বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অসমাপ্ত ভালবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Ruhul Amin Raj (০ পয়েন্ট)

X অধরা। চঞ্চল প্রকৃতির একটা মেয়ে। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে প্রছন্দ করে দেখতে সুশ্রী। ক্রাশ খাবার মত একটা মেয়ে। পড়াশোনা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষে।কিছুদিন যাবত একটা অপরিচিত নম্বর থেকে sms আসে। অধরার খোঁজ নেয়। গুড মর্নিং,গুড নাইট এসব ত রোজকার ব্যাপার সেপার।অধরা প্রত্যেকদিন sms গুলো দেখে কিন্তু কোন সাড়া দেয়না। শুধু ভাবে "কে এই অদ্ভুত লোকটা?আমার সব খোঁজ রাখে।আমাকে কি ফলো করছে? . লোকটাকে অদ্ভুত মনে হবার কারন, নম্বরটি থেকে sms দিলেও কোনদিন কল করেনি।অধরা আগ্রহ নিয়ে কোনদিন জানার চেষ্টাও করেনি।কেননা তার.... . থাক পরেই বলি। . এত কিছু ঘটলেও এসব কথা অন্য কারো সাথে শেয়ার করেনি অধরা। . রাত ১০টা। অধরা আজ খুব সকালেই ঘুমিয়ে গেছে। সকাল ৫টায় জাগা পেয়ে অপ্রত্যাশিত কিছু দেখতে পায়। তার ফোনে ৩৫৭টি কল এসেছে ঐ অপরিচিত নম্বর থেকে।সাথে ১০০টার মত টেক্সট।টেক্সটগুলোতে শুধু একটা বাক্য লেখা, "অধরা' কথা বলতে খুব করে ইচ্ছা করছে।" . অধরা কোন কিছু না ভেবেই।তখন তখনি নম্বরে ফোন দেয়। ফোনটা রিসিভ কেউ করেনা।আবার ফোন দেয়।কিন্তু কোন রেসপন্স নেই। তার পাঁচ মিনিট পরে।নম্বরটি থেকে ফোন আসে। অধরা উৎসক কন্ঠে বলে, -কে? -আমি।(কন্ঠটা খুব পরিচিত। অধরার আর বুঝতে বাঁকী নেই। তাই অবাক হয়ে বলে, -তুমি! . ফোনটা কেটে দিয়েছে অধরা।সে তার মুখের সব ভাষা হারিয়ে ফেলেছে।যার জন্য এত প্রতিক্ষা। মনে পরে যায় তিন বছর আগের সৃতি। H.S.C পরিক্ষার জন্য কোচিংয়ের দিনগুলির কথা।. অধরা ফিনাল পরিক্ষার জন্য একটা কোচিং করতো।তার খুব কাছের বান্ধবী ও বন্ধু একসাথেই কোচিং করতো। . কোচিংয়ের একটা ছেলে(অনু) সব সময় লাস্ট বেঞ্চে বসতো। দেখতে উজ্জল শ্যামা। বোকা টাইপের একটা ছেলে তবে পড়াশোনায় খুব ভালো। অনু যেদিন প্রথম অধরাকে দেখে। সে দিনই অধরাকে ভাল লেগে যায়। এদিকে অধরা ছেলেটিকে লক্ষ্য করতো। . তার কাছে মনে হত, "ছেলেটা পড়াশোনা ভাল পারে কিন্তু লাস্ট বেঞ্চে বসার স্বভাব কেন?আর এত বোকা টাইপের কেন?ভাল ছাত্ররা তো ফার্স্ট বেঞ্চে বসে।" এই কারনে অনুকে অন্য চোখে দেখতো অধরা।একদিন ত বন্ধুদের বলেই বসে, "দেখ দেখ ছেলেটা কেমন!প্রত্যেকদিন লাস্টে বেঞ্চে বসে।" এই কথা নিয়ে বন্ধু ও বান্ধুবীরা অধরাকে অনেকদিন জ্বালিয়েছে। ইদানিং অনুকে কেন জানি ভাল লাগতে শুরু করেছে। এ কারনটা অধরার অজানা। . হঠাৎ একদিন অধরা কোচিং মিস করে। সেদিন ঘটে যায় অন্যরকম কিছু। . অধরার কাছের দুই বন্ধু অনুকে মজা করে বলে, অধরা তাকে ভালবাসে,আগামীকাল সকালে তাকে ফুল নিয়ে প্রপোজ করতে হবে।অনু এমনিতেই অধরার প্রতি দুর্বল। তাই অনু বিষয়টাকে খুব সহজেই কথাটা বিশ্বাস করে। . পরের দিন সকালে সত্য সত্যিই ফুল নিয়ে আসে অনু। অধরার জন্য অপেক্ষা করে। অধরা প্রায় ৩০মিনিট পরে আসে। অধরাকে আসতে দেখে অনু অপ্রস্তুত হয়ে যায়। কি করবে বুঝে ওঠে না। অধরা দরজার সামনে আসতেই অপ্রস্তুত অবস্থাতেই ফুলটা অধরার দিকে এগিয়ে দেয়। আর বোকা বোকা কন্ঠে বলে আই লাভ ইউ। রুম ভর্তি সবার সামনে এমন কিছু করাতে অধরা প্রচন্ড রেগে যায়। না চাইতেই একটা থাপ্পর বসিয়ে দেয় অনুর গালে।অনু কাঁদতে কাঁদতে সেখান থেকে চলে যায়। . অধরা পরে জানতে পারে সেদিন অনু বন্ধুদের মজার শিকার হয়েছিল।তারপর অধরাও কোচিং থেকে বাসায় চলে যায়।অনেক কান্না করে।অনুকে অনেক ভালবেসে ফেলেছে। আর আজ তার গালে চর দিয়েছে।নিজেকে ক্ষমা করতে পারে না। তাই সিধান্ত নেয়।পরের দিন গিয়ে ক্ষমা চাইবে।আর নিজের ভালবাসাটকে প্রকাশ করবে। কিন্তু তা আর সম্ভব হয়নি।অপেক্ষায় থেকেছে অধরা।তবুও অনুর সাথে তার আর দেখা হয়নি। কেননা সেদিন পর থেকে অনুকে আর দেখা যায়নি ঐ কোচিং সেন্টারে। অপেক্ষা করেছে অধরা অনেকগুলো দিন,অনেকগুলো মাস,কয়েকটা বছর। ফোনের রিং টোনের শব্দে অধরা ভাবনার দেশ থেকে ফিরে আসে।। ফোন ধরেই অধরা কান্না করতে করতে বলতে শুরু করে, --এত কস্ট দিতে পারলে আমাকে?একটি বারও কি সামনে আসার প্রয়োজন বোধ করোনি?ক্ষমা চাবার সুযোগটা পর্যন্ত আমাকে দেওনি।তুমি এত নিষ্টুর।বল বল আমাকে এত কষ্ট দিলে কেন? --অধরা,তোমাকে আমি অনেক ভালবাসি।আমি ভেবে ছিলাম,তোমার সামনে আমি গেলে কষ্ট পাবে।তাই কখনো সামনে যাইনি।তবে সব সময় তোমার পাশাপাশি থাকার চেষ্টা করেছি।আমিও কম কষ্ট পায়নি অনু।প্রত্যেকটা দিন আমার তোমাকে ভেবে শুরু ও শেষ হয়। --অনু' কোথায় তুমি এখন?তোমার অপেক্ষায় তিনটা বছর পার হতে চলেছে। --আমিও জাহাঙ্গীরনগরেই এডমিট হয়েছি অধরা।আল্লাহতালাসৌভাগ্যক্রমে তোমাকে দেখার জন্য আমাকে এখানেই রেখেছেন।প্রত্যেকদিন তোমাকে দেখি কিন্তু সামনে যাবার সাহসটা পাইনি। --অনু' তুমি অনেক স্বার্থপর অনু।তুমি লুকিয়ে ঠিকি দেখে নিয়েছো।কিন্তু আমার এ হৃদয়টা কতদিন হল হাহাকার রয়েছে তোমাকে একবার দেখার জন্য। --অধরা' কেঁদনা প্লিজ। --কাঁদবোনা কেন শুনি?কাল একবার দেখা করে নাও তারপর সব সুধে আসলে বুঝে নেব। -দেখ অধরা'আবার চর খাবার ইচ্ছা আমার নেই। . চোখ মুছতে মুছতে কাঁন্না হাঁসির সংমিশ্রনে বলে, -কাল তুমি ফাস্ট আসো।তারপর বুঝাই দেব।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অসমাপ্ত ভালবাসা
→ অসমাপ্ত ভালবাসা
→ অসমাপ্ত ভালবাসার গল্প
→ অসমাপ্ত ভালবাসা
→ এক অসমাপ্ত ভালবাসার গল্প
→ অসমাপ্ত ভালবাসা
→ অসমাপ্ত ভালবাসা (৩য় পর্ব)
→ অসমাপ্ত ভালবাসা (১ম পর্ব)
→ অসমাপ্ত ভালবাসা ৪
→ অসমাপ্ত ভালবাসা ৩
→ অসমাপ্ত ভালবাসা ২
→ অসমাপ্ত ভালবাসা
→ “একটি অসমাপ্ত ভালবাসার গল্প”
→ অসমাপ্ত ভালবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now