বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মহাশূন্যে মধ্যাকর্ষণ না থাকায় নভোচারিদের কাজকর্ম যেরকম হয়।

"ভিন্ন খবর" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান mim (০ পয়েন্ট)

X মহাশুন্যে নভোচারীরা প্রসাব পায়খানা কিভাবে করে? যেখানে কোন মধ্যাকর্ষণ শক্তি নাই, সেখানে প্রসাব পায়খানা নিচের দিকে বের হয় কি করে? মহাকাশে রয়েছে আন্তর্জাতিক স্পেস ষ্টেশন... এটি শুন্যে অবস্থান করে পৃথিবীকে আবর্তন করছে। এখানে চারটি ল্যাব রয়েছে, যেগুলোতে আমেরিকা, জাপান, ইইউ আর কানাডার বিজ্ঞানীরা মহাকাশ নিয়ে গবেষণায় লিপ্ত। প্রায় জিরো মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এখানে (মাইক্রোগ্রাভিটি)। ফলে এটার ভেতর বিজ্ঞানী বা নভোচারীরা ভেসে থাকে। প্রসাব-পায়খানা সবচেয়ে আরামের বিষয় হলেও, এখানে টয়লেট ব্যবহার করা বেশ ঝামেলারই। প্রথমে কমোডে বসে সিটবেল্ট বাঁধতে হয়, যাতে কাজ করার সময় ভেসে উড়ে না যায়। নাম্বার ওয়ান (প্রসাব) কাজের জন্য একটি লম্বা ফানেলের মত জিনিস থাকে। সেটি মুত্রনালীর মুখের সামনে ধরতে হয়। ফানেলের সাথে চুষে নেওয়ার জন্য সাকার মেশিন লাগানো থাকে। এরপর প্রসাব করা শুরু করলে সেটা সাকারের সাহায্যে টেনে নেয়। নাম্বার টু কাজের জন্য কমোডে একই রকমের সাকার মেশিন থাকে। এর সাথে একটি বিশেষ ব্যাগ থাকে, যেখানে পায়খানাগুলো সংগ্রহ হয়। এরপর সেটিকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় শুকিয়ে নষ্ট করে ফেলা হয়। সবচেয়ে মজার বিষয় হল, মহাশুন্যে পানি একটি দামী জিনিস। তাই সকলের প্রসাব একটি ট্যাঙ্কে জড়ো হয়। সেখানে জীবাণুমুক্ত ও পরিস্কার করে প্রসাব থেকে শুধু পানি অংশটুকু বের করে নিয়ে সেটা খাবার পানির রিজার্ভ ট্যাঙ্কে গিয়ে যোগ হয়। সেগুলোই আবার খাওয়া হয় কিংবা অন্যান্য কাজে ব্যবহার হয়। ঘুমানোর ক্ষেত্রে উপর নিচ, দাঁড়ানো বা শুয়া বলতে কিছু নাই। স্লিপিং কম্পার্টমেন্টের ভেতর গিয়ে পা উপরে মাথা নিচে করে উল্টো হয়ে ঘুমাতে পারেন কিংবা দাঁড়িয়েও ঘুমাতে পারেন। সব অনুভুতি একই রকম। খাবার খেতে কোন টেবিল লাগে না। শুন্যে ভেসে থাকা প্লেট থেকেই খাবার খাওয়া যায়। তবে প্রত্যেকটি জিনিসের সাথে চুম্বক লাগানো, যাতে সেগুলোকে সহজেই স্পেস স্টেশনের লোহার দেয়ালের সাথে আটকে রাখা যায়। তবে খাওয়ার সময় বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হয় যাতে খাবারের কোন অংশ কোথাও উড়ে না যায়। এতে কোন একটা যন্ত্রের মধ্যে ঢুকে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। খাবারগুলো সাধারণত পৃথিবী থেকে প্লাস্টিকব্যাগে প্যাকেটজাত করে পাঠানো হয়। টিন বা ক্যান জাতীয় খাবার পাঠানো হয় না ওজনে ভারী ও পরিবহণ খরচ বেশি হবে বলে। স্পেস স্টেশনের ভেতর খাবারগুলো গরম করার জন্য ওভেন আছে। সেখানে যার যখন দরকার খাবার গরম করে নেয়। স্পেস স্টেশনে গোসল করা আরেক বিপত্তি। পৃথিবীর মত শাওয়ার ছেড়ে আরামে গোসলের সুবিধা নেই। মাইক্রোগ্রাভিটির কারণে পানি শাওয়ারের মত বেরও হবে না। তাছাড়া পানি নিয়ে যাওয়াও অনেক ব্যয়বহুল। পানি সেভ করার জন্য দাঁতমাজার টুথপেস্টকেও এমনভাবে বানানো হয়, যাতে তা খেয়ে ফেলা যায়। গোসলের জন্য বিশেষ প্লাস্টিক ব্যাগে পানি থাকে। তোয়ালায় ভিজিয়ে সেটি দিয়ে গোসল করতে হয়। সাবান শ্যাম্পুগুলো এমনভাবে তৈরি যে ফেনা তৈরি হয় না এবং ব্যবহারের পর না ধুয়ে শুধু মুছলেই চলে। আসলে মধ্যাকর্ষন জিনিসটার যে কত উপকার তা আমরা পৃথিবীতে বসে টের পাই না। এই মধ্যাকর্ষণের ফলেই আমরা সাচ্ছন্দে পৃথিবীতে সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারছি। আল্লাহ সত্যি সবচেয়ে বড় স্রষ্টা... কত সুনিপুনভাবে তিনি আমাদের পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তুলেছেন। "আল্লাহই পৃথিবীকে করেছেন তোমাদের জন্যে বাসোপযোগী ও আকাশকে করেছেন ছাদ। এবং তিনি তোমাদেরকে আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর তোমাদের আকৃতি সুন্দর করেছেন এবং তিনি তোমাদেরকে দান করেছেন পরিচ্ছন্ন রিযিক। তিনি আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা, বিশ্বজগতের পালনকর্তা, আল্লাহ বরকতময়"। (সুরা আল মুমিন: ৬৪) "অতএব, হে জ্বীন ও মানব জাতি, তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে"? (সূরা আর রাহমান)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now