বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হাতির পিঠে মেয়েটি!
(১৩) মেয়েটা কথাগুলো আরেকবার সাজিয়ে নেয়। সরাসরি বলা যাবে না, লোকটা কষ্ট পাবে, বলতে হবে ইশারায়।
‘সেদিন ফেসবুকে একটা ভিডিও দেখলাম, রুম্পা পোস্ট করছে। ওর বরের সঙ্গে থাইল্যান্ড গেছে ঘুরতে, বলছিলাম না? কোনো একটা থিম পার্কের রাইডে উঠছিল, হারিকেন না সুনামি কি যেন নাম। এত্ত ভয়ের রাইড! বাবা রে বাবা!
আমি তো পয়লা বৈশাখে নাগরদোলা ছাড়া তেমন কোনো রাইডেই চড়িনি...খুব শখ একদিন এমন ভয়ংকর কোনো রাইডে চড়ে এমন চিৎকার দেব যে নিজেরই কানে তালা লেগে যাবে!’
রুম্পার কথা উঠলেই লোকটা কেমন যেন বিমর্ষ হয়ে যায়। ওদের বিয়েতে এই মেয়েটা একাই মাইক্রোওয়েভ ওভেন দিয়েছে ওদের, সেই ওভেন এখনো কার্টন থেকে বের করেনি লোকটা। কে জানে তার মাথায় কী খেলে!
সজোরে ব্রেক কষল নবকলি পরিবহন। মেয়েটা প্রায় ছিটকে পড়ছিল, শেষ মুহূর্তে স্বামীর হাত চেপে ধরায় এ যাত্রা রক্ষা পেয়ে গেল।
বাস থেকে নেমে লোকটা বলল, ‘এখানে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকো, আমি পানির বোতল কিনে আনি, তেতরে ২০ টাকার বোতলের দাম নেবে ৪০ টাকা...ব্যবসা!’
‘চল...চল...’ লোকটা দ্রুতই ফিরে আসে আধা লিটার পানির বোতল নিয়ে। টিকিট কেটে এই দম্পতি ঢুকে পড়ে মিরপুর চিড়িয়াখানায়। ঈদে আত্মীয়দের খেদমত করতেই দিন পার হয়ে গেছে, আজ ঈদের দুই দিন পর তাই ওরা ঘুরতে এসেছে এখানে।
বানর, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, জিরাফ, ভুটানি সিংহ, হায়েনা, ম্যাকাও—খাঁচার পর খাঁচা! মেয়েটার বিস্ময় বাড়তেই থাকে...
‘একটা সারপ্রাইজ আছে!’ লোকটার কথায় অবাক হয় মেয়েটা।
মেয়েটার হাত ধরে লোকটা নিয়ে যায় চিড়িয়াখানার পশ্চিম পাশে। ওমা! এখানে যে হাতি ছেড়ে রাখা!
‘হাতির পিঠে চড়বা?’ মেয়েটা উত্তর দেওয়ার অবকাশই পায় না। লোকটা ওদিকে দরদাম শুরু করে দেয়।
হাতি যে-ই না মেয়েটাকে পিঠে নিয়ে উঠতে যাবে, অমনি মেয়েটার সে কী আর্তনাদ! ‘নামিয়ে দাও...আমি নামব...চড়ব না হাতিতে...এক্ষুনি নামব!’ লোকটা তো হেসেই খুন...
মেয়েটার চিৎকারে অবশ্য ওকে নামিয়ে দেওয়া হলো শেষমেশ। হাতির পিঠ থেকে নেমেই মেয়েটা লাজ শরমের মাথা খেয়ে লোকটাকে জড়িয়ে ধরল আর বিড়বিড় করে বলতে থাকল, ‘আমি থাইল্যান্ড যাব না, কক্ষনো যাব না!’
লোকটা কী বুঝল কে জানে, মেয়েটাকে জাপটে ধরে বলল, ‘আমিও যাব না!’
একটি প্রেমের গল্প!
(১৪) সুস্মিতা অপটিকস। তিন রাস্তার মোড়। আমি দাঁড়িয়েছি একজনকে দেখার অপেক্ষায়। মোট আট চোখের তিনজন মেয়েকে প্রবেশ করতে দেখলাম চশমার দোকানে।
—মুহিন, ওই যে জয়িতা এসে গেছে।
সাজ্জাদ ভাইয়ের সংকেত পেয়ে আমিও গেলাম সেখানে। তিনজনের একজন চারচোখা, মানে চশমা চোখে। আজকালকার প্রজন্মের ভাষায় চশমিস।
যাক চশমিস মেয়েটি আর বিক্রেতার কথোপকথন শুরু হয়ে গেছে এতক্ষণে।
—আমার অর্ডার করা ফ্রেমটা এসেছে?
—জি আপু, এই যে, ৭০০ টাকা দিতে হবে, দাম বেড়ে গেছে।
—আপনাদের এই এক সমস্যা, প্রয়োজন বুঝে গেলে দামটা বাড়িয়ে দেন। এটা তো ৪০০ টাকার জিনিস, দিলে দেন না হয় রেখে দেন। সামনের দোকান থেকে নিয়ে নিব।
—সামনের দোকানে তো দূরের কথা, এই এলাকায় পাবেন না। আপনি বলেছেন বলে আমি আনিয়েছি, এটা আপনাকে নিতে হবে।
—সামনের দোকানে পাব আর এই দামে আমি নিব না। আমার কাজ শেষ, মানে যে কাজে এসেছিলাম সেটা। দোকানিকে হতাশ দেখাচ্ছে, চশমাটি বিক্রি করতে না পারায়। মেয়েটির পছন্দ আছে। ফ্রেমটি আমারও ভালো লেগেছে। নিয়ে নিব এটা।
—ভাই, মেয়েটি কি আপনার নিয়মিত ক্রেতা?
—জি ভাই।
—আমাকে দিয়ে দেন চশমাটি। টাকা দিয়ে বেরিয়ে যাব এমন সময় আবারও মেয়েটি হাজির। অনেক খুঁজেও নাকি পায়নি। তাই এই চশমাটিই নিতে এসেছে।
দোকানি আমাকে দেখিয়ে বলে দিল—
—উনি নিয়ে নিয়েছেন।
—ভাইয়া, এটা কি আমাকে দিয়ে দেওয়া যায় না?
—না আপু, এটা আমার বউয়ের জন্য নিয়েছি। ওর অনেক পছন্দ হয়েছে।
মন খারাপ করে ফিরে গেল মেয়েটি। সাজ্জাদ ভাইকে বললাম
পরের পরিকল্পনা ঠিক করার জন্য।
জয়িতাদের বাসায় বসে আছি আমরা। জয়িতার ছোট এক বোন হুট করে এসে আমার ফটো তুলে নিয়ে গেল। সেই ফটো দেখে জয়িতার চেঁচামেচি কিছুটা আমার কানে এল। কারণ, চেঁচামেচিটা যথেষ্ঠ উচ্চ স্বরেই ছিল। উচ্চ স্বরে চেঁচামেচি করাটা স্বাভাবিক! কারণ, তাকে আংটি পরাতে আসা ছেলেটির আরেকটি বউ আছে! সে বউয়ের জন্য জয়িতার সামনে ছেলেটি সেদিন চশমা কিনেছে! জয়িতা রাগের চোটে আসবেই না আমাদের সামনে। উপায় না দেখে আমি সেদিন কেনা চশমার প্যাকেটটা পাঠালাম তাঁর কাছে, সঙ্গে একটা চিরকুট।
প্রিয়,
চশমাটি আমার হবু বউয়ের জন্য তাঁর পছন্দে কিনেছি, আর বউটার নাম ‘জয়িতা’। তাড়াতাড়ি এটা চোখে দিয়ে সামনে আসো। না হলে সত্যি সত্যি অন্য কাউকে দিয়ে আসব।
মুহিন।
একটু পর জয়িতা ঘোমটা টেনে সামনে এল। কালকে প্রথম দেখাতেই তার প্রেমে পড়ে গেছি আমি। আজ ওকে আরও বেশি সুন্দর লাগছে। চশমার দোকানে ছোট একটা নাটক ওর সঙ্গে হয়তো না করলেও হতো।
আংটি বদল হয়ে গেল। কদিন পর বিয়েটাও।
বিয়ের পর জয়িতার চশমার ফ্রেম অনেকবারই বদলেছি। তবে সেই ফ্রেমটি তুলে রেখেছি সযত্নে। সেখানে যে খোদাই করা
আছে একটি ফ্রেমের নামে একটি প্রেমের গল্প!
একটা আইসক্রিম ও দুজনের ভালোবাসা
(১৫) আমার একটা পিক দাও তো,যেটা তোমার কাছে সব চেয়ে ভাল লাগে।
রিধির ম্যাসেজ টা সিন করে একটু না অনেক অবাক হলাম।আমার ভাল লাগা দিয়ে ও কি করবে ,আর ও কি ভাবে জানে ওর পিক আমার কাছে আছে?
-তোমার কি মনে হয়, তোমার পিক আমার কাছে আছে?
-হুম,থাকবেনা কেন? দাও জলদি।তোমার পছন্দেই প্রো পিক দেব এবার,
-হঠাৎ,
-ইচ্ছা হল,দাও।
-আচ্ছা।
রিধির কনফিডেন্স দেখে আমি একটু অবাক হলাম। ওর পিক আমি রাখব কেন? যদিও ওর প্রায় শখানেক পিক আমার কাছে আছে। রিধি আগে ফেসবুকে পিক দিত,কিন্তু এখন আর দেয়না।আগের সব পিক আমি সেভ করে নিয়েছিলাম, কারণ মাঝ মাঝেই দেখতে হয়।মাঝে মাঝে ঠিক না প্রায় প্রতিদিনই। ওকে না দেখলে ঘুম আসেনা।কিন্তু এ পিক সেভ করে রাখার কথাটা রিধির জানার কথা নয়।
-কই দাও,
আমার কাছে থাকা ওর সব চেয়ে সুন্দর পিকটা ওকে পাঠিয়ে দিলাম।সেন্ড করেই মনে হল অনেক বড় ভুল করলাম। এ পিক টা রিধি কখনো আপ্লোডই দেয়নি,এটা আমি চুপ করে তুলেছিলাম,ওর অজ্ঞাতেই।
একটু পর রিধির ম্যাসেজ
-এটা কোথায় পেয়েছ,
-চুপ করে তুলেছিলাম,সরি
-কবে?
-ক্লাস পার্টিতে
-ভাল হয়েছে।
-ধন্যবাদ।
-টি.এস.সি তে আসো কথা আছে?
-কি কথা?
-আসো আগে,
-আচ্ছা।
আমি একটু ভয় পেয়ে গেলাম।রিধি কি খুব রেগে গেল।রাগ করা স্বাভাবিক ব্যাপার,চুপ করে কোন মেয়ের ছবি তুললে সে মেয়ে তো রাগবেই।বাট আমি অন্য ছেলেদের মত না, আমি তো ওকে ভালবাসি। ভালবাসি বোঝানোর জন্য ও ফ্রেন্ড হওয়া সত্তেও কখনো তুই করে বলিনি। এ নিয়ে আমাদের বন্ধু মহলে চলে নানান কল্পনা। সেসবের আমি ধার ধারিনা।আমি তো ওকে সবসময় বোঝাই যে আমি ওকে ভালোবাসি।মুখে বলিনা কারণ যদি ও রাগ করে বন্ধুত্তটা ভেঙে দেয়,তখন তো আর কথাও বলতে পারব না। তবে আজ কি হবে কে জানে? ও হয়ত খুব রাগ করেছে।অপমান করতে পারে, চড় থাপ্পড় ও মারতে পারে।মারুক, মারলে আর কি করার আছে।
টিএসসি তে পৌছে দেখি রিধি আমার জন্য আগে থেকেই অপেক্ষা করছে।দূর থেকে দেখে ওর মুডের অবস্থা বোঝা যাচ্ছেনা। সেটা দেখতে হলে ওর কাছে যেতে হবে। কিন্তু যাওয়াটা ঠিক হবে কিনা সেটাই বুঝতে পারছিনা। এসব ভাবতে ভাবতেই দেখি রিধি ওর হাত ইশারা করে আমাকে ডাকছে।আর কিছুই করার নেই, আমি আস্তে আস্তে এগিয়ে গেলাম রিধির দিকে, কি আছে কপালে দেখা যাবে?
রিধির সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই ও বলল,
-কেমন আছ?
আমি ওর কথা শুনে অবাক হলাম।এত সুন্দর করে কেন কথা বলছে মেয়েটা।আমি স্বপ্ন দেখছি না তো। এটা কি ঝড়ের পূর্বাভাষ?
-কি হল?কেমন আছ?
-হুম,ভাল।তুমি?
-ভাল,
-তুমি তো ভাল ছবি তোল,
-উম,
-আমার কত গুলা পিক আছে তোমার কাছে?
-ঐ একটাই ছিল,
-সত্যি,
-হুম,
-মোবাইল দেখি,
-নাই ভুলে আনি নাই।
(মোবাইলে অনেক পিক আছে আর বাকী গুলা পিসিতে।মোবাইল ওর হাতে গেলে সব শেষ)
-ওই তো মোবাইল, পকেটে ভেসে আছে।স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে,
-ওহ,আনছি তাহলে।
আমি মোবাইল টা বের করে রিধির দিকে বাড়িয়ে দিলাম।টেনশন নাই, পাসওয়ার্ড দেয়া আছে। রিধি পাসওয়ার্ড দেয়া দেখে বলল,
-পাসওয়ার্ড বলবানা?
-মনে নাই,
-আমার কিন্তু মনে আছে?
আমি একটু হেসে বললাম ,
-তোমার মনে আছে?
-হুম,
-মাইন্ড হ্যাক করে ফেলছ নাকি?
-হুম,তোমার কি মনে হয়?
-মনে তো হয়। বলো তো দেখি পাসওয়ার্ড টা কি?
-"রিধি"
আমি শুনে একটু অবাক হলাম ও কিভাবে জানল। অবশ্য জানা ব্যাপার না,ছেলে রা সচারচর যাকে ভালবাসে তার নামই মোবাইল অথবা ফেসবুকের পাসওয়ার্ড হিসেবে ইউজ করে।ও কি বুঝে গেছে আমি ওকে ভালবাসি।
-তুমি কিভাবে জানলা?
-জানি,
পাসওয়ার্ড খুলে রিধি বলল,
-ওয়ালপেপার এ ও আমার ছবি,ইমপ্রেসিভ।
-হুম,,
টেনশন ওয়ালপেপার নিয়ে নয়,টেনশন গ্যালারি নিয়ে।ওখানে এত গুলা রিধির পিকচার আছে যা হয়ত রিধির নিজের কাছেও নাই।
গ্যালারি ওপেন করে রিধি অবাক হয়ে ওর পিক গুলো দেখতে লাগল।সব দেখা শেষে বলল,
-এত্ত গুলা পিক!
-হুম,
-শুধু হুম?আর কিছু বলবেনা?
-হুম
-বল?
-দেখ রিধি পিক গুলার জন্য আমি সরি।চুপ করে তোলা আমার উচিত হয়নি,
-এটুকুই,আর কিছুই বলবানা?
- হুম,
-তো বল,
-আমি তোমাকে খুব..........
-ভালবাস?
-হুম,
-কবে থেকে,
-ভার্সিটির প্রথম দিন, যেদিন তুমি আমার পাশে এসে বসলে।সেদিন এক ফোটা ক্লাস রুমের বোর্ড এর দিকে তাকাইনি।শুধু তোমাকেই দেখেছি। তোমার নীল ওড়না টাও একবার ছুঁয়ে দিয়েছিলাম।
-আমি কি রং পড়ে এসেছিলাম তোমার মনে আছে,
-হুম,থাকবেনা কেন?
-তিন বছর আগে কথা ওগুলো
-আমার তো মনে হয় ওটা গতকাল,এত সুন্দর দিন টাকে পুরানা করতে চাইনা।
রিধি কিছু বলল না,শুধু হাসল।আমিও হাসলাম তারপর আমার পকেট থেকে একটা কানের ঝুমকা বের করে ওর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললাম,
-এটা তোমার,
রিধি আমার হাত থেকে ঝুমকা টা নিয়ে বলল,
-এটা ভার্সিটি র প্রথম দিন হারিয়েছিল,
-হুম,
-তোমাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তুমি পেয়েছ কিনা?
-না বলেছিলাম,
-কেন?
-তখন তোমার কিছুই ছিলনা আমার কাছে,
আমার কথা শুনে রিধি আবার হাসল।হাসি থামিয়ে বলল,
-এখন কি কি আছে তোমার কাছে?
-বেশি কিছু নেই,তবে তুমি আছ।
-যাও আইস্ক্রিম নিয়াসো,
-এই শীতে,
-হুম।
-জর আসবে,
-গার্লফ্রেন্ডের আব্দার পূরণ করা প্রতিটি বয়ফ্রেন্ডের দায়িত্ত,যাও।
-জি আচ্ছা, আমার গার্লফ্রেন্ড।
রিধি আবার খিল খিল করে হাসল।কত সুন্দর লাগে ওকে হাসলে। আমি ব্রেঞ্চি থেকে উঠে পা বাড়িয়েছি তখনি রিধি ডাকল,
-শোন,
-হুম
-একটা আইস্ক্রিম আনবা,
-কেন?
-দুজনে একটাতেই খাব তাহলে ভালবাসা বাড়বে, আর জরও কম হবে।
-গুড আইডিয়া।
এই ঠান্ডায় আইসক্রীম খেলে জর নিশ্চিত। তবুও খাব,একসাথে আইসক্রীম খেলে ভালবাসাও বাড়বে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now