বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তাফসি এই তাফসি সকাল ১১.০০ টা বাজে কখন উঠবি বলতো।
এতো বেলা করে কি কেউ ঘুমায়?
এইতো মা উঠব সকাল সকাল এমন করে ডেকো নাতো।
কেন রে বাবা ভুলে গেলি আজ তোর ভার্সিটির প্রথম দিন, যাবি না?
মায়ের কথায় যেন মাথার উপর একটা বাঁজ পড়ল, ইস আজ তো ভুলেই গেছি আজ আমার ভার্সিটির প্রথম দিন,
এই দিন নিয়ে কতো পরিকল্পনা করছি তা বলার বাহিরে, কিন্তু মা না ডাকলে হয়তো সব বানচাল হয়ে যেত।
তাই মাকে মনে মনে ধন্যবাদ দিলাম।
ঘুম থেকে উঠে তাড়াহুড়ো করে খেয়ে বের হলাম বাড়ি থেকে,
সোজা ভার্সিটির গেট এর সামনে।
কলেজ জীবনের কিছু বন্ধুও একই জায়গায় এডমিশন পাইছে, তাই আড্ডায় মেতে উঠি সবাই।
হঠাৎ ক্লাস টাইম শুরু হয়, এদিকে বন্ধুরা সবাই দৌড় ক্লাসের দিকে।
আমিও যাব ক্লাসে এই মুহূর্তে চোখ আটকে গেল গেটের দিকে, চোখে ভুল দেখছি নাতো।
এতো সুন্দর অপ্সরি মেয়েকি হতে পারে,বিধাতার নিজ হাতে যেন তৈরি।
আমার দিকেই এগিয়ে আসছে।আমি ভাবলাম এটা কেন হচ্ছে,মনে মনে লাড্ডু ফুটছে।
এসেই আমাকে মেয়েটি বলে ভাইয়া ফার্মেসী ডিপার্টমেন্ট টা কোনদিকে?
আমিতো পুরাই ভ্যাবাচেকা খেয়ে যাই,নিজেও তো ভার্সিটিতে নতুন তাই এই মেয়েকে কি করে দেখিয়ে দেই।
আমি বলি আমিও তো নতুন তাই আর কি জানিনা মাথা চুলকিয়ে।
আমার দিকে একবার তাকিয়ে কি যেন ভাবল।
ইটস ওকে একটু ভেংচি কেটে চলে গেল।
কি ভেবে দাঁড়িয়েই রইলাম।নড়ার নাম নেই আমার।
হঠাৎ মনে হলো আহা নাম টাই তো জিজ্ঞেস করা হলোনা।
সেইদিন আর মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করা হলোনা।বাড়িতে গিয়ে খেতে পড়তে সুধু মেয়েটির মুখ ভাসে।
মনে মনে ভাবি ধুর কি আজব বাবা,একদিন দেখেই এমন কেন হচ্ছে।সারাজীবন এতো মেয়ের প্রোপজ পেলাম আর আমি সেই কিনা।
যেই ভাবা সেই কাজ।
দিলাম এক লম্বা ঘুম।
আবার সকালে মায়ের ডাক কিন্তু আজ লেট অনেক লেট।
১১.৪৫।
মানে আর ৫ মিনিট পর ক্লাস।
ফ্রেশ হয়ে না খেয়ে দিলাম এক দৌড়।
গিয়ে তাড়াহুড়ো করে উঠতে গিয়ে ঢুসসসসসসসস।
পড়ে গিয়ে তাকিয়ে দেখি চারপাশে বই আর কলম।
আরেকটা মেয়েও চুলগুলো এলোমেলো হয়ে গেছে পড়ে যাওয়ার কারনে।
মেয়েটি উঠতেই কিছু বলব তার আগেই ঠাসসসসস।
গালে হাত দিয়ে অবলা ছেলের মতো দাঁড়িয়ে আছি। আর যে থাপ্পড় দিল আর কেউ নয় সেই অপ্সরি কন্যা।
রাগে গাল দূটো লাল হয়ে আছে,টোকা দিলেই যেন রক্ত ঝরবে।
একবাক্যে বলে চলল সেই পুরানা ডায়লগ।দেখে চলতে পারেন না,মেয়ে দেখলেই সুধু ব্লা ব্লা ব্লা।
গালে হাত দিয়ে সুধু মাথা নিচু করে মাথা নাড়াচ্ছি ওর প্রত্যেক কথায়।
গাল থেকে হাত সরিয়ে তাকাতেই মেয়েটি থৎমত খেয়ে গেল।বেশি রেগে যাওয়ার কারনে চেহারা হয়ত এতক্ষন খেয়াল করেনি।
আর ধাক্কা খাওয়ার কারনও নিজেই বুঝতে পারল হয়ত। কারন কালও দুজনই ভার্সিটিতে ক্লাসে যেতে লেট ছিলাম।আর আজও লেট।
তাই দুজনই তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে আজ এই পরিস্থিতির সম্মুখিন।
আসলে আমাদের মতো লেটু মানুষকে লেট হওয়ার কুফল বুঝতে হয়না।
তাই এতক্ষনের রাগি মুখটিতে অনুশুচনা ভেসে উঠল অপ্সরির।
কিছু বলতে যাবে এসময় পেছনে থেকে আমার আরেক লেটু বন্ধু রিদমের ডাক পড়ল।তাফসি কি করিস ওখানে? ক্লাসে চল।
রিদমের কথা শুনে ক্লাসের দিকে পা বাড়ালাম।
আজও সেই অপ্সরির নামখানাই জানা হলোনা।
ফিরে তাকাইনি,
চড়টা খাওয়ার পর ক্লাস যাবার সময়।
কিন্তু যাওয়ার সময় আজও মনে হলো আরে মেয়েটার নামটা?
কিন্তু কি আর হবে যা হওয়ার তো হয়েই গেলো।
কিন্তু এটা মনে আছে যে মেয়েটা ফার্মেসী ডিপার্টমেন্ট এর।
যেই ভাবনা সেই কাজ।
দিলাম লেইজার পিরিয়ডে দৌড় ওর ডিপার্টমেন্ট এর দিকে।
এখানে সেখানে কোথাও নেই,
ক্যান্টিনে নজর যেতেই এলোকেশী দিঘল চুল,কাজলটানা চোখ,পায়ে পায়েল উফ বাবা মানুষ এতো সুন্দর কি করে হয়।
বসে বসে সামুচা খাচ্ছে আর বান্ধবীর সাথে হাসতে হাসতে আড্ডায় ব্যস্ত।
হাসার সময় দাঁত দিয়ে মুক্ত ঝরছে।
হা হয়ে তাকায় আছি।কিছুক্ষন পরেই চোখাচোখি।
দেখতে পাইছে যে দাঁড়িয়ে আছি ওর দিকে তাকিয়ে।লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে অন্য মনস্ক হবার চেষ্টা করলাম।
সেদিনের মতো ওখানেই শেষ। বাড়িতে এসে ওকে নিয়ে ভাবনা আরো বেড়ে গেলো।
হ্যাঁ এবার প্রেমে পড়ছি সেই অপ্সরির।
পরেরদিন সবার আগে ভার্সিটি গেলাম,যে কিনা স্কুল কলেজ লাইফে কখনোই এতো আগে পৌঁছায়নি।
গিয়ে অপ্সরির অপেক্ষা।সেই যে দেরি করে এলো।
দিলাম পেছন থেকে একটা হাই।
কিছুটা হচকচিয়ে পেছনে তাকিয়ে হেলো।
বলা শুরু তার আসলে কালকের জন্য সরি।
আসলে দেরি হয়ে যাওয়ার কারনে মেজাজ গরম ছিল তাই চড়টা বসিয়ে দিছি।
প্লিজ ক্ষমা করে দেন, কালকের জন্য।
প্রতিশোধ নেবেন না প্লিজ, একটু করুনার সুরে।
আমিতো মনে মনে হাসতেছি শুধু ওর বোকামো দেখে।আমি বললাম শাস্তি তো পেতেই হবে।
কি শাস্তি?
ফ্রেন্ডশীপ করতে হবে এটাই আপনার শাস্তি।
মুখ থেকে ভয়ের ছাপ চলে গেল তার।কেন নয় অবশ্যই। তবে আর আপনি নয় তুমি।।
অপ্সরির কথা শুনে অবাক হলাম।যেমন ভেবেছিলাম সেরম নয়।অনেক ফ্রি মাইন্ডেড মেয়ে।
এভাবেই আসতে আসতে ফ্রেন্ডশীপের শুরু।
ফেসবুকে চ্যাট,ফোনে কথা বলা দিনে দিনে বাড়ছে তো বাড়ছেই।
আমিতো সেই প্রথম থেকেই ওকে ভালবাসি।বলিনা ফ্রেন্ডশীপ ভেংগে যাওয়ার ভয়ে।
কারন এমন অনেক উদাহরনই আমার আছে।
আমার সেই অপ্সরির নাম লাবন্য।
ওর মনে আমাকে নিয়ে কি আছে জানিনা।
কিন্তু সিদ্ধান্ত নেই যে, যা হবার হবে।
এবার আমার ভালবাসার কথা তাকে জানাব কালকেই, তাই ফোন করে ডাকি মেঘনা পার্ক এ সকাল ১০ টায় ছুটির দিন।
৩০ মিনিট ধরে বসে আছি আসার নাম নাই।তারপর দেখি কালো থ্রি-পিছ পড়ে চোখে গাড় কাজল দিয়ে এদিকে আসছে।
লাবন্য যাই পড়ুক না কেন দেখতে ওকে অপ্সরিই লাগে।
কিন্তু আমি আশা করছিলাম আজ শাড়ি পড়বে হয়তো।কারন আমি তাকে কখনো আগে পার্ক এ ডাকিনি।
এই প্রথম তাই ভেবে একটু খারাপ লাগল।এসেই জুড়ে দিলো কথা বলা।
পুরো যেন রেডিও সেন্টার আমার সামনে বসে আছে।
এবার তাকে একটু থামিয়ে লাবন্যকে বলি, আচ্ছা তোমার কোনো আইডিয়া আছে, তোমাকে আজ এখানে কেন ডাকলাম?
নাতো?
লাবন্য বহুদিন ধরেই ভাবছি বলব কিন্তু বলতে পারিনি।
আমি তোমাকে প্রথম দিন থেকেই ভালবাসি লাবন্য। আমাকে একটু তোমার জীবনে জায়গা দেবে?
কিছুক্ষন চুপ থেকে এবার মুখ খুললো।
দেখো তাফসি সত্যি বলতে আমিও তোমাকে ভালবাসি।তোমার সাথে কাটানো প্রত্যেকটা সময় আমি খুব হ্যাপি।
কিন্তু আমার পরিবার একটা রক্ষনশীল পরিবার।তাই প্রেম ভালবাসা মেনে নেবে না।
তবে একটা কথাই বলতে পারি,
তুমি যদি নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আমাকে বিয়ে করো কারো অমত থাকবেনা।
ততদিন আমি অপেক্ষা করব আর তোমার বন্ধু হয়ে থাকব।কাউকে আমার লাইফে আসতে দেব না।
ওর প্রত্যেকটা কথাতেই যুক্তি আছে।
ভালবাসলেই তো হবেনা।দুজনেরই ভবিষ্যৎ আছে।
তাই রাজি হয়ে গেলাম ওর কথায়।
কারন আমি জানি আমি ছাড়া ও অন্য কাউকে নিজের জীবনে আসতে দেবেনা।
ওর চোখ দুটো দেখেই বোঝা যায়,নিষ্পাপ চাহনি।
সেদিন অনেক ঘুরাফেরা, খাওয়া দাওয়া করে বাড়ি ফিরি।
সেদিনের পর থেকে আমাদের মধ্যে শেয়ারিং, কেয়ারিং আরো বেড়ে গেল।
ঠিক মতো পড়ালেখা শুরু করি।
দুজনের কেউ আজ আগের মতো অলস নই।
সবকিছুতে দুজন দুজনকে সাহায্য করি।
আর লাবন্যতো আগে থেকেই ভালো ছাত্রী।ফার্মেসীর ছাত্রী।
পড়াশুনার ব্যাপারে যথেস্ট হেল্প করে আমাকে।
আমিও খুব হ্যাপি আর সেও।
দেখতে দেখতে অনার্স তৃতীয় বছরে চলে এলাম।
কিন্তু কথায় আছেনা সুখ বেশিদিন টিকে না।
আমার বাবা মারা যায়।
আমার পুরো পরিবার ভেংগে পড়ে।কারন সংসারে বাবা একাই অর্থ উপার্জন করত,ভরনপোষন করত।
তাই সংসারের কথা ভেবে চার,পাঁচটে টিউশন নিলাম।
মাস শেষে লাবন্যও আমার হাতে পাঁচ টাকা করে তুলে দেয়।
আমি বুঝতাম না কিভাবে সে এই টাকা আমাকে দিত। কারন সেও একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে।
কিন্তু নিজের মা আর পড়াশুনার কথা ভেবে ওর কাছে টাকাটা নেই।
আর তাছাড়াও সে বলে টাকা যদি না নেই তাহলে আর কোনো সম্পর্ক রাখবে না আমার সাথে।তাই অগত্যা রাজি হওয়া ছাড়া উপায় নেই।
কিন্তু আমি জানতাম না যে লাবন্য নিজেও আমার জন্য কিছু বাচ্চাকে প্রাইভেট পড়িয়ে যা পায় মাস শেষে তা আমার হাতে তুলে দেয়।
লাবন্য আমাকে প্রতি মাসেই এভাবে নিজে কষ্ট করে টাকা হাতে তুলে দেয়।
আমি কিছু জিজ্ঞেস করলেই সুধু এড়িয়ে যায়,অন্য দিকে কথা ঘুরিয়ে নেয়।
আমাদের ভালবাসা দিন যায় সুধুই বাড়ে, কিন্তু যেহেতু আমাকে সে বলছে বিয়ের আগে কোনো প্রেম নয়,সুধু কেয়ারিং আর শেয়ারিং।
তাই আমিও নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে একটি ভাল স্থানে পৌঁছাতে চাই।
তাইতো ওর আর আমার এই যৌথ প্রচেষ্টা।
আজ রবিবার,
লাবন্যের সাথে দেখা করার দিন।নদীর ধারে ডাকছে বিকালে ।সকাল থেকেই মন টা বেশ ফুরফুরে।
বিকাল বেলা যথাসময়ে আমি হাজির।কিন্তু সে আসার নাম নাই।পাক্কা ত্রিশ মিনিট পর ম্যাডাম হাজির।
এসেই পাশে বসে কাঁধে মাথা রাখল।চুলে কি সুন্দর সুবাশ।নাকে সুরসুরি দিচ্ছে।
বলে উঠলো আচ্ছা তাফসি আমি যদি হারিয়ে যাই, তুমি কি করে আমায় খুঁজবে?
প্রশ্নের মানে খুঁজে পেলাম না।তবুও বললাম আমি না হলেও আমার মন তোমাকে খুঁজে বের করবে।তাই তুমি হারানোর প্রশ্নই আসেনা।
মুখে মুচকি হাসি পাগলির।তাফসি এতো ভালবাসো আমায়?
হুম বাসিই তো।তুমি যে আমার অপ্সরি তাই।দেখো শীঘ্রই ভালো একটা চাকরি পেয়ে তোমাকে বিয়ে করে ফেলবো।
তাফসি আমারো বাড়ি থেকে বিয়ের কথা বলছে কিন্তু লেখাপড়ার কথা বলে চাপিয়ে রাখছি।যা করার তারাতারি করো। হারাতে চাইনা তোমাকে।
আমিও বলি ইনশা-আল্লাহ খুব তারাতারি কিছু একটা পেয়ে যাব।
ওকে নিয়ে আইসক্রিম খেলাম।হাত ধরে হাটার পর বাড়িতে রিকশায় করে পাঠিয়ে দিলাম।
লাবন্য আমার শিরায় উপশিরায় জড়িয়ে।ওকে ছাড়া এক মুহূর্তও ভাবতে পারিনা।
লাবন্যও আমাকে ঠিক সেভাবেই ভালবাসে।
পরদিন ফোনে ফোন দেই ফোন সুইসড অফ।নাহ এমন তো হবার কথা না।লাবন্য কোনোদিন এমন করেনা।
হঠাৎ মনে পড়ল সেতো প্রতিদিন কল দেয় আমাকে,কিন্তু আজ কেন দিলোনা।ওর কি তাহলে শরীর খারাপ।
বারবার কল দিয়েও ফোন অফ।এভাবে বসে থাকা যায়না।ওর বাড়িতে গিয়ে দেখি বাড়িতে কেউ নেই তালা মারা।
আমার যেনো পাগলের মতো অবস্থা।কোথায় গেলো আমার অপ্সরি।
কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে।
কারন এতোদিনে ওকে ছাড়া কিচ্ছু ভাবিনি।প্রতিটা সময়, কল্পনায় ও আমার সাথে ছিল।
আমাকে ছাড়া ও,আর ওকে ছাড়া আমি এক মুহূর্তও থাকতে পারতাম না।
তাহলে আমার সেই অপ্সরি কই?
আমাকে না বলে তো সে কোথাও যায় না।
বাড়িতেও তালা মারা।
তাই ভাবলাম ঘুরতে গেছে কোথাও বলার টাইম পায়নি।
কষ্ট পেয়ে চলে এলাম।
আজ ও যাওয়ার ১৯ তম দিন।কোনো খোঁজ খবর নাই।তাই ভেবে নিলাম সে আমাকে ধোঁকা দিয়ে চলে গেছে।
এই ভেবে সুধু কাঁদি যে এতোটা অভিনয় না করলেও পারতো।
আমি তবুও ওর অপেক্ষায় যদি ফিরে আসে?
যদি আমার ভাবনা ভুল হয়?
মনে মনে ভাবি আমার ওর প্রতি জন্মানো ধারনাই যেনো ভুল হয়।
আজ অপ্সরি হারিয়ে যাওয়ার ৩ মাস।বুকে কষ্ট নিয়ে পার করে দিচ্ছি দিন গুলো।
সুধু এটা ভেবেই অবাক হই যে মেয়ে আমাকে ছাড়া কোনো সময় থাকতে পারেনা সে কি করে আমাকে ছেড়ে আছে?
সবই কি তাহলে ওর নিঁখুত অভিনয় ছিলো।
কিন্তু আমার ভালবাসাতো আর অভিনয় ছিল না।
কথা গুলো ভাবতে ভাবতে অশ্রুসিক্ত চোখে আনমনে রাস্তায় হাঁটছিলাম।
এমন সময় পিছন থেকে ডাক ভাই সাহেব দাঁড়ান!
একটু দয়া করে দাঁড়ান!!
একটি রিকশাওয়ালা পেছন থেকে ডাকছে আমাকে।
কিন্তু আমিতো রিকশা ডাকিনি।
তাহলে আমাকে কেনো ডাকছে সে?
কাছে আসতেই লোকটাকে চেনা চেনা লাগল।
সে বলল ভাই আমাকে চিনছেন?
আপনার লগে যে দিদিমনি ছিলো আমার রিকশায় দিছিলেন মনে আছে।
এবার মনে পড়লো এতো সেই রিকশাওয়ালা যার রিকশায় আমি শেষ অপ্সরিকে দেখেছিলাম।
তাই জিজ্ঞেস করলাম, ভাই ওই মেয়েটা কোথায় যাকে আমি আপনার রিকশায় তুলে দিছিলাম।
এরপর আমাকে যা বললো সেই শুনে আমার পুরো পৃথিবী ঘুরে যায়।
আমার সমস্ত শরীর ভেংগে পড়ে।
সেইদিন যা ঘটেছিল!
সেই রাতে লাবনীকে রিকশায় তুলে দেয়ার পর আমি বাড়ি চলে যাই।
কিন্তু লাবনী আর সঠিক টাইমে বাড়ি যেতে পারেনি।
সেই রাতে রিকশায় বাড়ি যাবার পথে নির্জন রাস্তায় কিছু হায়নার দল রিকশা আটকিয়ে দেয়।
লাবনীকে তারা পাশের অরন্যে নিয়ে যায় এবং রিকশাওয়ালাকে বেধে তার সামনেই হায়না গুলো লাবনীর শরীরকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়।
রেপ করে মুখে এসিড ঢেলে দেয়।
এসব শুনে আর কিছু ভাবতে পারছিলাম না।রিকশাওয়ালা বললো সেই রাতেই নাকি বাড়িতে তালা মেরে লাবনীকে সবাই হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এরপর কি হইছে রিকশাওয়ালা তা জানেনা।
আমি এখন লাবনীকে কোথায় পাব।
মন হুহু করে কেঁদে উঠলো।
এতো কিছু হয়ে গেলো আর আমি কিনা এতোদিনে লাবনীকে ভুল বুঝলাম?
আমাকে যেভাবেই হোক লাবনীকে খুঁজে বের করতে হবে।আর দেরি না।
কিন্তু কার কাছে ওর খোঁজ পাবো?
ওর সব ফ্রেন্ডের কাছে খোঁজ নিলাম কেউ জানেনা গ্রামের বাড়ির ঠিকানা।
কিছু ভাবতে পারছিলাম না।লাবনীর তালা দেয়া বাড়ির গেটে গিয়ে বসে পড়ি।
জোরে জোরে কাঁদা শুরু করি।
হঠাৎ ঘাড়ে কারো স্পর্শ অনুভব করি।ফিরে তাকাতেই দেখি একটা সুন্দর ছোট মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।ক্লাস ফোর, ফাইভে পড়বে হয়তো।
জিজ্ঞেস করে ভাইয়া তুমি কাঁদছো কেন?
আমি বললাম কিছুনা।তুমি এখানে কেনো মামুনি?
তোমার নাম কি?
আমার নাম রিফা।আমি লাবনী আপুর কাছে প্রাইভেট পড়তাম।
আমার জানা মতে লাবনীতো কাউকে প্রাইভেট পড়তো না।এটা কি করে সম্ভব?
রিফার কাছে যখন সব শুনলাম নিজেকে পাগল মনে হলো।
কারন আমি বুঝতে পারি লাবনী কিভাবে আমাকে মাসে মাসে পাঁচ হাজার টাকা হাতে তুলে দিতো।
কিছু ভাবতে পারছিলাম না।
রিফাকে কাঁদতে কাঁদতে জিজ্ঞেস করি তুমি কি তোমার আপু কোথায় আছে জানো?
রিফা বললো একবার তুলশিপাড়া, নড়াইল গ্রাম থেকে এক ভাই আসায় আপু একদিন তাদের প্রাইভেট পড়ায়নি।
এছাড়া অন্য কোনো কিছু কেউ জানিনা।
আমি রিফার মাথায় কয়েকটি চুমু দিয়ে বেড়িয়ে পড়ি একটা শেষ চেষ্টায় লাবনীকে খুঁজে পাওয়ার।
সেই গ্রামের দিকে রওনা হই।
লম্বা ট্রেনের জার্নির পর সেই গ্রামে পৌঁছাই।
নেমে গ্রামে খোঁজ করা শুরু করি লাবনী নামে কাউকে চেনে কিনা।
তারা বলে হ্যাঁ তারা চিনে। লাবনীর বাবার নাম বলতেই তারা আমাকে তাদের বাড়ির পথ দেখিয়ে দেয়।
যেনো হারানো প্রান ফিরে পেলাম।
বাড়িতে ঢুকতেই লাবনীর মা আমাকে দেখেই প্রায় কেঁদেই ফেললেন।
আমি কিছু ভাবতে না পেরে জিজ্ঞেস করি লাবনী কোথায়??
তিনি কিছু না বলে হাতের ইশারায় একটা ঘর দেখিয়ে দিলেন।
লাবনী শুয়ে ঘুমাচ্ছে।মুখে ছোপ ছোপ পোড়া দাগ।তবুও অপূর্ব সৌন্দর্য আর মায়া।
আমি পাশে বসে মাথায় হাত দিতেই ভয়ে কুকড়ে উঠে সড়ে যায়।
হয়তো সেই হায়নাদের আচড় এখনো ভুলতে পারেনি।
আমার দিতে তাকিয়েই পুরো চোখ পানিতে ভরপুর।মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বললো তুমি এখানে কিভাবে এলে?
কেন এলে?
ভালবাসি তাই!
আমার কাছে তোমাকে দেয়ার মতো কিছু নাই।না আছে রুপ আর না আছে সেই গুপ্ত অধিকার যা তোমার প্রাপ্য।
আমিতো তোমার রুপ দেখে তোমাকে ভালবাসিনি।আমি তোমাকে ভালবাসছি।
আমার রুপ বা অন্য কিছু চাইনা।
আমার সুধু তোমাকে চাই।তুমি ছাড়া আমি অপূর্ণ।
দেখো তাফসি আমাকে ভুলে যাও।তোমার একটা জীবন আছে।
তোমার জীবনে আমাকে তোমার পরিবার বা সমাজ মেনে নিবে না।
পদে পদে ছোট হবে তুমি।তাই সেই রাতে তোমার জীবন থেকে দূরে চলে আসি।
লাবনী আমার বা তোমার জীবন সমাজ ঠিক করে দেবেনা।
আমার পরিবার আমাকে সবসময় ভালো শিক্ষা দিছে।না মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসেনা।তুমি শুধু একবার হ্যাঁ বলো।
বলো যে তোমার জীবন গুছিয়ে দেয়ার দায়িত্ত আমাকে দেবে।
লাবনী মাথা নিচু করে ফেলে।আমি হাত দিয়ে মুখ তুলে দেখি পাগলের মতো কাঁদছে।
বললাম চোখের দিকে তাকিয়ে বলো তুমি কি তা চাওনা?
কিছু না বলে বুকে এসে আঁছড়ে পড়ে আর শার্ট কান্নায় ভেজাতে থাকে।
আমি আমার উত্তর পেয়ে গেছি।
আজ চার বছর পর আমাদের কোলে একটা ফুটফুটে ছমাসের মেয়ে।
সেদিনের পর পরিবারের সম্মতিতেই অনেক ঝড় ঝাপ্টার পর আমরা বিয়ে করি।
এরপর লাবনীকে উন্নত চিকিৎসা করিয়ে আমার অপ্সরি আগের চেয়ে অনেকটা সুস্থ।
পরিবার নিয়ে আজ আমরা অনেক সুখেই আছি।আমার অচেনা অপ্সরির ছোয়ায় প্রতিদিন জীবনে আমার বসন্ত নামে।
ছোট্ট মেয়েটার নাম লাবনী রেখেছে তাস্ফিয়া।
আমার নামের তাফসির সাথে মিল রেখে।
আজ কোনো কিছুর অভাব নাই।
আমার অচেনা অপ্সরিই আমার জীবন। সে আমার জীবনে আছে মানেই জীবনের সব অপূর্ণতার পূর্ণতা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now