত হই প্রায় দুই বছর পর!!
__ইরার জন্মদিনে তাকে সবচেয়ে বেস্ট উইশ করার জন্য মাথায় একটা প্ল্যান আসে,যেই কিনে ফেলি একটি গিটার,পুরাদমে গিটার শিখতে লাগলাম,প্রায় ৬ মাস লেগেছে গিটার শিখতে, বিশেষ করে ইরার প্রিয় গান গুলোর সুর তুলতে!! ইরার জন্মদিনের আগেই তার প্রিয় গান গুলোর সুর তুলে রেকর্ড করি,রাত বার টা বাজার আগে ইরাকে বললাম,ওয়াটস আপ আসতে... তারপর তাকে আমার তুলা গিটারের সুর গুলো তাকে দিলাম,সে এতোবেশি খুশি হয়েছিলো বলে বুঝানো যাবে না__
--তুমি আমাকে না জানিয়ে আমার জন্য এতো বড় সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য এতো দিন গিটার শিখেছো ?
---আগেই বলতাম কিন্তু আমার সাথে রিলেশন হওয়ার পর তোমার প্রথম জন্মদিন কে স্বরনীয় করে রাখতে এই আয়োজন,এইইইইই শুনো কাল গিটার কাঁধে আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করব!!
__ইরাকে যখন গিটার বাজিয়ে শুনাচ্ছিলাম তখন তার মুখের হাসিটা দেখলে যে কেউ দুনিয়ার সব ভুলে তার হাসির দিকে চেয়ে থাকবে,এতোটাই খুশি হয়েছিলো সে, আমাকে শক্ত করে ধরে__ --তোমার এই সারপ্রাইজ আমার জীবনের শেষ্ট সারপ্রাইজ, থ্যাংকু সোনা
__রিলেশনের ছয় বছর পর আমরা ডিশিসন নেই একসাথে থাকব,পরিবারের সবার মতামত নিয়েই আমরা বিয়ে করি!! রাতের আকাশে বারন্দায় বা কখনো ছাদে বসে গিটার হাতে আমি আর ইরার গানের কন্ঠে হারিয়ে যেতাম ভালোবাসার দুনিয়ায়...!! শুয়ার সময় হাতে বই ধরিয়ে বুকে মাথা রেখে ইরা বলত গল্প পড়ে শুনাও আমি ঘুমাব ইরা ঘুমিয়ে যেত গল্প শুনতে শুনতে,ঘুমন্ত মায়াবি মুখের দিকে চেয়ে থেকে আমিও কখন যে ঘুমিয়ে যেতাম খেয়ালই থাকত না...!!
__আমাদের বিয়ের দুইবছর পর ইরা মা হবে বুঝতে পারে, সে খুব ভয় পেতো এই ব্যাপারে, মাঝে মাঝেই আমাকে বলত আমাদের সন্তান পৃথিবীতে আসার পর যদি আমি মারা যাই তুমি রাগ করবে ? --আমাকে ভুলে যেয়ে আবার বিয়ে করবে ?
--এইভাবে বলে না সোনা,
__ইরার কথাই সত্যি হয়েছিলো,সে হয়তো বুঝতে পেরেছিলো,না হয় অনিচ্ছাকৃত ভাবেই ইরা প্রায় এই কথা বলত, আমাদের সবাইকে ফুটফুটে একটি মেয়ে দিয়ে ইরা চলে যায় না ফেরার দেশে...!! আজ দুই বছর হয় ইরা আমাদের মাঝে নেই কিন্তু আমার মনে মাঝে রয়েছে তার সাথে কাটানো স্মৃতি গুলো,যা কখনো ভুলার নই।। আমার মেয়েটা তার খালামনির কাছে বড় হচ্ছে,আমি রোজ থাকে একবার করে দেখে আসি! আমার বেঁচে থাকার অবলম্বন, না হয় আমি কবেই চলে যেতাম ইরার দেশে...!!!
__আপনারা যখন গল্পটি পড়ছিলেন তখন আমার জন্মদিনে ইরার দেওয়া গিফট নীল গিটারে সুর তুলছিলাম, দেয়ালে টাঙানো ইরার হাসি মুখ থেকে আর আর গান ভেসে আসে না,পলক দৃষ্টিতে শুধু ইরা চেয়ে থাকে আমার দিকে!! __ইরার দেওয়া বই গুলো পড়তে পড়তে আমি আজ ঘুমিয়ে যাই,খুব জানতে ইচ্ছে করে,ইরা ও কি আমার ঘুমন্ত ফেসের প্রেমে পড়ে ? যেমন আমি হাজার হাজার বার পড়েছিলাম!!
__বৃষ্টি হলে আজ ও মোবাইল হাতে নিয়ে বসে থাকি ইরা আমাকে ফোন দিয়ে বলবে এই গিটার হাতে নাও,চলে যায় হাজারও বৃষ্টির দিন কিন্তু ফোন আসে না আর,গল্পের বই হাতে শুয়ে থাকি,কিন্তু ইরাকে খুঁজে পাইনা আমার বুকের উপড়,নেওয়া হয়না তার চুলের ঘ্রান...!! আজ ইরাকে খুঁজে নেই নীল গিটারের সুরে, বইয়ের পাতায় আর আমার ভালোবাসার অনুভবে...!!!
বুয়েট ও একটি ব্রেকআপ
(৬৯) – সরি রেহান আমি পারছি না
– বাট হোয়াই সামিয়া
– দেখ আমার অনেক ড্রিম ছিল বাট ইয়ু
– কি আমি কি?
– বাট তোমার জন্য আমার সব ড্রিম ভেঙ্গে গেছে
– আমার কি দোষ বল সামিয়া
– রেহান তুমি বুয়েটে চান্স পাও নি । আমার অনেক ড্রিম ছিল বাবাকে বলব আমার বি এফ বুয়েটে পড়ে সামিয়ার কথা শুনে রেহান মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল । সামিয়া আক্ষেপের স্বরে বলতে থাকল,
– রেহান এখন আমি আমার বাবাকে কি বলব? টেল মি রেহান।
– বুয়েট কি সব কিছু?
– রেহান তুমি বুঝতে পারছ না । আমার বড় আপুর হাজব্যান্ড আমেরিকা থেকে পি এইচ ডি নিয়ে এসেছে । মেঝ আপুর হাজব্যান্ড ঢাকা ইউনিভার্সিটির টিচার । আর ছোট আপুর বয় ফ্রেন্ড মেডিকেল ফাইনাল ইয়ারে পড়ছে… সামিয়ার কথা শুনে রেহান ঠাণ্ডা গলায় বলল,
– তো আমাকে তুমি কি করতে বল । যেহেতু আমি বুয়েটে চান্স পাই।নি । তুমি কি চাচ্ছ না রিলেশনটা কনটিনিউ করতে?
সামিয়া কান্না জড়ানো গলায় বলল,
– রেহান তুমি আমাকে ভুল বুঝ না । আমি আমার আব্বুকে কি বলব? আমার আব্বুর মাথা খাট হয়ে যাবে । আব্বু তোমাকে মেনে নেবে না ।
– আমি বুয়েটে চান্স পাই নি দেখে তোমার আব্বু আমাকে মেনে নেবে না?
সামিয়া রেহানের প্রশ্নের কোন উত্তর দিল না । অন্য দিকে তাকিয়ে রইল । সামিয়ার চোখ জলে টলমল করতে লাগল । রেহান ছোট একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,
– থাক সামিয়া । আমাদের রিলেশান টা এখানে থেকে যাক । আমি যেহেতু বুয়েটে চান্স পাই নি । সো আমিও চাই না তোমার বাবা আমার জন্য ছোট হোক । কারন তোমার বাবা তো আমার বাবার মতনই… ভালো থেকো ।
রেহান মাথা নিচু করে হাঁটতে শুরু করল । পেছন থেকে সামিয়া ডেকে বলল,
– রেহান প্লীজ নিজের খেয়াল রেখ ।
রেহান সামিয়ার কথার কোন সাড়া দিল না । হাটতে থাকল ।সামিয়া জোর গলায় বলল,
– রেহান আমার চেয়ে ব্যাটার মেয়ে তুমি তোমার লাইফে পাবা । ডোন্ট গেট আপসেট রেহান । আই ইউল প্রে ফর ইয়ু…
রেহান কোন উত্তর দিল না । এক সময় রেহান দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে গেল । এবং তার একটু পর রেহানের ফোন আসল সামিয়ার ফোনে,
– সরি সামিয়া
– সরি কেন?
– আমি তোমাকে মিথ্যা বলেছি
– মানে?
– আমি আসলে বুয়েটে চান্স পেয়েছি । টপ টেনের ভেতর আমার পজিশন আসছে… ছোট এই মিথ্যাটা বলার জন্য সরি । ভালো থেকো । আমার চেয়ে ব্যাটার ছেলেই তুমি পাবা । আই ইউল প্রে ফর ইয়ু…
রেহান লাইন কেটে দিল । সামিয়া সাথে সাথে রেহানের ফোনে কল দিল । কিন্তু রেহানের নাম্বারটা বন্ধ পাওয়া গেল ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now