বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাত তখন প্রায় ১০ টা বাজে বন্ধুদের সাথে রফিক চাচার চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছি। হঠাৎ করে আমার রাস্তায় চোখ পড়লো একটা অপরূপ সুন্দর মেয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে আছে।মেয়েটার এমন সুন্দর চেহারা ছিল যা বলে বোঝাতে পারবো না।আমি মেয়েটার দিকে তাকাতেই যেন স্বপ্নের মাঝে হারিয়ে গেলাম। মেয়েটাকে প্রথম দেখাতেই ক্রাস খেয়ে গেলাম।তার কিছুক্ষণ পর একটা কালো রংয়ের মাইক্রবাস আসলো এবং মেয়েটা সেই মাইক্রবাসে উঠে চলে গেল।পরের দিন সকালে আমি ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে খাওয়া দাওয়া করে কলেজের পথে রওনা দিয়েছি।এমন সময় দেখি রাতের সেই মেয়েটা একটা আবাসিক হোটেলে ডুবছে।আমার কলেজে যেতে এমননিতেই দেরী হয়ে গিয়েছে তাই আর সেখানে একটুও দেরী করলাম না সোজা চলে গেলাম কলেজে।কলেজ থেকে ফেরার পথে আবার আমার মেয়েটার সাথে দেখা হয়ে গেল। কলেজ থেকে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে ফিরতেছি হঠাৎ দেখি মেয়েটা কতো গুলো ছেলের সাথে অটোতে করে কোথায় যেন যাচ্ছে।তবে আচার্যের বিষয় হলো আমি কাল রাতের আগে কখনো মেয়েটাকে দেখিনি।আমি সোজা বাড়িতে চলে আসলাম।প্রতিদিনের মতো আজ রাতেও রফিক চাচার চায়ের দোকানে বসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি।আবারও দেখি সেই মেয়েটা রাস্তায় একা দাড়িয়ে আছে। আজও একটা মাইক্রবাস আসলো এবং মেয়েটা সেই মাইক্রবাসে উঠে চলে গেল।তবে আজ সেই কালো রংয়ের মাইক্রবাসটা আসেনি আজ এসেছিল একটা সাদা রংয়ের মাইক্রবাস। এভাবে প্রতিদিন রাতে একটা করে মাইক্রবাস আসতো এবং মেয়েটা সেই মাইক্রবাসগুলোতে উঠে কোথায় যেন চলে যেত।মেয়েটা কোথায় যেত কি করতো আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।এভাবে কেটে গেল বেশ কয়েকটা দিন।যত দিন যাচ্ছে ততই আমার মেয়েটার প্রতি ভালবাসা বেড়েই চলেছে।একদিন ভাবলাম আমার মনের কথা মেয়েটাকে বলে দেব। যেমন ভাবা তেমন কাজ।প্রতিদিনের মতো আজও মেয়েটা রফিক চাচার চায়ের দোকানের সামনে দাড়িয়ে আছে।আমি সোজা মেয়েটার কাছে গিয়ে মেয়েটাকে প্রপস করলাম।মেয়েটা কোন কিছু না বলে চুপ করে দাড়িয়ে আছে।কিছুক্ষণ পর মেয়েটা বললো"""""
.
--এইসব প্রেম ভালবাসা আমার জীবনে নেই।(মেয়ে)
.
--কেন???????(আমি)
.
-- কারণ আমি একজন পতিতা।
.
--কি আমি একজন পতিতাকে এতোদিন ভালবাসতাম।
আপনারা এইসব করে কি লাভ পান??????
আপনাদের লজ্জা করে না নিজের নীরির শতীত্তকে বিক্রি করতে???
.
--লজ্জা! আরে লজ্জা তো আমার সেদিনই হারিয়ে
গিয়েছিল যেদিন ওই সব মানুষ নামে পশুগুলো আমাকে
কুড়ে কুড়ে খেয়েছিল।
.
--মানে????????
.
আমি বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে ছিলাম।আমার বাবা মাস্টারি করতেন আর আমার মা ছিল গ্রহিনী।মা নিজের সংসারটাকে ভালো ভাবেই গড়ে তুলে ছিলেন। আমার ইচ্ছে ছিল আমি বড় হয়ে একজন ডাক্তার হবো এবং গ্রামের গরীব দুঃখীদের বিনা পয়সায় চিকিৎসা করবো। আমি আমার স্বপ্নের পথে ভালোই এগিয়ে যাচ্ছিলাম।ক্লাসে আমার রোল ছিল সবার উপরে।আমার কলেজের সব স্যার ম্যামরাই আমাকে অনেক ভালবাসতো।আমি কলেজ থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিও পেয়েছিলাম। আমাদের কলেজে ভর্তি হলো একটি নতুন ছেলে ছেলেটার নাম ছিল সাকিব। ছেলেটা কলেজে খুবই ভাব নিয়ে চলত কারো সাথে তেমন কথা বলতো না। কলেজের প্রায় সব মেয়েরাই ওর জন্য পাগল ছিল কিন্তুু সাকিব কাউকেই পাত্তা দিত না।তবে অচার্যের বিষয় হলো যে ছেলেটার জন্য কলেজের এতো মেয়ে পাগল সেই ছেলেটা কাউকে পাত্তা না দিয়ে আমার পিছে ঘুরতো।কলেজের সবাই যখন খেলাধুলা করতো আমি তখন কলেজের মাঠে একটা বটগাছ ছিল সেই বটগাছের নিচে বসে পড়তাম ছেলেটাও সেই বটগাছের নিচে বসে পড়তো। আমি যখন সেখান থেকে চলে যেতাম ছেলেটাও সেখান থেকে চলে যেত।এভাবে বেশ কয়েকদিন চলে যায়। তারপর আমার ছেলেটার সাথে খুবই ভালবন্ধুত্ব হয়।এক পর্যায়ে ছেলেটা আমাকে প্রপস করে আমিও আর একসেপ্ট করতে সময় নেয় নি। শুরু হলো আমাদের লাভ স্টোরী।
আমাদের মাঝে খুবই ঘনিষ্ট শারিরীক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।পরে জানতে পারি ছেলেটা ভাল ছিল না আমি ছাড়াও আরো ৪/৫ টা মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল সাকিবের।সাকিবের সাথে আমার শারিরিক সম্পর্ক গড়ে ওটার ফলে আমার পেটে আসে সাকিবের সন্তান।কিন্তুু সাকিব সেটা মেনে নেয় নি।আমার সাথে হওয়া ওর সব সম্পর্কের কথা আশিকার করে।আমার বাবা মাও আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।আমি আমার পেটের সন্তানটাকে নষ্ট করতে চাইনি চেয়েছিলাম ওকে মানুষের মতো মানুষ করতে। কিন্তুু আমার পেটে থাকা অবস্থায় সন্তানটা মারা যায়। আমি গ্রাম থেকে শহরে চলে আসি।শহরে এসে চায়েছিলাম আমার জীবনটাকে নতুন করে গড়ে তুলতে।কিন্তু মানুষ নামে পশুদের জন্য সেটাও পারলাম না। আমাকে রাতে একা পেয়ে অনেক গুলো মানুষ নামের পশুরা আমাকে কুরে কুড়ে খায়।**********মানুষ এতোটাই নিকৃষ্ট হয়ে গেছে যে তারা একটি বারের জন্য হলেও চিন্তা করেন না যে তার মা বোনদের শরীরে গঠন যে রকম আমার শরীরের গঠনও ঠিক একই রকম*********।
আমি ধর্ষিতা জেনেও একজন আমাকে বিয়ে করে।আমি মনে করেছিলাম একে নিয়ে আমার জীবনটাকে নতুন করে সাজাবো কিন্তুু আমার সেই ভাগ্যটাও হলো না।সেও আমাকে ধোকা দেয় সেও আমার দেহটাকে কুড়ে কুড়ে খেয়ে আমাকে ছেড়ে দেয়। তারপর থেকে আমি এই পতিতার পথে পা বাড়ায়।আমি এখন সমাজের এই সব মানুষ নামে পশুদের জন্য এইস রোগে একরান্ত! ডক্তার বলেছে আমি আর বেশীদিন বাচঁবো না।আমি বাচঁতেও চাইনা এইসব মানুষ নামের পশুদের সমাজে। তাই আমি আমার মরনের দিকে পথ চেয়ে রয়েছি।
.
মেয়েটার কথাগুলো শুনে আমার দুচোখের পানি আটকে রাখতে পারলাম না।তার কিছুক্ষন পর আবারও একটা মাইক্রবাস আসলো এবং মেয়েটা সেই মাইক্রবাসে উঠে চলে গেল।আমি অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম মাইক্রবাসটার দিকে
.
**************************************************************
.
আমি মনে করি"""""""প্রতেকটা পতিতার হাসির আড়ালে
লুকিয়ে আছে সাত রংঙা কষ্ট ও আজানা কোন না কোন
কাহিনী।হয়তো তাদের কাহিনীটা এই রকম না অন্য রকম
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now