বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বড় গল্প:-অবুঝ বউ)
(প্রথম অংশ)
___________________________________
আমার বউটা একটু বেশীই অবুঝ।ও সব
সময় নানান রকম টাল বাহানা অজুহাত
নিয়ে আমার কাছে আসে।অবুঝেরো যে
একটা লিমিটেশন থাকা চাই।সেই
লিমিটেশন টা ওর মধ্যে কখনই দেখিনাই।ও
সব সময় স্বাধীন ভাবে ঘুরে বেড়াতে চায়।
গ্রামের রিতীনিতী বলে তো একটা কথা
আছে!সেগুলার ধারের কাছ দিয়েও ও
হাটেনা।চিটাগাং এর পাহারী নির্জন
অঞ্চলের মেয়ে হিয়া।সেই শিশুকালেই
মাকে হারিয়েছে।সেই এলাকায় বাবা ছাড়া
আর আপন বলতে কেই ছিলোনা তার।
বাবাকে সে অনেক বেশী ভালোবাসে।
বিয়ের আগ অবধি প্রতিদিন বাবা ওকে
মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পারিয়ে দিতো।
বিয়ের এখনো এক মাসো purno হয়নি।
চিটাগাং সে কতো দুরের পথ!ওকে যখন
খুলনায় বিয়ে করে নিয়ে আসছিলাম, পুরো
রাস্তায় ফুঁপিয়ে কেঁদেছিলো।কি অবুঝ সেই
কান্না!এক হাতে নাকের জ্বল অন্য হাতে
চোখের জ্বল মুছছিলো।এখনো সে মাঝ
রাত্রি বেলায় ঘুম ভেঙে গেলে কাদে।বাবার
জন্য কাদে।বাবাই যে ওর বেচে থাকার
একমাত্র অবলম্বন ছিলো।বাবাকে ও
অনেক বেশী ভালোবাসতো,বাবাকে ও
নিজের থেকেও বেশী ভালোবাসতো।এখন
সকাল ৬:৩০ বাজে।আমি গোসল করে
ফ্রেস হয়ে নামাজ পরে নিলাম।ভোরের
স্নিগ্ধ পরিবেশে কিছুক্ষন হেটেও
আসলাম।ও এখনো ঘুমোচ্ছে।ওর ঘুমন্ত
চেহারা আমাকে খুব বেশীই টানে।কতোবার
যে ওর ঘুমন্ত চিবুকে কপলে চুম্বন একে
দিয়েছি!আমার অবুঝ বউটা জানেনা,ওর এই
অবুঝ মনোভাবকে আমি কত্তো বেশী
ভালোবাসি।ও বোঝার চেস্টাও করেনা
কখনো। ১৮ বছরে পা দিয়েছে মাত্র.কিন্তু
আচার আচরনে ১৪ বছরের কিশোরী মনে
হয়।ওর ওঠার সময় হয়ে গেছে।না জানি কি
সব বাহানা ধরবে এবার!হুম এইতো উঠেই
গেছে।
হিয়া:-ওই, এই দিকে আসো!আরে
আসোনাহ!উফ পচা ছেলে একটা!এতো
সময় লাগে কেনো বলতো!
আদিব:-কেনো?
হিয়া:-আজকে একটা বড় দেখে ইলিশ মাছ
নিয়ে আসবে কেমন!এক্ষনি যাও। পরে
আবার তাজা ইলিশ মিলবেনা।আমার
ইলিশ ভাজা খেতে ইচ্ছে করছে।
আদিব:-একটু পরে যাইনা গো বউ!শীতের
মধ্যে কাপ্তেছি তো!
হিয়া:-তাইলে কথা কমুনা কিন্তু!আমার
খিদা লাগছে তো!আম্মুকে ভাত চড়িয়ে
দিতে বলতেছি।তুমি মাছ নিয়ে আসো।
আদিব:-ওই তুমি গোসল করবানা!
হিয়া:-না।দুপুরে করবো।এই শীতে কি
সম্ভব!
আদিব:-উফ রে!কিচ্ছু বোঝেনা!আচ্ছা
আমি গঞ্জে গেলাম।দোকান মনে হয়
কেবল লাগতে শুরু করছে।
ইলিশ আসলেই সাধারন কোনো মাছ
নয়,এ তো অমিয়।ইদানিং জেলেদের
জ্বালে ঝাকে ঝাকে বড় ইলিশ ধরা পরছে।
এই মাসে কতোগুলা যে ইলিশ খাইলাম
তবুও তেষ্টা মেটেনা।বারবার খেতেই ইচ্ছে
করে।
""ইলিশের দেশ, পাটের দেশ, বস্ত্রের
দেশ, সবুজের দেশ বাংলাদেশ।কিন্তু
দেশের মানুষ শান্তিতে নেই।প্রধানমন্ত্
রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, বেহায়া এরশাদ
দেশ টার ১২ টা বাজিয়ে ছাড়লো।দামাল
ছেলেদের জীবনের বিনিময়ে অর্জিত
স্বাধীনতাকে কেটে টুকরো, টুকরো করে
দিলো।এই করাপশনের রাজনিতী জাতীর
চলার পথকে কাটাময় করে তুললো।
মধ্যবিত্ত মানুষের দেশ বাংলাদেশ।কেউ
কথা রাখেনি।রাজনিতী শুধু তাদের পা চাটা
দালাল দের দিয়েছে।দিয়েছে ফুলিয়ে ফুঁপিয়ে।
সুন্দরী রমণীর সান্নিধ্য দিয়েছে।আমার
টাকার পাহাড়ো গরে দিয়েছে।এই
গনতান্ত্রিক রাজনিতী সাধারন জনতাকে
পিষে রেখেছে।ওরা ভাতে মরে পানিতে
মরে,ইজ্জত হারানোর লজ্জায় মরে।ওরা
রাতেও মরে দিনেও পরে,যেখানে সেখানে
পরে মরে।
আদিব:-ও মিয়াঁ ভাই।মাছ কতো!
দোকান্দার:-হালি ১৭০০ টাকা।ডিমালি
মাছ মামু।সেই টেস্ট পাইবেন নি।কয় হালি
লাগবে মামু!তিন হালি আছে নিয়া যান।
আদিব:-সমস্যা কি আপনার!আজব তো!
মাসে বেতন পাই ১২০০০ টাকা।মাছ কিইনা
কি সব যাবে নাকি!
আমাকে এক পিস দ্যান।
দোকান্দার:-চ্যাতেন ক্যান মামা!এটা
তো ব্যবসার স্টাইল।
আদিব:-শালার সব যায়গায় দালাল।
বিন্দুমাত্র সততা নাই বাঙালীর মনে।সব
শালায় ভন্ড।
দোকান্দার:-এটা নিবেন!নিলে ন্যান।
নাইলে ভাগেন!এমনো কাস্টমার আছে
এক্লায় ৫ হালি ইলশাও নেয়!কোনো
দামাদামি করেনা।মাছ নিবেন একটা এতো
কথা কন ক্যান মিয়া!
আদিব:-১০ হালি ইলিশ দ্যান আমারে!
দোকান্দার:-কি কন মামা! ৪ হালিই বাকি
আছে।
আদিব:-শালা দালালের বাচ্চা দালাল এই
ডিম ওয়ালা মাছগুলা কই থাইকা
আনছোস!এই মা ইলিশ গুলারে মারলে
ইলিশের বংশ কি থাকবে আর!
দালালের বাচ্চারা সুন্দরবন
খাইছে,বুড়িগংগা নদী খাইছে,পাট শিল্প
খাইছে,এখন ইলিশের পেছনে লাগছে।
এর পর আর কিই বা করার ছিলো!ডিম ভরা
রুপালী তাজা ইলিশ টা নিয়া বাসায়
ফিরলাম।বউ আমার রেগে মেগে আগুন।কি
হইলো আবার!কিছুই বুঝলাম না তোহ!
আদিব:-এই হিয়া।কাদছো কেনো!
তোমার আব্বায় আমারে বকছে।আমি
নাকি বেয়াদব বেহুদ্দা!আমি আর এই বারিত
থাকমুনা!আজি চইলা যামু। যা খুশী তা কয়!
আমার বুঝি মানসন্মান নাই!
আদিব:-হিয়া প্লীজ রাগ করোনা।উনি
তো হাজি মানুষ। হয়তো অজান্তে তুমি
কিছু ভুল করে ফেলেছো।
হিয়া:-আমি কোনো ভুল করিনা।সব সময়
ভেবেচিন্তে কাজ করি।ওই বুইড়ার মাথার
একটা তার ছিরা।
আদিব:-আচ্চা,তুমি কি আব্বাকে কিছু
বলেছিলে?
হিয়া:-টয়লেটে যাওয়ার জন্যে বদনাটা
খুজছিলাম।ওনারে কইলাম যে,বাবা একটু
বদনাটা খুইজা দেন তো!আর অমনি
উনি.........
আদিব:-হায় হায় হায়!এ তুমি কি করছো!
তুমি তো আমার মাথা খারাপ করে দিলা!
তুমি আর কোনো লোক পাওনাই!শশুড়
কে কেউ এমন কথা কয়!
হিয়া:-আমি তো আব্বুরে কইতাম।আব্বু
আমারে কইছিলো শশুড় হলো আর এক
বাবা।সেও বাবারি মতন।এ জন্নই কইছি।
আর আমার আব্বুরে আমি কতোবার
কইছি!
আদিব,কই গেলিরে তুই!
আদিব:-হুম,বাবা।
নিয়াজ হাজি:-তোর বউকে আজই বাপের
বাড়ীতে রেখে আসবি।।বাবা মায়ের কাছ
থেকে যেনো নিয়ম কানুন রিতীনিতী
ভালোভাবে শিখে আসে।হাজি পরিবারের
বউ এতোটা বেয়াদব হয় কি করে!সেদিন
দেখলাম বাড়ির বাইরে গিয়া বাচ্ছাদের
সাথে বউছি খেলতেছে!
হিয়া:-আমার মা নাই তো বাবা।ছোট
কালে মারা গেছে।মায়ের চেহারা আমার মনে
নাই।এ জন্য নিয়ম কানুন গুলা
ভালোমতো শেখা হয়নাই।মনে করছি
আপ্নিও বাবার মতো! বাবা হলে কি আর
চলে যেতে বলতে পারতেন!এবারের মতো
মাফ করে দিন আমাকে।আর কখনো এমন
হবেনা।এখন থেকে আমি আর দুষ্টমি
করবোনা।
জাহানারা বেগম:-কাঁদিস না মা।ওই হাজির
কোনো মায়া দয়া নাই।নাইলে আমার
লক্ষী মা টারে এমন কইরা বলতে পারতো
না।চল মা ঘরে চল।
নিয়াজ হাজি:-এই মেয়ে দাড়াও।কালকে
থেকে পাচ ওয়াক্ত নামাজ পরবে।বাইরে
বোরকা ছাড়া বের হবেনা।আর
জাহানারা,ওকে আমি নিজের মেয়ের
মতোই মনে করি।কে বলেছে আমি ওকে
ভালোবাসিনা!মেয়ে ভুল করলে বাবাই
তো শুধরে দেয় তাই নয় নি!তবে একটু
বেশী কড়া করে বলে ফেলেছি।কাদিস না মা।
বিকেলে তোর জন্য বাজার থেকে চাটনি
আর ফুস্কা নিয়া আসবো।
পরদিন সকালে আমার অবুঝ বউটাকে নিয়ে
বেরিয়ে পরলাম।গন্তব্য বড় খালামনির
বাড়ি।বিয়ের সময় খালামনি কানাডায়
ছিলেন।অপারেশন হয়েছিলো খালুর।দু
সপ্তাহ আগে ফিরেছেন ওনারে।হিয়াকে
দেখার নাকি অনেক ইচ্ছে খালামনির।
হিয়া:-আচ্ছা আমি একটা জিনিশ বুঝতে
পারছিনা কিছুতে।আমাদের বাবু হচ্ছেনা
কেনো এখনো! সবারি বাবু আছে!
আমাদের হচ্ছেনা কেনো!
আদিব:-সময় লাগবে হিয়া।তুমি যে কি!কিচ্ছু
বোঝোনা!সব কিছু বুঝিয়ে দিতে হয়!
হিয়া:-বুঝি তো!বাবু ছাড়া কি ভালো লাগে
বলো!কোলটা কেমন জানি খালি খালি
লাগছে!
আদিব:-দেখি টিপ টা ঠিক করে দেই।
তোমাকে অনেক রুপশী লাগছে হিয়া।
হিয়া:-এই রিক্সা থামেন তো!আমি একটু
নামবো।
আদিব:-কি হলো আবার!হিয়া:-আমার
ে ওই শাপলা ফুল গুলা এনে দাওনা গো!
আদিব:-কি বলছো এসব!এই সব নিয়া
আন্টির বাসায় যাবে! কি ভাববে সবাই
বলতো!আমার কাজিন কিন্তু তোমারই
বয়সী, আর অনেক ফাজিল।পরে আমাকে
খ্যাপাতে শুরু করবে।
হিয়া:-আমি কিচ্ছু শুনতে চাইনা।এই আমি
ঘাসের উপর বসে পরলাম!ফুল না নিয়ে
আমি যাচ্ছিনা!আমি এগুলা দিয়া মালা
বানাবো।
আদিব:-যতসব!কি শুরু করলে এগুলা
বলতো!আমাকে রাগাবেনা বলছি!শান্ত
মেয়ের মতো রিক্সায় উঠে পরো বলছি!
হিয়া:-আমি যামুনা।তুমি একাও যাও। তুমি
আমাকে বকা দিলে কেনো!আমার কান্না
পাচ্ছে।তুমি আর আমার সাথে কথা
বলবানা।
আদিব ভাই,আমি কে বা তোমার!আমার
কথার কি বা দাম আছে তোমার কাছে!
আদিব:-আশ্চর্য তোহ!আমি তোমার
ভাই!কি বলছো এসব!
২
____________________________
এসব কিন্তু আমার একদম ভালো লাগছেনা!রিক্সাও
য়ালাকেও বিদায় দিয়া দিলাম।
প্লীজ বোঝার চেষ্টা করো!লোকজন কি ভাবছে বলতো!
হিয়া:-ভাবুক গে!আমার বয়ে গেছে ওসব শুনতে!এখন আমি
শাপলা ফুলো নিমুনা।আমার কোন কথাটা শোনো তুমি!
খালি যখন তখন আমারে জ্বালাও!
এর পর তো অবুঝ শিশুর মতো কান্না শুরু করে দিলো।ও
কাঁদতে শুরু করলে কেনো জানি আমার সব মান অভিমান
রাগ বরফের মতো শীতল হয়ে যায়। মনে হয় আমার
অস্তিত্ব হয়ে ও কাঁদছে। সেই কান্না সমান ভাবে
আমাকেও স্পর্শ করছে।
""পুরুষ মানুষ কে কাদলে ভীষণ kutsit লাগে,মনে হয়
কোনো
অসুন্দর পশুতত্ত্ব তার উপর ভর করেছে,তবুও পুরুষ মানুষ
মাঝে মাঝে কাদে,যখন সহ্যসীমা লিমিট ক্রস করে যায়।
তীব্র লজ্জিত হয়েও চারিপাশের সবার সামনে কেঁদে
ফেলে।যে কান্নার রঙ আছে,কিন্তু রুপ নাই।নারীর
কান্নার রুপ আছে।লজ্জা নারীর সবচেয়ে দামী
অলংকার।এর পর কান্না, তারপর হাসি।এই তিনের
সন্নিবেশে নারী রুপশী।সত্যি ই নারী রুপশী।কাদলে
নারীকে আরো বেশী রুপশী লাগে।ঘুমন্ত নারীর চেহারা
যে পুরুষ দেখেনাই,সেই পুরুষ নারীর প্রকৃত রুপ দেখা
থেকে
বঞ্চিত হয়েছে।
কিছুক্ষন কাদার পর ও আর চোখে আমার দিকে তাকানোর
চেষ্টা করছে।ওকে আমি খুব ভালোভাবেই বুঝি।ও এখন
আর একটু অভিমান করবে!তবে অল্প অল্প রাগ থাকবে
তাতে।খুব বেশী কষ্ট পেলে ও কান্না করে।ফুঁপিয়ে
ফুঁপিয়ে কান্না করে।তারপর অভিমান করে বসে থাকে।
আমার অপেক্ষায় বসে থাকে।যখন আমি অভিমান
ভাঙানোর চেষ্টা করি, তখন ও মনে মনে শীতল প্রশান্তি
অনুভব করে।তারপর আবারো স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। ও
প্রতিদিন কোনো না কোনোভাবে আমার সাথে অভিমান
করে।আমি কখনই এমন টা করিনা।আমার অবুঝ প্রেয়সী কে
আমি কাদাতে পারিনা।
হিয়া:-এই কি হলো!কথা বলছো না যে!
আদিব:-রাগ কমেছে তোমার হিয়া!
হিয়া:-জি না!আমি এখনো রাগ করে আছি।ব্যাগ থেকে
লুঙি বের করো!
আদিব:-জি মানে কেনো!লুঙি ইস্যু এর মধ্যে আসছে
কেনো!
হিয়া:-পাশের ঝোপের আরালে গিয়ে ওটা পরো।ছুট কোট
পরে কি এখানে নামবে নাকি!আর কোনো কথা নাই!এখন
মাঝ দুপুরবেলা। সবাই গাছের সুশীতল ছায়ার নিচে
শান্তিতে ঝিমাইতেছে।
আদিব:-ঠিক আছে।ফুল তুলে দিলে তুমি খুশী হবে তো?
হিয়া:-হুম অনেক।তোমাকে এত্তুগুলা আদর দিবো!হি হি হি
অনেক সুন্দর লাগছেহ!নেংটি পরে নিলে ভালো হতোহ!
আদিব:-ধুর কি যে বলোনা!মান সন্মানের বারোটা
বাজবে।ও মা!কি ঠান্ডা পানিরে বাবা!
হিয়া:-আরো অনেক গুলা তুলবে।আমার সব গুলা শাপলা
চাই!
আদিব:-আচ্ছা ঠিক আছে!
হিয়া পায়ের নিচে বড় ছাইজের কিছু একটা আটকা
পড়ছে? মনে হয় অনেক বড় একটা মাছ!ডুব দিতে হবে তো!
দিবো নাকি!পরে আবার মাথা মুছবো কি দিয়া?
হিয়া:-আমার শাড়ির আচল দিয়ে।
ই আল্লাহ!এত্তো বড় মাছ!কি মাছ এটা!
আদিব:-বড় শোল মাছ।এক কেজি তো হবেই!
হিয়া:-হি হি হি!দাও,ওটা আমাকে দাও।আরে ঢিল দাও
না!আদিব:-আরে শক্ত করে ধরোনা!পালিয়ে যাবে তো!
হায় হায় হায়!এবার হলো তোহ!গভীর পানিতে চলে যাচ্ছে
ওই যে দেখো!
হিয়া:-ধুর।ওটা দিয়া কি হবে!আমি ইলিশ খোর।আর
লাগবেনা।ওগুলা নিয়া আসো।
আদিব:-গুনে গুনে ৫০ টা শাপলা তুলেছি।
হিয়া:-ও মা!ও বাবাগো!তোমার পায়ে মোটা জোক
ধরছে।
আদিব:-চাটনির প্যাকেট টা দাও।ওর মুখে ঝাল দিতে
হবে,তা না হলে ছাড়বেনা।আর ভয়ের কি আছে!পিচ্চি
কিট আর কয় ফোটা রক্ত খাবে।মানুষের রক্তে তো মানুষই
হলি খেলে।দুষিত হয়ে গেছে মানুষের মন,কলুষিত হয়ে
গেছে মানবতা।
এর কিছুক্ষন পর আর একটা রিক্সা ভাড়া করে নিলাম।
হিয়া অনেক ক্লান্ত হয়ে গেছে।আমার কাধে হেলান
দিয়ে শান্তিতে ঘুমাচ্ছে। তার নিশ্বাসের পবিত্র শব্দ
আমার কানে আসছে ধীরে ধীরে,কি অবুঝ হিয়ার
মুখখানি!আরো একবার প্রেমে পরে গেলাম আমার অবুঝ
বউটার।গাঁয়ের মেঠো পথ দিয়ে ছুটে চলেছি আমরা।গন্তব্য
এখনো ১২ কিলোমিটারের।কিছুদুর যাওয়ার পর
রিক্সাওয়ালা চা খাওয়ার জন্য আমার কাছে ১০ টাকা
চেয়ে নিলেন।শীতে প্রায় কাবু হয়ে গেছেন
রিক্সাচালক।হাল্কা হাল্কা জ্বর নিয়ে রিক্সা চালাতে
নেমেছেন তিনি।দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ তিনি।তা না
হলে পরিবার যে না খেয়েই থাকবে।এই হিয়া!ওঠোনা!আর
বেশীদূর বাকি নাই তো!কি সুন্দর এই গ্রামটা!ওই দেখো
নদীতে কিভাবে দামাল ছেলেরা লাফিয়ে সাঁতরিয়ে
বেরাচ্ছে।পাশের ঝাউ বন টা কি সুন্দর লাগছে তাই না?
কিছু খাবা নাকি হিয়া?
হিয়া:-কথা বলনাতো!আমার কিন্তু রাগ উঠছে।আমি এখন
ঘুমাবো।
আদিব:-হুম হিয়া ঘুমাও।আমি তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে
দিচ্ছি।
রিক্সাওয়ালা:-বাবা,নতুন বিয়া করছেন নাকি?বউ মা তো
দেখী ভারী সুন্দরী!
আদিব:-জি কাকা।২৫ দিন হলো বিয়ের।
রিক্সাওয়ালা:-তিন বউয়ের সংসার রে বাবা!বহুত কষ্টের
মধ্যে আছি।যুদ্ধ কইরা দেশ স্বাধীন কইরা কিচ্ছু পাইলাম
নারে বাবা!
যুদ্ধ চলাকালীন সময় আমাগো ম্যালা সম্পত্তি আছিলো।
ওই সময় এক সপ্তাহ দুইটা বিয়া করছিলাম মানবতার
তাগিদে।রাজাকার আলবদরের হাতে ইজ্জৎ হারানো দুই
মেয়েকে বিয়া করছিলাম সামাজিক মরযাদা দেয়ার
জন্য
।
তখন তো আর ধন সম্পদের অভাব আছিলোনা।ওই দুই জন কে
অন্য এলাকায় রাইখা ভারন পোষণ করছিলাম।আরএক বউ
তো আগেরী।বাবা মায়ের সাথে থাক্তো।এর পর বানের
জ্বলে ভাইসা গেলো,নদী ভাঙনে বিলীন হয়া গেলো সব
কিছু।কোনো রকমে বাইচা আছি বাপ।মুক্তি যোদ্ধা
হইয়াও রিক্সা চালাইতে হইতাছে।কেউ আমার দিকে
ফিরাও তাকায় নাই।
রিক্সা এগিয়ে চলছে দুর্বার গতিতে।ধানের খেত,আখের
খেত,পাটের খেত,শুপারি নারিকেলের বাগান,আম
কাঠাল লিচু বাগান,খাল পুকুর ডোবা গুলিকে পেছনে
ফেলে।
এই তো চলে এসেছি।আরে ইশা তুই!কেমন আছিস রে বইন!
ইশা:-ওই ভাইয়া।ভাবী কি ঘুমাইতাছে?আহারে কি
রোমান্টিক সিচুয়েশন!ও আম্মু দেখো তোমার আদরের
দুলাল এসেছে বউকে নিয়ে!
আদিব:-এই হিয়া ওঠোনা!আমরা এসে পরেছি তো!
হিয়া:-উফ!এমন করছো কেনো!আমি ঘুমাচ্ছি দেখতে
পাচ্ছোনা!
আনিসা আরা:-ওরে আমার বাপ ধন।কতোদিন পর মনে
পরলো খালা আম্মার কথা!এতো শুকিয়ে গেছিস কেনো
বাবা!বউমা কি ঘুমায় নাকি।ও মা কি কিউট দেখতে
আমার বউমাটা!
ইশা:-ওই ভাইয়া ভাবীকে কোলে করে ঘরে নিয়ে আসলেই
তো হয়!তুমিও পারো বটে!দেখছোনা ভাবী গভীর ঘুমে
অচেতন!
আনিসা আরা:-লজ্জা পাইস ক্যান বাবা!তুই তো আমার
ছেলেই।বউমাকে রুমে নিয়ে আয় বাবা!
এর পর আর কি করার!উনি তো গভীর ঘুমে মগ্ন!কোলে
করেই ভিতরে নিয়ে এলাম।
আনিসা আরা:-আদিব,একটু এই রুমে আসবি বাবা?
আদিব:-চলো আন্টি।
আনিসা আরা:-ইশাকে নিয়ে অনেক টেনশনে আছি বাবা।
ওর লিভারে প্রদাহ দেখা দিছে।প্রতিদিন টয়লেটের
সাথে রক্ত যাচ্ছে। কফের সাথে হাচির সাথেও রক্ত
যাচ্ছে। আমরা কষ্ট পাবো বলে ও আমাদের সাথে ভালো
থাকার অভিনয় করে যাচ্ছে বাবা।সেদিন লুকিয়ে
দেখিছি, ও রুমে লাইট বন্ধ করে দিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে
কাঁদছে। আমার মেয়েটা হয়তো আর বাঁচ বেনারে বাবা!
আদিব:-আমাকে আগে বলেন নি কেনো খালা!আমি যখন
জেনেছি ওর কিচ্ছু হবেনা!ও আমার বোন,আমার
বন্ধু,আমার ছেলেবেলার খেলার সাথী।ওর কিচ্ছু হতে
দিবোনা আমি।
""কি নির্মমতা তাই না!এই জগতে অঢেল নির্মমতা।সুখের
আবহ টা অজান্তেই কেনো জানি দপ করে নিভে যায়।
আগে থেকে কিছুতেই অনুমান করা যায় না।কখনোই মানুষ
স্থায়ী সুখী হতে পারেনা,কোনো না কোনো ভাবে
প্রতিটা মানুষই দুখী। জনম দুখীর আবাসস্থল এই জগত
সংসার,ইহা নিপাতনে সিদ্ধ উক্তি ভিন্য কিছু নয়।
ইশা ওর রুমে হিয়ার সাথে বসে গল্প করছে।কি নিবির
বন্ধন দুজনার মনোভাবে।মনে হচ্ছে শত জনমের চিরচেনা
বন্ধু!
আদিব:-ইশা,তুই অনেক শুকিয়ে গেছিস রে!
ইশা:-দু তিন দিন থেকে শরীর টা একটু খারাপ রে ভাইয়া।
ও ভাইয়া চলনা সন্ধ্যায় মেলাতে যাই।গঞ্জে মেলা
বসেছে ভাইয়া।অনেক বড় মেলা।
হিয়া:-হুম।আমিও যাবো।ইশা তুমি রেডি হয়ে নাও একটু
পরেই সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসবে।
৩
___________________________________
এই তোমরা সবাই রেডি তো!হিয়া তুমি কি বলতো!
এতোক্ষন লাগে নাকি রেডি হতে!মেলাই মনে হয় শেষ
হয়ে গেলো!
হিয়া:-হুম চলো।কতোদূর যেতে হবে আমাদের?
ইশা:- ভাবী, একটু দূর তো আছেই।তবে হেটে গেলে
বেশী
মজা পাওয়া যাবে।ধলা নদীর পার দিয়ে হেটে যেতে
মিনিট ৪৫ এর মতো লাগবে।
হিয়া:-আমার তো উঁচু হিল!যদি পিছলায় টিছলায় পরি!
ইশা:-ও ভাবী এতো টেনশন করো কেনো বলতো!ভাইয়া কি
তোমাকে পরতে দিবে নাকি?
আদিব:-হুম,চলো হাটা দেয়া যাক। আচ্ছা ইশা,তোর ভাবী
দেখতে কেমন রে!
ইশা:-চাঁদের মতো লক্ষী আমার কিউট ভাবীটা।
হিয়া:-হি হি হি।তুমিও অনেক কিউট বইনো।
আদিব:-আমার ছোট্ট আপিটা কিউট না হয়ে কি পারে!
এরপর আমরা নদীর ধার বেয়ে একেবেকে হেটে চলতে
থাকলাম।প্রচুর কাশবাগান চোখে পরছে।তবে সাদা
রংটা হারিয়ে গাছগুলি ফ্যাকাসে হয়ে গেছে।শীতের
তীব্রতা ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে।হিয়া চাদর মুরিয়ে
নিয়েছে শরীরে।চাদরে যে নারীর আর এক অপরুপ
রপশ্রী
লুকায়িত থাকে,যেটা শীতকাল আসলে সচরাচর দেখা
যায়। জিন্সের জ্যাকেটে আমার ছোট বোন্টাকে
ব্রিটেনের প্রিন্সেসের মতো লাগছে।ওর চেহারা দেখে
বোঝার উপায় নেই যে,ওর ভিতরটা ধীরে ধীরে
রক্তক্ষরনে শেষ হয়ে যাচ্ছে।
""মানুষ কখনই সন্তুষ্ট হতে পারেনাই,কখনো পারবেও না।
মানুষ কে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা টা কোনো না কোনো
ভাবে বুমেরাং হয়ে যায়।তবে আমার যে সেটা করতে
হবে,এই সময় যে ইশার মানসিক সাপোরট টা খুব বেশীই
দরকার।মাঝে মাঝে ওর দিকে তাকাতেই কেনো জানি
বুকটা কেপে উঠছে।ওকে আমি কি বলে শান্তনা দিবো!
আর কি ভাবেই বা পাশে দাড়াবো!ও যে আমাকে বিষয়টা
থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেস্টা করছে।
ইশা:-ও ভাইয়া!ভাবীর কি জানি হইছে!মুখ গোমরা করে
নদীর পারে বসে আছে।আর তুমি এতো জোরে হাটো!
কতোক্ষন থেকে তোমাকে ডাকছিলাম!
আদিব:-ওরে নিয়ে আর বাচিনা!কি হলো আবার!
এই হিয়া,কি হইছে তোমার?
হিয়া:-পায়ে কি জানি লাগছে নরম নরম।টর্চ লাইট টা
জ্বলাও তো।মোবাইলের আলোতে বোঝা যাচ্ছে না।হলুদ
হলুদ লাগছে দেখতে।
ইশা:-ভাইয়া তুমি বসো এখানে।আমি ভাবীর পা ধুইয়ে
নিয়ে আসছি।ও ভাবী চলো নদীতে পা ধুয়ে নেই?
হিয়া:-অনেক স্রোত তো?ভয় করছে আমার?
হিয়া:-ভাবী তোমার পায়ে মানুষের পায়খানা লেগেছে।
এভাবে কেউ আকাশের দিকে চেয়ে হাটে বলতো!
হিয়া:-ইস!ছিহ!গ্রামের মানুষের কি আক্কেল নাই কোনো!
যেখানেসেখা
নে পায়খানা করে।আদিব কি বুঝতে পেরেছে ইশা?
ইশা:-কি জানি ভাবী!ভালো করে ধুয়ে নাও ভাবী?
হিয়া:-আর নাহ!ও বুঝবে কি করে!হলুদ তো অনেক কিছুই
হতে পারে!কাউকে বলবানা কিন্তু বইন?তোমারে মেলায়
গিয়া সন্দেশ খাওয়ামু কেমন?
ইশা:-ঠিক আছে ভাবী।
হিয়া:-এই যে আদিব সাহেব।চলতে শুরু করো।হাটার সময়
একটু ধীরে হাটবে বুঝলে! রাস্তাঘাটে অন্ধকারে কি না
কি পরে থাকে?
আদিব:-ওই চাদর কই তোমার!
হিয়া:-ওটা পরমুনা আমি।অনেক ওজন।আর শাড়িতেই
আমারে সুন্দর লাগে।
আদিব:-ঘোরার ডিম লাগে।সেই সকাল থেকে নাক দিয়া
পানি পরতাছে!আর উনি ওটা খুইলা রাখছেন।হউক জ্বর
হউক কেমন!
হিয়া:-আমার সাঁথে আর কথা বলবাবা,যাও! তুমি অনেক
খারাপ।
আদিব:-হুম।
হিয়া:-কি হুম।
আদিব:-আমি খারাপ।
হিয়া:-হুম,তুমি অনেক খারাপ।বারবার আমাকে কাদাও।
আমার কিচ্ছু ভাল্লাগছেনা।
ইশা:-ও ভাইয়া,ভাবী তো কান্না করতেছে।এখন কি হবে
ভাইয়া!
আদিব:-আরে,ধুর!ও এমনি।খালি সব সময় টালবাহানা
যতোসব!পরে এমনিতে ঠিক হয়ে যাবে।
ইশা:-ও ভাইয়া।অনেক বেশী কাঁদছেন। তুমি এটা বলার পর
তো ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করেছেন।
ও ভাবী, আমার লক্ষী ভাবীটা!কাদেনা ভাবী। ও ভাইয়া
ভাবীকে থামাও।দেখো নদীর গভীর ঢেউয়ের দিকে
যাচ্ছে।
আদিব :-কি বলছিস!আরে ওকে যেতে দিলি কেনো!
হিয়া,এই হিয়া দাড়াও বলছি।
হিয়া:-আমার হাত ছারো বলছি!আমি এমনই তাই না!আজ
বুঝতে পারলাম,সব ছেলেরাই এমন।আমার প্রয়োজন
ফুড়িয়ে গেছে তোমার কাছে।আমি মুল্যহীন তাই না!
আদিব:-কোথায় যাচ্ছিলে তুমি?
হিয়া:-নদীতে ঝাপ দিতে।
আদিব:-তাহলে আমাকেও নিতে সাথে।আমি কাকে
নিয়ে বেচে থাকতাম!
হিয়া:-পচা ছেলে একটা!আমি তো মজা করলাম।
তোমাকে ছেড়ে কোথাও যেতে পারি বলতো! এই
চোখের
জ্বল মুছো বলছি।
আন্টির বাসা থেকে ফেরার মাস খানেক হয়ে গেছে।
মাঝে মাঝে ইশার সাথে ফোনে কথা হয়।কিন্তু ওকে
শান্তনা দেয়ার ভাষা টা আজ অবধি খুঁজে পেলাম না।
সেদিন আমার খালা আম্মা ফোন দিয়ে অনেক
কেদেছিলেন।বলেছি
লেন কিছু একটা কররে বাবা বোনটার জন্য।আমি শুধু
নিশ্চুপ হয়ে শুনেই গেলাম। কিছুই যে করার ছিলোনা
আমার।এই হিয়া এত্তোগুলা বই নিয়া আসছো ইশার কাছ
থেকে।আরে ওর ডাইরি আনছো কেনো! ওখানে তো
পারসোনাল অনেক কিছু থাকতে পারে।ওটা কি পরছো
তুমি?
হিয়া:-হুম পরছি।আমার অনেক কান্না পাচ্ছে। আমি একটু
ঘুমাবো. একটু শান্তিতে ঘুমোতে চাই আমি।
বাহিরের বাগানে বসে ওর ডাইরিটা পরতে বাধ্য
হয়েছিলাম।কারন হিয়ার এমন রহস্যময়ী বিদ্ধস্থ চেহারা
এর আগে কখনই দেখিনাই।
প্রথম পাতা থেকেই পরতে শুরু করলাম।
""আমি জানি আর বেশীদিন নাই।আমার শরীরে কোনো
রকমে প্রান টা টিকে আছে মাত্র।ইদানিং আমার কাছে
মনে হচ্ছে মরে যাওয়াতেই মুক্তি। এই তীব্র যন্ত্রনা যে
আমায় তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে।তবুও বাচতে ইচ্ছে
হয় একটা মানুষের জন্য।তার জন্য পৃথিবীর সব কিছুকেই
মধুময় মনে হয় আমার কাছে।বাচার জন্য আপ্রান চেষ্টা
করি তার জন্য।তার কাছে এই মরন ঘাতি রোগের কথা
শেয়ারো করিনি।জানলে যদি সে আমায় দূরে সরিয়ে
দেয়।যদি সে আমার রোগকে ঘৃনা করে।যদি সে আর
কখনো আমার সাথে কথা না বলে।আমি তাকে অনেক
বেশী রিস্পেক্ট করি।চোখে চোখ রেখে ঠিক মতো
কথাও বলতে পারিনা।কি করে বলবো তাকে আমি
ভালোবাসি!আমি কখনো বোঝাতেও পারবোনা আকার
ইংগিতে।আমার ভয় করে,ভীষণ ভয় করে।ওই ব্যাগ্র কণ্ঠের
আওয়াজ শুনলে আমার শরীর থরথর করে কাপে।তবুও তার
জন্য বেচে থাকতে ইচ্ছে করে।মরনের বিপরীতে লড়াই
করে কতোদিন বেচে থাকতে পারবো তা আমার জানা
নাই।শুধু একটা দিনের জন্য যদি ওনার বউ হতে পারতাম।
অনেক শান্তিতে মরে যেতে পারতাম।তারপর তুমি
অন্যের হয়ে গেলে।তুমি বলতে ইচ্ছে হচ্ছে খুব।এ জন্য
কখনো তুমিও বলি তোমাকে।ভয় করে,তবে বলার পর ভীষণ
ভালো লাগে।বিয়ে হয়ে গেলো তোমার।তোমায় চিরতরে
হারালাম।আমার এই লেখা হয়তো একদিন পরতে পারবে
তুমি।আবার নাও পরতে পারো।তবে সেদিন আর আমাকে
খুজে পাবেনা।আমি যে মরে যাবো।আদিব ভাই,অনেক
বেশী ভালোবাসি তোমাকে।তুমি কি করে পারলে
আমার বেচে থাকার শেষ ইচ্ছেটাকে শেষ করে দিতে!
কেনো তুমি আমাকে ভালোবাসলে না!আমি মরে
যাওয়ার পর কেনো তুমি বিয়ে করলেনা!আমি আর
বেশীদিন নাই আদিব ভাই।বাচার ইচ্ছেটাই মরে গেছে
আমার।চিকিৎসকের দেয়া দামী দামী ট্যাবলেট গুলি না
খেয়ে ময়লার ঝুরিতে ফেল দেই।ওগুলা খাইলে যে সুস্থ
হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।ডাক্তার আংকেল
বলেছেন লিভার প্রতিস্থাপন করলে বেচে থাকার
সম্ভাবনা আছে ৫০%.তবুও আমার বাচতে ইচ্ছে করেনা।
আমি মরনের অপেক্ষার প্রহর গুনে যাচ্ছি। তুমি হারিয়ে
গেছো অনেক দূরে।আর কিছুতেই তোমায় পাওয়া হবেনা।
আমার অবুঝ ভাবীটা তোমাকে অনেক বেশী
ভালোবাসে।ভাবীকে কষ্ট দিওনা ভাইয়া।তাকে নিয়ে
সুখে থেকে।আর আমার জন্য এক্টুখানি কাজ করিও।আমার
কবরে সবার আগে মাটি দিয়ো।ফুলের মালা চাইনি
ভাইয়া।কি হলো ভাইয়া কাঁদছো কেনো!কাদবেনা
ভাইয়া।এক জীবনে কি সবার সব আশা পুরন হয়!তুমিই বলো।
আমার লক্ষী ভাইয়াটা।
(পরের অংশ আজ রাত ৯:৩০ পেয়ে যাবেন)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now