বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ভাইয়া আপনার সাথে কিছু কথা ছিলো।
আমাকে একটু সময়
দিতে পাড়বেন?
শুভ্র:- দেখো পরী, তুমি এভাবে আমার
পেছনে লেগেছো
এটা কিন্তু অনেকে খারাপ ভাবে নিচ্ছে।
সামনে আমার
hons finall, এ সময় আমি এই সব নিয়ে
ভাবতে চাচ্ছিনা।
পরী :-আজব তো! কি ভাবেন আপনি
নিজেকে?আমি কি
বাজারের খেলনার পুতুল নাকি?
আমারো মান সন্মান আছে তাই না?
আপনি আমাকে এমন
মেয়ে কি করে ভাবলেন?
আমি আপনার পিছনে ঘুরি!
শুভ্র:-
এমন জেদী মেয়ে আমার লাইফে আর
একটাও দেখিনি। ও
আসলে সবার থেকে আলাদা।
আচ্ছা কি বলবে বলো! এই সব ঢং
দেখানো কান্না শুনতে
আমার বয়ে গেছে।সে দিন আমার মাথায়
ছাদ থেকে পঁচা
ডিম মারছিলা।ভাবছো আমি কিচ্ছু
দেখিনী।মাত্র ১১
ক্লাস এ পড়ো।
এত্তো আজাইরা বুদ্ধি কে দিছে
তোমাকে।আমাকে কি
তুমি ময়লার ডাস্টবিন পাইছো নাকি?
যা পাও লুকিয়ে লুকিয়ে ছুড়ে মারো।
আমি আজ সন্ধায় গিয়ে আন্টিকে সব বলে
দেবো।
পরী:-ও ভাইয়াগো।কান ধরছি।এমন কাম
আর জীবনে
করমুনা।মাফ করেন গো ভাইয়া।আম্মু
শুনলে আমারে রাম
ধোলাই দিবো।
শুভ্র:- আজব তো! তুমি এমন কাহিনী শুরু
করছো কেনো?
পা ছারো বলছি।আর সব সময় শুদ্ধ ভাষায়
কথা বলার
চেষ্টা করবে।বিশুদ্ধ বাংলা বুঝতে পাড়ছো
তো।
পরী :- হুম ভাইয়া,মাফ করছেন তো? এই
কান ধরছি ভাইয়া
আর এমন দুষ্টমি কখনই করবো না।
শুভ্র:- কান ছাড়ো বলছি।সবাই দেখতেছে।
কিচ্ছু
বোঝোনা।একাদশ শ্রেণীতে পড়ো।
এত্তো অবুঝ কেনো
তুমি?
পরী :- ও ভাইয়া আমি শিশুকাল থেকেই
তো এমন?
জানেন ভাইয়া কালকে না আমার ছোট্ট
ভাইয়ার ফিডার
চুরি করে দুধ খেয়ে ফেলছি।কেউ বুঝতেই
পাড়েনী।
শুভ্র:-খুব ভালো কাজ করেছেন আপনি?
আরো যে কত্তো
কাহিনী করেন একমাত্র আল্লাহ্ পাক ই
ভালো জানেন।
আজ বিকেলে আমার বাসায় আসবে।
তোমার সাথে অনেক
কথা আছে।
পরী:- ঠিক আছে ভাইয়া, এখন তাহলে আসি
কেমন।
শুভ্র:- সাবধানে যাও। আর বাসায় গিয়ে
পড়াশুনা
করো,আজাইরা ঘুরাঘুরি কমাও।
মেয়েটা দেখতে অনেক কিউট।লাল টুক টুকে
অভিমানী
এক্সপ্রেশন নিয়ে যখন সামনে এসে দাড়ায়
তখন মনে হয়
সত্যিকার এর পরী আসমান থেকে নেমে
এসেছি।সব সময়
মুখে তার হাসির ঝিলিক খেলা করে।তবে
মেয়েটার
এখনো পরিনতিবোধ ঠিক মতো
আসেনি।
বিকেলে বারান্দায় বসে আকাশের দিকে
চেয়ে অনেক
কিছু নিয়ে কল্পনা করছিলাম।সত্যি ই তো
কল্পনার জগত
টা কি সুন্দর কি সহজ!।ইচ্ছে করলেই সব
কিছু কত্তো
আনায়াসে পাওয়া যাচ্ছে। আর বাস্তব
জীবন টা কত্তো
কঠিন!স্বপ্ন গুলি কিছুতেই পুরন হতে চায়
না।প্রিয় মানুষ
গুলি অজান্তেই জীবন থেকে বহুদুরে চলে
যায়।
বাহিরে কে যেনো নক করছে।একেলা মানুষ
আমি সব
কিছু নিজেকেই সামলাতে হয়।
পরী একটা নীল শারী পড়েছে। কি সুন্দর
ভাবেই না
সেজেছে মিষ্টি মেয়েটা।
মাথায় রজনী গন্ধা আর বেলী ফুলের মালা
পেঁচিয়ে
রেখেছে।কপালে কালো টিপ।পায়ে নুপুরের
ঝন ঝন শব্দ
থেমে থেমে বাজছে।এভাবে কখনো ওর
দিকে তাকিয়ে
থাকিনি।ও যে এত্তো সুন্দরী! আগে সে
ভাবে ওকে
monojog দিয়ে দেখাই হয়নি।হয়তো ও
নিজেও জানেনা ও
কতোটা রুপবতী।রুপবতী মেয়েদের যত্ন
করে আগলে
রাখতে হয়।শকুনেরা যে রক্ত মাংসের স্বাদ
নেয়ার জন্য
ওত পেতে বসে থাকে।
পরী :- ভাইয়া ভিতরে আসতে বলবেন না?এ
ভাবে
তাকিয়ে আছেন কেনো আপনি? আমার
ভীষণ লজ্জা
করছে।
শুভ্র:- হুম,আপু ভিতরে আসো।বিছানায়
গিয়ে বসো।
আমি আসতেছি।
পরী :-ভাইয়া একটা কথা বলি?
শুভ্র:- হুম বলো।
পরী :রাগ করবেন না তো?
শুভ্র:- নাহ,রাগ করবো না।
পরী :-আমাকে কেমন লাগছে ভাইয়া
দেখতে?
শুভ্র:- ওর কথাটা কেমন যেনো তীরের
মতো এসে বুকে
আঘাত করলো। ও এমন প্রশ্ন করবে
কল্পনাও করতে
পারিনি।মেয়েটা আমাকে ভীষণ ভয় পায়।
কথা বলার সময়
গলাটা কেমন জানি ভেঙে এসেছে।কাপা
কাপা গলায়
মেয়েদের কন্ঠস্বর যে কোনো পুরুষ হৃদয়
কে ক্ষনিকের
জন্য কাপিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। যদি সে
সেই
মেয়েটার চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে থাকে।
পরী :- ও ভাইয়া আমি কি কোনো ভুল
করলাম?
শুভ্র:-না পরী। তোমাকে সত্যিকারের
পরীর মতো লাগছে।
অনেক লক্ষী একটা মেয়ে তুমি।একটু দুষ্টমি
টা কমালেই
চলবে।
পরী :-thank u ভাইয়া।ভাইয়া আমি এতো
সেজেছি কেনো
জানতে চাইলেন না?
শুভ্র:- বাসায় যাওয়ার পর দুপুরে ছেলে
পক্ষ দেখতে
এসেছিলো আমাকে।পছন্দ হয়েছে নাকি।
শুক্রবার বিয়ের
ডেট।ছেলে কলেজ শিক্ষক।ছয় ফিট লম্বা
আর দেখতে
মোটামুটি।তবে অনেক ভদ্র।
তিন্নির বাসায় যাওয়ার কথা বলে আপনার
এখানে চলে
আসলাম।আর মাত্র তিন দিন পর তো
শশুর বাড়ী চলে
যাবো।
আমার লক্ষী ভাইয়াটার সাথে আর দুষ্টমি
হবেনা।
ও কেঁদে কেঁদে প্রায় ভেসে যাচ্ছিলো।নিজ
হাতে ওর
চোখের জ্বল মুছে দিলাম।ও পরিনত আর
শান্ত মেয়ের
মতো বসে আছে নীরবে।hothat করে
মেয়েটা কেমন যেনো
বদলে গেলো। অনেক পরিনত লাগছে ওকে।
বিয়ের আগমনী বারতা বুঝি প্রতিটা
বালিকাকে পরিনত
করে তোলে।
পরী :- ভাইয়া আপনি একটা বিয়ে কইরেন
কেমন? একা
থাকেন।নিজের রান্নাবান্না সহ যাবতীয়
কাজ একা
করেন।অনেক কষ্ট হয় আপনার।
শুভ্র:- পরী, তুমি এই সব কথা আমাকে না
বললেই ভালো
করতে। কেনো বললে? আমাকে বলার কি
খুব দরকার
ছিলো?
পরী :- কেনো ভাইয়া? এভাবে বলছেন
কেনো?
আমি তো পরিচিত সবাইকে আজ রাতেই
জানিয়ে দিবো।
শুভ্র:-আমার খুব খারাপ লাগছে।মনে হচ্ছে
কে যেনো
hrithpindo টা ছিরেছিরে খাচ্ছে।এমন কষ্ট
আগে কখনো
পাইনি।দেখছো না চোখ দিয়ে অবিরাম
অশ্রু ঝরছে।যা
হউক পরী। যা বোঝার বুঝে গেছো।না হয়
নীরবে
ভালোবেসে গেলাম। আর এই সব কথা এখন
তোমাকে
বলাও ঠিক হচ্চেনা।আসলে আমার
কপাল্টাই এমন।
জীবনের অনেক টা পথই তো একা পাড়ি
দিয়ে দিলাম।
বাকিটাও হয়তো পারবো।আমি একটু
শান্তিতে ঘুমো তে
চাই।সন্ধা ঘনিয়ে আসছে।তুমি বাসায় ফিরে
যাও। এমন
সাজে আর কখনো আমার সামনে
আসবেনা।আমি ঠিক
থাকতে পারবো না।এর পরের সাজটাই তো
বেনারশীতে
হবে তাই না?ভালো থেকো তুমি,সুখে
থেকো তুমি।অনেক
শুভ কামনা রইলো তোমার জন্য।
পরী :- ভাইয়া অনেক দেরী হয়ে গেছে।এখন
আর সম্ভন নয়
ভাইয়া।মন খারাপ করবেন না।আমি
আপনার জন্য সুন্দর
একটা বউ নিয়ে আসবো। ক্ষমা করেন
ভাইয়া।আপনি যে
কষ্টটা পাচ্ছেন।আমি তার থেকে দ্বিগুন
কষ্ট পাচ্ছি।
সারারাত্রি নীরবে কেঁদে কেঁদে কাটিয়ে
দিলাম।পরদিন
সকালে পরীর বেস্ট ফ্রেন্ড তিন্নি এসেছে
বাসায়।
তিন্নি:- ওই ভাইয়া।চোখ মুখ তো ফুলিয়ে
রেখেছেন।
অনেক শাহসী ভাইয়ার এই হাল কেনো?
জানেন ভাইয়া পরী না অন্নেক happy
হবে।এমন ছেলে ওর
কপালে জুটবে ও নিজেও কল্পনা করেনী।
আমার বাসায়
গিয়ে ও কালকে ফুপিয়ে কেঁদেছে
ওটা যে সুখের কান্না।এমন কাউকে পেয়েছে
যে আছে
তার শয়নে স্বপনে মিশে।
শুভ্র:- ওদের কি আগে থেকে রিলেশন
ছিলো?
তিন্নি:- জি না ভাইয়া।মনে মনে দু জন দু
জন কে
ভালোবাসতো। কিন্তু কেউ বুঝতো না।
নীরবেই থাকতো
না বলা কথাটা।
ও আপনার মনের কথাটা বের করার জন্য
এমন নাটক
করেছে।ও আপনাকে না পেলে মরে যাবে
জানেন।কাল
কাঁদতে কাঁদতে তো নিস্তেজ হয়ে গেছে।
শুভ্র:- কি বলছো এ সব!
তিন্নি:- ও অনেক ভয় পাইছে ভাইয়া।
আপনাকে অনেক ভয়
পায় ও।
এ জন্য আরো বেশী করে হয়তো কাঁদছে।
ও আপনাকে জীবন দিয়ে ভালোবাসে।এমন
ভালোবাসা
সবার কপালে জোটেনা।আর আপনি ওকে
এত্তো
ভালোবাসেন ও কখনো কল্পনাতেও
এমন টা চিন্তা
কিরেনি।সত্যি ই আপনি আজব এক মানুষ।
আপনার নীরবতা
বোঝার সাধ্য ক জনেরী বা আছে।
জান ভাইয়া,ও পুকুর পারে আপনার জন্য
অপেক্ষা করছে।
শুভ্র:- মনে হচ্ছে নতুন করে জীবন ফিরে
পেলাম।জীবনের
ফেলে আসা কষ্ট গুলিকে খুবী তুচ্ছ মনে
হচ্ছে।আমি ছুটে
চললাম সেই পুকুরপাড়ে।
পরী মাথা নিচু করে ধীরে ধীরে কান্না
করছে।শ্রাবনের
মেঘ কালো করে অবিরাম bristy নেমে
এলো।সেই bristy
স্নাত আবহে আমাদের দুখের কান্না
মিলেমিশে
একাকার হয়ে যাচ্ছে।
পরী :- ভাইয়া।রাগ করছেন? সরি ভাইয়া।
আমার লক্ষী
ভাইয়া।
শুভ্র:- পরী একটা আদর দেই তোমাকে?
পরী :- হুম দেন।অনেক গুলো দিবেন
কিন্তু।
শুভ্র:- আমি ওর কপলে চুমু খেয়ে ওকে
বুকের মধ্যে শক্ত
করে চেপে ধরলাম।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now