বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কানে ইয়ার ফোন লাগিয়ে গানের টালে টাল মিলিয়ে হেটে যাচ্ছি কলেজে যাওয়ার জন্য। আমাদের বাসা থেকে আমাদের কলেজ কাছেই তাই রোজ হেটেই যাই আজও হেটে হেটে কলেজে যাচ্ছি।এমন সময় পিছন থেকে রিক্সার ক্রীং ক্রীং বেল বেজে উঠলো। আমি একটু সরে দাড়ালাম রিক্সাটা আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছে। রিক্সাটায় একটা মেয়ে বসেছিল। হঠাৎ করে আমি রিক্সার পিছনের চাকার দিকে তাকালাম দেখলাম মেয়েটার ওড়নাটা আর একটু হলেই চাকার সাথে প্যাস লাগবে। আমি মেয়েটাকে ডাক দিয়ে বললাম:- আপু আপনার ওড়নাটা ঠিক করেন।মেয়েটা আমার দিকে রেগে তাকিয়ে বললো:-অসব্য ছেলে কোথাকার মেয়ে দেখলেই মেয়েদের ওড়নার দিকে চোখ পড়ে তাই না। রিক্সাটা কিছুদুর যেতেই রিক্সা ওড়ালা বললো:- ম্যাডাম আপনার ওড়নাটা চাকার সাথে লেগে আছে ছেলেটা হয়তো সেটার কথায় বললো। রিক্সা থেকে যতক্ষণ আমাকে দেখা গেল ততক্ষণ মেয়েটা আমার দিকে আবাক দুষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো।পরে জানতে পারি মেয়েটার নাম লিমা আমাদের কলেজে নতুন ভর্তি হয়েছে।
আমি বন্ধদের সাথে বসে কলেজ ক্যামপাসে বসে আড্ডা দিচ্ছি।এমন সময় মেয়েটা আমার কাছে আসলো।আমি উঠে দাড়ালাম মেয়েটা বললো:-
.
--আপনার সাথে খারাপ আচরণ করার জন্য আমি সরি।(মেয়ে)
.
--না না সরি বলার কোন প্রয়োজন নেই।(আমি)
.
--আপনার নামটা জানতে পারি?????
.
--শাকিল আপনার?????
.
--লিমা।
.
--সুন্দর নাম।
.
--আমরা কি ফেন্ড হতে পারি????
.
--হ্যা অবশ্যয়ই পারি!
.
তারপর থেকে শুরু হলো আমাদের বন্ধুত্ব। সবই ছিল আমাদের বন্ধুত্বে একসাথে পড়ালেখা করা,, এক সাথে ঘোরা ফেরা করা,,ফুসকা খাওয়া,,,,মিষ্টি ঝগড়া করা ইত্যাদি।দুজনে একে অপরকে ছাড়া যেন চলতেই পারতাম না।আজ কয়েকদিন হয়ে গেল লিমা কলেজে আসছে না। আমার কোন কিছুই ভাল লাগছে না। নিজেকে বড্ড একা একা লাগছে।আমি লিমা এক বন্ধবীকে জিঙ্গাস করলাম।
.
--আচ্ছা লিমা কলেজে আসছে না কেন????(আমি)
.
--কেন আপনি জানেন না লিমার তো আজ কয়েকদিন
ধরে প্রচুর জ্বর।
.
আমার পায়ের তলা থেকে যেন মাটি সরে গেল।আমি দৌড়ে লিমাদের বাড়িতে চলে গেলাম।আমি লিমার মাকে জিঙ্গাস করলাম:-
.
--আনটি লিমা কোথায়।(আমি)
.
--লিমার তো আজ কয়েকদিন ধরে প্রচুর জ্বর। লিমা পাশের ঘরে শুয়ে আছে।আর জানোতো বাবা লিমা আজ কয়েকদিন ধরে কিছুই মুখে তুলছে না।
.
--কি বলছেন আনটি???
.
--হ্যা বাবা আমি ঠিকি বলছি।
.
--আনটি আপনি যান গিয়ে খাবার নিয়ে আসেন আমি দেখছি।
.
আমি পাশের ঘরে লিমার রুমে চলে গেলাম। লিমা আমাকে দেখে অনেক খুশি হলো।লিমা বিছানা থেকে উঠে বসতে চাইলো কিন্তুু উঠতে পারলো না।আমি লিমাকে জিঙ্গাস করলাম :-
.
--কিরে কিছু খাচ্ছিস না কেন?????(আমি)
.
--তোর জন্য।(লিমা)
.
--আমার জন্য মানে????
.
--হ্যা তোর জন্যই তো। তুই এতো দিন
আমাকে দেখতে আসিস নি কেন???
.
--না আসলে আমি আজই শুনলাম যে তোর জ্বর হয়েছে।
.
এমন সময় আনটি খাবার নিয়ে আসলো।আনটি খাবার রেখে পাশের রুমে চলে গেল।আমি লিমাকে বললাম:-
.
--নে খাবারটা খেয়ে নে।(আমি)
.
--না আমি খাব না।(লিমা)
.
--খাবার না খেলে তোর জ্বর কিন্তু আরো
বেড়ে যাবে।
.
--যাক তবুও আমি খাব না।
.
--তুই না খেলে আমি কিন্তুু চলে যাবো। আর
কখনো তোর সাথে কথা বলো না কিন্তু।
.
--আচ্ছা দাড়া খাচ্ছি।
.
কয়েকদিন যাওয়ার পর লিমা সুস্থ হয়ে উঠলো।আমাদের আগের মতো পথ চলা শুরু হলো।এভাবে চলতে চলতে লিমাকে আমি কখন যে ভালবেসে ফেলেছি বুঝতেই পারিনি।ভাবলাম আজ লিমা কলেজে আসলেই আমি লিমাকে আমার মনের কথা বলে দেব।যেমন ভাবা তেমন কাজ। লিমা কলেজে আসলেই আমি একটা লাল গোলাপ ফুল দিয়ে লিমাকে প্রপস করলাম।লিমা আমার হাত থেকে গোলাপটা নিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়ে চলে গেল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now