বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ভালবাসা একটা অনুভবের বিষয়, একটা বিশ্বাসের বিষয়
(২৫) কোন এক দম্পতি নিজেদের বিবাহ বার্ষিকীতে ফজরের নামাজ শেষ করে ভোর বেলা দুজনে মিলে বারান্দায় বসে গরম চায়ের কাপ হাতে কিছু মধুরতাপূর্ণ গল্প করছেন। শুরুটা হয়তো বা দুজনের জীবনের কোন এক কঠিন বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে, কিন্তু পরের অংশটা কেবলই হৃদয় ছোঁয়া ভালবাসার গল্প... . .
- কিছু মানুষকে আল্লাহ কিছু বিশেষ ক্ষমতা দিয়ে পৃথিবীতে পাঠান আর সাথে দেন অনেক বেশি কষ্ট এবং সেই কষ্ট সহ্য করার মত সামর্থ্যটাও!
- আর কিছু মানুষকে আল্লাহ তোমার মত মানুষের মন বুঝার ক্ষমতা দিয়ে পাঠান, আর কিছু মানুষকে করে দেন আমার মত এত বেশি ভাগ্যবান যাদের জীবন সঙ্গিনী তোমার মত একটা মেয়ে হয়!
- আমার জন্য তুমি ভাগ্যবান নও, তোমার কপালে যা আছে তাই হচ্ছে...!
- আমি তোমার হাতটি ধরে সারাটি জীবন পাশে হাঁটতে চাই, তোমার সব কষ্ট গুলোকে আমার করে নিয়ে আমার সূখ গুলোকে তোমার মাঝে বিলিয়ে দিতে চাই... বিনিময়ে চাই শুধু তোমার একটু ভালবাসা!
- তোমার এই চাওয়া পূরণ করতে আমি আমার জীবন দিতেও রাজি!
- আমার জন্য তোমার জীবন দিতে হবে না, শুধু জীবনটা যতদিন আছে ততদিন তোমার মনটা আমার কাছে দিয়ে রেখো!
- আজকের মত এমন কোন এক সকালে তোমার আর আমার মাঝে ঠিক এই ভাবে কথা হয়েছিল প্রথমবারের মত!
- আশাকরি এরকম আরো হাজারটা সকাল যেন আমার জীবনে আসে আর এর শেষ যেন কোনদিন না হয়!
- আমি তোমাকে অনেক বেশি ভালবাসি!
- আর আমি আমাকে অনেক বেশি ঘৃণা করি, কারণ তুমি আমাকে যতটা ভালবাসো ততটা ভালবাসা আমি তোমাকে বাসতে পারিনা!
- আমি জানি আমার চেয়ে অনেক বেশি তুমি আমাকে ভালবাসো!
- আচ্ছা আর আমি যদি কোনদিন তোমাকে ছেড়ে চলে যাই, তাহলে তুমি কি করবে?
- আমি জানি তুমি আমাকে ছেড়ে কোনদিনও যাবে না আর সেই দিনটাও আসবে না, তাই কিছু করার দরকারও পড়বে না!
- এত বেশি বিশ্বাস কর আমাকে?
- হমম, নিজের থেকেও বেশি!
- আমার মনেও এই একই বিশ্বাসটা তোমাকে নিয়ে!
- আর এই বিশ্বাসটা মনের ভিতর পোষে রেখেই যেন আমাদের জীবনের সমাপ্তি হয়!
- ইন'শা'আল্লাহ! ভালবাসার মধ্যে বিশ্বাস শব্দটা অনেক বেশি থাকা চাই, ভালবাসা তো বিশ্বাসের উপরই নির্ভর।
- হ্যা, আর যে ভালবাসায় বিশ্বাস যতবেশি সে ভালবাসা ততবেশি শক্তিশালি!
- জগতের শ্রেষ্ঠ স্বামী হতে পারবো কিনা জানি না, তবে তোমার জীবনের শ্রেষ্ঠ মানুষটি হয়ে সারা জীবন থাকবো কথা দিলাম!
- আমার আর এর বেশি কিছু চাই না... . .
** ভালবাসা কেবল শুধু একটা নবীন যুগলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, কোন এক কফি হাউজে কিংবা পার্কের বেঞ্চে বসে দুজনে হাতে হাত রেখে গল্প করার নাম'ই ভালবাসা নয়। ঈদ, ভ্যালেন্টাইন ডে কিংবা পছন্দের মানুষের জন্মদিনে দামী উপহার কিনে দেওয়ার মাঝেই ভালবাসা প্রকাশ পায় না। ভালবাসা একটা অনুভবের বিষয়, একটা বিশ্বাসের বিষয়, আর সেই বিষয়টা পবিত্রতা পায় শুধুমাত্র দাম্পত্য জীবনে পা রাখার পর, আর এর আগে যা করা হয় তা কেবল'ই অশ্লিলতা আর নোংরামি ছাড়া অন্য কিছু নয়।
রিফাত ও অথৈই এর চরম ভালবাসার গল্প
(২৬) ব্যবসায় পড়া লেখা শেষ করে আমেরিকা থেকে সবে মাত্র দেশে ফিরল রিফাত।দেশে বাবার বিশাল ব্যবসা। তাই তার বাবাও চান তার এই ব্যবাসার দায়িত্ব বুঝে নেক তার ছেলে। তাই হলো, ব্যবসার সব দায়িত্ব এখন রিফাতের। কয়েক মাস কেটে গেলো, একা আর সামলানো যায় না, একজন P.A (Personal Assistan) দরকার। নিয়োগ দেয়া হলো "অথৈই" নামের এক মেয়েকে। অথৈই ছিল উচ্চ শিক্ষিত, সুন্দরী। সে তার বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে।
বাবার সংসার চালানোর মত ক্ষমতা এখন আর নেই তাই অথৈই এর জন্য চাকুরিটা খুবই প্রয়োজন ছিল। বিশাল কোম্পানিতে চাকুরি পেয়ে খুশি অথৈই। তার বাবা মাকে নিয়ে ভালোই দিন কাটে অথৈইর। এরি মাঝে রিফাতের সাথে উঠা বসা অথৈইর । রিফাত অথৈইকে নিয়ে কখনো দুপুরে লাঞ্ছ, পার্কে ঘুরা কিংবা রাতে কেন্ডেল ডিনার করে। একসময় দু'জন দু'জনকে ভালোবেসে ফেলে কিন্তু কেও তা কাউকে বলেনি। হঠাৎ এক দিন পার্কে রিফাত তার ভালবাসার কথা বলেই ফেলে অথৈইকে, রিফাতেকে ভালোবাসা সত্তেও অথৈই রিফাতকে ফিরিয়ে দিলো।
কারন, রিফাত এত্ত বড় কোম্পানির মালিক তার সাথে সম্পর্ক তা কি করে হয়!! ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বাড়িতে ফিরল অথৈই। ভালোবাসার মানুষকে কাছে পেয়েও হারাতে হচ্ছে। দুই দিন অফিসে যায়নি অথৈই। ২ দিন পর রিফাতের সাথে দেখা হওয়ার পরেও এড়িয়ে চলে অথৈই। রিফাত অনেক বুঝানোর চেষ্টা করে কিন্তু অথৈই রাজি নয় তার কারন তার অনেক ধনী, তার তুলনায় অথৈই কিছুই না....
নিশ্চুপ কেটে গেলো কয়েকটা দিন... অথৈইর বাবা মা তার বিয়ে ঠিক করে ফেলে তার এক মামাতো ভাইয়ের সাথে। অথৈই তার মামাতো ভাইকে কখনোই দেখেনি! কি করবে রিফাত কিছুই সে বুঝতে পারে না। এই দিকে রিফাতের বিয়ের জন্য তার বাবা মা পাত্রী দেখা শুরু করে। পাত্রীর একটা ফটো নিয়ে রিফাতকে দেখতে বলে। কিন্তু রিফাত ফটো না দেখেই বাবা মায়ের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করতে রাজী হয়ে যায়। চাকরি থেকে রিজাইন করে অথৈই আর কখনো দেখা হবে না রিফাতের সাথে!! চোখের জল নিয়েই অফিস থেকে বেরিয়ে গেলো অথৈই। বিয়ের সব কিছু রেডি রিফাতের. !... ৩ দিন পর বিয়ে...
আজ বিয়ে। ধুমাধাম আর লাইটিং এর আলোয় আলোকি সব।বিয়ে হয়ে গেলো কিন্তু সে এখনো তার বউকে দেখেনি.!.. এমন সময় ফোন আসলো ইমার্জেন্সি ফ্লাইটে রিফাতকে ফিরে যেতে হবে নিউইয়র্ক। সদ্য বিবাহিত বউকে দেখা হলো না রিফাত চলে গেলো নিউইয়র্ক!
নিউইয়র্ক যাওয়ার পর কেটে গেলো ৭ টি বছর!! ৭ বছর পর আজ রিফাত আসবে দেশে,,,,, বাড়িতে এসেই কলিংবেল বাজাতেই দরজা খুলে আসলো রিফাতের স্ত্রী। রিফাতকে দেখে হতভম্ব হয়ে গেলো রিফাতের স্ত্রী, রিফাতও আশ্চর্য আর নির্বাক হয়ে তাকিয়ে রইলো তার স্ত্রীর দিকে।
রিফাতের স্ত্রী রিফাতকে দেখেই বলল স্যার আপনি এখানে??? কেন এসেছেন প্লিজ চলে যান... এটা আমার শ্বশুর বাড়ি! প্লিজ স্যার চলে যান। এমন সময় রিফাতের মা-বাবা এসে বলল তুমি কাকে চলে যেতে বলছো?? ও তোমার স্বামী রিফাত।রিফাতের স্ত্রী আর কেউ নয় সে ছিল তার ভালোবাসার মানুষ অথৈই! !
অবশেষে, মায়াবতীর বিয়ে হয়েই গেল !
(২৭) অবশেষে, মায়াবতীর বিয়ে হয়েই গেল ! অবশ্য তাতে আমার কিছু আসে-যায় না। মনে হচ্ছে খুব তাড়াতাড়ি কাজ'টা সেরে ফেললো সে...অনেক দিন থেকেই টিউশনির কিছু টাকা তার জন্য রেখে দেই। সেটা দিয়েই একটা নীল শাড়ি কিনলাম
আরো কিছু দিন গেলে হয়-তো আরো অল্প টাকা জমতো। সব মিলিয়ে এর চেয়ে খানিক'টা ভালো একটা শাড়ি পেতাম... এটাও খারাপ নাহ ! নীল তার প্রিয় রঙ, তার প্রিয় বলেই হয়-তো আমারও প্রিয় ! নীল ড্রেসে তাকে বেশ মানাতো... আমার ভাষায় যাকে বলে, ডানা কাটা পরী !! আচ্ছা, নীল শাড়িতে তাকে কেমন দেখাবে? মায়াবতী কি আমার দেওয়া শাড়ি পরবে?? সে বুদ্ধি আমি আগেই করে রেখেছিলাম, যার মাধ্যমে শাড়ি'টি পাঠালাম- তাকে বলে দিয়েছি...
আমার কথা না বলতে ! অদ্ভুদ খেলা তার সাথে, পাগলামী-পাগলামী.. .. মায়াবতী'কে প্রথম কবে দেখেছিলাম, ভুলে গেছি... তবে শেষ দিনের কথা স্পষ্ট মনে আছে। সেদিন সে নীল-সাদার মাঝে একটা ড্রেস পরেছিলো ; প্রচন্ড ঝগড়ার মাঝে তার কান ভিজে গিয়েছিলো ... .. ঘামের বিন্দু
বিন্দু ফুটা তার সাদা উড়না শুকিয়ে নিলো ! ঐ ক্ষণের পর সে শান্ত হয়েছিলো কিনা জানি নাহ, তবে আমি জনমের জন্য শান্ত হয়ে গিয়েছি। আজও সেই শান্ত'ই আছি..... মায়াবতীর বাসরের কথা ভাবছি, একদিন গভীর রাতে মেয়েটা অতি আবেগে বলে উঠলো- তোমাকে ছাড়া আমার বাসরে আমি কাউ'কে কল্পনাই করি না। সব প্রেমিকা বোধ-হয় এ রকম কথা বলে। কি জানি? কি করে আজ আমার বদলে যাওয়া মায়াবতী অচেনা এক দানবের সাথে বাসর করবে??
তার কি আমার কথা মনে পড়বে না??? আচ্ছা, বিয়ের দিনে তার অনেক ক্ষণ কান্নার ভিতর একটা ফুটো অশ্রু যদি আমার জন্য হয়? তবে কেমন হবে?? সে-তো সুখী হবে। হওয়ার'ই কথা .. ..
.. সু-দর্শন, শিক্ষিত, বড় লোক স্বামী। কয় জনের ভাগ্যে জুটে? শুনেছি, তার বাসর ঘর'টাও নাকি নীল ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছিলো ! এ টুকুই... আর তেমন কিছু জানতে চাই নি। কি লাভ আর? আসলেই আমার জীবন'টা নীলে-নীলে ভরপুর.....
এ মুহুর্তে মনে হচ্ছে, আমার জীবনের সব নীল কষ্টে পরিণত হয়েছে ! যাকে বন্ধু অর্ণিবানের উদাস মনের সহজ ভাষায় বলেঃ ... .."নীল-নীল কষ্ট
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now