বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে,এর উপর ঘন-অন্ধকার। নীল
টর্চ নিয়ে এদিক ওদিক দেখছে।কিন্তু খুঁজে
পাচ্ছে না তাকে মাথাটা অস্থির হয়ে গেছে
নীলের।
হাটু পযর্ন্ত উঠিয়ে নিল তার পায়জামাটা।।
ধীর ধীর পায়ে নামল ক্ষেতের মধ্যে, সাথে
তার চাচা এবং তার বন্ধু রহমত।
হঠাৎ পিছন থেকে রফিক বলে উঠল - নীল ভাই
ভাবিরে পাওয়া গেছে। তাড়াতাড়ি চলেন।
ক্ষেত থেকে উঠে বাড়ির দিকে রওনা দিল
নীল।
বাড়ি পৌঁছেই সিমাকে দেখল সে।
চুপচাপ বসে আছে চেয়ারে,সারা গায়ে কাদা
লেপ্টে আছে, নীল সামনে এগিয়ে গেল।
রফিক বলল - চিতা খোলার পুকুর-পাড়ে সিমা
ভাবি একাএকা বইয়া আছিল।
আমি সামনে আগাইয়া যাইতেই দেখলাম
ভাবীর সারা শরীরে কাঁদা। আমার মনে হয় পা
পিছলাই আছাড় খাইছে।তারপর সবাই মিইল্লা
নিয়া আইলাম ভাবিরে।
সেই হইতে চুপচাপ এখানে বইয়া আছে।
নীল ভাই আমার মনে হয় আছাড় খাইয়া স্মৃতি
শক্তি হারাইয়া ফেলছে।
ঠিক তখনি সিমা দাঁড়িয়ে গেল আর নীলের
দিকে তাকিয়ে বলল- জানো আমি ওহানে ভূত
দেখছি,, আমার বেশ ধইরা খারাইয়া ছিল।
কথাটা বলেই হু হু করে কেঁদে উঠল সিমা।
নীল এগিয়ে সিমাকে ধরল আর বলল- আজকের
যুগে ভূত টুত কিছু নাই সিমা।
আম্মা ওরে ঘরে নিয়া যাও। ভালো করে
পরিস্কার কইরা নিয়া আসো।
নীল মানেনি সিমা সত্যি ভূত দেখেছে,, কারন
নীলের এসবে ক্ষোপ আছে। গ্রামে থাকলেও
উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত সে।তার মতে এগুলো হল
কাল্পনিক বিষয়। কিন্তু সে এটা জানত না,,
আজ থেকেই মূল কাহিনী শুরু। কিছুদিন পর সবাই
ধীরেধীরে লক্ষ করে সিমার আচরনে পরিবর্তন
হয়েছে।
দিনের বেলা ঘর থেকে বের হয়না বরং রাতের
বেলা চুল খোলা রেখে বাইরের দুয়ারে বসে
বসে কি যেন ভাবে।
নীলের মা এই নিয়ে কিছুটা চিন্তিত
দেখাচ্ছে।
নীলকে সে ডেকে বলে - বাবা কালকে বউ
মারে কালু কবিরাজের কাছে নিয়া যামু। নীল
সাথে সাথে না করে এবং বলল- আম্মা
তোমার কি মাথা খারাপ হইয়া গেছে। তুমি
কি মনে কর সিমার উপর ভূত ভর করছে। শুন,,
সিমা সেইদিনের ঘটনায় একটু শকে আছে,, কিছু
দিন যাক ধিরে ধিরে নরমাল হয়ে আসবে।
আমি এই বিষয়ে সিমাকে বুঝিয়ে বলব আর
আম্মা সিমাকে বৃষ্টি বাদলের দিনে বাইরে
বাইর হইতে দিওনা,,, অসুখ হলে আরেক
ঝামেলা।
---আমার কথা কে শুনে বাইরে গিয়া দেখ,
সিমা এই রাতের বেলা দুয়ারে চুল মেল রাইখা
বইয়া আছে।
নীল বাইরে বের হয়ে দেখল,, সিমা একমনে
বাইরে তাকিয়ে আছে,,
---কি হইছে সিমা তোমার...?
সাথে সাথেই ভয়ংকর ভজ্ঞিতে তাকাল
নীলের দিকে। কিছুক্ষন তাকিয়ে আবার
বাইরের দিকে মনোযোগ দিল সিমা।।
অন্যদিকে গ্রামে আরেক সমস্যা দেখা
দিয়েছে, গ্রামে গরু ছাগল উধাও হয়ে
যাচ্ছে,,,,কেউ কেউ মরা অবস্থায় পাচ্ছে
তাদের গরু,ছাগলকে।
নীল তার অভ্যেসের কারনে এই রাতের বেলা
চা খেতে দোকনের দিকে পাড়ি দিল,,
পথিমধ্যেই রফিকের সাথে দেখা।
তাকে দেখে নীল বলল--জান শফিক,, তোমার
ভাবি ওইদিনের ঘটনার পর থেকে কেমন যেন
চুপ চাপ হইয়া গেছে। আমি একটু আগে তাকে
বললাম কি হইছে তার,,,আমার কথা শুনে রাগ
করল মনে হয়।
রফিক কিছুটা গম্ভীর হয়ে বলল- আমার মনে হয়
ভাবিরে আলগায় পাইছে। আর জানেন নীল
ভাই পূর্ব পাড়ের পুকুর পাড়টাও তেমন ভালো
না।
নীল বলল-কেন পুকুর পাড়ের আবার কি হইছে..?
আপনি জানেন না নীল ভাই,, পুকুরপাড়ে
হিন্দুগো চিতা খোলা। আর ভূত পেত্নি সব
ওইখানে থাহে। পরশু কাইল আমি রাতে চল
লইয়া বাইর হইছিলাম।হাল্কা বৃষ্টি দেইক্কা
মনে করলাম পুকুরপাড়ে একখান চক্কর মাইরা
আসি।
তখন রাত আনুমানিক ১০ টা,,, আমি চল লইয়া
উত্তর পাশ দিয়া মাছ দেখতাছি,হঠাৎ কইরা
মনে হল আমারে কেউ পিছন থেইক্কা ডাক
দিল-ও রফিক ভাই,,,
আমি ভ্রম মনে কইরা আরো সামনে আগাইয়া
গেলাম,,,, যখন চিতাখোলার একদম কাছা
কাছি আইলাম তহনি আরেকটা ডাক দিল-- ও
রফিক ভাই মাছ দিয়া যাইবা না।।
আমি সাথে সাথে পিছনে লাইট মারলাম,,
দেখলাম কেউ নাই,,, আমি আবার মাছ ধরায় মন
দিলাম। বড় একখান কাতলা মাছ ঘাইয়ালাম,,
যহন মাছটা লইয়া বাড়ির দিকে যাইতে
লাগলাম তহন পিছন থেক্কা জোরে ডাক আইল
--- ওই রফিক মাছ দিয়ে যা।
আমি মাছ ফালাইয়া একদৌড়ে বাড়িত আইয়া
দম লইলাম,,,
নীল আর কথা বলল না। চা খেয়ে বাড়ির দিকে
রওনা দিল,,, পথিমধ্যে মনে হল তার --একবার
পুকুর পাড় থেইক্কা ঘুরে আসলে কেমন হয়।
অন্ধকার রাস্তায় টর্চের লাইটে যেতে লাগল
নীল,,, অনেকখানি এসে পড়েছে নীল,,,, সামনে
টর্চ আলো দিয়ে দেখে রাস্তা শেষ
এখানেই,,,চারদিকে ভালো ভাবে টর্চ ফেলে
দেখে নেয় সে।। ঘুরে গিয়ে সামনে হাটতে
লাগল নীল,,,
আচমকা পিছন থেকে একটা হাত তার শার্ট
টেনে ধরল,,,যখনই নীল ঘাড় ঘুরাতে গেল তখনি
একটা টর্চের আলো তার মুখে লাগল,,,রফিক
তার দিকে দৌড়ঁতে দৌড়ঁতে আসছে আর বলছে,
নীল ভাই ঘাড় ঘুরাইয়েন না,ঘাড় ঘুড়াইয়েন না।
রফিক কাছে আসাতেই নীলের পিছন থেকে
হাতটা উধাও হয়ে গেল,,,, রফিক তেড়ে এসে
নীলকে বলল - আমি কইছিলাম না,,সিমা
ভাবিরে আলগায় ধরছে,,,আপনার পিছনে সিমা
ভাবি খারাইয়া ছিল।
নীল অনেক ঘাবড়ে আছে,,,, আর বলল --সিমা
এখানে আসবে কিভাবে।।চল আমার সাথে,
গিয়া দেখ সিমা দুয়ারে বইয়া আছে,,,,,
নীল আর রফিক চলে গেল বাড়িতে,গিয়ে
দেখল সত্যি ই তো,, সিমা ভাবি এহানে,,
তাইলে ওহানে কে আছিল,,,,রফিক যেতে
যেতে চোখ পড়ল সিমার দিকে,,, সিমা তাকেই
দেখছে আর মুখে বিশ্রি হাসি,,,,,
--একা একা হাঁটছে রফিক আর ভাবছে পুকুর
পাড়ের ঘটনা,,,,হঠাৎ পেছন থেকে বলে উঠল ---
ও রফিক ভাই,,,,সাথে সাতে পিছনে তাকালো
রফিক,,, না কাউকে দেখতে পেল না সে,,,,,,,,
----রাত ১২ টা,, নীল অস্থির হয়ে সিমাকে
খুজঁছে।
ইতিমধ্যে রফিক আর অনেক লোক জন তার
বাড়ির সামনে, রফিকের সাথে নীলের মা,,
রফিক নীল কে বলল--সিমা ভাবিরে
খুজতাছেন।
--তুই জানলি কেমনে আমি সিমারে খুঁজতাছি।
নীলের মা বলল--তুই আসল ঘটনা জানস না
বাবা,, আমি যহন বাইরে বাইর হই তহন দেখি
সিমা আমাগো গরু ঘরের দিকে
যাইতাছে,,পিছন পিছন আমিও গেলাম,,,যাইয়া
দেখলাম সিমা আর সিমা নাই,,,, হেতির গায়ে
রঙ কুচকুইচা কালো,,, আর চুল গুলা পা প্রযর্ন্ত।।
নখ বটির মত,,, আস্তে আস্তে গরু ডার উপর হাত
বুলাইলো,,,আচমকা নখ গুলা গরুর গলার মধ্যে
ঢুকাইয়া দিল,, তা দেইক্কা আমি চিৎকার
দিয়া উঠি,,,তহন বঊ আমারে দেইক্কা ফেলে,,,,
আমি দেহি হেতির চোখ আছিল না,,,,,আর
সারা মুহে রক্ত লাইগা আছিল,, আমি
তাড়াহুড়া কইরা গরু ঘরে দরজা আটকাইয়া
রফিকে বাড়ি চইলা যাই,,,,তুই ঘুমাইয়া
ছিলি,,,,,আমি আর রফিক গ্রামে মাওলানা ও
হজুরগোরে নিয়া আসি
।।
আপনারা এদিকে আসেন,, মাওলানা সাব
আমাগো বাঁচান,,,,,
নীল কিছু বলছিল না,,,,তার কাছে সবকিছু
অস্পষ্ট মনে হচ্ছে,,,,
মাওলানা আর হুজুর গন গরু ঘরের দিকে এগিয়ে
গেল,,আর সাথে সাথে গোয়াল ঘর থেকে
চিৎকার এল----আমার কাছে আসবি না,,,নাই
সবকয়টারে জ্যান্ত চাবাইয়া ফেলুম,,,,মাওলান
া বললেন এটা,, আদোমখোর ডায়নি,,,এতদিন
আপনাদের বউএর বেশে ছিল,,,, গ্রামে সকল গরু
ছাগলের রক্ত খাওয়ার জন্য। যখন সব গরু ছাগল
আর থাকে না, তখন মানুষের রক্ত খেয়ে বেচে
থাকে এরা,,, দেখুন রহমতের কি অবস্থা
করছে,,,তার পিছে অসংখ্য আচড়ের দাগ..!
---প্রায় দুই দিন প্রচেষ্টার ফলে সেই
ডায়নিকে বশ করতে সক্ষম হয় তারা এবং সেই
পুকুরপাড়ে জীবন্ত কবর দেওয়া হয় ওই আদমখোর
ডায়নিকে,,, এখনো নাকি ওই গ্রামের মাটি
নাকি মাঝেমধ্যে কেঁপে ঊঠে,,কেউ কেউ বলে
ওই ডায়নি নাকি মাটি থেকে উঠে আসতে
চায়।।
নীলের বউকে মৃত অবস্থা চিতাখোলার পাশে
জলাভূমির মধ্যে পাওয়া যায়।।
রফিক বুঝতে পেরেছিল ওইদিন রাতে সিমা
ভাবির আত্নাই তাকে ডেকেছিল,,,,,,,
--/-ঘটনাটি একটি বাস্তব ঘটনা,বিলিভ করেন
বা না করেন সেটা আপনার উপর।
--আপনার পিছনে কে এটা.....!!!
হা!! হা!! হা!!!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now