বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

♥ নীল পরি নীলা চৌধুরি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান sagor the gangster of king is here (crush) (০ পয়েন্ট)

X ♥ নীল পরি নীলা চৌধুরি ♥ (৫৮) তোমার তো এখানে বসে থাকার কথা ছিলনা। তবে এখানে কেন বসে আছ? শাহিন কে শাসানোর মত করে কথা গুলো বলতে থাকে নীলা। পাক্কা ১৫ মিনিট ধরে পুরো পার্ক তন্ন তন্ন করে শাহিন কে খুজেছে নীলা। দুজনের দেখা করার কথা ছিল পার্কের অন্য কোনায় যেখানে অনেক গুলো ফুল গাছ আছে। লাল রঙের ফুল নীলার খুব পছন্দ। শাহিন নীলা কে সবসময় লাল রঙের ফুল দিয়েই প্রপোজ করে। পার্কে আসলে যখনই নীলার অভিমান হয় তখনই গাছ থেকে একটা লাল ফুল এনে নীলা কে দেয়। আজ সে ধরনের কোনো সুযোগ নেই। নীলার দিকে না তাকিয়েই শাহিন জবাব দিতে থাকে। *এখানে অনেক ঘাস আছে তাই বসে আছি। -তুমি কি ছাগল যে ঘাস দেখে বসতে হবে? *আমি ঘাস দেখে বসিনি, ঘাসের উপর বসে আছি। চাইলে তুমিও বসতে পার। -আমি তোমার মত ছাগল না। *আমি জানি তুমি ছাগল না। ছাগলের স্ত্রী লিঙ্গ ছাগী। -কি আমাকে তুমি ছাগী বললে!!!!???? *এখনো বলিনি। তবে ছাগলের বউ ছাগীই হয়। -আমি তোমার বউ না। *আমি তো বলিনি তুমি আমার বউ। -এত কথা প্যাঁচাও কেন? তুমি একটা রামছাগল। *রামছাগলের তুর্কি দাড়ি থাকে। আমি একদম ক্লিন শেভ। -ওহ অসহ্য! কেন যে তোমার মত ইডিয়ট এর সাথে প্রেম করি? *আমরা প্রেম করছি না। আমরা ঝগড়া করছি। -তোমার মত #রামছাগলের সাথে আমার ঝগড়া করতে বয়েই গেছে? *আমি একটু আগেই শেভ করে এসেছি। আমার দাড়ি উঠলে হালকা চাপ দাড়ি ওঠে তা তুমি জানো -শেভ করেছ কেন? আমার হালকা চাপ দাড়িই ভাললাগে। *তোমার মুখে কখনো দাড়ি দেখিনি। আগে তো জানতাম না তোমার দাড়ি হয়!! -আমাকে কটা টাকা ধার দাও তো *কি করবে? -প্রথমে একটা পিস্তল আর গুলি কিনব। তারপর তোমাকে গুলি করে মারব। গরু কোথাকার। আমি কি আমার দাড়ির কথা বলেছি? *আমার কাছে সিগারেট কেনার টাকা থাকে। পিস্তল কেনার নয় -কি তুমি সিগারেট খেয়েছ!!?? *সিগারেট খেলে ক্যান্সার হয়ে মরার সম্ভাবনা আছে। তোমাকে আর কষ্ট করে মারতে হবেনা। -একদম অলক্ষুনে কথা বলবে না। গরু ছাগল ভেড়া কোথাকার, বসে বসে ঘাস খাও প্রিয়তমার মুখ থেকে গরু ছাগল ভেড়া ডাক শুনতে খারাপ লাগে না। বরং ভালই লাগে। অন্যান্য প্রেমিকের মত শাহিনও তার ব্যাতিক্রম নয়। সব প্রেমিক অবশ্য সিগারেট খায় না। নীলা যেইসব বিষয়ে রেগে যায় শাহিন সেইগুলোই বেশি করে। এভাবে রাগানোর ভিতর একটা ভালবাসা থাকে। নীলা কে এভাবে রাগানোর অধিকার শুধু রাতুলেরই আছে। *আমি ঘাস খাচ্ছিনা। আমি বাদাম খাচ্ছি। -কই এতক্ষন তো খেয়াল করিনি! বাদাম কেন খাচ্ছ? নীলার খেয়াল করার কথা না। কারন ও এখনো রাতুলের সামনে যায়নি। পেছন থেকেই কথা চালিয়ে যাচ্ছিল। তাই ঘাস খাওয়া আর বাদাম খাওয়ার পার্থক্য ধরতে পারেনি। *বাদাম খেলে ত্বক ভাল হয়। -হঠাত ত্বক ভাল করার নেশা চাপল কেন? *আরেকটা প্রেম করব তাই -তুমি আমাকে ছেড়ে আরেকটা ডাইনির সাথে প্রেম করবে!!?? ভালবাসার ভাগ কেও দিতে চায়না। নীলাও তার ব্যাতিক্রম নয়। শাহিন অন্য মেয়ের দিকে তাকালেই সেই মেয়ে নীলার কাছে ডাইনি। *তুমি যে ডাইনি তাতো জানতাম না। -আমি ডাইনি না, তুমি যার সাথে প্রেম করবে তাকে ডাইনি বলেছি। নীলার প্রিয় রং নীল নয়, কালো। রাগে নীলার মুখের রং কালো হয়ে গেছে। নীল হওয়ার কথাও নয়। কারন নীল বিষাদের রং। নীলার মনে বিষাদ নেই। সেখানে শুধুই আছে শাহিনের ভালবাসা। *ও ডাইনি না। ওর নাম নীলা -থাকো পড়ে তোমার নীলা ফিলা কে নিয়ে। আমার সাথে কথা বলতে আসবে না। রেগে গেলে নীলা নিজের নাম ভুলে যায়। রাতুল নীলা কে অযথা রাগাতে ভালবাসে এটা নীলাও জানে। "ভালবাসায় মান অভিমান না হলে ঠিক জমে না" এটা কোনো মনিষী বলেছেন কিনা নীলা বা শাহিন কারোরই জানা নেই। হয়ত জগতের কোনো প্রেমিক প্রেমিকারই জানা নেই। তবু সবাই মান অভিমানের খেলায় মেতে ওঠে। রাগারাগি মান অভিমান ভালবাসার মাঝে অলিখিত চুক্তি। *আমার পাশে একটু বসবে? জায়গাটা পরিষ্কার আছে। -না বসবো না। তুমি একটা ফাযিল। আমার মন নিয়ে খেলা করবে। আমার মন নরম। তাই যখন তখন তোমার খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে হবে। *একটু বসো। আমি তোমার মন নিয়ে খেলব না। তোমার চুলগুলির সাথে দুষ্টুমি করবো। তোমার চুলের মিষ্টি ঘ্রানে মাতাল হয়ে যাব - এহ শখ কত! আমি মাতাল ছেলেকে পছন্দ করিনা। কথাটা বলতে বলতেই নীলা রাতুলের পাশে বসল। যখন ভালবাসাটা অনুভব করা যায় তখন প্রেমিক প্রেমিকা দুজনেই মাতাল হয়ে যায়। আবল তাবল কথা বলতে ভাল লাগে। নীলাও এখন মাতাল রাতুলের ভালবাসায়। আচ্ছা মাতালের স্ত্রী লিঙ্গ কি? না থাক। সব ক্ষেত্রে ব্যাকরন টানলে চলে না। ভালবাসার কোনো ব্যাকরন হয় না। *ফুচকা খাবে? ফুচকা খেলে মাতাল হওয়ার চান্স নেই -না। যা খাচ্ছিলে তাই খাব বাদামের খোসাগুলো নীলার দিকে এগিয়ে দিল রাতুল। দু চারটা বাদামের খোসা মুখে চালান করে দিল নীলা। আস্ত একটা মাতাল মেয়ে। বাদামের খোসাও চেনে না। সেগুলো দিব্যি চাবিয়ে যাচ্ছে। একটু দেরিতে চিনলেও রাতুল কে তাড়া দিতে দেরি করলো না নীলা। পার্কে একটা ছেলে দৌড়াচ্ছে, একটা মেয়ের তাড়া খেয়ে। তারা হাপিয়ে গেলে ফুচকা ওয়ালার সামনে থামবে। ফুচকার খোসাগুলো বাদামের খোসার মত নয়। ওটা খাওয়া যায়। ভালবাসায় বিভোর জোড়া গুলো এভাবেই যুগে যুগে মাতলামির সংজ্ঞা বদলে দেবে। নীরবে ভালবেসে যাব (৫৯) প্রিয় বিক্ষোভ, কেমন আছিস? তোকে এই কথাটা বলবো ভেবে বলতে পারি নি। খুব ভয়ে ছিলাম,যদি আমাদের ফ্রেন্ডশিপ টা নষ্ট হয়ে যায়। ছোট বেলা থেকেই তোকে দেখে আসছি।তোর ভালো লাগা,খারাপ লাগা,সব কিছুই আমি বুঝি। তোকে কেউ না বুঝলেও আমি তো তোকে বুঝি। . তুই আমাকে পছন্দ করতি তাও আমি জানতাম।কিন্তু,তুই তো আমায় বলতে পারতি।এতো দিন বলিস নি কেন? আমাকে বললেই পারতি,সুপ্তির সাথে মিথ্যা ভালবাসায় জড়ানোর কি দরকার ছিল? আমিও তোকে খুব পছন্দ করি বুদ্ধ। আমি তোকে অনেক ভালোবাসি। সারাটা জীনব তোর সাথে কাটাতে চাই। . জানি না এই চিঠি পড়ার পর কি করবি? তবুও আমি আমার মনের কথা টা বলে ফেললাম।একটু ভেবে দেখিস। . ইতি তোর অপেক্ষায় মিথিলা . . কয়েক মাস আগে..... . কলেজে একদিন- # বিক্ষোভঃ কি রে কেমন আছিস? # মিথিলাঃ ভাল।তুই? -- হুমমম ভাল। ক্লাস নেই তোর? -- না। তোর? -- না এখন নেই। -- আবার মিথ্যা বলিস? -- আরে আছে তো। কিন্তু যাবো না। -- কেন জাবি না? -- ভালো লাগে না। তাছাড়া তোকে একা রেখে কি করে যাই বল তো? -- আচ্ছা ঠিক আছে।যেতে হবে না।তুই বস, এখনে আমার একটা নতুন ফ্রেন আসবে। তোর সাথে পরিচয় করে দেই। -- ঠিক আছে।কিন্তু কি নাম উনার? -- সুপ্তি। কাল পরিচয় হয়েছি। ঐ দেখ সুপ্তি আসছে। . দূরে তাকিয়ে দেখলাম একটা মেয়ে আসছে। . কাছে আসার পর, মিথিলাঃ সুপ্তি, এই হলো আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড বিক্ষোভ। আর বিক্ষোভ, এই হল সুপ্তি। যার কথা তোকে এখনে বললাম। . # বিক্ষোভঃ হ্যাল,আমি বিক্ষোভ। মিথিলার ছোট বেলার বন্ধু। # সুপ্তিঃ আমি সুপ্তি।মিথিলার বন্ধু। . তখন থেকেই আমারা দুই বন্ধু থেকে তিন বন্ধু হয়ে গেলাম। সময় পেলে আমারা তিন বন্ধু মিলে গল্প করি।একসাথে পড়াশুনা করি।সব কাজই প্রায় এক সাথে করি। খুব জমে উঠেছিলো আমাদের বন্ধুত্ব। সারাক্ষণ গল্প,আর মারামারি করেই কাটছিল সময় গুলো।মনে হতো এইটাই বুঝি বন্ধুত্ব। আর এই বন্ধুত্বই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পর্ক। . শুরু থেকেই সুপ্তি বুঝতে পারছিলো যে,আমি মিথিলাকে পছন্দ করি। একথা মিথিলাও জানত।মিথিলাও আমায় পছন্দ করতো।কিন্তু কেউ সাহস করে বলতে পারছিলাম না।ভয় একটায় যদি আমাদের এই শ্রেষ্ঠ সম্পর্ক বন্ধুত্ব। এই ভয়ে বলার সহস হয়ে উঠে নি। . সুপ্তু ছিল অনেক সাহসী এবং বুদ্ধিমতী একটা মেয়ে। ও আমাকে মিথিলার কথা বললে আমি সব সত্য কথা বলে দেই,মনের সব কথা শেয়ারহ করি। সুপ্তি আমার আর মিথিলার মিল করার জন্য একটা মিথ্যা ভালবাসার জাল বুনে। শুরু হয় আমার আর সুপ্তির ভালবাসা।এই কথা মিথিলা কে বলার মিথিলা খুশী হলেও মন থেকে এটা মেনে নিতে পারে নি।খুব অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল মিথিলা কে। . চলতে থাকে আমার আর সুপ্তির সাজানো ভালবাসার নাটক।আমাদের এই মিথ্যা ভালবাসা আমার একদমই ভাল লাগতো না।কেমন জানি মনে হতো। ভাবতাম যদি মিথিলা সহ্য না করতে পেরে দূরে কোথাও যায়।সব সময় এই কথা ভালতাম।তাই সুপ্তির থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতাম। এই নিয়ে প্রায় আমার মন খারাপ থাকত। আমার মন খারাপ মিথিলা কোখনোই সহ্য করতে পারতো না। তাই প্রায় আমার কাছে মন খারাপের কারন জানতে চাইতো। কিন্তু আমি কিছু বলি না। কি বলবো আমি...??? কি বলার আছে আমার...??? . মিথিলা ভাবতো ওকে না পাওয়ার ব্যাথাই আমার মন খারাপের আসল করন।ও কাছে থাকলে আমি আরো ভেঙ্গে পরবো।তাই মিথিলা এক কঠিন পরীক্ষায় নামে।ও আমার কাছে দূরে থাকার জন্য বাবার পছন্দ করা পাত্রের সাথে বিয়ে করার জন্য মত দেয়।চলে যেতে চায় আমার জীবন থেকে। . মিথিলার বিয়ের দুই দিন আগের রাতে..... আমি আর সুপ্তি গেলাম মিথিলার বাসায়।আমাদের দেখে ও যেন কেমন করতে লাগলো। কি একটা দূঃখ যেন ওর মনে। পরে আমি আর সুপ্তি আমাদের মিথ্যা ভালবাসার কথা বললাম।আমার মনের সব ভালবাসার কথা বললাম মিথিলা কে। সবটাই ছিল সাজানো একটা নাটক। কিন্তু এতে কোন কাজ হল না। কারন,আমরা অনেক দেরি করে ফেলেছি। খালি হতে চলে আসতে হয়।কিন্তু, আমি নিরাশ হই নি।আমি মানতে পারি নি যে,আমি মিথিলা কে পাব না। . বিয়ের আগের দিন..... লাল খামের ভিতরে নীল রঙ এর কাগজে মিথিলার লিখা ওই চিঠিসহ কিছু অশ্রু। খুব খুশী হয়ে আমি আর সুপ্তি গেলাম মিথিলার বাসায়।মিথিলা আমার জন্য অপেক্ষা করছে।ও বাসায় সব কিছু বলেছে।পরিবারের লোকজন মেনেও নিয়েছে। আমি তো অবাক...!!! আমি ফিরে পেলাম আমার ভালবাসা মিথিলা কে। আর সুপ্তি কেন জানি মুখ ভাড় করে চলে গেল। তবে,কি সুপ্তি মিথ্যা ভালবাসার আড়ালে আমাকে ভালবেসেছে...... ....??? ভাইয়া আমার না খুব ক্ষুদা লেগেছে! চলুন না একটু খেয়ে আসি (৬০) এ যে ভাই, বাসটি কখন ছাড়বে বলতে পারেন? □ এইতো একটু পরেই! আপনি ভেতরে এসে বসুন। ■সিট কোনটা? □ এই তো D2 সিট টা আপনার ■ ধন্যবাদ! ■"excuse me"এই সিট টা আমার, So যদি একটু... কেয়াঃ হ্যা Sure! ■ Oh Sorry! তুমি? কেয়াঃ জ্বি, আপনি এখানে? ■ এই তো একটু গ্রামের বাড়িতে যাবো, তুমি কোথায় যাবা? কেয়াঃ আমিও তো বাড়িতে যাচ্ছি... ■ আচ্ছা তুমি তাহলে ওখানেই বসো, সমস্যা নাই কেয়াঃ Thank's... অনেক দিন পর আজ বাড়িতে যাচ্ছি, আম্মু হয়তো অসুস্থ না হলে এবার ও যাওয়া হতো না। তবে এবার বাড়ি গেলে আমাকে আর একা ফেরা হবে না, ফিরতে হলে নাকি বউ নিয়েই ফিরতে হবে। এমনটিই জানিয়েছেন বাড়ির বিজ্ঞ বিচারপতি আমার ছোট বোন, আমার জন্য নাকি ওর বিয়েটাই থেমে আছে। তাই এবার ইচ্ছা থাকলেও অমতের কোন সুযোগ'ই নেই, কি আর করার...... আজ হয়তো নাহিদ পাশে থাকলে অনেক ভাল হতো, বেচারা একটি মেয়ের জন্য অনেক বাস স্টপে ঘুরেছে, অনেক সময় মেয়েটির দেখাও পেত না। অথচো সেই মেয়েটিই আজ আমার পাশে বসে আছে। বলছিলাম কেয়ার কথা, মেয়েটিকে খুব ভালবাসতো নাহিদ, হোস্টেল থেকে ভার্সিটি, লাইব্রেরী, সপিং মল যেখানেই কেয়া যাক না কেন নাহিদ ওর পিছে আঠার মতো লেগে থাকতো অথচো এত চেষ্টার পরও কেয়ার মন ভোলাতে পারিনি। অবশেষে অন্য একটা মেয়েকেই বিয়ে করতে হয়, এত বড় লোকের ছেলে! দেখতেও অনেক সুন্দর, স্মার্ট! অথচো কেয়া যে কেনো নাহিদ কে বিয়ে করলো না, বড়ই অদ্ভুদ মেয়েটি! কখনো কোন ছেলেকেই সয্য করতে পারে না......! কেয়াঃ শুনলাম নাহিদ ভায়ের নাকি বিয়ে হয়ে গেছে? ■ হ্যা, তাও প্রায় তিন চার মাস হলো... কেয়াঃ ওহ! অনেক ভাল করেছে ■ আচ্ছা কেয়া, তোমাকে একটা কথা জ্ঞিগাস করবো? কেয়াঃ বলুন... ■ নাহিদ কি তোমার সাথে খুব'ই বেমানান ছিলো? কেয়াঃ না! না! ভাইয়া, তা কেনো হবে? ■ তাহলে তুমি ওকে... কেয়াঃ আচ্ছা ভাইয়া, কেও যদি কখনো আপনাকে শুধু দুহাত ভরে দিয়েই যাই, আর তার বিনিময়ে যদি একটি মাএ জিনিস চাই, তাহলে আপনি কি তাকে ফেরাতে পারবেন? ■ কখনোই না... কেয়াঃ তাহলে বলুন আমি কিভাবে ফেরাবো? ■ মানে? কেয়াঃ আসলে আমার বাবার অনেক ইচ্ছা, আমি যেনো তার ছোট বেলার বন্ধুর ছেলেকেই বিয়ে করি, আর এজন্য...! আমার বাবাতো আমার কোন ইচ্ছা কখনো অপূর্ন রাখেন নি, তাহলে আমি কিভাবে তার অবাধ্য হয় বলুন? ■ কিন্তু এযুগের মেয়েরা তো... কেয়াঃ আচ্ছা ভাইয়া! পৃথিবীর সবাই কি সমান হয়? ■ সে হয়তো হয় না, তবুও.....! কেয়াঃ আসলে আমারো অনেক ইচ্ছা, যেন তেনো সম্পর্ক না করে বিয়ের পরেই না হয় ভালবাসবো। ■ তুমি আসলেই অনেক অদ্ভুদ! কেয়াঃ হি হি হি... সেদিন একরাশ হাসিতে পুরো বাসটিতেই যেনো অদ্ভুদ এক ছন্দতে মাতিয়ে ছিলো মেয়েটি, কি অপরূপ হাসি! ঠিক যেনো প্রতিমার মতো... জিবনে অনেক মেয়েকেই দেখেছি, কিন্তু এমনটি করে হয়তো আর কাউকেই দেখা হয়নি! মাঝে মধ্যে একটু আধটু চুরি করে ওকে দেখছিলাম কিন্তু চুরি বিদ্যায় নিতান্তয় কাঁচা, তাই সহজেই ধরা খেতে হলো। হঠ্যাত দেখি গাড়ির বক্সে একটা গান বেজে উঠলো "তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়! সে কি মোর অপরাধ?" কেয়াঃ ভাইয়া ফেরীঘাটে তো এসে গেছি, আশে পাশে কি কোন হোটেল পাওয়া যাবে? খুব ক্ষুদা লেগেছে! ■ ওহ, আমারো অনেক ক্ষিদা লাগছে! চলো... কেয়াঃ জ্বি চলুন ■ আচ্ছা ফেরীতে উঠলে তোমার ভয় লাগে না? কেয়াঃ নাহ! কেনো আপনার লাগে? ■ হুম, ভয় লাগে মানে! ছোট বেলায় যখন ফেরীতে উঠতাম,তখন কাছে যতো পানির বোতল থাকতো সব খালি করে নিতাম। কেয়াঃ কেনো? ■ আরে, ফেরীটা যদি ডুবে যাই তাহলে ঐ খালি বোতল গুলো নিয়ে সাতার কাটবো... কেয়াঃ হি হি হি! ■ আচ্ছা তুমি হোটেলে যেয়ে বসো, আমি একটা পানি নিয়ে আসি... কেয়াঃ কেনো আবার সাতার কাটবেন নাকি? ■ হা হা, আরে নাহ! খাবার জন্য, এখানকার পানি অনেক লবনাক্ত, তুমি যাও আমি আসছি... কেয়াঃ আচ্ছা! কি অদ্ভুদ একটা মেয়ে, পবীএতার হাসিতে যেনো মুখে সপ্তর্শির আলো ছড়াচ্ছে, সত্যিই বড় অদ্ভুদ! অদ্ভুদ এ পৃথিবী, সবাই যেখানে অদৃশ্য কোন না কোন মোহে জড়িয়ে আছে, সেখানে এই মেয়েটি হয়তো নিতান্তই একটি শিশু সমতুল্য! সেদিন দোকান থেকে পানি কিনে এসে দেখি পাশের রাস্তার উপরে মানুষের অজস্র ঢল নেমেছে ভাবলাম হয়তো কোন চোর বা পকেটমার ধরা পড়েছে, তাই সামনের লোকজন সরিয়ে একটু ভিতরে ঢুকলাম, কিন্তু আমার জিবনে যে কখনো এতটা মর্মান্তিক মূহর্ত আসবে সেটা হয়তো কখনো সপ্নেও ভাবিনি! দেখলাম একটা মেয়ে ছিন্ন ভিন্ন অবস্থায় রাস্তাতে পড়ে আছে! বুঝলাম যে মেয়েটি আর অন্য কেউ নয়"কেয়া" রাস্তা ক্রসিংয়ের সময় নাকি একটা ট্রাক এসে নির্মম ভাবে ওকে চাপা দিয়ে গেছে... মৃত্যুটা হয়তো আজ দেহ থেকে শুধু চেতনাটায় নিয়ে গেছে, কিন্তু লাবণ্যময়ি সেই হাসিটা কাড়ার ক্ষমতা বিধাতা তাকে দেয়নি, এই হাসিটা যে আল্লাহ নিজের হাতেই দিয়েছেন! দেখে যেন মনে হয় একটা শিশু কেবল মায়ের বুকে ঘুমিয়ে গেলো সেদিন সারাটা পথ শুধু কেঁদেছিলাম, আল্লাহ আমার চোখে তুমি কেনো এতো পানি দিয়েছো? দিয়েছো'ই যখন মেয়েটার জিবন ফিরিয়ে দিতে পারোনি? কিই বা করেছিলো মেয়েটা? সব থেকে বড় সার্থপর তো তুমি নিজেই, যাকেই ভাল লাগে তাকেই কাছে টেনে নাও! এটা তোমার কেমন বিচার? যদি তুমি মৃত্যুই দেবে তবে কেনো জন্ম দিয়েছিলে? জানি আজ কিছুই বলবে না...! সেদিন বাড়িতে পৌছাবার পর ছোট বোনটা এসে বল্ল, ভাইয়া দেখনা তোর বউটা কত্ত সুন্দর! আমার থেকেও অনেক সুন্দর, দেখিস তোর সাথে অনেক সুন্দর মানাবে, দেখনা একবার ছবিটা... ■ প্লিজ ওসব এখন সরা আপু! আম্মু কোথায়? আম্মু কে বল আমি ঘুমাবো, বিছনাটা করে দিতে। অন্তিঃ আচ্ছা বলছি, এই নে তোর বউ এর ছবি! দেখলে দেখ না দেখলে ছিড়ে ফেল... এলবামটা সামনে মেলতেই দেখলাম, একটা মেয়ের ছবি! হাসিটা অনেক চেনা, লাবণ্যময়ী এক হাসিটা যেনো আমাকে ইশারা দিয়ে ডাকছে..."ভাইয়া আমার না খুব ক্ষুদা লেগেছে! চলুন না একটু খেয়ে আসি......!!!!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নীল পরি নীলা চৌধুরি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now