বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অভিমানী ছেলে!
(৭) - ওই
- কি ?
- চলো।
- কোথায় ?
- বাসায় যাবো না ?
- আরেকটু থাকো না আমার সাথে।
- না গো, অনেক দেরি হয়ে গেছে। আর দেরি করলে বাসায় বকা শুনতে হবে।
- আরেকটু থাকো না, প্লিজ।
- নাহ…. চলো
কথাটা বলেই বিপলুর হাত ধরে টান দিলো নাবিলা। গোমরা মুখ করে নাবিলার একটু পিছু পিছু হাটতে শুরু করল বিপলু। নাবিলাকে পাগলের মত ভালোবাসে বিপলু। নাবিলাকে এক নজর দেখার জন্য বিপলু প্রতিদিন ১৬ কি.মি. পথ পাড়ি দিয়ে যায়।
আর ঢাকা শহরের ১৬ কি.মি. মানে ২/৩ ঘন্টার জ্যামে বসে থাকা। কিন্তু তবুও বিপলু নাবিলাকে একটু দেখার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যাম উপেক্ষা করে নাবিলার কোচিং এর সামনে যায়। কখনো কোচিং এর সামনে ২ মিনিট এর জন্য দেখা, কখনো বা কোচিং থেকে বাসায় যাওয়ার পথে নাবিলার পিছু পিছু হাটা, কখনো বা নাবিলার জানালার সামনে গিয়ে ঘুর ঘুর করা, কখনো বা নাবিলাকে দেখতে গিয়ে নাবিলার আপুকে দেখে চলে আসা, আবার কখনো বা নাবিলার আন্টির দৌড়ানি খেয়ে পথ হারিয়ে ফেলা।
এভাবে চলত বিপলুর প্রত্যেকটা দিন কিন্তু নাবিলাকে বড়জোর এক নজর দেখা ছাড়া কোন কথাই হতো না তাদের। তবুও বিপলু প্রতিদিন যেত একটি বার নাবিলাকে দেখতে। সপ্তাহের একটা দিনই তাদের এক সাথে ঘুরা হয় কিন্তু আজ মাএ এক ঘন্টা সময় দেওয়ায় বিপলু মুখটা ভার করে রাখল। হঠাৎ পিছন থেকে বিপলু,
- ওহ
- কি হলো ?
- এতো তাড়াতাড়ি হাটছো কেন ? বাসায় কি তোমার ছেলেমেয়ে রেখে আসছো নাকি ?
- দেখো অনেক দেরি হয়ে গেছে। যেতে হবে।
- আমার পা ব্যাথা করছে, আমি হাটতে পারছি না। একটু আস্তে হাটো না, প্লিজ।
- তোমার পা ব্যাথা করছে না এটা আমি ভালো করেই জানি। এটা তোমার পুরানো অজুহাত আমাকে দেরিতে বাসায় পাঠানোর জন্য।
- জানো যেহেতু আরেকটু থাকলেই পারো ?
- দেখো বুঝতে চেষ্টা করো। দেরী করলে আপু বকা দিবে।
- আপুর কি তোমার পিছনে ছাড়া আর কোন কাজ নাই ?
- দেখো আপুর নামে কিছু বলবা না কিন্তু।
- আচ্ছা বলব না। চলো ফুসকা খাই। কতো দিন একসাথে ফুসকা খাই না। চলো ওকে,,,,,,,done……thank you……..thank you……. thank you…….!!!!
কথাগুলো বলে নাবিলাকে কিছু না বলতে দিয়েই ফুসকার দোকানে দিকে দৌড় দিলো বিপলু। বিপলু জানে নাবিলাকে কথা বলার সুযোগ দিলে “না” ছাড়া কিছুই বলবে না। পকেট থেকে মানিব্যাগটা বের করল বিপলু। মানিব্যাগে মাএ ১১৫ টাকা আছে। দুই প্লেট ফুসকার অর্ডার দিলে রিকসা ভাড়া আর বিপলুর বাস ভাড়া হবে না।
তাই বিপলু এক প্লেট ফুসকার অর্ডার দিয়ে টেবিলে এসে বসে পড়ল। নাবিলা এসে বিপলুর পাসে বসল। একটু পরে এক প্লেট ফুসকা দিয়ে গেল মামা।
- কি ব্যাপার এক প্লেট কেন ?
- তোমার জন্য।
- তোমার টা ?
- ও আসলে ফুসকা খেলে আমার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়। তাই আমি এই সব খাই না।
- ফুসকা খেলে তোমার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয় ???
- তেল দিয়ে ফুসকা বানায় তো। আর তেলের কিছু আমি খেতে পারি না।
- তাহলে অন্য কিছু নেও !
- আরে না আমার তেমন একটা খিদা নাই। তুমি খাও তো।
- তাহলে বলছো কেন একসাথে খাবো ?
- এই যে একসাথে বসে আছি, কথা বলছি, এই তো অনেক। আমার আব্বু বলে খাওয়ার সময় কথা বলতে নাই, খাও তো তুমি।
তারপর তাদের মাঝে কিছুক্ষণ কথা চলতে থাকল। নাবিলা বিপলুকে ফুসকা খাইয়ে দিতে চাইল কিন্তু বিপলু ফুসকা খেল না। বিপলু শুধু নাবিলার একটা হাত ওর হাতের মাঝে রেখে নাবিলাকে অনুভব করতে লাগল আর নাবিলার কথা শুনতে লাগল।
একট পরে বিপলু ফুসকার বিল (৪০টাকা) দিয়ে নাবিলার হাতে হাত রেখে ষ্টান্ডের দিকে গেল। ষ্টান্ডে গিয়ে বিপলু একটা রিকসা নিল এবং দুজনে উঠে বসল।
- কি ব্যাপার তুমি উঠস কেন ?
- তোমার সাথে যাব বলে।
- আমার সাথে যেতে হবে না। তুমি এখান থেকে বাসে উঠে বাসায় চলে যাও নাহলে তোমার বাসায় যেতে অনেক দেরি হয়ে যাবে।
- হলে হোক, চলো তো।
ওই মামা, আপনি চালান (রিকসাওয়ালাকে বলল বিপলু)
- তুমি আমার সাথে আমার বাসা পযর্ন্ত যাবা আবার ব্যাক করে বাসষ্টান্ড আসবা!! কেন এত কষ্ট করবা ??
- দূর কিসের কষ্ট। তুমি আমার হাতটা ধরো আর আমার কাধে মাথা রাখো দেখো আমার সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে। আর তাছাড়া জীবনের শেষ মুহূর্ত পযর্ন্ত আমি তোমার পাশে থাকতে চাই আর তোমাকে অনুভব করতে চাই।
- তুমি এত পাগল কেন ?
- আমার পাগলির জন্য।
- সবসময় এই ভাবে ভালোবাসবে তো ?
- সারাজীবন…..!!!!
- তিন সত্যি (প্রমিস)
- তিন সত্যি (প্রমিস)
সারাটা পথ বিপলু নাবিলার হাত ধরে রাখল আর নাবিলা বিপলুর কাধে মাথা দিয়ে রাখল। নাবিলার কাছে বিপলুর শুধু এই চাওয়া, “বিপলুর হাতটা ধরবে আর কাধে মাথা রাখবে”। দেখতে দেখতে নাবিলার বাসা চলে আসল,
- আচ্ছা আমি তাহলে যাই ?
- যাও।
- তুমি এই রিকসায় করে চলে যাও।
মামা ওরে আবার বাসষ্টান্ডে নামিয়ে দিয়েন। (রিকসাওয়ালাকে বলল নাবিলা)
- আচ্ছা আমি যাব।, তুমি যাও।
- ওকে।
- কাল দেখা হবে।
- আবার ?
- কোচিংয়ের সামনে !!
- তুমি পারও বটে। পাগল একটা।
- Yes I’M.....
- byeee
- byeee
নাবিলার বাসায় ঢুকা পযর্ন্ত বিপলু এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল। তারপর মামাকে বলল,
- মামা কত হয়েছে ?
- ৫০ টাকা।
- (মানিব্যাগটা বের করে) এই নেন।
- কেন আপনী যাবেন না ?
- না মামা, আমার একটু কাজ আছে।
রিকসাওয়ালা চলে গেল। বিপলু মানিব্যাগটার দিকে একবার তাকালো। মানিব্যাগে মাএ ২৫ টাকা আছে। হাফ পাস দিয়ে যদি বাসে করে বাসায় যেতে হয় তাহলেও মিনিমাম ২০ টাকা লাগবে,,, তাহলে কি আর রিকসায় উঠার টাকা থাকে। কথা গুলো ভাবতে ভাবতে বিপলু একটু সামনে থেকে ৫ টাকার বাদাম কিনল। তারপর কানে একটা ইয়ারফোন লাগিয়ে উল্টো পথ ধরে বাসষ্টান্ডের দিকে হাটতে শুরু করল......
কিছু কথা :অনেকেই বলে থাকে ছেলেরা ভালোবাসতে পারে না। আসলে কিছু কিছু ছেলেদের ভালোবাসা খুব কমই প্রকাশ প্রায়। ছেলেদের ভালোবাসা খুজে পাওয়া যায় তাদের কাজ-কর্মে, কথা-বার্তায়। কিন্তু যা আজকাল অনেক মেয়েই খুজে পায় না।
আজ এসো নাটক করি!
(৮) আমি যা-ই করি, তোমার কাছে অভিনয় মনে হয়। কথায় কথায় নাটক কোরো না, এই কথাটি আমিও প্রতিদিন বলি, যদিও প্রতিদিন কথা হয় না আমাদের। তবু শেষ একটা দিন, এসো দুজনে মিলে নাটক করি।
দুজনে মিলে এত পছন্দ করে ফ্ল্যাটটা কিনলাম, সাজালাম, আরেকটা রাত পোহালেই ছেড়ে দেব, ভাবতে পারছি না। দুচোখ ভরে জল আসছে। তবু আজ আমি সারা দিন হাসি হাসি মুখ করে থাকব। তুমি ঘুম থেকে উঠে দেখবে টেবিলে গরম নাশতা সাজানো, কতটুকুই আর পারি আমি! তুমি একটু হাসবে তো? কত দিন তোমার হাসি দেখি না। কত দিন নাশতা করি না একসঙ্গে। আজ না হয় নাশতা নাশতা নাটক করি।
আজ আমি অফিসে যাব না। তুমি যাবে, নাকি যাবে না? একটা রিকশা সারা দিনের জন্য ভাড়া করে প্রিয় শহরটা চষে বেড়াব। শেষ কবে একসঙ্গে রিকশায় ঘুরেছি, মনে পড়ে না। রিকশায় তুমি আমার হাত ধরবে, নাকি ধরবে না? ঢাকার রাস্তা খানাখন্দে ভরা। একটা ছোটমতো গর্তে রিকশাটা ঝাঁকুনি খেলে তুমি না হয় পড়ে যাওয়ার ভান কোরো। আমি তখন তোমাকে জড়িয়ে ধরব নাহয়। আজ আমরা রিকশা রিকশা নাটক করব।
দুপুরে তোমাকে নিয়ে ইউনিভার্সিটির পেছনে সেই খাবারের রেস্তোরাঁয় যাব। তুমি ভর্তা খুব ভালোবাসো। আমি ঝাল খেতে পারি না, শুঁটকির গন্ধ সহ্য করতে পারি না। আজ তোমার সঙ্গে লাল মরিচ ডলে ডলে শুঁটকি খাব নাহয়। আমার চোখ দুটো লাল হয়ে জল এসে পড়লে আঁচল দিয়ে মুছে দেবে, নাকি দেবে না? আজ এসো আমরা ভর্তা ভর্তা নাটক করি।
বিকেলে বুড়িগঙ্গার ওপারে যাব না হয়। একটা নৌকা নিয়ে দূষিত কালো নদীর জলে আমরা ভেসে বেড়াব। বাদাম ভেঙে তোমার হাতে দেব, আমি নেব। তুমি বকা দিলে আমি না হয় লবণ নেব না। প্রেশারটা ইদানীং বেশির দিকে, তোমাকে জানানো হয়নি। ওপারে খোলা মাঠে তোমাকে নিয়ে হাঁটব, তুমি গান গাইবে, চাইলে আমার কাঁধে মাথাও রাখতে পারো। সন্ধ্যা গড়ালে আবার একটা নৌকায় চাপব, আবার একটা প্রেম করব। আজ আমরা নৌকা নৌকা নাটক করব না হয়।
আজকের রাতটাই আমাদের শেষ রাত, যদি আমরা চাই। আর যদি না চাই? যদি আজকের রাতটা আমরা এক দরজার ভেতরে আবদ্ধ থাকি, খুব কি মন্দ হবে? সুজানা নামের একটা কালো মেঘ আমাদের তাজমহল উড়িয়ে দেবে এমন কোনো সাধ্য নেই। ওই নামটা অনেক আগেই আমি মুছে দিয়েছি। তুমি কি আমাকে বিশ্বাস করবে না, আরেকটাবার? আমি কিন্তু জানি, হয়তো গত রাতেই জেনেছি, সুমন নামটা একটা মিথ্যা ছাড়া কিছুই নয়। তুমি আমি একসঙ্গে থাকলে কোন সুজানা, সুমনের কি শক্তি আমাদের আলাদা করে। আজ রাতটা আমরা বিশ্বাস বিশ্বাস নাটক করব।
হয়তো নাটক বলে কিছুই নেই। হয়তো কাল আমরা কোর্টে যাব না। হয়তো আমাদের বিচ্ছেদের উকিলের গত ছয় মাসে নাটক নাটক খেলা দুজন ক্লায়েন্ট কমে যাবে। হয়তো এই ছয়টা মাস ছিল জীবন জীবন নাটক। জীবন খুব অদ্ভুত। জীবন খুব নাটুকে। জীবন খুব সুন্দর। এই একটা জীবন আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না।
দুই.
ভোর পাঁচটা বাজে। নির্ঘুম একটা রাত জেগে চিঠিটা শেষ করলাম। চিঠিটা দরজার নিচ দিয়ে ওর ঘরে রেখে দেব। ১০টায় কোর্টে যাব। মরণাপন্ন সম্পর্কটাকে অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার একটা চেষ্টা করতেই হবে। দরজা খুলতে গিয়ে দেখি নিচে একটা কাগজ পড়ে আছে।
সেখানে লেখা, ‘আমি যাই করি তোমার কাছে অভিনয় মনে হয়। কথায় কথায় নাটক কোরো না, এই কথাটি আমিও প্রতিদিন বলি, যদিও প্রতিদিন কথা হয় না আমাদের। তবু শেষ একটা দিন, এসো দুজনে মিলে নাটক করি...’
ধূসর পাণ্ডুলিপি!
(৯) ১৩ মে, ২০১০।
রাত্রি দ্বিপ্রহর। পুরো হাসপাতালজুড়ে সুনসান নীরবতা। পাশের বেডে মা আধশোয়া অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়েছে। অনু, কেমন আছ তুমি? অবশ্য তোমার তো ভালো থাকারই কথা। আমি ভালো নেই। একটা একটা করে সেল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আমার। ভেঙে পড়ছে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা। ডায়েরি লেখার মতো শক্তি বা ধৈর্য কোনোটাই আমার নেই। শরীরটা যেন বিষের কারখানা হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত রক্ত দিতে হচ্ছে। দুদিন পর সেটা দূষিত হয়ে যাচ্ছে। রক্তে আমার কর্কট রোগ বাসা বেঁধেছে। আর যে বেশি দিন নেই সেটা মায়ের মুখ দেখলেই বুঝতে পারি। যে মা ছিলেন ইস্পাত কঠিন, তিনি এখন একটু পরপরই নিঃশব্দে কাঁদেন। আমার কাছে লুকোতে চান কিন্তু প্রতিবারই হেরে যান। আমাকে কেউ কিছু বলে না কিন্তু সব বুঝতে পারি।
২০ মে, ২০১০।
বাবা আজ বাড়িতে গেছেন। শেষ সম্বল বাড়ি বিক্রি করতে। যদি কিছু টাকা আসে। আরও কিছু টাকা, আরও কয়েকটা দিন বাঁচার আশা! হায়রে জীবন! আমার দিন-রাত্রি এখন হাসপাতালের চার দেয়ালে বন্দী। আমার স্বপ্নগুলো স্যাভলন আর ফিনাইলের গন্ধ ভরা রুমের মধ্যে ডানা ঝাঁপটে মরছে!
৩১ মে, ২০১০।
জানো, আজ সন্ধেবেলা ঝড় উঠেছিল। জানালার পাশের জারুল গাছটার বাতাসের সঙ্গে সেকি তাণ্ডব! ঝড় থামার পর দেখলাম জারুল গাছটা ঝড়ের সঙ্গে হেরে মাটিতে পড়ে আছে। আচ্ছা, আমিও কি জারুল গাছটার মতো মৃত্যুর কাছে হেরে যাব? তাহলে আমার স্বপ্নগুলোর কী হবে? পড়াশোনা শেষ করে গ্রামে যাব, ছোট্ট একটা ইশকুল, শ খানেক ছাত্রছাত্রী, মাঝে মধ্যে তুমি আসবে অতিথি হিসেবে ক্লাস নিতে? মানুষের সব স্বপ্ন পূরণের জন্য এক জীবন যথেষ্ট নয়, তাই না? অনেক দিন পর বৃষ্টি। ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ। মায়ের কাছে শুনলাম আজ জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ দিন, কাল পয়লা আষাঢ়। হুট করেই তাই তোমার কথা মনে পড়ে গেল। আষাঢ়শ্য প্রথম দিনের কত কথা, কত স্মৃতি! মনে আছে তোমার!
টিএসসি, কদম ফুল, নীল শাড়ি, নীল টিপ, হুট করেই তোমার হুড খোলা রিকশায় বৃষ্টিতে ভেজার শখ। রিকশাওয়ালা এক ঘণ্টা ৬০ টাকা চাইল, তুমি বলেছিলে, ‘৬০ না ১০০ টাকা দেবে।’ রিকশাওয়ালা হাঁ করে তাকিয়ে ছিল। মনে পড়ে তোমার? আচ্ছা অনু, ‘মানুষের স্মৃতিগুলো এত বেয়াড়া কেন বলে পারো? আমি মরে যাচ্ছি অথচ স্মৃতিগুলো আমাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।’
তুমি থিয়েটার করতে। মনে আছে, তোমার ‘রক্তকরবী’র প্রথম মঞ্চায়ন তোমার সব বন্ধুদের আমি টিকিট কেটে দেখিয়েছিলাম। পরে তোমার কী বকা! এতগুলো লোকের টিকিট ইত্যাদি ইত্যাদি। আচ্ছা, তুমি তো অনেক অভিনয় করেছ। আমার সঙ্গে একটু অভিনয়ই না হয় করতে। ভালোবাসার অভিনয়। অন্তত জীবনের শেষ কটা দিন আমি ভাবতাম তুমি আমার সঙ্গেই আছ। হাসপাতালে এত আপনজন।
এই আপনজনের ভিড়ে আমি আমার ‘আপনজন’কে খুঁজি। জানি সব বৃথা চেষ্টা! শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের কথাই কি তাহলে সত্য! ‘আমাদের প্রিয়জনের চোখে-মুখে যে ভালোবাসা দেখি তা অনেকটাই লোক দেখানো এবং আমাদের চোখের ভ্রম।’ যা-ই হোক। এই ভেবে ভালো লাগছে যে এই লেখাগুলো তুমি কখনো পাবে না।
আমার কথাগুলো গোপনই থাক। কোনো কালে হয়তো মা শেলফ মুছতে গিয়ে পাবে, আর কেঁদে দুকূল ভাসাবে। মাইকেল মধুসূদন তোমার প্রিয় কবি ছিল। মাইকেলের একটি কবিতার দুটি লাইন খুব মনে পড়ছে, ‘আর কি হবে দেখা? যত দিন যাবে...! ‘ওই হাচাইন্না, ঝিম মাইরা আছস ক্যান? বেইল যে মাথার উপর উঠছে হেই খেয়াল আছে! কহন কইছি বই আর খাতা গুলান আলাদা করতে “...পুরাতন কাগজ বিক্রেতা বাবার ডাকে একগাদা পুরাতন বই-খাতার মধ্যে উবু হয়ে পড়তে থাকা হাচানের পড়া থামে। ‘বাজান, এই মোডা বইডা আমি রাইখ্যা দেই? কি সোন্দর কিসসা লেহা”-হাচানের আবদার।‘ইরে চান্দু, নজরুল হবা? রবীন্দ্রনাথ হবা?’ বলেই হাচানের হাত থেকে ছোঁ মেরে ডায়েরিটা নিয়ে নেয় তার বাবা। তার চোখ চকচক করে ওঠে। ‘ডায়েরিখানের ওজন হইবো কমসে কম ৭০০ গ্রাম। কিসসা পড়লে প্যাড ভরবো! যা কামে লাইগ্যা পড়।’ বাবার কথায় মুখ গোমড়া করে কাজে মন দেয় হাচান।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now