বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অধরা ভালবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান sagor the gangster of king is here (crush) (০ পয়েন্ট)

X অধরা ভালবাসা (৬১) এই যে মহারাণী আপনার আর কতক্ষন লাগবে,আপনার আটা,ময়দা থেরাপি এখনও শেষ হয় নাই।কথাগুলো বলে একটা রিক্সা ডাক দেয় রাজ।ওপাশ থেকে সুপ্তি বরাবরের মত ঝাড়ি না দিয়ে খুব মায়াবী কন্ঠে বলে,তুই দাড়াঁ আমি আসছি।রাজ আর সুপ্তি সেই ছোটবেলার বন্ধু। পাশাপাশি বাসা,দুই পরিবারের ভাল সম্পর্ক আর একই স্কুল কলেজে পড়ার সুবাদে দুজন দুজনার খুব ভাল বন্ধু।কিন্তু সেটা যে আর বন্ধুত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই সেটা দুজনেই বুঝতে পারছে। শুরুটা ভার্সিটি ভর্তির প্রথম দিন।ক্লাশ শেষে বাসায় ফিরছিল ওরা।ঠিক এইসময় হঠাৎ বৃষ্টির আগমন। রিক্সা থেকে নেমে একটা বন্ধ শপিংমলের সামনে দাড়াঁল দুজন। দুজনেই ভিজে একাকার।হঠাৎ করে কাছে কোথাও বাজ পড়ল।ভয়ে রাজকে শক্ত জরিয়েকরে ধরল সুপ্তি।রাজ অনুভব করল কোন এক স্বর্গীয় সুখের আবেশে হারিয়ে যাচ্ছে সে।বুকের ভিতর কেমন জানি নিস্তদ্বতা বিরাজ করছে।কেমন জানি একটা গাঁঢ় মিষ্টি গন্ধ যা শুধু মেয়েদের শরীরেই থাকে। সেদিন এর পর থেকে রাজ বুঝতে পারে সুপ্তিকে সে ভালবাসে। কিন্তু সে বলবে কিভাবে? ইদানিং সুপ্তি কেমন জানি তাকে এড়িয়ে যাচ্ছে।আগের থেকে সুপ্তি অনেক বদলে গেছে।আগে কোন মেয়ের সাথে কথা বললে সুপ্তি সেটা সহ্য করতে পারত না। সবকিছু কেমন জানি পাল্টে যাচ্ছে।অনেক রাতে সুপ্তির ফোন ওয়েটিং পায় রাজ।তবে কি সুপ্তি অন্য কাওকে।না সেটা হলে রাজ জানত।এইসব ভেবে ভেবে রাজের অবস্তা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। সুপ্তির বাসার সামনে এসে রাজ দেখে সুপ্তি দাড়িয়ে আছে।নীল রঙের একটা শাড়ী পড়া।এমনিতেই আবেগপ্রবণ পুরুষদের নীল রঙের শাড়ী পরা রমণীদের প্রতি আলাদা দূর্বলতা কাজ করে।তার ওপর সেটা যদি নিজের সেই স্বপ্নের রানী হয় তবে বুকের বাপাশের চিনচিন ব্যাথাটা যে শ্বাসপ্রশ্বাসের থেকে দ্বিগুণ হারে বাড়তে থাকে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। রিস্কায় বসে সুপ্তি বলল যে কাল আমার বিয়ে তাই তোকে নিয়ে শপিং এ যাব।আশ্বর্য হয়ে রাজ জিঙ্গেস করল তর বিয়ে কই শুনি নাই ত,মিথ্যা বলছিস কেন?সুপ্তি শান্ত কন্ঠে জবার দিল কাল রাতে ফাইনাল হইছে হাসবেন্ড আমেরিকা থাকে।২দিনের জন্য দেশে আসছে।তাই হুট করে বিয়েটা করছি।তারপর আমাকে নিয়ে চলে যাবে।কথাগুলো সুপ্তি এতটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল যে রাজ তাকে আর কিছু জিঙ্গেস করল না। বাসায় ফেরার পথে শুরু হল বৃষ্টি।দুজনেই ভিজে একাকার।হঠাৎ করে বাজের শব্দে রাজকে জরিয়ে ধরল সুপ্তি। চারদিকে তখন অন্ধকার।রাজ আবার সেই মিষ্টি গন্ধের তিব্রতা অনুভব করল।তার ঠোঁটগুলো ছুটে গেল মিষ্টি গন্ধের ভ্যাপসা নিশ্বাসের অজানা অনুভূতির খোঁজে।সুপ্তিও নিজেকে আর ধরে রাখতে পারল না।হঠাৎ করে সুপ্তি বাস্তবে ফিরে আসল।ছাড়িয়ে আনল নিজেকে।তারপর নেমে এল নিস্তব্দতা।ফুপিঁয়ে ফুপিঁয়ে কাদঁতে লাগল সুপ্তি। এরপর একবছর কেটে গেল।সেদিনকার ঘটনার পর রাতেই রাজ ফিরে আসে তার গ্রামের বাড়িতে।সেখানে তাদের একটা পুরনো জমিদারবাড়ি ছিল।আর সুপ্তির কষ্ট ভুলতে ধীরে ধীরে নেশায় আসক্ত হয় সে।বৃদ্ধ বাবা,মা ছেলেকে সংসারী করার জন্য অনেক চেষ্টা করলেন।কিন্তু লাভ হল না। ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায় সে। সন্ধার দিকে একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন পায় রাজ।গলাটা সুপ্তির,রাজ তুমি একটু তাড়াতাড়ি আসতে পারবা।মরার আগে তোমাকে একটু দেখে মরতে চাই।তোমার কাছ থেকে শুধু একটা কথা শুনতে চাই যা শোনার জন্য একটি মেয়ের রিদয় তৃষিত হয়ে থাকে।লাইনটা কেটে গেল।রাজ তক্ষুনি বেড়িয়ে পড়ল।বাসার প্রায় কাছাকাছি আসার পর গাড়িটা নষ্টহয়ে গেল।রাজ দৌড়ে বাসার দিকে রওনা হল।শরীর যেন বিদ্রোহ করছে।নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে।সিড়িঁ দিয়ে উঠার সময় হোচট খেলে পড়ল সে। কিছুক্ষনের মধ্যেই জিবনের দেনাপাওনা মিটিয়ে পরপারে গেল সে।তার লাশটা পাওয়া যায় সিড়িঁর নিচে।আর অভাগী সুপ্তি বাচাঁর অভিনয় শেষষ করে ক্যান্সারের কাছে হার মানল সে। পেয়েও হারালাম (৬২) ধ্রুব খুব অবাক হয়ে মোবাইলের দিকে তাকালো। প্রায় এক বছর পর তারার নাম্বার থেকে কল। মোবাইলের স্ক্রীনে খুব সুন্দর করে লেখা- STAR is calling… এক বছর আগে ধ্রুবর সাথে তারার ব্রেক আপ হয়ে যায়। সব ঠিকঠাক, হঠাৎ এক বৃহস্পতি বার রাতে তারা জানালো, “আমি রিলেশনটা কনটিনিউ করতে পারবো না। আমি সিরিয়াস।” ধ্রুব আধো বিশ্বাস আধো অবিশ্বাসে দুলতে দুলতে বললো, “কেনো? কী হইছে? দুস্টামি বাদ দাও…” তারা খুব নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে উত্তর দিলো, “আমার আরো একজনকে ভাল লেগেগিয়েছে, তার সাথে রিলেশনও হয়েগিয়েছে। আমি সেটাই কনটিনিউ করতে চাই। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দেও তোমার আমাকে ভুলতে হবে।” বিশ্বাস করতে পারছিলো না ধ্রুব। বললো, “আরে ধুর, ফাইজলামি করো ক্যান!” ফোন কেটে দেয় তারা। এরপর অনেক চেষ্টা করেও আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি তারার সাথে। সেদিন সারা রাত দ্রুব তারার মোবাইলে কল করে কিন্তু বার বার একই উত্তর আসে waiting... waiting....। সকাল সাতটা পর্জন্ত! তারপর সপ্তাহ দুয়েক পর দ্রুব খবর পেয়েছিলো, তারা নতুন মানুষটিকে নিয়ে শুখেই আছে। নিজেকে ধিরে ধিরে গুছিয়ে নেয়। এ পর্যন্তই। তারা নামটা দ্রুবর প্রতি রাতের চোখের জলে আর ফোনবুকের 'STAR' নামের আড়ালেই রয়ে গেলো। এমন অদ্ভুত অপ্রত্যাশিত ব্রেক আপের পর আজ আবার তারা কল। ধ্রুব বুঝে উঠতে পারে না কী করবে। শেষমেষ কলটা রিসিভ করলো। -হ্যালো? (যতটা না অভিমান কিংবা কষ্ট, তার চেয়েও বেশি কৌতুহল ভরা কন্ঠে বললো।) =কেমন আছো? (তারার কন্ঠটা আগের মত আর বাচ্চা বাচ্চা নেই। নারীত্বের ছাপ স্পষ্ট।) -বেঁচে আছি। (রাগ আর কষ্ট নিয়ে উত্তর দিল।) =ধ্রুব আমি খুব সরি… (তারার কান্না কান্না কন্ঠ!) -বাদ দাও। তারপর কেমন আছো? খুব সুখেই আছো নিশ্চয়? (তারার কথা শেষ না হতেই ধ্রুব বলল।) =আমি রিয়েলি অনেক সরি। প্লিজ.. (কেদে কেঁদে বলতে থাকল তারা!) -বিএফ কেমন আছে? (রাগ আর কষ্ট নিয়ে প্রস্ন করল।) =ধ্রুব প্লিজ… আমাকে মাফ করে দাও… (তারার হাহাকার করে কাননার শব্দ!) -কেন আমার জীবন এভাবে ধ্বংস করলে? কে দিয়েছিল এই অধিকার তোমাকে? (ধ্রুব চিৎকার করে প্রস্ন করল!) =স্টপ! স্টপ ইট! (ওপাশ থেকে চিৎকার করে ওঠে তারা। সেই সাথে শোনা গেলো কান্নার আওয়াজ…) -“এমন করলা কেন আমার সাথে?” (কান্নার শব্দ শুনে ধ্রুব শান্ত হয়ে চুপ হয়ে গেল… শান্তভাবে বললো ধ্রুব) তারা কাঁদতে কাঁদতে অনেক কথা বললো। কথাগুলোর সারমর্ম করলে যা দাড়ায়, তা হচ্ছে- যে ছেলের সাথে তারা রিলেশন করেছিল। সে ছেলিটি তারা কে ছেরে অন্য একজনের সাথে চলে গিয়েছে। কোন কারন ছারাই নতুন করে নতুন মানুষের সাথে ঘড় বাধছে। মাঝে তারার সাথে বিয়েও হয়েছিল কিন্তু… আর টিকেনি। -“তুমি কোথায় এখন? দেখা করো প্লিজ… এই মুহুর্তে…” (অভিমানী প্রেমিকের সব দম্ভ নিমেষেই চুরমার হয়ে গেল।) দ্রুব কাঁদতে কাঁদতে বলতে শুরু করলঃ আমি জানতাম আমি বাদে এ পৃথিবীর কেউই তোমাকে বুঝবে না। তুমি কেন আমাকে ছেঁড়ে চলে গেলে। বোকা মেয়ে তুমি এত বোকা কেন? কান্না থামাও আমি,... আমি আসছি এখনি তুমি কোথায় আছ...। (দ্রুব আবার থেমে থেমে বলল) এত কাঁদো কেন? অবশ্য ভালোই হইছে। আমাদের সংসারে লবন কিনতে হবে না। তোমার চোখের পানিতেই রান্না হয়ে যাবে! তারার কান্নার বেগ আরো বেড়ে গেল। (চুপ করে সব শুনতে থাকল!) -আমি আসছি এখনি তুমি কোথায় আছ…। (ধ্রুব চিৎকার করে জানতে চাইল… ) কোন উত্তর ছাড়াই ফোনটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। ধ্রুব চিৎকার করে কানতে শুরু করল। মোবাইলে চার্জ শেষ। আরেকটা মোবাইলে সিম ঢুকাতে ঢুকাতে ১০ মিনিট লেগে গেল। কিন্তু ঐ নাম্বারে কল করে শুনতে পেল অন্য একটি চির পরিচিত নারীর কন্ঠ… “the number you have dialed, it is switch of” । দ্রুব এক রাত... এক দিন... এক সপ্তাহ... এক মাস... এক বছর.... পর আজও ঐ নাম্বারে কল করে কিন্তু আর খুজে পাইনি হারিয়ে যাওয়া সেই তারাকে। প্রস্ন করে হারিয়ে গিয়েছিলে আবার কেন এলে? নিজেকে প্রতি মুহুর্তেই দোষ দেয় মোবাইলের চার্জের কারনে আর ভাবে তারা হয়ত বা ভুল বুঝেছে যে আমি ওর ফোনে বিরক্ত হয়ে ফোনটা কেটে দিয়েছিলাম। সুন্দর সাজানো জীবনটা আবার অগোছালো হয়ে গেল। এখন নিজের চোখের জলেও সে তারার নোনা পানির স্বাদ পায়! এই তো,… এই ছিল তারা আর ধ্রুবর গল্প…, নিশ্চুপ ভালবাসা (৬৩) আকাশটা মেঘলা, ছোপ ছোপ কালো মেঘ জমে আছে পুরো আকাশ জুড়ে। নীলাদ্রি বারান্দায় রেলিং এ একটা হাত রেখে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। অন্য হাতে ধোঁয়া উঁরানো গরম কফির মগ। মনে হচ্ছে কফির ধোঁয়া গুলো আকাশে গিয়ে গিয়ে মেঘ গুলোকে আরও কালো করে দিচ্ছে। কিছুক্ষন পরেই ঝুম বৃষ্টি শুরু হবে। নীলাদ্রির পাশে থাকা ইজি চেয়ারের উপর ফোনটা তে মৃদু শব্দে বাজছে গান.. "তুমি তাই... তুমি তাই গো.. আমারও পরাণও যাহা চায়..." . গানটা আজ খুব শুনতে ইচ্ছে করছে নীলাদ্রির। আজ ওর মনটা অনেক ভালো। নাহ, বয়ফ্রেন্ড বা পছন্দের কেউ প্রপোজ করেছে সেই জন্যে নয়। নীলাদ্রি তেমন মেয়ে নয়। বাবা মার বাধ্য মেয়ে। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে বলে বাবা অনেক কষ্টে নীলাদ্রি কে মানুষ করেছেন। তাই এমন কিছু করলে বাবার মনে আঘাত লাগবে ভেবেই নীলাদ্রি কারো সাথে নিজের মন বাঁধে নি। তবে এখন কিছু হতে যাচ্ছে। কারণ আজ পাত্রপক্ষ নীলাদ্রি কে দেখতে এসেছিলো। পছন্দও হয়েছে। পছন্দ না হয়ে যাবে কোথায়? দুধে আলতা গায়ের রং, টানা টানা চোখ, হালকা পাতলা গড়ন, মায়াবী চেহারা। নীলাদ্রির যা দেখে ছেলেটার সবথেকে ভালো লেগেছে তা হচ্ছে নীলাদ্রির চুল। ছেলে তো সবার সামনেই নীলাদ্রির চুলের প্রশংসায় বিভোর..। একথায় এই মেয়েকেই বৌ করবে। আর আজই আংটি ও পরিয়ে গিয়েছেন নীলাদ্রি কে। কারণ ছেলের বাবা মা বেশি দেরি করতে চান না। . নীলাদ্রির ও বেশ পছন্দ হয়েছে ছেলে কে। ছেলে দেখতে লম্বা চওড়া, সুপুরুষ, ভালো চাকরী করে। এমনই একটা জীবন সঙ্গী চেয়েছিল নীলাদ্রি। ছেলের নামটাও নীলাদ্রির সাথে বেশ মিল। ছেলের নাম নিলয় চৌধুরী, ডাক নাম "নীল"। নীলাদ্রি ও নীল বলেই ডাকবে। নীলাদ্রির নামের প্রথম দুই অক্ষর দিয়ে ছেলের নাম বলে আরও ভালো লাগে নীলাদ্রির। ও ভাবে ওদের জোড়া যেন আল্লাহ মিলিয়ে দিয়েছেন। এখন শুধু পারিবারিক মিলের অপেক্ষা। . নীলাদ্রি স্বপ্ন দেখছে সুন্দর একটা জীবনের। দেখছে বিয়ের পর নীল আর নীলাদ্রি মিলে হানিমুনে গিয়েছে। কোন একটা পাহাড়ি অঞ্চলে। কারণ অরন্য ভূমি নীলাদ্রির অনেক ভালো লাগে। যেমন পাহাড়, বন, বা সুন্দর বাগান। তেমনি একটা পাহাড়ে গিয়েছে ওরা। সেখানে সুন্দর একটা বাংলো, পুরো বাংলো তে ওরা দুজন। নীল ওর হাত ধরে এদিক ওদিক ঘুরাঘুরি করছে। মাঝে মাঝে নীলাদ্রির সাথে লুকুচুরি ও খেলছে। নীল হঠাৎ করেই লুকিয়ে যাচ্ছে। আবার যখন নীলাদ্রির মুখ কাঁদোকাঁদো হয়ে যায় তখন বেরিয়ে আসছে। এমন সময় আবার নীল লুকিয়ে গেল কোথায় যেন.. . নীলাদ্রি কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না নীল কে। এদিকওদিক ছুটাছুটি করছে নীলাদ্রি। নাহ কোত্থাও নেই নীল। একসময় নীল কে খুঁজে না পেয়ে চিৎকার করতে থাকে নীলাদ্রি। দূরের পাহাড়ে নীলাদ্রির চিৎকার শুনা যাচ্ছে। কিন্তু নীল শুনতে পাচ্ছে না সেই চিৎকার। একসময় হাফিয়ে যায় নীলাদ্রি। বসে পরে মাটিতে। মাথা নিচু করে কাঁদতে থাকে সে। ঠিক তখনই দূর থেকে কোন একটা নারী কন্ঠে নীলাদ্রির নাম ধরে ডাকতে থাকে। বেশ কয়েকবার ডাকার পর হঠাৎ নীলাদ্রির ঘোর কাটে। কিছুটা অবাক আর বোকা হয়ে যায় নীলাদ্রি। সে এতক্ষন ভাবনার জগতে ছিলো? আর নিচ থেকে ওর আম্মুর ডাকেই ভাবনার জগত থেকে ফিরে আসে। . নীলাদ্রি বুঝতে পারে যে ওর চোখ ভিজা। তারমানে ও কেঁদেছে। সাথে সাথে চেয়ারের উপর থেকে ফোনটা হাতে নেয় নীলাদ্রি। নীলের নাম্বারে ডায়াল করে। নীল কে এভাবে হারাতে চায় না নীলাদ্রি। কারণ এই কিছুক্ষনেই খুব ভালোবেসে ফেলেছে নীল কে। কিন্তু নীল ফোন রিসিভ করছে না। এদিকে নীলাদ্রির আম্মু ডাকছে ওকে। নিচে যায় নীলাদ্রি, গিয়ে ওর আম্মুর কথা শুনে হতবাক হয়ে যায়। নীল এক্সিডেন্ট করেছে। হাসপাতালে আছে। আর কিছু শুনতে চায়নি নীলাদ্রি। দ্রুত ছুটে যায় হাসপাতালের দিকে। . নীল শুয়ে আছে বেডে। পাশে নীলের মা-বাবা। নীলাদ্রি কে দেখে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে নীলের মা। যদিও আঘাত খুব গুরুতর না তবুও একমাত্র ছেলের এই অবস্থা। কোন বাবা মা সহ্য করতে পারে? নীলাদ্রি কে রেখে নীলের বাবা মা বাহিরে চলে যায়। নীলাদ্রি ধিরে ধিরে গিয়ে নীলের পাশে বসে। নীল তাকিয়ে আছে ওর দিকে। নীলের হাতটা ধরে নীলাদ্রি। কিন্তু কিছুই বলতে পারে না। নিরবে চোখের পানি ফেলে শুধু। বাহিরে ঝুম বৃষ্টি পরছে। জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছে বৃষ্টি। নীলাদ্রির চোখ থেকেও বৃষ্টি ঝড়ছে। নীল ঠোঁটের কোণে হাসি নিয়ে তাকিয়ে থাকে নীলাদ্রির দিকে। চোখে চোখে দুটি মন ভালোবাসা বিনিময় করছে। চুপি চুপি "নিশ্চুপ ভালোবাসা"।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অধরা ভালবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now