বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
--আমাকে ১০০০ টাকা দিতে পারবে????(রিফা)
.
--কেন কি করবে এখন টাকা দিয়ে।(আমি)
.
--আমার দরকার আছে।
.
--এইতো পরশুদিন তোমাকে ১০০০ টাকা দিলাম।
এতো কি করো তুমি টাকা দিয়ে।
.
--তুমি দিবে কিনা বলো??????
.
--এই যে নাও।(মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করে)
.
এতোক্ষণ কথা হচ্ছিল রিফা আর আমার সাথে।রিফার সাথে আমার ১ বছরের সম্পর্ক।রিফার সাথে আমার প্রথম দেখা হয় আমাদের কলেজেই।
রিফা সেদিন আমাদের কলেজে প্রথম ভর্তি হয়ে ছিল।রিফার কলেজে আসার প্রথম দিনই আমি রিফার উপর ক্রাস খাই।তারপর থেকে রিফা যে রাস্তা দিয়ে কলেজে আসতো আমি প্রতিদিন সেই রাস্তায় দাড়িয়ে থাকতাম।রিফা আমাকে দেখে মুচকি হাসি দিয়ে চলে যেত।এভাবে বেশ কয়েকদিন যাওয়ার পর আমি রিফাকে প্রপস করি কিন্তুু রিফা সেটা একসেপ্ট করে না।তবুও আমি হাল ছাড়িনি। রোজ একটা করে গোলাপ ফুল নিয়ে কলেজ গেটে দাড়িয়ে থাকতাম রিফাকে দেওয়ার জন্য। রিফা কলেজে আসলে আমি রিফাকে ফুল দিতাম রিফা সেটা আমার হাত থেকে নিয়ে মাটিতে ফেলে পা দিয়ে পিসিয়ে চলে যেত।এভাবে কেটে গেল আরো কয়েকটা দিন।তারপর রিফা আমার প্রপসটা একসেপ্ট করলো।
শুরু হলো আমাদের লাভ স্টরি।তবে জানি না বেশ কয়েক দিন ধরে রিফার কি যেন হয়েছে।রিফা আর আগের মতো দুষ্টামি করে না একটু কথাতেই রেগে যায় আর প্রায়ই আমার থেকে টাকা নেয়। টাকা নিয়ে কি করে কে জানে।আমার কোন কিছুই ভালো লাগতেছে না।নিজেকে শূন্য শূন্য মনে হয়তেছে।পরের দিন আমি ঘুম থেকে উঠে খাওয়া দাওয়া করে বেরিয়ে পড়লাম কলেজে যাওয়ার উদেশ্য কলেজটা আমাদের বাসার থেকে কাছেই তাই হেটে যাচ্ছি।এমন সময় দেখি রিফা একটি আবাসিক হোটেল থেকে বের হচ্ছে।আমি রিফার কাছে গিয়ে রিফাকে জিঙ্গাস করলাম :-
.
--তুমি কোথায় গিয়েছিলে।(আমি)
.
--এই যে এই হোটেলে আমার এক বান্ধবী
থাকে তাই আমি ওর সাথে দেখা করতে গিয়ে
ছিলাম।(রিফা)
.
--কলেজে যাবে না।
.
--হ্যা যাবো তো চলো।
.
আমি রিফাকে সাথে নিয়ে কলেজে চলে আসলাম।আরো কয়েকটা দিন কেটে গেল।আমি বন্ধুদের সাথে একটা দোকানে বসে ক্যারাম খেলতেছি।
এমন সময় আমার এক বন্ধু বললো দোস্ত দেখ তোর রিফা।আমি মাথা তুলে তাকাতে দেখলাম রিফা কতো গুলো ছেলের সাথে আটোতে হাসা হাসি করে যাইতেছে। আমি ভাবলাম ছেলেগুলো হয়তো রিফার বন্ধু বান্দব হবে তাই এমন করে যাইতেছে।আমি আবার ক্যারাম খেলার দিকে মন দিলাম।কয়েকদিন ধরে রক্ষ করতেছি রিফা আর আমার সাথে আগের মতো তেমন মেসে না। আগের মতো দুষ্টামি ফাজলামি কিছুই করে না আমাকে এরিয়ে চলার চেষ্টা করে।আমার সাথে আর কথাও বলতে চায় না। রাতে বন্ধুদের সাথে টং চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছি এমন সময় আমার আরেকটি বন্ধু আসলো।ওর নাম নাজমুল।নাজমুল আমার আর রিফার সম্পর্কে কোন কিছুই জানে জানে।নাজমুল বললো:- দোস্ত জানিস
কালকে রাতে ১৫০০ টাকা দিয়ে একটা মেয়ে ভাড়া করে এনে ছিলাম।গুরু যা জিনিস মাহিরি বলে বোঝাতে পারবো না।বলতে বলতে ফোনটা বের করে বললো এই যে দেখ মেয়েটা।মেয়েটাকে দেখে আমার চোখ কপালে উঠে গেল।এতো রিফা আমার গালফেন্ড সম্পর্ন নগ্ন অবস্থায়। রিফাকে দেখে আমার সেন্স হারিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা নিজেকেই নিজের কাছে খুবই ছোট মনে হচ্ছে শেষ পর্যন্ত কিনা একটা পতিতা মেয়েকে ভালবাসতাম ?????মনে হচ্ছে যেন আমি আকাশ থেকে মাটিতে
পড়লাম নিজে নিজের কাছেই খুবই ঋৃনা বোধ হচ্ছে।আমি বন্ধুদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ির পথে হাটা শুরু করলাম আমার দুই পা যেন চলতেই চাইতেছে না তাও কষ্ট করে বাড়িতে আসলাম।পরের দিন আমার কলেজে যেতে ইচ্ছা হচ্ছে না তবুও আমি কলেজে গেলাম কলেজে গিয়ে আমি অরেক ধাক্কা খেলাম। কলেজে গিয়েও ভাল লাগতেছে না তাই কলেজের দক্ষিণ পাশে একটা আবদ্ধ ঘর আছে। সেখানে গিয়ে একা নিরবে বসে থাকতে ইচ্ছা করছে তাই আমি সেখানে গেলাম সেখানে গিয়ে
দেখি রিফা বন্ধদের সাথে ইযাবা সেবন করছে। আমাকে দেখেই রিফা ইয়াবা হাত থেকে ফেলে দিল।আমি রিফার কাছে গিয়ে কসে একটা থাপ্পর মারলাম।আর বললাম তোমার লজ্জা করে না এই সব করতে।এই সব খাওয়ার জন্য নিজের দেহকে বিক্রি করতে।তুমি আর কখনো আমার সামনে আসবে না।কথাটা বলেই আমি সেখান থেকে চলে আসলাম।
আজ ৩ দিন হয়ে গেল রিফার সাথে আর আমার দেখা হয়না।সেদিনের
পর আর কখনো আমি রিফাকে আবাসিক হোটেলে,,, ছেলেদের সাথে আটোতে বা অন্য কোন জায়গায় রিফাকে দেখি নি।আমার বার বার মনে হচ্ছে আমি যদি রিফাকে ঔই অন্ধকার জগৎ থেকে ফিরিয়ে আনতে পারতাম ওকে যদি একটা নতুন জীবন দিতে পারতাম কথাগুলো ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি আমি বুঝতেই পারিনি।পরেদিন সকালে
আমার ঘুমভাংতেই আমি তো আবাক।দেখি রিফার ছোট বোন রিয়া আমার বিছানার সামনে দাড়িয়ে আছে আর অনাধারে চোখের জল ফেলছে।আমি বিছানা থেকে উঠে বসে রিয়াকে জিঙ্গাসা করলাম:-
.
--কি হয়েছে রিয়া কাদছো কেন????(আমি)
.
--রিফা আপু আর পৃথিবীতে নেই।(রিয়া)
.
--মানে।কি বলছো এইসব????
.
--হ্যা, আমি ঠিকিই বলছি কাল রাতে
রিফা আপু আত্মহত্যা করেছে।আর
আপু চলে যাওয়ার আগে এই চিঠিটা
আপনার জন্য রেখে গিয়েছে।
.
আমি রিয়ার হাত থেকে চিঠিটা নিয়ে পড়তে শুরু করলাম********-***
------------------------------
চিঠিটা যখন তোমার হাতে যাবে তখন আর আমি এই পৃথিবীতে থাকবো না।আমার ছোট বেলা থেকে খুবই ইচ্ছা ছিল আমি ডাক্তার হব।অসহায় মানুষের সেবা করব। কিন্তুু আমার সেই ইচ্ছাটা পূরন হলো না এই সর্বনাশা ইয়াবার জন্য।বন্ধুদের সাথে একদিন আবেগের সাথে আমি ইয়াবা গ্রহণ করি।ইয়াবা এমন একটি নেশা যা একবার নিলে আর সেই পথ থেকে ফিরিয়ে আসে যায় না।সেদিনের পর থেকে একটু একটু করে ইয়াবা সেবন করতে করতে আমি কখন যে একজন বড় ইয়াবা খর হয়ে উঠি নিজেও জানিনা । ঔ ইয়াবার একটি ট্যাবলেটের দাম ১০০০ টাকা যা আমাকে প্রতিদিন নিতে হতো।এই ইয়াবা নেশাটা এতো টাই ভয়ংকর যা একদিন না নিলে আমার দুনিয়াটা ওলোটপালোট হয়ে যেত।তোমার থেকে আমি যে টাকা নিতাম তা দিয়ে আমার চলতো না।তাই আমি দেহ ব্যাবসায় নামি।নিজের দেহের কত দাম হবে তা আমি নিজেই ঠিক করে দেই।আমার এই জীবন আর সয্য হচ্ছিল না।তবুও তোমার কথা ভেবে নিজেকেও শেষ করে দিতেও পারিনি।কিন্তুু সেদিন যখন তুমিও আমার জীবন থেকে হারিয়ে গেলে সেদিন থেকে আমার নিজের প্রতি নিজের নিজেরই অনেক ঋূনা ধরে গিয়েছিল।তাই আমি নিজেকে শেষ করে দিয়ে দুনিয়ার সব দুঃখ কে ফেলে করে দিয়ে চলে গেলাম।জানি আমি ক্ষামার যোগ্য না তবুও পারলে আমাকে মাফ করে দিও।ভালো থেকো।
.------------------------------.
চিঠিটা পরার সময় কখন যে চোখের পানি দিয়ে চিঠিটা ভিজে গিয়েছে বুঝতেই পারি নি।আমার মনে হচ্ছে যেন আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে।আমার পৃথিবীটা যেন ঘুরতে থাকছে।খুব ইচ্ছা করতেছে চিঃৎকার করে কাদতে কিন্তুু পারছি না।
************************************
বাংলাদেশের একটি বড় সমস্যা হলো ইয়াবা।
এই ইয়াবার জন্য হারিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার
মানুষের স্বপ্ন আশা ভরসা ভালবাসা।তাই এখনি
যদি এই ইয়াবাকে নিমূল করা না যায় তবে এটি
ভবিৎতে একটি ভয়ংকার রূপ নেবে।যা দেশকে
ধংস করে দিতেও সক্ষম।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now