বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অনেকদিন আগের কথা। ডালিয়া তখন নবম
শ্রেণীতে উঠেছে মাএ। আমি তখন
শীতকালীন ছুটিতে পরিবারের কাছে কুমিল্লা
গিয়েছিলাম। শীতকালে ফজর নামাজ পড়ে রানিং
করতে বের হওয়া আমার নিত্যদিনের রুটিন ছিল। তাই
ঐ দিন ও রানিং করতে বের হয়ে পড়লাম। রানিং
শেষে বাসায় ফিরছি এমন সময় আমার ফ্রেন্ডের
সাথে দেখা হলো প্রায় ১ বছর পর আমাদের
দেখা।তারপর দুজন হাটতে হাটতে পাশের
গ্রামের দিকে চলে গেলাম। কেননা ঐখানে ও
আমাদের বেশ কিছু বন্ধু আছেন। সবাই একসাথে
হলে অনেক মজা হবে।
..
..
আমরা দুজন অপেক্ষা করছি অন্যদের জন্য। এমন
সময় পাশ দিয়ে একটা মেয়ে যাচ্ছে ( তখন ডালিয়ার
নাম জানতাম না)। ফ্রেন্ডকে বললাম - দোস্ত এই
পিচ্চিটা কে??
আসলেই ডালিয়া পিচ্চি না কিন্তু ওকে দেখতে
পিচ্চিদের মতোই এক ডিব্বা কিউট লেগেছে।
..
..
তারপর দিন রানিং শেষে আবার পূর্বের জায়গা দাঁড়িয়ে
আছি ডালিয়ার অপেক্ষায়। একটু পরই ডালিয়া আসছে।
আগেই প্রিপারেশন ছিল আজকে ডালিয়ার সাথে
কথা বলব। ডালিয়া আমার কাছাকাছি আসতেই আমি ওর
সাথে তাল মিলিয়ে হাটতে শুরু করলাম আর কথা বলার
উপায় খুঁজতেছিলাম কিন্তু কোনো উপায় না
পেয়ে নাম জানতে চেয়েছি কিন্তু ডালিয়া কিছুই
বলল না। আবার চেষ্টা করলাম
আমিঃ তোমার বাসা কোথায়??
ডালিয়াঃ No Reply
আমিঃ তুমি কোন ক্লাসে পড়??
ডালিয়াঃ No Reply
..
..
ওকে নিশ্চুপ দেখে বুঝতে পারলাম আজকে কিছু
বলবে না। তাই আমিও চুপ না থেকে বলে
ফেললাম "তোমাকে আমার অনেক ভালো
লাগে"। তাই আমি আগামীকাল এই সময়ে আবার
আসব তোমার সাথে কথা বলতে।
..
..
ডালিয়া চলে গেলো ডালিয়ার স্কুলে আর আমি
চলে গেলাম আমার বন্ধুদের সাথে ক্রিকেট
খেলতে।
..
..
রাতে আর ঘুম আসছে না। কখন সকাল হবে আর
কখন ৯টা বাজবে। দেখতে দেখতে সকাল হয়ে
গেলো কিন্তু আজ নামাজ পড়তে পারি নি। নাস্তা
করতে বসতেই কলেজ থেকে ফোন
আসলো আজকে ১১ টার মধ্যে কলেজে
উপস্থিত থাকবে হবে। মুহূর্তেই মনটা খারাপ হয়ে
টেনশনে মুখটা শুকিয়ে গেলো। তারপর
তাড়াহুড়ো করে রেডি হয়ে বের হতেই ডালিয়ার
কথা মনে পড়ল। প্রথম দিনেই আমি আমার কথা
রাখতে পারিনি।
..
..
তিনমাস পর
..
তিনমাস পর আমি আবার বাড়িতে এসেছি। ঐ দিন
সিএনজি থেকে নামতেই দেখি ডালিয়া পিচ্চিদের
মতো করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তখন
খুব মায়া লেগেছে আর নিজের কাছে নিজেকে
খুব ছোট মনে হচ্ছে।
..
..
আমি সিএনজি থেকে নেমে ডালিয়ার এলাকার এক
ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলছিলাম তখনও ডালিয়া
ফলো করছিল।
..
..
তারপরের দিন সকালে উঠে নাস্তা করে ছাদে
বসে আছি। এমন সময় আমার সেই ফ্রেন্ড
ফোন করে বলতেছে - দোস্ত ডালিয়া সিএনজি
তে বসে আছে তুই তাড়াতাড়ি আয়।
তখন আমার খুব লজ্জা করেছিল বলে আমি ওর
সামনে গিয়ে দাঁড়াতে পারি নি। তারপর আমি আবার
ঢাকায় চলে আসি।
..
..
চার মাস পর
..
আমি বাসা থেকে কুমিল্লা যাওয়ার জন্য সিএনজি তে
উঠতেই দেখি ডালিয়া এক কোনে বসে আছে।
আমি উঠে বসতেই ডালিয়া সিএনজি ড্রাইভার কে বলল
চলেন। আমি তখন কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম।
কেননা গাড়ীতে আমারা দুজন ছাড়া আর কোনো
যাএী ছিল না।
..
..
কিছুদূর আসতেই ডালিয়া ব্যাগ থেকে একটা শপিং
বের করলো। সেটা আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে
বলল-
ডালিয়াঃ আগামীকাল সকাল ৮টায় তুমি বোর্ড
মার্কেটের দুতলায় আমার অপেক্ষা করবা।
..
আমি তো খুশীতে বোবা হয়ে গেছি। যেই
মেয়ে আমার সাথে কথা বলে না সেই মেয়ে
আজকে অপেক্ষা করতে বলছে। তাও আবার তুমি
তুমি করে বলছে।
..
..
হসপিটালে না গিয়ে ডালিয়ার সাথে নেমে আমি
আবার বাসায় চলে আসছি ব্যাগে কি আছে সেটা
দেখার জন্য। বাসায় এসে ব্যাগ খুলতেই আমি
সারপ্রাইজড। প্রায় ৭০/৮০ টা চিঠি। তাও আবার ডালিয়ার কাছ
থেকে। প্রত্যেকটা চিঠির উপরে তারিখ এবং সময়
লিখা আছে। ৭৬ নাম্বার মানে সর্বশেষ চিরকুটে
লিখা আছে-
$
আজকে ছয় মাস তোমার জন্য এক এক করে ৭৫ টা
চিরকুট লিখেছি। তোমাকে অনেক খুঁজেছি চিরকুট
গুলো দেওয়ার জন্য কিন্তু তোমাকে কোথাও
খুঁজে পাইনি। ফয়সাল আমিও তোমাকে অনেক
ভালোবাসি প্লিজ আর আমাকে এইভাবে একা
রেখো না।
..
সেই থেকে আমাদের দুজনের প্রেমের
সূতপাত। তবে আজ ডালিয়ার দেওয়া চিরকুট গুলো
আমার কাছে শুধুই স্মৃতির পাতা।
কারন ও আর পৃথিবীতে নেই। কালের অমোঘ নিয়ম ওকে টেনে নিয়েছে উপরে.....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now