বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভুল ভালোবাসা!

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান sagor the gangster of king is here (crush) (০ পয়েন্ট)

X ভুল ভালোবাসা! (৩৪) আড়চোখে তাকায় রূপা, আজও বাসার সামনে দাড়িয়ে আছে ছেলেটা। মোটা ফ্রেমের চশমার আড়ালে শান্ত দুটো চোখ তাকিয়ে থাকে। রূপা রিকশা নিয়ে চলে যায়। পেছন ফিরে তাকায় একবার। ছেলেটি ঠিক তেমনি দাড়িয়ে আছে। বেশ কয়েক দিন হলো ছেলেটি ফলো করছে রূপাকে, কিন্তু কেন? ছেলেটি কি তাহলে ভালোবাসে রূপাকে? যদি বেসে থাকে তাহলে সাহস করে বলে ফেললেই তো পারে। ভিতুর ডিম একটা, ফোন নম্বর চাইতে সাহস না থাকুক, ফেসবুক আইডিটা তো চাইতে পারে। অদ্ভুত। ছেলেটিকে নিয়ে কি বান্ধবীদের সঙ্গে আলাপ করা যায়? নাহ, পচাবে। বলবে এমন একটা ছেলের প্রেমে পড়েছিস। তাহলে একটা স্ট্যাটাস...নাহ, সেখানেও সমস্যা আছে, সবাই জেনে যেতে পারে। তাহলে কী করবে এখন, বিষয়টা তো হজম করতেও পারছে না। ছেলেটির চোখ তো নয় যেন ঘায়েল করার যন্ত্র। মুখ টিপে হাসে রূপা। পরদিন সকাল থেকেই বৃষ্টি, কয়েক দিন আগে হলেও ভার্সিটিতে যেত না। মেঘলা দিন খুব ভালো লাগে ওর। কিন্তু আজকের বিষয়টা ভিন্ন, বাইরে যে বেরোতেই হবে। রূপা আজ শাড়ি পরেছে, হুমায়ূন স্যারের রূপার মতো নীল শাড়ি। আচ্ছা ছেলেটি কি হলুদ পাঞ্জাবি পরবে আজ? কী জানি। বাইরে বেরোতেই চোখে পড়ল, দুটো কদম ফুল হাতে ছেলেটি দঁাড়িয়ে। রূপা ছেলেটির দিকে এগিয়ে গেল। রূপাকে এভাবে আসতে দেখে ছেলেটি অপ্রস্তুত হয়ে গেল। কাছে গিয়ে বলল,‘আপনি একটা ভিতুর ডিম।’ ‘মানে?’ ‘একটা সহজ বাংলা উচ্চারণ মুখ ফুটে বলতে পারেন না।’ ছেলেটি বলল, ‘ইয়ে মানে আপনি যা ভাবছেন তা নয়।’ ঠিক সেই মুহূর্তে আরেকটা রিকশা এসে দাড়ায় সেখানে। ছেলেটি সে দিকে হেঁটে চলে যায়। রূপা তাকিয়ে দেখে, রিকশায় একটি মেয়ে বসে আছে। ছেলেটি, মেয়েটির হাতে ফুলগুলো দিয়ে রিকশায় উঠে বসল। মানে এত দিন যা ভেবেছে তা সবই ভুল। ছেলেটি অন্য কারও জন্য এখানে অপেক্ষা করে। আর ও কি না...। বড় বড় বৃষ্টির ফোঁটা রিক্ত মনটাকে ভিজিয়ে দিচ্ছে। চোখের জল আর বৃষ্টির জল দুটো একই সঙ্গে ঝরে পড়ছে মাটিতে। ধ্রুবতারা (৩৫) প্রতিদিনের মত আজকেও প্রাইভেট শেষ করে নিজের গিয়ার সাইকেল নিয়ে রিকশাটার পিছু পিছু আস্তে আস্তে করে প্যাডেল মেরে এগিয়ে যাচ্ছে ধ্রুব। প্রতিদিনের রুটিন এইটা ধ্রুবের,আর যাবার কারন যে একটাই এই রিকশায় করে যে মেয়েটা যাচ্ছে,ধ্রুব যে তাকে খুব ভালোবাসে। মেয়েটার নাম তারা,খুব মিষ্টি দেখতে আর ধ্রুবের সাথে একি কোচিং এ পড়ে। ধ্রুব তাকে এই ৬মাস থেকে মনে মনে ভালোবেসে আসছে কিন্তু তাকে বলার সাহস পায়না যদি কোচিং এর ভাইয়ার কাছে নালিশ করে আর সে যদি ধ্রুবের বাবা-মাকে বলে দেয়। তাই প্রতিদিন কোচিং এ বসে চোখাচোখি আর পড়ার শেষে তারার রিকশার পিছনে তাদের বাসা পর্যন্ত যাওয়া।আর গত ছয় মাস ধরে মেয়েটা এই বিষয়টা ফলো করে আসছে,যে প্রতিদিন এমন করবে ধ্রুব। মেয়েটারও ধ্রুবকে খুব ভালো লাগে কিন্তু সে তো আর একটা মেয়ে হয়ে আগে বলতে পারে না,অপেক্ষা করছে কবে এসে ধ্রুব তাকে ভালোবাসার কথা জানাবে।তারা তার বাসার কাছে চলে আসল আর ধ্রুব সাইকেল টা একটু দূরে থামাল,মনে হচ্ছে সাইকেলের চেন পড়ছে এমন বুঝাচ্ছে।কিন্তু গিয়ার সাইকেলের যে চেন সহজে পড়ে না। তারা বাসায় ঢুকার আগে গেট থেকে দেখে নেয় ধ্রুব এখনো দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটাও জানে যত টাইম সে বাসার ভিতর না ঢুকবে তত টাইম ধ্রুব দাঁড়িয়ে থাকবে তার ভিতরের যাবার অপেক্ষায়। তারা খুব পছন্দ করে ধ্রুবের এই বিষয় গুলি। ভালোবাসে কথাটা এখনো বলেনি তাইতে এত কেয়ার।একটু পর ধ্রুব চলে যায় নিজের বাসার দিকে,আর হাজারো স্বপ্ন সাজাতে থাকে তার ভালোবাসার তারাকে নিয়ে।দিন যতই যাচ্ছে দুইজনের মনের ভালোবাসা খুব বেশি বাড়ছে। কিন্তু তবুও কেউ কাউকেই বলে না।একদিন কোচিং এর আর একটা ছেলে ছিল নীল নামে সে ও তারাকে পছন্দ করত।ক্লাস শেষে নীল তারাকে দাঁড়াতে বলল,তারা ও দাড়াল আর ধ্রুব সব দেখতে ছিল। নীল তারাকে সরাসরি প্রপোজ করে। কিন্তু তারা বলে দেখো আমি একজন কে পছন্দ করি আর তাকেই ভালোবাসি।আমি তোমায় ভালবাসতে পারব না।নীল তখন জানতে চায় কে সে যাকে তুমি ভালোবাসো?তারা তখন ধ্রুবকে দেখিয়ে দেয় আর বলে আমি ধ্রুবকে ভালোবাসি।নীল বলে ঠিক আছে,এই বলেই নীল চলে যায়।কিন্তু ধ্রুব দূর থেকে তাদের দেখছিল আর হিংসায় জ্বলে যাচ্ছিল।ভাবছে আজকেই তারাকে বলবে তার ভালোবাসার কথা।কিন্তু যখন তারা তার পাশ থেকে যাচ্ছে তখন আর কিছুই বলার সাহস পেল না। প্রতিদিনের মত আজকেও তারা চলে যায়,আর পিছু পিছু ধ্রুব।রাতে বাসায় গিয়ে ধ্রুব ভাবে না এই ভাবে আর চলবে না,কিছু একটা করতে হবে তাকে,যে করে হোক তারাকে তার বলতেই হবে।ঠিক করল তারাকে একটা লাল গোলাপ দিয়ে তার মনের কথা বলবে।সকাল সকাল উঠে ধ্রুব ফুলের দোকানে চলে যায়,কিন্তু ধ্রুবের জন্য তো ফুলের দোকানদার আর কাচা ঘুম ভেঙে আসবে না,কিন্তু না এসে ও উপায় নাই দোকানের সাইনবোর্ড থেকে দোকানদারের নাম্বার নিয়ে ১০মিনিট পর পর ফোন দিয়ে পাগল করে দিছে। দোকানদার এসেই দিল ঝাড়ি ওই মিয়া এত সকালে কেউ দোকানে আসে? ধ্রুব বলে ভাই রাগ করেন না।আজকে জীবনে কাউকে প্রথম প্রপোজ করব তাই সেরা ফুলটা খুঁজে নিতে আসছি। সবার আগে,তাই সকাল সকাল আসা। পরে দোকানদার ও খুশি হয়ে দোকানের সেরা ফুলটা খুঁজে ধ্রুবকে দিল।ধ্রুব ফুল,গিফট,চকলেট সব নিয়ে ব্যাগে রাখল। সাইকেল নিয়ে কোচিং এর সামনে হাজির কিন্তু আজকে সে পড়তে যাবে না।দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সাহস অর্জন করবে তারাকে প্রপোজ করার জন্য। এদিকে ধ্রুবকে ক্লাসে না দেখতে পেয়ে তারার মন ও খারাপ।ভাবছে কিছু হল না তো আবার ধ্রুবের।চিন্তা করতে করতে ক্লাস শেষ করে বাইরে এল তারা। এসে দেখে ধ্রুব দাঁড়িয়ে আছে। নিজের অজান্তেই চোখের কোনে জল চলে আসে তারার।চোখের জল আড়াল করেই রিকশা নিয়ে চলে যায়,ধ্রুব ডাক দেয় কিন্তু তারা ফিরে না,খুব বেশি অভিমান করছে ধ্রুবের উপর।তারা ক্লাসে বসে বসে যখন ধ্রুবকে মিস করছিল,তখন সে বুঝছে ধ্রুবকে কতটা ভালোবাসে আর কতটা ভালোবাসা ধ্রুবের জন্য তার মনের মধ্যে আছে। ধ্রুব তাড়াতাড়ি সাইকেলে করে তারার পাশে পাসে যাচ্ছে আর বলছে তারা একটু কথা আছে তোমার সাথে প্লিজ দাড়াও। কিন্তু তারা কোন কথা বলে না। রিকশাওয়ালা কে বলে মামা আপনি চালান।ধ্রুব অনেক সময় ধরে বলে যাচ্ছে কিন্তু তারাকে থামতে বলতে বলতে কখন যে রোডের মাঝে চলে আসে খেয়াল করেনি।পিছন থেকে একটা মাইক্রোবাসের সজোরে আঘাতে ধ্রুব ছিটকে রাস্তার পাশে পড়ে যায়।তারা শব্দ শুনে পিছনে ফিরে দেখে ধ্রুব রাস্তার পাশে পড়ে আছে,লোক জড়ো হচ্ছে।তারা রিকশা থেকে নেমে ছুটে যায় ধ্রুবের কাছে।পড়ে লোকজনের সহযোগীতায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারার চোখ দিয়ে শুধু অশ্রু ঝরছে। কেন সে দাঁড়ালো না,কেন সে ধ্রুবের কথা শুনল না।ডাক্তার বলল একটু অজ্ঞান হয়ে গেছে,আর ডান হাতটা ভেঙে গেছে।প্লাস্টার করে দিছি কিছুদিন পর ঠিক হয়ে যাবে।ধ্রুব বেডে শুয়ে আছে জ্ঞান এখনো ফিরে নাই,তারা পাশেই বসে আছে দেখছে আর ভাবছে আজকে যদি বড় রকমের একটা বিপদ হয়ে যেত তবে? ভাবতে ভাবতে দেখে ধ্রুবের জ্ঞান ফিরছে।তারা ধ্রুবে জিজ্ঞেস করে তুমি ঠিক আছো? ধ্রুব বলে আছি কিন্তু হাতের কি হইছে?আর তুমি ঠিক আছো তো? তারা বলে নিজে তো হাত ভেঙে অজ্ঞান ছিলা এমন চিৎকার করে থামতে বলছিলা কেন?কি বলতে চাইছিলা?ধ্রুব বলে কি আমার হাত ভেঙে গেছে এখন আমি কি করে বলব তোমায়।তারা জানতে চায় কথা কি তুমি মুখ দিয়ে বলবে নাকি হাত দিয়ে,বলো কি বলতে চাও?ধ্রুব বলে তবে আমি তোমায় এখন প্রপোজ করব কি করে এই ভাঙা হাত দিয়ে? আমি ব্যাগের মধ্যে কত কি আনছি দেখছো তুমি।তারা বলে কেন তুমি আমায় প্রপোজ করবে কেন,আমি তো তোমায় ভালোবাসি না,আর করেও লাভ নাই আমি অন্য একজন কে ভালোবাসি। ধ্রুবের চোখে পানি চলে আসে তারার কথা শুনে।তবে কি নীলকে ভালোবাসে তারা?ধ্রুব বেড থেকে নেমে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়,আর তারা চুপি চুপি ব্যাগ থেকে ফুল বের করে ধ্রুবের পিছনে গিয়ে ধ্রুবকে প্রপোজ করে...... """উইল ইউ ম্যারি মি? ধ্রুব পিছন ফিরে দেখে যেমনি করে হাটু গেড়ে বসে তারাকে প্রপোজ করার কথা আগের রাতে সে কল্পনা করছিল,ঠিক তেমনি তারা তাকে প্রপোজ করছে। এখন ধ্রুব তাকে কি বলবে,খুব বেশিই ভালোবেসে ফেলছে তারাকে তাইত মনের অজান্তেই নিজের চোখ থেকে অশ্রু ঝরছে।বাম হাত দিয়ে ফুলটা নিল ধ্রুব। তারা উঠে দাঁড়িয়ে ধ্রুবকে জড়িয়ে ধরে বলে খুব বেশি ভালোবাসি তোমায়।আর ধ্রুব বলে এত ভালোবাসো তাইতো প্রথমদিনই হাত ভেঙে দিলে।তারা বলে কি আমি হাত ভেঙে দিছি যাও কথাই নাই তোমার সাথে।এমন হাজারো রাগ অভিমান নিয়েই →প্রতিদিনের মত আজকেও প্রাইভেট শেষ করে নিজের গিয়ার সাইকেল নিয়ে রিকশাটার পিছু পিছু আস্তে আস্তে করে প্যাডেল মেরে এগিয়ে যাচ্ছে ধ্রুব। প্রতিদিনের রুটিন এইটা ধ্রুবের,আর যাবার কারন যে একটাই এই রিকশায় করে যে মেয়েটা যাচ্ছে,ধ্রুব যে তাকে খুব ভালোবাসে। মেয়েটার নাম তারা,খুব মিষ্টি দেখতে আর ধ্রুবের সাথে একি কোচিং এ পড়ে। ধ্রুব তাকে এই ৬মাস থেকে মনে মনে ভালোবেসে আসছে কিন্তু তাকে বলার সাহস পায়না যদি কোচিং এর ভাইয়ার কাছে নালিশ করে আর সে যদি ধ্রুবের বাবা-মাকে বলে দেয়। তাই প্রতিদিন কোচিং এ বসে চোখাচোখি আর পড়ার শেষে তারার রিকশার পিছনে তাদের বাসা পর্যন্ত যাওয়া।আর গত ছয় মাস ধরে মেয়েটা এই বিষয়টা ফলো করে আসছে,যে প্রতিদিন এমন করবে ধ্রুব। মেয়েটারও ধ্রুবকে খুব ভালো লাগে কিন্তু সে তো আর একটা মেয়ে হয়ে আগে বলতে পারে না,অপেক্ষা করছে কবে এসে ধ্রুব তাকে ভালোবাসার কথা জানাবে।তারা তার বাসার কাছে চলে আসল আর ধ্রুব সাইকেল টা একটু দূরে থামাল,মনে হচ্ছে সাইকেলের চেন পড়ছে এমন বুঝাচ্ছে।কিন্তু গিয়ার সাইকেলের যে চেন সহজে পড়ে না। তারা বাসায় ঢুকার আগে গেট থেকে দেখে নেয় ধ্রুব এখনো দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটাও জানে যত টাইম সে বাসার ভিতর না ঢুকবে তত টাইম ধ্রুব দাঁড়িয়ে থাকবে তার ভিতরের যাবার অপেক্ষায়। তারা খুব পছন্দ করে ধ্রুবের এই বিষয় গুলি। ভালোবাসে কথাটা এখনো বলেনি তাইতে এত কেয়ার।একটু পর ধ্রুব চলে যায় নিজের বাসার দিকে,আর হাজারো স্বপ্ন সাজাতে থাকে তার ভালোবাসার তারাকে নিয়ে।দিন যতই যাচ্ছে দুইজনের মনের ভালোবাসা খুব বেশি বাড়ছে। কিন্তু তবুও কেউ কাউকেই বলে না।একদিন কোচিং এর আর একটা ছেলে ছিল নীল নামে সে ও তারাকে পছন্দ করত।ক্লাস শেষে নীল তারাকে দাঁড়াতে বলল,তারা ও দাড়াল আর ধ্রুব সব দেখতে ছিল। নীল তারাকে সরাসরি প্রপোজ করে। কিন্তু তারা বলে দেখো আমি একজন কে পছন্দ করি আর তাকেই ভালোবাসি।আমি তোমায় ভালবাসতে পারব না।নীল তখন জানতে চায় কে সে যাকে তুমি ভালোবাসো?তারা তখন ধ্রুবকে দেখিয়ে দেয় আর বলে আমি ধ্রুবকে ভালোবাসি।নীল বলে ঠিক আছে,এই বলেই নীল চলে যায়।কিন্তু ধ্রুব দূর থেকে তাদের দেখছিল আর হিংসায় জ্বলে যাচ্ছিল।ভাবছে আজকেই তারাকে বলবে তার ভালোবাসার কথা।কিন্তু যখন তারা তার পাশ থেকে যাচ্ছে তখন আর কিছুই বলার সাহস পেল না। প্রতিদিনের মত আজকেও তারা চলে যায়,আর পিছু পিছু ধ্রুব।রাতে বাসায় গিয়ে ধ্রুব ভাবে না এই ভাবে আর চলবে না,কিছু একটা করতে হবে তাকে,যে করে হোক তারাকে তার বলতেই হবে।ঠিক করল তারাকে একটা লাল গোলাপ দিয়ে তার মনের কথা বলবে।সকাল সকাল উঠে ধ্রুব ফুলের দোকানে চলে যায়,কিন্তু ধ্রুবের জন্য তো ফুলের দোকানদার আর কাচা ঘুম ভেঙে আসবে না,কিন্তু না এসে ও উপায় নাই দোকানের সাইনবোর্ড থেকে দোকানদারের নাম্বার নিয়ে ১০মিনিট পর পর ফোন দিয়ে পাগল করে দিছে। দোকানদার এসেই দিল ঝাড়ি ওই মিয়া এত সকালে কেউ দোকানে আসে? ধ্রুব বলে ভাই রাগ করেন না।আজকে জীবনে কাউকে প্রথম প্রপোজ করব তাই সেরা ফুলটা খুঁজে নিতে আসছি। সবার আগে,তাই সকাল সকাল আসা। পরে দোকানদার ও খুশি হয়ে দোকানের সেরা ফুলটা খুঁজে ধ্রুবকে দিল।ধ্রুব ফুল,গিফট,চকলেট সব নিয়ে ব্যাগে রাখল। সাইকেল নিয়ে কোচিং এর সামনে হাজির কিন্তু আজকে সে পড়তে যাবে না।দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সাহস অর্জন করবে তারাকে প্রপোজ করার জন্য। এদিকে ধ্রুবকে ক্লাসে না দেখতে পেয়ে তারার মন ও খারাপ।ভাবছে কিছু হল না তো আবার ধ্রুবের।চিন্তা করতে করতে ক্লাস শেষ করে বাইরে এল তারা। এসে দেখে ধ্রুব দাঁড়িয়ে আছে। নিজের অজান্তেই চোখের কোনে জল চলে আসে তারার।চোখের জল আড়াল করেই রিকশা নিয়ে চলে যায়,ধ্রুব ডাক দেয় কিন্তু তারা ফিরে না,খুব বেশি অভিমান করছে ধ্রুবের উপর।তারা ক্লাসে বসে বসে যখন ধ্রুবকে মিস করছিল,তখন সে বুঝছে ধ্রুবকে কতটা ভালোবাসে আর কতটা ভালোবাসা ধ্রুবের জন্য তার মনের মধ্যে আছে। ধ্রুব তাড়াতাড়ি সাইকেলে করে তারার পাশে পাসে যাচ্ছে আর বলছে তারা একটু কথা আছে তোমার সাথে প্লিজ দাড়াও। কিন্তু তারা কোন কথা বলে না। রিকশাওয়ালা কে বলে মামা আপনি চালান।ধ্রুব অনেক সময় ধরে বলে যাচ্ছে কিন্তু তারাকে থামতে বলতে বলতে কখন যে রোডের মাঝে চলে আসে খেয়াল করেনি।পিছন থেকে একটা মাইক্রোবাসের সজোরে আঘাতে ধ্রুব ছিটকে রাস্তার পাশে পড়ে যায়।তারা শব্দ শুনে পিছনে ফিরে দেখে ধ্রুব রাস্তার পাশে পড়ে আছে,লোক জড়ো হচ্ছে।তারা রিকশা থেকে নেমে ছুটে যায় ধ্রুবের কাছে।পড়ে লোকজনের সহযোগীতায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারার চোখ দিয়ে শুধু অশ্রু ঝরছে। কেন সে দাঁড়ালো না,কেন সে ধ্রুবের কথা শুনল না।ডাক্তার বলল একটু অজ্ঞান হয়ে গেছে,আর ডান হাতটা ভেঙে গেছে।প্লাস্টার করে দিছি কিছুদিন পর ঠিক হয়ে যাবে।ধ্রুব বেডে শুয়ে আছে জ্ঞান এখনো ফিরে নাই,তারা পাশেই বসে আছে দেখছে আর ভাবছে আজকে যদি বড় রকমের একটা বিপদ হয়ে যেত তবে? ভাবতে ভাবতে দেখে ধ্রুবের জ্ঞান ফিরছে।তারা ধ্রুবে জিজ্ঞেস করে তুমি ঠিক আছো? ধ্রুব বলে আছি কিন্তু হাতের কি হইছে?আর তুমি ঠিক আছো তো? তারা বলে নিজে তো হাত ভেঙে অজ্ঞান ছিলা এমন চিৎকার করে থামতে বলছিলা কেন?কি বলতে চাইছিলা?ধ্রুব বলে কি আমার হাত ভেঙে গেছে এখন আমি কি করে বলব তোমায়।তারা জানতে চায় কথা কি তুমি মুখ দিয়ে বলবে নাকি হাত দিয়ে,বলো কি বলতে চাও?ধ্রুব বলে তবে আমি তোমায় এখন প্রপোজ করব কি করে এই ভাঙা হাত দিয়ে? আমি ব্যাগের মধ্যে কত কি আনছি দেখছো তুমি।তারা বলে কেন তুমি আমায় প্রপোজ করবে কেন,আমি তো তোমায় ভালোবাসি না,আর করেও লাভ নাই আমি অন্য একজন কে ভালোবাসি। ধ্রুবের চোখে পানি চলে আসে তারার কথা শুনে।তবে কি নীলকে ভালোবাসে তারা?ধ্রুব বেড থেকে নেমে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়,আর তারা চুপি চুপি ব্যাগ থেকে ফুল বের করে ধ্রুবের পিছনে গিয়ে ধ্রুবকে প্রপোজ করে...... """উইল ইউ ম্যারি মি? ধ্রুব পিছন ফিরে দেখে যেমনি করে হাটু গেড়ে বসে তারাকে প্রপোজ করার কথা আগের রাতে সে কল্পনা করছিল,ঠিক তেমনি তারা তাকে প্রপোজ করছে। এখন ধ্রুব তাকে কি বলবে,খুব বেশিই ভালোবেসে ফেলছে তারাকে তাইত মনের অজান্তেই নিজের চোখ থেকে অশ্রু ঝরছে।বাম হাত দিয়ে ফুলটা নিল ধ্রুব। তারা উঠে দাঁড়িয়ে ধ্রুবকে জড়িয়ে ধরে বলে খুব বেশি ভালোবাসি তোমায়।আর ধ্রুব বলে এত ভালোবাসো তাইতো প্রথমদিনই হাত ভেঙে দিলে।তারা বলে কি আমি হাত ভেঙে দিছি যাও কথাই নাই তোমার সাথে।এমন হাজারো রাগ অভিমান নিয়েই ধ্রুবতারার ভালোবাসার গল্প এগিয়ে যাচ্ছে অজানা ভবিষ্যৎ এর দিকে,না জানি ভবিষ্যৎ তাদের আবারও কোন গল্পের সাক্ষী করে কিনা। ভালোবাসার গল্প এগিয়ে যাচ্ছে অজানা ভবিষ্যৎ এর দিকে,না জানি ভবিষ্যৎ তাদের আবারও কোন গল্পের সাক্ষী করে কিনা। কলি (৩৬) - তুমি কি আজকেও আমার ফোন ধরবানা? - হয়তো, আবার হয়তো না! - হয়তো? নাকি হয়তো না? - জানিনা! - তুমি এত নিষ্ঠুর! তোমার কি শিশুদের জন্য কোনো মায়া মমতা নেই? - তুমি শিশু? - আমি শিশু না, আমার মেয়ে তো শিশু! - তোমার মেয়ে কই থেকে আসলো এখানে? - অবশ্যই আসলো! তুমি জানো আমার এই একটা কল তোমার ফোনের মিসড কল তালিকায় চলে যাওয়ার কারণে আমি আমার মেয়ের স্কুলের বেতন দিতে পারবো না! এটা খুব ভালো কিছু হবে? বলো? - মানে কি? - মানে দেখো, তুমি আমার এই একটা ফোন না ধরলে আমাদের কথাবার্তা এগোবে না আর তোমার-আমার বিয়ে করারও কোনো সুযোগ দেখিনা, বিয়ে না হলে আমার মেয়েও হচ্ছে না, মেয়ে না হলে তাকে স্কুলে ভর্তি করানোরও প্রশ্ন ওঠে না, আর স্কুলেই যদি না ভর্তি হয় তাহলে কি আমি তার স্কুলের বেতন দিতে পারবো? ভাবো, একটু ভাবো! -ভাবলাম -ভেবে কি পেলে.? -ভেবে পেলাম যে তুমি একটা ছাগল! -তুমি এটা বলতে পারলে কলি?? -হুম। বলেই তো ফেলেছি।। -আচ্ছা বলেই যখন ফেলেছ, বাদ দাও। এবার বলো,, কল দেবো?? -জানিনা... -মানে কি??? -মানে জানিনা।। - আমি কল দিচ্ছি। তুমি রিসিভ করবে। আমি কথা বলবো। -রিসিভ করবো কিনা সিওর না। -আমি জানি তুমি রিসিভ করবে।। -তোমার মাথা -তোমার মন্ডু টাটা। ফোন দিচ্ছি।।দুজনের পরিচয় ফেইসবুকে। নাম্বার আদান প্রদান হয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু কথা হয়নি কখন ও। অরিত্র অনেক বার চেয়েছে এবং দিয়েছেও। কিন্তু কলি না করে দেয় সব সময়। কল রিসিভ করেনা। আজ অরিত্রর মন বলছে যে সে রিসিভ করবে। ফোন দেয় সে। ওয়েলকাম টিউন বাজে অপর প্রান্তে" দূর হতে আমি তারে সাধিবো.. গোপন এ বিরহ ডোরে বাধিবো... " তারপর ভাইব্রেশন।। রিসিভ করেছে কলি। অতঃপর দু প্রান্তেই ১০সেকেন্ডের নিরবতা। কলিই প্রথম কথা বলে.. :: কি হলো? কথা বলছোনা যে.? :: না মানে আমি ভাবলাম তুমি হয়তো রিসিভ করোনি। আমি স্বপ্ন দেখছিলাম।। :: হিহি। রিসিভ করেছি। কথা বলো।। অরিত্র কথা বলতেই পারেনি। কথা সব এলোমেলো হয়ে যায়। একটা মেয়ের কন্ঠ এত্ত সুন্দর কেম্নে হতে পারে?? আবার নিরবতা ভেংগে কলিই বলে,, -:: আজব ব্যাপার। চুপ করে আছো কেনো?? :: না মানে ইয়ে,, কেমন আছো?? :: হিহি ভালো আছি।। তুমি?? :: হাসছো ক্যান?? আমি ভালো আছি। খুব :: এমনি হাসলাম। আচ্ছা আমি ফোন রাখি। ::রাখবে? ::হুম।। ::আচ্ছা। ফোন টা কেটে দেয় কলি। সে বুঝতে পারছে। অরিত্র ছেলেটা ক্রমশ তার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ছে। কলি কে সরে যেতে হবে। কিন্তু পারছেনা কলি ছেলেটাকে দূরে সরিয়ে রাখতে। কিছু বলতেও পারছেনা। অরিত্র অনেক বেশী ভালোবেসে ফেলেছে মেয়েটাকে। অনেক বেশী। কিন্তু মজার কথা হচ্ছে তারা দুজন দুজনকে এখন ও কেউ দেখেনি। অরিত্র দেখতেও চায় না। তবে অরিত্র নিজের একটা ছবি কলি কে ফেসবুকে দিয়ে দেয়। কলি বলে,, - ছবি দিলে কেনো? -আমার ইচ্ছে হলো তাই। -হু -একটা কথা বলবো কলি?? -হুম বলো।। -একদিন দেখা করতে পারবে প্লিজ?/ -ক্যানো?? - কিছু কথা বলার ছিলো। -কি কথা এখাবেই বলো। -না এখানে সম্ভব না। -তাহলে ফোন দাও। -উঁহু ওভাবেও হবেনা। সামনা সামনি কথা বলতে হবে। -- ভেবে দেখি। -আচ্ছা। অরিত্র দিন রাত কলি কে নিয়েই ভাবে। মেয়েটার মাঝে অনেক রহস্য আছে। যার কারনে মেয়েটার প্রতি প্রতিনিয়ত সে আরোও বেশী দুর্বল হয়ে পড়ছে। কল দেয় কলি কে,, --কলি? -হুম। -করবে দেখা? -আচ্ছা। -সত্যি বলছো?? -হুম। -কোথায় দেখা করবে বলো।। -সরকারী কলেজ এর পাশে যে কফি শপ টা আছে, সেখানে। -আচ্ছা। কবে?? -রবিবার।। -মানে কাল??? -হুম।। -আচ্ছা অনেক অনেক ধন্যবাদ।। -হু রাখি।। অরিত্র ঘুমাতে পারছেনা। ঘুম আসছে না। ভালোবাসার মানুষ টাকে প্রথম বার দেখবে সে। সেই খুশিতে সারারাত আর চোখ বুজতে পারলো না সে। সকাল ১০টায় অরিত্র কল করলো কলি কে। -তুমি কই?? -বাসায়.. -কখন যাবা? -বিকালে যাবো। ৪টায়। -আচ্ছা। -টাটা। বিকাল ৪:০০টা বাজে। অরিত্র এসে বসলো কোনার একটা টেবিল এ।। কালো রঙ এর পাঞ্জাবি পরে। অরিত্র এসে অর্ডার দিলো কফির। সে শুনেছে কলির অনেক ফেভারিট কফি ক্যাপাচিনো। সেটা অর্ডার করলো।। কফি চলেও এলো.. কফি ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে কিন্তু কলি এখন ও নাই.. কল দিলো অরিত্র। ওপার থেকে যান্ত্রিক মানবী বলে উঠলো 'আপনার ডায়ালকৃত নাম্বার টিতে এই মুহুর্তে সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা।। অনুগ্রহ পূর্বক কিছুক্ষন পর আবার......" কয়েকবার চেষ্টা করলো অরিত্র।। কোনো রেসপন্স পেলোনা সে। ফেসবুকে ঢুকলো সে। কলির নীল আইডিটা কালো হয়ে গেছে। তবে কি কলি তাকে মিথ্যা..?? না না এ কিভাবে হয়? কলি এমন টা করবেনা তার সাথে। রাত ৯টা পর্যন্ত বসে থাকে অরিত্র। কলি আসেনি।। সে যখন চলে আসছিলো,, তার বাড়ির সামনে একটা মেয়েকে দেখতে পায় সে। মেয়েটা অপরিচিত। অরিত্র কাছাকাছি গেলে মেয়েটি অরিত্র কে ডাকে। -আপনি কি অরিত্র ভাই?? -জ্বি বলুন। -আমাকে আপনি চিনবেন না আমি নিতু। কলির ফ্রেন্ড। অরিত্র চমকে ওঠে। বলে ,, -কলি কই?? ওর আসার কথা ছিলো।। মেয়েটি কাঁদতে থাকে। - কলি আর নেই। আর দুপুরে আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গ্যাছে সে।। -মানে কি বলছো এসব??? -ঠিক ই বলছি। কলির ব্রেইন। টিউমার ছিলো। সে আপনাকে বলতে চেয়েছে অনেকবার। আজ বলে দিতো। কিন্তু পাগলী টা আর সে সময় টুকু পেলো না। চলে গেলো আমাদের ছেড়ে ।। অরিত্র মাটিতে বসে পড়লো।। সে কিচ্ছু ভাবতে পারছেনা। এমন টা কেনো হলো?? নিতু অরিত্র কে একটা কাগজ হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো এটা আপনার জন্য। বলেই চলে ফেলো। অরিত্র কাগজ টা হাতে নিয়ে দেখলো সেটা একটা চিঠি। কলির লিখা। ,,,,,,,, অরিত্র,, আমি প্রথম থেকেই বুঝতে পারছিলাম আমার প্রতি তোমার দুর্বলতা টা। কিন্তু কি করবো বলো আমার কপালে কাউকে ভালোবাসার ভাগ্য নাই। আমার অসুখ টার কারনে কারো সাথে কথা বলতাম না। কিন্তু তোমার সাথে বলতাম। সত্যি বলছি অরিত্র তোমার সাথে কথা বললে আমার বাচার ইচ্ছেটা প্রবল হতো। আমি জানি আজ তুমি তোমার ভালোবাসার কথা টা বলতে। তুমি অনেক বেশী ভালোবাসো আমায় আমি এটাও জানি। আমি কতোক্ষন বাচবো জানিনা। তবে এটা জানি যতোক্ষন এ তুমি এই চিঠি টা পড়বে ততক্ষন এ আমি আকাশের তারা হয়ে তোমাকে দেখবো। কেদোনা প্লিজ অরিত্র। তুমি কাদলে আমার সহ্য হবেনা যে। তোমার ভালোবাসা যাতে ঘৃণায় পরিণত না হয়, তাই এই চিঠি লাগে... পারলে আমায় মাফ করে দিও... আর হ্যা আমিও ভালোবাসি। ভালোবাসি তোমাকে।। অনেক অনেক বেশী।। ,, কলি অরিত্র চিঠিটা পড়ে চিৎকার করলো শুধু। আর কথা বলতে পারছেনা সে। শুধু মনে মনে বলছে। তুমি ভালো থেকো কলি..!.


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now